ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী হত্যার পর সরকারের নড়ে চড়ে বসাটা লক্ষ্যনীয় বটে । এতগুলো টার্গেটেড কিলিং হবার পরও সরকারের মন্ত্রী রা মুখে কুলুপ এটেছিলেন । এখন মো: নাসিম তো প্রতিদিনই বলছেন প্রতিরোধের কথা । আর ওবায়দুল কাদের তো ছাত্রলীগ কেই এগিয়ে আসার কথা বলে জঙ্গিবাদ প্রতিরোধের বারোটা বাজাচ্ছেন ।

এখন সাঁড়াশি অভিযানের মানে কী, পুলিশ বাহিনীকে নিজের পেটুয়া বাহিনী বানিয়ে তার ও পর আঘাতকে নিজের উপর আঘাত বলে মনে করা, তাদের মনোবল চাঙ্গা রাখার জন্য অভিযানে ঝাঁপিয়ে পড়া, আর ব্লগার, পুরোহিত, যাজক, সমাজসেবক, গে একটিভিস্ট, নাট্যকর্মী, শিক্ষক এদের হত্যাকাণ্ডে লোক দেখানো ছোট ছোট বিবৃতি আর কিছু গ্রেফতারে সীমাবদ্ধ থাকা। এই দ্বিচারিতা বোধগম্য।

ব্লগারদের নাস্তিক বানিয়ে, পাবলিককে ধোঁয়াশার মধ্যে রেখে উল্টো জঙ্গিবাদকেই জেঁকে বসার সুযোগ দেয়া হয়েছে। জনগণকে সম্পৃক্ত না করে কোন আন্দোলন কোন দিন কোথায় ও সফল হয়নি। তাই সরকার ও চৌদ্দ দলের পক্ষ থেকে ১৯ তারিখে মানব বন্ধনের লক্ষ্যে জনগণকে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানানোকে স্বাগত জানাতেই হয়। কিছু কিছু জায়গায় সাধারণ মানুষকে নিয়ে ডিফেন্স পার্টি গঠন করা হয়েছে। অনেক পরে হলেও জনগণকে নিয়ে প্রতিরোধের কথা এই প্রথম মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বললেন।

অনির্বাচিত সরকার বলেই হিসেব নিকেশটা অনেক বেশি। কিন্তু আপনাদের হিসেব নিকাশের মাশুল জনগণ দিচ্ছে, টার্গেটেড কিলিং এ ভিকটিম হয়ে ।

দিন দশেক আগে সরকারপন্থী বুদ্ধিজীবীরা লেক শোর হোটেলে সেলিম ওসমানের ঘটনার পর এক সেমিনারে সরকারকে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে শক্ত ম্যাসেজ দিয়েছেন । এরাই ২০১৪’র ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের আগে সরকারকে প্রকাশ্যে ব্যাকআপ দিয়েছিলেন।

জনগণকে ভয়ের সংস্কৃতি ( রাষ্ট্র ও জঙ্গি দু দিক থেকেই )আর সেলফ সেন্সরশিপের মধ্যে রেখে , জনসম্পৃক্তি আশা করা যায় না । তাই রাষ্ট্রের কথায় ও কর্মে জনগণকে আস্থায় আনতে হবে, তারপর তারা রাস্তায় নামবে । সে কাজ রাষ্ট্র করছে কী?