
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইটগুলোয় (ব্লগ, ফেসবুক) একটা ভিডিওর ব্যাপক ছড়াছড়ি। তেমন কিছু নয়, একুশে টিভিতে প্রচারিত সংবাদের ভিডিও। ‘ট্রানজিট’ নিয়ে প্রচারিত তিন পর্বের এক পর্ব। সেখানে উঠে এসেছে আখাউড়া ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সংযোগস্থলে তিতাস নদী দ্বিখণ্ডিত হওয়ার করুণ কাহিনী। ভারতকে ট্রানজিট সুবিধা দেয়ার নামে তিতাসের মাঝখানে রাস্তা বানিয়ে কীভাবে তাকে মেরে ফেলা হচ্ছে তার প্রমাণ ভিডিওটি। যারা কখনো তিতাস দেখেননি কিংবা নদী বরাবর কীভাবে রাস্তা বানানো হলো তা দেখার কৌতূহল থেকেও অনেক ইন্টারনেট ব্যবহারকারী এতে ঢুঁ মেরেছেন।
ঠিক কত মানুষ ভিডিওটি দেখেছেন তার হিসাব বের করা কঠিন, তবে লেখকের দেখা মতে ফেসবুক থেকেই ছয় হাজারের ওপর মানুষ ভিডিওটি শেয়ার করেছেন। এটা খুবই আশ্চর্যজনক ঘটনা— আরেক দেশকে সুবিধা দিতে গিয়ে একটা নদীকেই দ্বিখণ্ডিত করে ফেলছে বাংলাদেশ। এটা বাংলাদেশের নাগরিকরা কোন যুক্তিতে মেনে নেবেন? ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ উপন্যাসেই থাকবে হয়তো; আরেক বাস্তব উপন্যাস লেখা হতে পারে— ‘তিতাস একটি ট্রানজিট রুটের নাম’। যেটি অপ্রতিরোধ্য, দেশ অথবা মানুষ গোনে না। গোনে ফায়দা। অর্থনৈতিক ফায়দা কিংবা চকচকে নোটের কাছে ছলছল মানুষের চোখের জলের কোনোই মূল্য নেই!
বাংলাদেশের নদীগুলোর করুণ অবস্থার কথা কারও অজানা নয়। তিতাসের পরিণতি দেখছে সবাই, যেটি ভারতের ট্রানজিটের কাছে বলি হয়েছে। ঠিক এ রকম ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে, যেগুলোর অধিকাংশের উত্স ভারতে। উজানে পানি প্রত্যাহার করে নিলে ভাটির দেশ হিসেবে স্বাভাবিকভাবেই তাতে বাংলাদেশ বঞ্চিত হয়। নদী নিয়ে বহু খেলা এ দেশের মানুষ দেখেছে। ফারাক্কা বাঁধ দেখেছে, তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তির শেষ অবস্থা দেখেছে, টিপাইমুখ বাঁধ নিয়ে ভারতের আচরণ দেখেছে, দেখেছে বাংলাদেশের হর্তাকর্তাদের আচারণ। আবার একই সঙ্গে আপসে ট্রানজিট কবুল হতে দেখেছে কিংবা মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার লোভ দেখিয়ে রক্ষক কীভাবে ভক্ষক হয়, তাও দেখেছে।
তিতাসে আসি। একুশে টেলিভিশন প্রচারিত সংবাদটি বলছে, তিতাস নদীর ওপর বাঁধ দেয়ায় চারপাশের লাখ লাখ হেক্টর জমিতে ফসল উত্পাদনের ওপর বিশাল প্রভাব পড়ছে। এ নদীর ওপর নির্ভর করে যারা জীবিকা নির্বাহ করেন, তাদের জীবনে এসেছে অনিশ্চয়তা। বিশেষ করে জেলেদের অবস্থা খারাপ। সেখানকার মানুষ ঘরে ফসল তুলতে পারেন না। হাজার হাজার হেক্টর জমি তলিয়ে গেছে পানিতে। পরিবেশ বিপর্যয় তো রয়েছেই। তিতাস পাড়ে এখন শুধুই হাহাকার। তাদের প্রিয় নদী দ্বিখণ্ডিত। রোজগারের পথ বন্ধ। বেঁচে থাকার লড়াইয়ে পর্যুদস্ত। এর প্রভাব যে কেবল তাদেরই ঠকাচ্ছে তা নয়, তা এখন আমাদের সবার ওপর পড়বে স্বাভাবিকভাবেই।
সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিক খবর দিয়েছে, ট্রানজিটের জন্য কেবল তিতাস নয়, আশুগঞ্জ থেকে আখাউড়া পর্যন্ত করিডোর পেতে ১৮টি নদী এবং খালে বাঁধ দেয়া হয়েছে এভাবে। এ কাজ বাংলাদেশীরা করেনি, সরাসরি ভারতীয় কোম্পানি এবিসি নিজস্ব তত্ত্বাবধানে করেছে। এ কাজে বাংলাদেশের কোনো প্রতিষ্ঠানকেও জানানো হয়নি, বলে জানিয়েছে পত্রিকাটি। একুশে টেলিভিশন এ বিষয়ে কথা বলতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাউকে পায়নি। অবাক ঠেকছে, ঘটনা ঘটেছে এক বছর আগে আর তার আলোচনা চলছে এক বছর পর। মিডিয়া এর আগেই সংবাদটি সংগ্রহ করতে পারত। এক বছর ধরে ভারত যখন তাদের সব কাজ শেষ করেছে, ঠিক তখন কিনা টনক নড়লো!
মজার বিষয় হলো, ২০ ডিসেম্বর সংবাদটি প্রচারের পর ২১ তারিখ একই টিভির টকশোতে এ বিষয়ে সরকারদলীয় এক সংসদ সদস্য বলছেন, তিতাস তো মরা নদী আর মরা নদীতে বাঁধ দিলেই কী? এ হলো আমাদের জনপ্রতিনিধিদের চিন্তা। ভাবখানা এমন— নদী মরে গেলেই কী। দেশের দায়িত্বশীলদের আচরণ বরাবরই এ বিষয়ে প্রশ্নবিদ্ধ। তিতাস নদীতে বাঁধ দেয়া হয় ট্রানজিটের জন্য। অথচ গত সেপ্টেম্বরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী যখন বাংলাদেশে আসেন তখন ভারত তিস্তা চুক্তিতে সই করেনি বলে আমাদের সরকারও নাকি ট্রানজিটে সই করেনি। জনগণকে এটা শোনালেও বাস্তবতা হচ্ছে, ভারত আরও আগেই ট্রানজিট পেয়ে গেছে। যদি তা-ই না হতো, চুক্তির আগেই কীভাবে ভারত তিতাসসহ অন্যান্য নদীর ওপর বাঁধ দিতে পারে? সরকারের বোঝা উচিত, জনগণকে ফাঁকি দেয়া এখন আর সম্ভব নয়।
ট্রানজিটে অর্থনৈতিক লাভ-ক্ষতির বিষয়ে জ্ঞান আমার নেই। তবে এটা স্পষ্ট যে, ভারতের ট্রানজিট দরকার। ট্রানজিটের মাধ্যমে ভারত লাভবান হবে। ভারতের জন্য যেহেতু এটা আবশ্যক, সেহেতু দরকষাকষির এই একটা পথই বাংলাদেশের সামনে খোলা আছে। কারণ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশেকে ভারতের সঙ্গে কথা বলতে হবে। পানি, নদী, করিডোরসহ নানা ইস্যু রয়েছে। ভারত বড় দেশ বলে বাংলাদেশকে গুরুত্ব দেবে না, এটা স্বাভাবিক। এটা বাস্তবে হয়েছেও, ভারতের আচরণ বরাবরই বিমাতাসুলভ। সুতরাং কথা বলার মাধ্যম হিসেবে ভারতকে যখন সহজে ট্রানজিট দিয়ে দেয়া হলো, তার পরিণতি কী হবে বিশেষজ্ঞরাই ভালো বলতে পারবেন।
