ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

গত দু’তিন দিন ধরে রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের সাপ ও সাপের ঝাঁপি বিষয়ক বিতর্ক মোটামুটি জমে ওঠেছে । ২৬ ডিসেম্বর বিএনপির জনসংযোগ ও পথ সভায় বেগম খালেদা জিয়া ও তাঁর দলের নেতারা আওয়ামী লীগকে সাপ বলে অভিহিত করে সাপ তাড়ানোর ব্যবস্থা করার জন্যে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন,‘আগেও আওয়ামী লীগ আপনাদের আশ্বাস দিয়ে ক্ষমতায় গেছে। এবারও নির্বাচনের আগে নতুন নতুন আশ্বাস দিচ্ছে। কিন্তু সাপকে বিশ্বাস করা যায়, কিন্তু আওয়ামী লীগকে বিশ্বাস করা যায় না। বিএনপি প্রধানের সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে একই কথা বলেছেন, বিএনপি নেতা তরিকুল ইসলামও। তিনিও এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগকে সাপের সাথে তুলনা করে বলেছেন। আমরা আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছি, তীব্র আন্দোলনের মাধ্যমেই এ সাপকে বিতারিত করতে হবে।

এর পর দিনই বিএনপি নেত্রী ও সে দলের নেতাদের উদ্দেশ্য করে ঢাকা মহানগরী আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন,‘বিরোধী দলীয় নেত্রীই সাপ নিয়ে খেলছেন। সাপের ঝাঁপি মাথায় নিয়ে চলছেন। যুদ্ধাপরাধী ও একাত্তরের গণহত্যাকারীদের সঙ্গে নিয়ে আপনি আওয়ামী লীগকে সাপ বলেন। তবে যুদ্ধাপরাধীরা কী? তারা ওনার কাছে ফেরেশতা ? উন্নত কোনো জীব? একাত্তরের যারা গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ ও ধর্ষণ করেছিল তারা উনার কাছে অত্যন্ত উন্নত জীব! যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় উনি বিজয়ের মাসে মাঠে নেমেছেন। বঙ্গবন্ধুর খুনীদের রক্ষা করার চেষ্টা করেও তিনি তা পারেননি।
যুদ্ধাপরাধীদেরও তিনি রক্ষা করতে পারবেন না। ওরা এবং ওদের সাথীরাই হলো সাপ, বেগম জিয়া শুধু সাপ নয় সাপের ঝাঁপি মাথায় নিয়ে চলছেন।’
এ প্রসংগে ১৪ দলের অন্যতম শরিক ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি ২৮ ডিসেম্বর ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বলেছেন,‘ব্যক্তিত্ব বিসর্জন দিয়ে বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া এখন ঝাঁপি খুলেই মাঠে নেমেছেন। উদ্দেশ্য মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ঠেকানো। ছাব্বিশে ডিসেম্বর রাজধানীতে অনুষ্ঠিত পথসভায় জামায়াত-শিবিরকে সঙ্গে নিয়ে ট্রাইব্যুনাল অচল করারও হুঙ্কার দিয়েছেন তিনি।’

