ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

বাংলাদেশের এক মহান বর্ষিয়ান নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত আজ ৫ই ফেব্রুয়ারি ভোরবেলা রাজধানীর ল্যাব এইড হাসপাতালে মারা গেছেন । এটা আমাদের সবারই জানা । কিন্তু আমরা বাঙালি জাতি যে আজও একজনের প্রাপ্যসম্মানটুকু দিতে জানি না তা আজ আবারও প্রমাণ করলাম। সুরঞ্জিত সেনের মৃত্যুর খবর প্রচার হওয়ার সাথে সাথেই আমাদের দেশের সোনার ছেলেরা তার সমন্ধে ঢালাও ভাবে ফেসবুকে স্টাটাস দেওয়া শুরু করে দিল । খুব অল্প কিছু ফেসবুকাররাই তার সমন্ধে ভালো কিছু লিখলো । তার প্রধান যে কারণটা দেখানো হচ্ছে তা হচ্ছে সে একজন হিন্দু ছিল এটাই তার সবচেয়ে বড় অন্যায়। সে দেশের জন্য যা করলো বা করে গেছেন আম জনতা সব কিছুই ভুলে গেছেন । তিনি যে  রকম মানুষ ছিলেন তা তার ইতিহাস দেখলেই বুঝা যায় । ১০ নির্বাচনের ৭ বারই তিনি নির্বাচিত হয়েছিলনেন । তা থেকে বুঝা যায় সুনামগঞ্জ এর মানুষ তাকে কত ভালোবাসতো ।

এখন  আসি আমজনতার দিকে । যারা তেনাকে হিন্দু হওয়ার কারণে বিভিন্নভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতেছেন তাদেরকে বলতেছি আপনি কতবার তার হেদায়েতের জন্য তার কাছে গিয়েছিলেন? ফেরাউন নি:সন্দেহে সুরঞ্জিতের চেয়েও নিকৃষ্ট ছিলেন এতে কোন সন্দেহ নাই । তারপরও আল্লাহ তার হেদায়েতের জন্য মুসা (আঃ) কে বারবার পাঠাইয়াছেন তার হেদায়েত এর জন্য । হুজুর (সাঃ) বারবার গিয়েছিলেন আবু জেহেল আবু তালেবের কাছে তাদের হেদায়েতের জন্য । কিন্তু হেদায়েতের মালিক আল্লাহ যাকে পছন্দ করছেন হেদায়েত দিয়েছেন যাকে পছন্দ করেন নাই দেন নাই । কিন্তু তাই  বলে কি নবীদের দাওয়াত কি বন্ধ ছিল? না, ছিল না । বরং কোন বিধর্মী যদি মারা যেতেন হুজুর সাঃ ব্যথিত হতেন । আর আফসোস করতেন যে আমি নবী থাকা স্বত্ত্বেও একজন লোক বেদ্বীন হয়ে মারা গেল! আর আজ আমরা নিজে তো দাওয়াত দেইনি সেই সাথে আবার একজন মানুষ মারা যাওয়ায় আনন্দ প্রকাশ করি। আফসোস! বড় আফসোস! কাল হিসাবের দিনে আল্লাহ যদি জিজ্ঞেস করে আপনার উপর দায়িত্ব থাকার পরেও কেন লোকটা বেদ্বীন হয়ে মারা গেল সেদিন কি জবাব দেবেন?