ব্লগে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, তিতাস যদি ভারতের নদী হতো তারা কি বাংলাদেশকে এর ওপর বাঁধ নির্মাণ করতে দিত? উত্তর হলো, না। তাদের ক্ষেত্রে উত্তর না হলে বাংলাদেশের জন্য সেটি কীভাবে হ্যাঁ হতে পারে? দ্বিখণ্ডিত তিতাসের বিষয়ে একটা গণজাগরণ হবে না তার নিশ্চয়তা নেই। এ দেশের মানুষের সহ্যক্ষমতা যখন শেষ হয়ে যাবে তখন কী ঘটবে বলা যায় না। শাসকবর্গের বিষয়টা মাথায় রাখা দরকার।
বাঁধের প্রভাব প্রভাব হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন স্থানীয় মানুষ। সেখানকার কৃষকের মাঠের ফসল, জেলেদের আয় রোজগারের মাধ্যম ছিল এই নদী। তাদের মুখে হাসি ফোটানোর দায়িত্ব সরকারেরই। তবে দেশের সার্বভৌমত্ব আরও গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের রক্ষকরা সেটা রক্ষায় কতটা তত্পর তার ওপর নির্ভর করছে আগামীর বাংলাদেশ। তিতাস দ্বিখণ্ডিত হলো, ঢাকা দ্বিখণ্ডিত হলো, এরপর কী আমরা জানি না। তবে অনুরোধ, বাংলাদেশটা অখণ্ড রাখবেন।
[প্রকাশিত]
***
ফিচার ছবি: নিলয় দাশ, মঙ্গলধ্বনি (http://mongoldhoni.wordpress.com) ওয়েব সাইট থেকে সংগৃহিত
মাহফুজুর রহমান মানিক
এ জায়গাটা আমার বেশি প্রিয়-
http://www.mahfuzmanik.co.cc
ব্লগে যোগদান করেছেন:
বুধবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১১
স্থান :ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

অমন করে কী দেখছেন।
আমাদের নদীগুলোকে কী হাতে ধরেই আমরা খুন করবো?
অত্যন্ত সময়োপযোগী একটি পোষ্ট।

ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ছিল এটা আমরা সবাই জানি।
আমাদের সরকার প্রধানের মন্তব্যটিও আমরা ভুলিনি , “নো তিস্তা নো ট্রানজিট”!
আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রতিবেশী দেশটির অনন্য ভূমিকা ছিল।
তার মূল্যও আমরা কম দিইনি। আজকে ভারতের আগ্রাসনের প্রত্যক্ষ সহায়তা করে দেশের অন্যতম প্রধান একটি নদীর অপ-মৃত্যূর জন্য আমরা সরকারকেই দায়ী করব। বিষয়গুলো তারা পর্দার অনতরালে েখেিলেন বলে।
তিস্তা ইস্যু নিয়ে আন্তর্জাতিক নদী কমিশনে সরকারকে সক্রীয় এবং প্রতিবাদি দেখতে চাই। ন্যূজ পররাষ্ট্রনীতির তীব্র নিন্দা জানাই।
ধন্যবাদ সাইফ ভূইয়া
আসলে ট্রানজিটের অনেক বিষয়ই এখনও আমাদের অজানা। এরকম আরও কিছু দেখবো হয়তো। মনমোহনের সফরের খেলাটা বোঝাই মুশকিল। পত্রিকাগুলোই ছেপেছে, ট্রানজিট হয়নি। অবশ্য পরে বিশেষজ্ঞরা বলছেন ট্রানজিট চুক্তি হয়ে গেছে। ট্রানজিট চুক্তির ঘটনা এখনকার হলে তিতাস কিভাবে একবছর আগেই দ্বিখন্ডিত হলো?
ভারতের স্বার্থের দিক থেকে বাংলাদেশ সব বিষয়ই দেখেছে। আর তিস্তার মাধ্যমেই ভারতের আচরন দেখলাম। সরকার কোনো বিষয় ঠেকানোর ক্ষমতা না রাখলে রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের কি রৈলো।
আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন……….