সাপ বিষয়ক এ বিতর্কটি এখন বেশ জোরেসোরেই চলছে কে সাপ, আর কে সাপের ঝাঁপি মাথায় নিয়ে চলছে তা নিয়ে দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যেও আলোচনা চলছে। তাদের কথা হলো সাপ অতি নিরীহ প্রাণী, মানুষ দেখলেই সাপ পালিয়ে বেড়ায়, কেউ তাকে আঘাত না করলে সে ছোঁবল মারে না। আর গোঁখরো সাপ যা ফোঁসফাঁস করে মানুষকে ভয় দেখিয়ে আত্মরক্ষার জন্যই করে থাকে। আওয়ামী লীগ যদি সত্যিকারের সাপ হতো তা হলে এবার ক্ষমতায় এসে ২০০১ সালের শালসা মার্কা নির্বাচনের পর ক্ষমতা গ্রহণের আগেই বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা যে ভাবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী সমর্থক ও সংখ্যালঘুদের ওপর ঝাঁপিয়ে হত্যার রামরাজ্য কায়েম করেছিল; হিন্দু মেয়েদের ধরে এনে মায়ের সামনে ধর্ষণ করেছিল, মিথ্যা ও সাজানো মামলা দিয়ে আওয়ামী লীগের লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীদের হামলা মামলার মাধ্যমে পালিয়ে বেড়াতে বাধ্য করেছিল এবং আহসান উল্লাহ মাস্টার, এসএমএস কিবরিয়া মমতাজ উদ্দিন , খুলনার মঞ্জুরুল হকসহ তাদের ২৩ হাজার নেতা কর্মীকে হত্যা করেছিল, সর্বোপরি ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে প্রশাসনের ছত্রছায়ায় ও হাওয়া ভবনের প্রত্যক্ষ মদদে ইতিহাসের নৃশংসতম গ্রেনেড হামলা চালিয়ে ২৩ জন নেতাকর্মীকে হত্যা করেছিল। ভাগ্যগুণে শেখ হাসিনা সে পরিকল্পিত গ্রেনেড হামলা থেকে রক্ষা পেলেও তিনি তার শ্রবনশক্তি হারিয়েছেন। প্রায় পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছিল এখনো সে গ্রেনেড হামলার প্লিন্টার গায়ে বয়ে বেড়াচ্ছেন ও দুঃসহ জীবন যাপন করছেন তার প্রতিশোধ নিতেন। আওয়ামী লীগ সাপ হলে ২০০৯ সালে ভূমিধ্বস বিজয়ের মাধ্যমে ক্ষমতা গ্রহণ করে সেসব নেক্কারজনক হামলা হত্যা, ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের চরম প্রতিশোধ নিতেন। আওয়ামী লীগ সাপ নয় বলেই তারা সে প্রতিশোধ নিতে যাননি। যদি সত্যি সত্যি আওয়ামী লীগ প্রতিশোধ নিতে চাইতো তা হলো বিএনপি ও তাদের মিত্র জামায়াত ও যুদ্ধাপরাধীদের বাংলাদেশে রাজনীতি করাই হয়তো মুশকিল হতো। আওয়ামী লীগ সেটা পারেনি বলেই এখন তারা আওয়ামী লীগকেই উল্টো সাপ বলে অভিহিত করছেন।

আমরা যদি একটু পিছন ফিরে তাকাই তা হলে বাংলাদেশে সাপের রাজনীতিতে কে শুরু করেছিল তা দেখতো পাব। পর্দার অন্তরালে থেকে কুখ্যাত খন্দকার মোশতাক, ফারুক-রশিদ ও ডালিমদের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে। খন্দকার মোশতাকে ক্ষমতায় বসিয়েছিল যে জেনারেল জিয়া তিনি স্বার্থসিদ্ধির পর গলাধাক্কা দিয়ে মোশতাককে ক্ষমতা থেকে বিতারিত করে পরবর্তীতে নিজেই স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট বনে যান। খন্দকার মোশতাক এর প্রতিবাদের (ডিএল) ডেমোক্রেটিক লীগ নামক দল গঠন করে জেনারেল জিয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলনের অংশ হিসেবে বায়তুল মোকাররম মসজিদের গেইটে প্রথম জনসভা করতে গেলে জেনারেল জিয়ার দোসরা সে জনসভায় বেশ কটি বিষাক্ত গোঁখরো সাপ ছেড়ে দিয়ে ও বোমা হামলা করে সে জনসমাবেশকে পন্ড করে দিয়েছিল। আজ যারা পঞ্চাশ বয়স্ক রাজনৈতিক সচেতন ব্যক্তি জীবিত আছেন তাদের সবারই সে ঘটনাটির কথা মনে আছে। তাই সত্যি কথা বলতে গেলে বেগম জিয়ার জেনারেল স্বামীই বাংলাদেশে প্রথম সাপের রাজনীতি চালু করেছিলেন।

