ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

রাষ্ট্রভাষা বাংলা মানে রাষ্টের ভাষা বাংলা সেটা বুঝতে পারি । শিক্ষার ক্ষেত্রে বাংলা মাধ্যম আছে , আমাদের একজনের সাথে আরেকজনের যোগাযোগের মাধ্যম বাংলা , আমরা আজকাল বাংলায় টেক্সট করি ,ইমেইল করি । সচিবালয়ে বাংলা ছাড়া কোন কাজই হয় না । টিভি চ্যানেল গুলো বাংলায় সংবাদ প্রচার করে ,অনুষ্ঠান করে । আজকাল ফ্যাশন হাউস গুলোও পোশাকে বিস্তর বাঙালিআনা এনেছে । এসব না হয় বুঝলাম ।

রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম মানে কী ? রাষ্ট্রের কার্যকলাপে ইসলামের প্রতিফলন । আমাদের জীবন যাত্রায় ইসলাম । আমাদের পোশাকে ,চলনে , বিশেষকরে আমাদের মেজরিটি অফ পিপল যারা বয়সে অপেক্ষাকৃত তরুণ যারা দ্রুত তাল মেলাচ্ছে গ্লোবালাইজেশনের স্রোতে , ওরা কতটুকু চিন্তিত রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম হওয়া না হওয়া নিয়ে । এগুলো কি আমরা গণনায় নিচ্ছি ?

১৯৮৮ সালে ইসলাম রাষ্ট্রধর্ম হবার পর থেকে এ পর্যন্ত আমাদের সাংস্কৃতিক এবং প্রতিদিনকার আচরণগত জীবনে কোন পরিবর্তন এসেছে কি? পুরো জাতি কি আগের তুলনায় আরো বেশি ধার্মিক হয়ে গিয়েছে বা পর্দা প্রথার আরো বেশি প্রয়োগ কি চারপাশে দেখতে পারছি ? ব্যবসায়ী সমাজ বা মিডিয়া কি আরো বেশি শালীন (ইসলামী অর্থে!!!) বা দায়িত্বশীল আচরণ করছে ? তাহলে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম করার মানে টা কি । এটা কি আমাদের জীবন যাপন কে আরো বেশি ইসলামাইজড করার জন্য নাকি স্রেফ রাজনৈতিক স্টান্টবাজি ।

৮৮ তে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন যখন তুঙ্গে তখন ৮ম সংশোধনী হিসেবে স্বৈরাচারী এরশাদ রাষ্ট্রধর্ম বিলটি আনেন । ঐ সময়ে তার জনভিত্তি ছিল শূন্যের কোঠায় । এই সিদ্ধান্তের সাথে সরকারটির জনসম্পৃক্ততা কতটুকু ছিল এনিয়ে প্রশ্ন তোলা যেতেই পারে । এই মহান ইসলাম প্রেমিক টি গদি বাঁচানোর শেষ চেষ্টা করেছিলেন নব্বইয়ের অক্টোবরে বাবরি মসজিদ ভাঙার ধুয়ো তুলে ইনকিলাবের খবরের সূত্র ধরে পুরোনো ঢাকায় মন্দির ভাঙার মধ্য দিয়ে । শুনেছিলাম তখন নাকি পুলিশের সামনেই এই কর্মটি সাধিত হয়েছিল ।

পাকিস্তানেও একইভাবে ইসলামাইজেশন করেছিলেন সামরিক শাসক জিয়াউল হক । চালু করেছিলেন হুদুদ আইন ( ধর্ষণের প্রমানে চারজন পুরুষ সাক্ষী লাগবে । সেখানে নারী বা অমুসলিম সাক্ষী গ্রহনযোগ্য নয় । মনে হচ্ছে কেউ সাক্ষী রেখে অপকর্মটি করছে )গঠন করেছিলেন শারিয়া কোর্ট , শারিয়া আপিল বেঞ্চ । যেটা এখনো বলবৎ আছে । পাকিস্তানে এসব ইসলামিকিকরণের উপকার তো আমরা এখন চোখের সামনেই দেখছি ।