আল্লাহ আমাদের রক্ষা করবেন বটে, তাই বলে তো বসে থাকা চলবে না।
যার যার স্থান থেকে কাজ করতে হবে।
উই হেয়াইট ইট।
উই হেইট ইট,
উই হ্যাভ টু ডু সামথিং
বাধ ও রাস্তার মধে পার্থক্য কী? রাস্তার দুই পাশে পানি নাই…তাহলে এটাকে কী বাধ বলা যাবে? বাধের উচ্চতা এত ছোট কেন? তিতাস নদীর পানিকী এত কম? নাকি পানি নাই? তাহলে বর্ষ কালের জন্য ব্রিজ কেন দরকের? সাংবাদিক সাহেব কেন উতলা ? তিনি জাতীয় ইস্যু গুলো সহ সরকেরের বার্থটাকে ঢাকতে চককেন কেন?
এই লিংকের ছবিটা দেখুন।
২০০৮ এর তিতাস আর আজকের তিতাস-
http://www.mahfuzmanik.co.cc/2011/12/blog-post_27.html
এখানে খুব ভালোভােবই আছে-
http://mongoldhoni.wordpress.com/2011/12/24/titas-is-killed-in-the-name-of-transit-or-so-called-friendship/
ভাই, এখানে উতলা হওয়ার কিছু নাইতো, বাস্তবতাই তুলে ধরা হয়েছে।
সরকার আলোচনা কিংবা সরকারের সফলতা ব্যর্থতার খতিয়ান নিয়েও পোস্ট নয়। সরকার কোনো ভালো কাজ করলে স্বীকার করতে তো ক্ষতি নেই। তয় তিতাস নদীর ক্ষেত্রে সরকারের ভূমিকা আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?
চলুন আমরা বুড়িগঙ্গা ভরাট করে নেতাদের জন্য বড় বড় প্রাসাদ করে দেই। ইন্ডিয়ান দাদাদের জন্য একটা প্রমোদখানা থাকলে মন্দ হয় না! 16 কলা পূর্ণ হবে !!!!
হা হা হা, আপনি অনুসন্ধান করে এরকমটা পেয়ে থাকলে আমার বলার কিছু নাই। তয় বুড়িগঙ্গা নিয়া তো বহুত স্বপ্ন আমাদের নেতারা দেখাইছে, দেখলেন না নদী উদ্ধারে হাইকোর্ট পর্যন্ত নির্দেশনার পর গত বছর ‘বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ রিভার ক্লিনিং প্রজেক্টের’ নামে বাবুবাজার থেকে কামরাঙ্গীরচর পর্যন্ত নদীর তলদেশের বর্জ্য অপসারণ শুরু হয়েছিল। সেটা এখন বন্ধ। আবার ওই বর্জ্য ব্যবস্থাপনাগত সমস্যায় নদীতেই পড়েছিলো।
আরে ভাই সরকার ৫৪টা নদী নিয়া ভাবছে না
আর আপনি ১টির কথা বলছেন
আর নদী মরে তাদের ক্ষতি কী
তারা ঐ মরা নদী ভড়ট করে বড় বড় এপার্ট মেণ্ট বানিয়ে থাকতে পারবেন
ভারতের সঙ্গে ৫৪ টি নদী, কিন্তু অন্যান্য নদীর অবস্থাও কী ভালো? বিলীন হয়ে যাচ্ছে রংপুরের ৬০টি নদী ইত্তেফাকের আজকের সংবাদটা দেখছেন তো।
এভাবে নদীগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। আমরা একটা নদীকে ধরে সবগুলোর কথা বলতে পারি।
আজ জাতি হিসেবে নিজেদের বড্ড অসহায় মনে হচ্ছে। আমরা কি সেই জাতি যারা ১৯৫২ তে বুকের তাজা রক্ত দিয়ে নিজেদের ভাষাকে বাচিয়ে রেখেছিলাম, যারা ১৯৭১ এ বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী ও সুসংগঠিত সেনাবাহিনীকে পরাস্ত করে আমাদের প্রিয় বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছিলাম, এরপর ১৯৯০ এ গণতান্ত্রিক আন্দোলন… কোন কিছুই আমাদের পরাস্ত করতে পারেনি।
আমরা তো সেই জাতি যারা বিদ্যুতের জন্য কানসাটে, নিজেদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য ফুলবাড়িতে, সারের জন্য গাইবান্ধায় প্রশাসনের আগ্নেয় অস্ত্রের মুখে বুক পেতে দিয়ে জীবন দিয়েছিলাম। আজও ভুলি নাই পাদুয়া কিংবা বড়াইবাড়ীর কথা, যেখানে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীকে পরাস্ত করে প্রিয় জন্মভুমির অস্তিত্ব রক্ষা করেছিলাম। এসব কি এখন শুধুই ইতিহাস?