কাজেই বিতর্কের খাতিরে যদি ধরেই নেই বিএনপি নেত্রী মতে আওয়ামী লীগ সাপ, তা হলে তারা হলো ডোরা সাপ। আর বিষধর গোঁখরো কারা তা সবারই কমবেশী জানা। কাজেই কেঁচো খুড়তে গেলে সাপ বেড়িয়ে এলে তখন সাপ তত্বওয়ালাদের মুখ দেখানো পথ থাকবে না। আর শেখ হাসিনা যে খালেদা জিয়াকে সাপের ঝাঁপি মাথায় নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর কথা বলেছেন তার প্রমাণ পাওয়া গেছে তাঁর জনসংযোগের পথ সভাগুলোতে তাঁর গাড়িকে ঘিরে জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীদের স্লোগান থেকেই। বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে দেশের মানুষ গভীর উদ্বেগের সাথে প্রত্যক্ষ করেছে, বেগম খালেদা জিয়া নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে যে জনসংযোগের কর্মসূচি পালন করলেন তাতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধের দাবিতেই সোচ্চার ছিল জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। তাদের স্লোগানে স্লোগানে চাপা পড়ে গিয়েছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি। খালেদা জিয়া যেখানেই গেছেন সেখানেই জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়ার গাড়িকে ঘিরে দাবি করছিল যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তির। জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের দাপটে বেগম খালেদা জিয়ার গাড়ির ধারে কাছেও ভিড়তে পারেনি বিএনপির প্রকৃত নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। বরং শিবিরের নেতাকর্মীরাই সব সময় খালেদা জিয়ার গাড়ি ঘিরে রেখে স্লোগান দিয়েছেন ‘ঘেরাও ঘেরাও ঘেরাও হবে, ট্রাইব্যুনাল ঘেরাও হবে।’ ঘেরাও হবে ঘেরাও হবে ভূয়া ট্রাইব্যুনাল ঘেরাও হবে।’ ‘নিজামীর কিছু হলে জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে।’

বিভিন্ন ইলেকট্রনিকস মিডিয়ার ছবিতেও শুধু দেখা গেছে যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তি দাবি সম্বলিত পোস্টার ব্যানার ও ফেস্টুন। তাই সেদিন জামায়াত-শিবিরের দাপটে তত্ত্বাধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে বিএনপি নের্তৃত্বাধীন ১৮ দলের জনসংযোগ এক রকম ব্যর্থ হয়েছে বলেই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। কেননা, বর্তমান সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে জামায়াত-শিবির তাদের কর্মসূচি ঠিক মতো পালন করতে না পারলেও ১৮ দলীয় জোটের ব্যানের বিভিন্ন কর্মসূচিতে ব্যাপক অংশগ্রহণের মাধ্যমে জামায়াত-শিবির তাদের শক্তি ও সামর্থ্যের মহড়া দিতে পারছেন সহজেই। এ বিষয়টির প্রতি ইঙ্গিত করেই হয়তো শেখ হাসিনা বলেছেন,‘বিএনপি নেত্রী সাপের ঝাঁপি’ মাথায় নিয়ে ঘুরছেন।

পরিশেষে এই বলেই শেষ করতে চাই, আমরা সবাই জানি ‘ঢিলটি ছুড়লে, পাটকেলটি খেতে হয়’ বিএনপি নেত্রী আওয়ামী লীগের ওপর যে ঢিল ছুড়েছেন, পাটকেল ছুড়ে শেখ হাসিনা হয়তো তাঁর জবাব দেয়ার চেষ্টা করেছেন, তা না হলে দেশের নতুন প্রজন্মের সাধারণ মানুষ যে আওয়ামী লীগকে প্রকৃত সাপ বলেই মনে করবে।

১১ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. নুরুন্নাহার শিরীন

    নুরুন্নাহার শিরীন বলেছেনঃ

    মাহবুবুল আলম ভাই, ঠিকই লিখেছেন। বেগম জিয়া সাপকে বিশ্বাস করেই রাজনীতি করেন, করছেন। সাপের বিষ নামাতে যে অভিজ্ঞ সাপুড়ে দলকেই ডাকতে হয়, বিশ্বাস করেই মন্ত্রপাঠও শুনতেই হয় তা তিনি কোনওদিন বুঝতে চাননা। বোঝা সম্ভব নয় তার ও তার বিশ্বাসি সাপের দলের পক্ষে। কেবল সাপের বোঝা ও বিষ হজম করার অদ্ভুত রাজনীতি না করে তার “উপায় নাই গোলাম হোসেন” অবস্থা ….দেখছি আমরা ….