এবার আসি বহুল প্রচারিত ( cliche- ক্লিশে ) সংখ্যাটি (৯০%) নিয়ে । বলা হচ্ছে ৯০ ভাগ লোক মুসলমান । কিন্তু এদের মধ্যে কতজন জিয়াউর রহমানের (শহীদ !!! রাষ্ট্রপতি ) মুসলমান সেটা ভাববার বিষয় ।

৭৫ এর হত্যাকাণ্ডের পর তিনি কবির চৌধুরী , আনিসুজ্জামান , সানজিদা খাতুন , হাসান ইমাম সহ আরো অনেককে ডেকে বলেছিলেন , একতারা দোতারা , হারমোনিয়াম ,তবলা ছেড়ে বংগ বা গিটার হাতে তুলে নিতে । সানজিদা খাতুন কিছু বলায় উনি বলেছিলেন আপনার নাম কি ? তার মানে আপনি মুসলমান । গল্পটা হাসান ইমামের (আমার পছন্দের মানুষ নন) মুখেই শোনা টক শোতে । সে জন্যই ঐ সময়ে ফেরদৌস ওয়াহিদ , পিলু মমতাজ জাতীয় গান বিটিভি বেশি করে প্রচার করত ।

এই নব্বই ভাগের মধ্যে কতজন ঈশ্বর সম্পর্কে উদাসীন মানে আছেন কি নেই সেটা নিয়ে ভাবেন না (আপেথিস্ট ) ।কতজন ঈশ্বর আছেন কি নেই সেটা প্রমান অসম্ভব মনে করছেন ( অজ্ঞেয়বাদী ) কিন্তু আচারে সামিল হচ্ছেন বা কোন আচারের ধারে কাছেও নেই (গোড়া অজ্ঞেয়বাদী )। কতজন ঈশ্বরে বিশ্বাস করেন ( স্পিরিচুয়াল ) কিন্তু আদতে নন প্রাক্টিসিং , এসব কি ভাবছি । এরা কেউকি ধার্মিক শ্রেণীতে পড়েন কিনা সেটাও জানা উচিত ।

সেদিন আমার এক সহকর্মী বললেন ইসলাম কে রাষ্ট্রধর্ম করে মুসলমানদের সম্মানিত করা হয়েছে । তখন একটা গল্প ওনাকে বলেছিলাম । আমার বড়ভাইটি তখন ঢাকা ইউনিভার্সিটি থেকে এমবিএ শেষ করে লিভার ব্রাদার্স ( মুসলমানের দেশে ব্রাদার কথাটি ভালো চলে ভারতে তখন আবার জাতীয়তাবাদী হিন্দুস্থান লিভার, এখন আবার জেঁকে বসার পর এর কোনটিই নেই , আছে ইউনি লিভার)এ ইন্টার্ন শিপ করছিল । ওই সময়ে শ্রমিকরা তাদের বেতন বৃদ্ধির জন্য আন্দোলন করছিলেন । কতৃপক্ষ সে সময়ে তাদের পোশাকে পরিবর্তন এনে একটা ব্যাজ বা চিহ্ন দিয়েছিলেন এবং দুপুরের খাওয়ার সময়টা ক্যান্টিনে এক্সিকিউটিভ দের সাথে একসাথে করেছিলেন , শ্রমিক রা নিজেদের সম্মানিত ভেবে আন্দোলন থেকে সরে এসেছিলেন । এসব সম্মানে কি তাদের পার্থিব জীবনযাত্রায় কোন পরিবর্তন এনেছিল । মোটেই না ।

স্বৈরাচার , অগণতান্ত্রিক সরকারের অষ্টম সংশোধনী কেন বিগত সরকার গুলো বজায় রেখেছে ? সেটা কি জনগণ ফুঁসে উঠবে বলে , নাকি নিজের অপকর্ম এবং রাজনৈতিক ফিকিবাজি কে জারি রাখতে সেটা ভাববার বিষয় ।