আজ আমার জন্মভুমির বুক চিড়ে রাস্তা তৈরী করা হচ্ছে, সীমান্তে বাধ দিয়ে আমার দেশের নদীনালা গুলোকে শুকিয়ে মরুভুমি করে দেয়া হচ্ছে । কাটাতারের বেড়া দিয়ে গোটা বাংলাদেশকে একটা কারাগারে পরিনত করা হচ্ছে। অসম চুক্তি করে ইতিমধ্যে পঙ্গু করে দেয়া হয়েছে আমার দেশের অর্থনীতিকে।
সংস্কৃতি বিনিময়ের নামে একচেটিয়া ভাবে চলছে ভিন দেশী টিভি চ্যানেলগুলো, ভঙ্গুর চলচিত্র শিল্পকে একদমই পঙ্গু করে দেয়া হয়েছে একটি বিশেষ দেশীয় চলচিত্র আমাদের সিনেমা হলগুলোতে প্রদর্শনের মাধ্যমে। একটি বিশেষ দেশীয় সাংস্কৃতিক কর্মীদেরকে এদেশে আমন্ত্রন জানিয়ে বারংবার অপমান করা হচ্ছে আমাদের দেশের সম্মানিত শিল্পীদের।
ট্রানজিট দেবার নাম করে অতি সম্প্রতি তিতাস নদীর বুক চিরে দেয়া হয়েছে, সেখান তৈরী হয়েছে প্রশস্ত রাস্তা। একদিকে ফারাক্কা আমাদের উত্তরাঞ্চলকে ইতিমধ্যে মরুভুমিতে পরিনত করেছে, পাশাপাশি টিপাইমুখ বাধ তৈরীর নতুন ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে যা আমাদের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে মরুভুমিতে পরিনত করবে অন্যদিকে মরুভুমি প্রায় নদীগুলোর বুক চিরে রাস্তা তৈরী…এগুলো কিসের আলামত? তবে কি আমাদের স্বাধীনতা আজ হমকির সম্মুখীণ নয়? কে আমাদের রক্ষা করবে? কার আশায় বসে আছি আমরা? কে দেবে আমাদের ডাক? কে দেবে নেতৃত্ব? আসুন আজ আমরা আমাদের মহান ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেই। যার যা কিছু আছে মহান আল্লাহর উপর ভরসা করে বেড়িয়ে পড়ি। ৫২, ৭১ এরা আমাদের পথ দেখাবে।
পথিক নেওয়াজ আপনি যতটা অসহায় বোধ করছেন আমাদের কর্তা ব্যক্তিরা সেটা করছে কিনা বলা মুশকিল। নদীসহ আপনি যতগুলো বিষয় উল্লেখ করেছেন সবই বাস্তব। আপনার সঙ্গে সহমত পোষণ করে আপনার শেষ কথাটাই আবার রিপিট করছি
নদী কেন পারল গোটা বাংলাদেশ দিয়ে দেব তবু দাদাবাবুদের সন্তুষ্টি অর্জন করতে হবে। তাদের করুনা ছাড়া ক্ষমতায় টিকে থাকা যে দায়।
জি প্রিতবাদ
ক্ষমতা জিনিসটা বাপকেও ছাড়েনা। আর ক্ষমতার জন্য মানুষ যা ইচ্ছা তা-ই করতে পারে।
আমাদের দেশকে আমাদেরই রক্ষা করতে হবে।
ভারত আমাদের পানিতে মারবে, গুলি করে মারবে, ভারতীয় পন্যে দেশের শিল্প কারখানা ধ্বংস করবে, আমাদের পন্য-টিভি চ্যানেল ভারতে প্রবেশ করতে পারবে না।
আর এখন ভারতীয় নৃত্য দেখে আমাদের সবকিছু ভুলে থাকতে হবে, আর বলতে হবে “কি করব আমরা কিছু করতে পারি না্” ।
বিডিনিউজে শফিক রেহমানের এই লেখাটা দেখুন। বেশ ভালোভাবেই এ বিষয়গুলো এসেছে।
স্টপ টিপাইমুখ। এ পিটিশন হ্যাজ বিন সাবমিটেড টু ইউনাইটেড ন্যাশনস। নিড ১০০,০০০ সিগনেচারস। প্লিজ লগ ইন http://www.itdpc.org এন্ড সাইন দ্য লিংক। প্লিজ ফরোয়ার্ড দিস ম্যাসেজ টু অল ইয়োর নোন সোশ্যাল নেটওয়ার্কস এন্ড ফ্রেন্ডস। বেস্ট রিগার্ডস। A N M Essa.