  2. raman বলেছেনঃ

    বিডি নিউ৛ 24 হল আ। লী এর দালাল ।
    টা না হলে এত লুট পাট টেংদেরবাজি চাঁদাবাজি হটটা গুম সেসরামি লুসসা মি করার পরেও কোনও প্রতিবাদ নাই।
    যারা এখন ও আ লী সাপোর্ট করে তারা হল মেন উইথ আউট বেক বোন।

  3. raman বলেছেনঃ

    সরি আমি আসলে এই ভাবে বলতে চাইনি । আমি চাই ক্লীন ইমেজ । এই জন্য আসুন আমরা এই উভয় সাপ কে তাগ করি। নতুন উচ্ছল দিনের অপেক্ষায় নতুন কেউ কে বাছাই kori

  4. আফসান বলেছেনঃ

    এখানে একজন যখন আরেকজন কর্তৃক ‘বিষধর সাপ’রূপে চিহ্নিত হয়েই গেছেন, তারপর যখন তিনি আরও কিছুটা এগিয়ে বললেন, ‘সাপকে বিশ্বাস করা যায়, আওয়ামী লীগকে নয়’, তখন কিন্তু সে পরিচয়ের মাত্রাটি অনেক ব্যাপক ও সুদূরপ্রসারী হয়ে ওঠে।
    আর হাসিনারা যখন তাকে পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে বলেন, ‘তিনি নিজেই সাপের ঝাঁপি মাথায় নিয়ে ঘুরছেন’ বা খেলছেন ইত্যাদি, তখন কিন্তু তাতে কোনোই বিশেষত্ব থাকে না। হাসিনাদের উক্তি অনুযায়ী এ ক্ষেত্রে খালেদা জিয়া বড়জোর তিনি সাপ (জামায়াত) নিয়ে খেলছেন। আর যখন হাসিনা ও তার দল নিজেরাই ‘বিষধর সাপ’ তখন কিন্তু সে পরিচয়ের মাত্রাটি আরও ভয়াবহ ও রোমহর্ষক। যা কল্পনামাত্রই রক্ত হিম হয়ে বরফজমাট হয়ে যায়।
    সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে খালেদা জিয়ার উক্তিতে হাসিনারা এতোটা বিচলিত হয়ে পড়েছেন যে, তারা একের পর এক জবাব দিয়েই চলেছেন। কিছুতেই কেউ থামছেন না। তার কারণ কি? তার মানে খালেদা জিয়া কি তবে তাদের সম্পর্কে ‘প্রকৃত সত্য’টি প্রকাশ করে দিলেন? কেউ যখন কারো সবচে’ দূর্বল জায়গায় আঘাত করে তখন কিন্তু সে-ই সবচেয়ে বেশি বিচলিত হয়ে পড়ে। এবং ক্রমাগত উল্টাপাল্টা বলতেই থাকে। এক্ষেত্রে কি আওয়ামী লীগের নেতানেত্রী ও মন্ত্রীরাও তাই করছেন না? আমার তো তা-ই মনে হচ্ছে!
    অন্যদিকে খালেদা জিয়া বা বিএনপি কিন্তু তাদের পাল্টা জবাব নিয়ে কোনোই মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া করছেন না। এক্ষেত্রে বিএনপি আওয়ামী লীগের বেসামাল পাল্টা জবাবে যেন কেবলই মজা লইতেছে, তাই নয় কি!
    তাৎপর্যের বিষয় হচ্ছে, এখানে কোনো আওয়ামী লীগারই বিএনপিকে কিন্তু ‘সাপ’ বলেনি। যদিও সাজেদা খালেদাকে ‘কাল নাগিনী’ বলেছেন, কিন্তু তার এই স্থূলো উক্তিটি যতোটা না রাজনৈতিকসুলভ হয়ে ওঠেছে, ততোধিক গ্রাম্য ঝগড়াটে মেয়েলিসুলভই হয়ে ওঠেছে। ফলে তার এই পাল্টা জবাবে কোনোই গুরুত্ব থাকছে না।
    খালেদা জিয়া আসলে আওয়ামী লীগ সম্পর্কে তার জীবনের সেরা উক্তিটিই করলেন। যে উক্তিটি আওয়ামী লীগকে ইসরাইলি ইহুদীদের মতো চিরকালই বহন করতে হয় কি না, কে জানে।
    তবে আমরা শান্তিপ্রিয় মানুষেরা মনে করি, তার আগেই এই ‘বিষধর’ দলটি বিলুপ্ত হয়ে গেলে পুরো জাতির জন্যই মঙ্গল। যেভাবে ‘মুসলিম লীগ’ ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের দাবী সম্ভব হয়ে ওঠেছে, ঠিক সেভাবেই মুসলিম লীগের ‘শাখা’ বিশেষ ‘আওয়ামী লীগ’ও সেই মুসলিম লীগের মতোই শেষ হয়ে যাওয়ার মধ্যেই নির্ভর করছে ভবিষ্যত বাংলাদেশের ভবিষ্যত। নয়তো এ ‘বিষধর সাপে’র বিষাক্ত ছোবলে বাংলাদেশকে ক্রমাগত ক্ষতবিক্ষতই হতে হবে। এ থেকে অবশ্যই পুরো জাতিকে রেহাই পাওয়া দরকার।

