ক্যাটেগরিঃ জনজীবন

 

ওকে পিশাচে ধরেছে । হুজুর পানি পড়া ছিটিয়ে দিলেন নারীর চোখে- মুখে। এইটা কিয়ের পানি ছিডাস? তুই কেরা ? এইখান থেইক্কা ভাগ। বললেন কথিত পিশাচ আক্রান্ত নারী ।
পিচাশ
ঘটনাস্থল ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা পৌর শহরের আটানি বাজার রোড গৌরাঙ্গ মন্দিরের সামনে । তখন রাত ৮টা বাজে। এ নারীর নাম জানা যায়নি । সকলেই তাকে ডাকছে সাথীর মা বলে। সাথীর মা শহরের চৌরঙ্গীর মোড় এলাকায় স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদের বাড়িতে ভাড়া থাকেন। তার স্বামী বাদশা পেশায় গাড়ি চালক। এই দম্পতি তাদের দুই মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। তাদর নাতীপুতিও আছে ।
পিচাশ-২
সাথীর মার প্রতিবেশি আসমা জানালেন, তিনি নিয়মিত ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেন । কোরআন শরিফ পড়তেন । সাথীর মার বড় বোন নাজমা জানালেন, গেলো শবে বরাতের রাত থেকে হঠাৎ করেই অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকেন। মোফাজ্জল হোসেন বলেন, সাথীর মা আমার খালা শাশুড়ি । তিনি খুবই সংসারী এবং ভালো মানুষ ।
পিচাশ-৩
সেদিন শুক্রবার । সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ করেই বাড়ি থেকে বের হয়ে পড়েন সাথীর মা । ৬-৭ জন নারী-পুরুষ মিলে তাকে ঠেকানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু ব্যর্থ হয়েছেন তারা। তাদের দাবী, তাকে দমানো সম্ভব হয় নাই । কারণ তার শরীরে ৮-১০ মানুষের শক্তি ছিলো তখন ।
পিচাশ-৪
সাথীর মা বাড়ি থেকে এক দোঁড়ে কোয়াটার কিলোমিটার নিকটবর্তী গৌরাঙ্গ মন্দিরে এসে অবস্থান নিলেন। মন্দিরের সামনে বসে পড়লেন ধ্যানে। পিছু পিছু আসা প্রতিবেশী আত্নীয়-স্বজনরা আকুতি জানালেন,  সাথীর মা বাড়ি চলেন । সাথীর মার এক উত্তর, তরা চলে যা । আমি এখানেই থাকবো । সাথীর মা যখন মন্দিরে অবস্থান করছিলেন, তখন মন্দিরের গেইটে ভিড়। বিষয়টি জেনে ভেতরে যাই । সঙ্গে থাকা ক্যামেরা দিয়ে ছবি উঠানোর চেষ্টা করছিলাম । দেখলাম ব্যাটারিতে চার্জ নেই । বাসায় গিয়ে আরেকটি ক্যামেরা এনে ছবি তুলতেই ফ্ল্যাস লাইট দেখে তেড়ে এলেন সাথীর মা। বললেন, তুই কে? আমার ছবি কেন তুলছিস? প্রতিবেশী আত্নীয়স্বজন মিলে মন্দির থেকে বাইরে আনলেন তাকে। একশ গজ আসতেই আবার রাস্তার পাশে শুয়ে পড়লেন ।
পিচাশ-৫
সাথীর মাকে ঘিরে মানুষের ভিড় বাড়তে লাগলো । এদৃশ্য দেখে সেখানে এলেন লাল মিয়া হুজুর । হুজুর একটি মসজিদের ইমাম । তিনি বললেন, একে ধরেছে পিশাচ । সারিয়ে তোলা সহজ না। স্থানীয়রা হুজুরকে এক গ্লাস পানি এনে দিলেন। হুজুর পানিতে ফু দিয়ে সাথীর মার চোখে মুখে ছিটালেন । এরপর সাথীর মাকে ভ্যান রিকশায় উঠিয়ে বাড়ি নিয়ে যাওয়া হলো।