থ্যাংক্স ব্রাদার,
ইয়েস উই শুড ডু ইট
এই বাঁধ যে কেবল তিতাসকে ধ্বংস করছে তাই নয়, তিতাস সংশ্লিষ্ট জীব বৈচিত্র্যকে হুমকির মুখে ফেলছে। বর্তমান বিশ্বে প্রভাবশালী কোন দেশ তার প্রতিবেশী দুর্বল দেশের প্রতি খালি খালি মাতৃ সুলভ আচরণ করবে সেটা আশা করা বোধকরি ঠিক হবে না। আমাদের পয়েন্ট ছিল কিন্তু আমরা তা কাজে লাগাতে পারিনি মোটেও। ভারতের রাজনীতিতে বাংলাদেশের প্রতি আচরণ কখনই দলীয় পটপরিবর্তনে পরিবর্তিত হয়না। কিন্তু আমাদের হয়। যার জন্যই ভারত প্রীতি বা ভারত বিদ্বেষ শব্দ দুটি ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে আমাদের মধ্যে। যে কোন রাষ্ট্রই তার নিজের স্বার্থ আগে দেখবে সেটাই স্বাভাবিক। যদি কোন রাষ্ট্র নিজের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে অন্য রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় তৎপর হয়ে তবে কাকে দোষ দেবেন আপনি? স্বার্থ রক্ষাকারীকে না স্বার্থ জলাঞ্জলিকারীকে?
খুব ইমপর্ট্যান্ট কথা বলেছেন
আমাদের রাজনীতিবিদরা কোনও শিক্ষা না নিলে কী আর হবে
এই ভাবেই দেশের মরণ দেখতে হবে। এটাই দুঃখ। কিছু করতে পারছি না এটা আরো বেশী দুঃখ।
সগীর ভাই ধন্যবাদ।
আপনার এত দু:খের কিছু নেই, কারণ আপনার সামর্থ্যের মধ্যে থাকা অন্তত কলম দিয়েও আপনার কাজ করে যাচ্ছেন।
Pingback: Bangladesh: Titas Is The Name Of A Murdered River · Global Voices
Pingback: The 3rd world view Titas Is The Name Of A Murdered River | The 3rd world View
Pingback: Bangladesh: Titas Is The Name Of A Murdered River
Pingback: Bangladesh: Titas Is The Name Of A Murdered River :: Elites TV
কেবল তিতাস বাচাতে হলে মমাতার মত মমাতাহিন হতে হবে
সত্যিকারাথেই মমতাদের কাছ থেকে বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদের বহুত শেখার আছে।
ভারত আমাদেরকে দেশ দিয়েছে (মুক্তিযুদ্ধ সাহায্য করার মাধ্যমে), আসুন আমরা তাদেরকে আমাদের পশ্চাদ্দেশ দিয়ে দেই।
সবাই ভারত প্রেমে হাবুডাবু খান । কিছু বলবেন তো যুদ্বাপরাধী হবেন।
Pingback: Titas is the Name of a Murdered River
বাধ এখন ভাঙ্গা হচ্ছে কিন্তু যে ক্ষতি হল এর মাশুল কে দিবে ?
আপনি ঠিকই ধরেছেন।
ক্ষতির বিষয়ে প্রথম আলোর প্রতিবেদনটা দেখুন-
http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-01-13/news/216154
Pingback: Μπανγκλαντές: Titas, το όνομα ενός νεκρού ποταμού · Global Voices στα Ελληνικά