  5. সালমা কবির বলেছেনঃ

    বেগম জিয়া বলেছেন, ‘সাপকে বিশ্বাস করা যায়, আওয়ামী লীগকে নয়’। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন,‘বিরোধী দলীয় নেত্রীই সাপ নিয়ে খেলছেন। সাপের ঝাঁপি মাথায় নিয়ে চলছেন। এক্ষেত্রে যদিও যুদ্ধাপরাধী ও একাত্তরের গণহত্যাকারীদের প্রসঙ্গ টেনেছেন।
    উক্তিগুলো ঠিক যাচ্ছে না মনে হচ্ছে। কেননা, সব সাপকে তো বিশ্বাস করা যায় না! স্পেসিফিকেলি বেগম জিয়ার আর একটু করে বলে দেয়া উচিৎ ছিল তবে সেটা কোন সাপ?
    আবার প্রধানমন্ত্রীর উক্তি থেকে দেখি সাপকে বিশ্বাস করা যায় বলেই তো সাপের ঝাঁপি মাথায় নিয়ে অনায়াসেই হাঁটা যায়!!
    সত্যিকার অর্থে, দুই নেত্রীর এধরনের ব্যক্তিত্ব বিবর্জিত উক্তিসমুই আমাদের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রতিরোধক।এগুলোর চর্চা না যত শীঘ্রই বন্ধ করা যায় ততই আমাদের জন্য মঙ্গল বলে মনে করি।

  6. আফসান বলেছেনঃ

    @সালমা কবির, খালেদা জিয়া স্পেসিফিক্যালিই কোন্ সাপকে বিশ্বাস করা যায় না, তা কিন্তু তার জবানিতে সুস্পষ্টভাবেই উল্লেখ করেছেন।
    অর্থাৎ তিনি কিন্তু ‘সাপকে বিশ্বাস করা যায়, কিন্তু আওয়ামী লীগকে নয়’, এটি বলার আগে এও বলেছিলেন ‘আওয়ামী লীগ বিষধর সাপ’। অর্থাৎ বাক্যটি পড়তে হবে এ’ভাবে, “আওয়ামী লীগ বিষধর সাপ ; সাপকে বিশ্বাস করা যায়, কিন্তু আওয়ামী লীগকে নয়।”
    এখানে কিন্তু দু’টো বাক্যের মাঝে একটি ‘সেমি কোলন’ বা ‘ডেস’ চিহ্ন উহ্য থাকছে। ভাষণে তো আর কোথায় কমা, কোথায় কোলন, কোথায় কোলন ডেস, ডেস, বা কোথায় সেমি কোলন, এসব চিহ্ন স্পেসিফিক্যালি উঠে আসতে পারে না। কাজেই এ ধরণের বাক্য যখন আসে, সেক্ষেত্রে ভাষা বিষয়ে যারা খুব খুঁৎখুঁতে ও সচেতন, তখন বাক্যটি তাদের সেভাবেই সাজিয়ে নিতে হবে।
    সুতরাং এক্ষেত্রেও কোনোই সংশয় নেই, খালেদা জিয়া যা বলেছেন তা সুস্পষ্টভাবেই এরকমই বলেছেন, ‘বিষধর সাপকেও বিশ্বাস করা যায় কিন্তু আওয়ামী লীগকে নয়’।
    অর্থাৎ আওয়ামী লীগ এতোটাই ভয়াবহ রোমহর্ষক ও রক্ত বরফজমাট ঠান্ডা করে দেওয়া ‘বিষধর সাপ’ যে, তাকে কোনো বেদেনির পক্ষেও (ইত্তেফাক তো এমনই একটি কার্টুন করে!) পোষও মানানো সম্ভব না।
    ও হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন, সেই ‘বিষধর সাপ’ই তো মাথায় করে ঘোরা যায়, যে ‘বিষধর সাপ’ ইতোমধ্যে ‘পোষ মেনে’ গেছে। অর্থাৎ তর্কের খাতিরে যদি ধরে নিই, হাসিনা ‘বিষধর সাপ’ বলতে জামায়াতকেই বুঝিয়েছেন, তো সে সাপতো পোষই মেনে গেছে তারই কথায়, যে ‘পোষ’ তারাও এক সময় (১৯৯৬) মানিয়েছিল। (ইত্তেফাকের কার্টুনটিও কিন্তু তাই বলে!)। নয়তো এমন ‘পোষ-না-মানা বিষধর সাপ’কি কোনো বেদেনিও নিয়ে ঘুরে বেড়াতে সাহস পায়? দেখেন নাই ইত্তেফকের কার্টুনটিতে খালেদা জিয়ার কেমন হাসিকোঁচকানো মুখ! চোয়াল লেগে যাওয়া ভয়ার্ত মুখ কি!
    আর কোনো বেদেনি তো বিষহীন নিরীহ মেটে সাপ নিয়েও ঘুরে বেড়ায় না। আর তেমন সাপ ( যে সাপের দাঁত নেই, চোখ নেই, করে নাকো ফোঁসফাস’- রবীন্দ্রনাথ) দেখার জন্য কি বাচ্চা ছেলে ছাড়া বড় সাধের ‘ভোটার’ হতে পারা কোনো ‘প্রাপ্ত বয়স্ক’ দর্শক পাওয়া যায়! কাজেই এধরনের ‘সাপ’ নিয়ে কি রাজনীতিতেও সফল হওয়া যাবে? তেমন একেবারে ‘নির্বিষ সাপ’ নয় বলেই তো ১৯৯৬ সালে জামায়াতের (সে ‘বিষধর সাপ’ কিন্তু ‘বিশ্বাসযোগ্য’- কেননা, বিশ্বাসযোগ্য এ’কারণেই ‘যে সাপের দাঁত নেই, চোখ নেই’ মার্কা পোষ-মানা বলেই) সাহায্য নিয়ে দীর্ঘ বাইশ বছর পর ক্ষমতায় আসতে সক্ষম হয়। নয়তো বাপের জন্মে আবারও! আজও তাদের সেই হারানো ক্ষমতার জন্য কেবলই হা-পিত্যেশ করতে হতো, এতে কোনোই সন্দেহ নেই। কৃতজ্ঞতার দান বলে তো কিছু থাকতে হয়। এরা এতোটাই বিশ্বাসহীন যে সে কৃতজ্ঞতাও তাদের মধ্যে নেই। মনে হয়, খালেদা জিয়া সে ইঙ্গিত করেই এমনটি বলতে চেয়েছিলেন।
    খুবই ভালই যুক্তি দিয়েছেন কিন্তু, ধন্যবাদ, ভালো থাকবেন।

কিছু বলতে চান? লিখুন তবে ...