ক্যাটেগরিঃ পাঠাগার

 

সাধারণভাবে জ্ঞান বলতে কোন বিষয়ের সাথে সম্পৃক্ততা, সচেতনতা, অথবা বুঝতে পারাকে বুঝায়। যখন কোন শিশুর জন্ম হয় তখন সবার আগে সম্পৃক্ততা হয় তার মায়ের সাথে। একটি শিশু তার জন্মের আগেই বুঝতে শিখে। বুঝতে পারা শুরু হয় যখন মাতৃগর্ভে তার বয়স প্রায় ৫ (পাঁচ) মাস। মায়ের সাথে সম্পৃক্ত হয় তারও আগে। মায়ের গর্ভে থাকা অবস্থায়ই শিশু তার মা ও পারিপার্শ্বিকতা থেকে সচেতন হতে শুরু করে। জন্মের পরে তার মা-বাবা, পরিবারের সদস্য এবং প্রতিবেশি যারা আছে তাদেরকে দেখে, তাদের কাছ থেকে শুনে নানা বিষয় বুঝতে শিখে। তার এই প্রক্রিয়ায় জানা ও বুঝা চলতে থাকে কোন প্রকার রুটিন ওয়ার্ক ছাড়াই। এজন্য দরকার হয় না কোন প্রকার গৃহশিক্ষক বা আনুষ্ঠানিক শিক্ষা।

atlanta,-vasha-1

শিশুর বয়স যখন তিন বা চার বছর তখন হয়তো তাকে স্কুলে পাঠানো হয় আনুষ্ঠানিক শিক্ষার জন্য। আনুষ্ঠানিক শিক্ষা যে মাধ্যমেই হউক না কেন জানা ও বুঝার পারিপার্শ্বিকতাকে অবজ্ঞা করা যায় না। শিক্ষার প্রাথমিক মাধ্যমকে অবজ্ঞা করা যায় না। বয়স বাড়ার সাথে সাথে অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা বাড়তে থাকে। সেই সাথে বাড়তে থাকে পরিচিত মানুষের সংখ্যা। নানা ভাষার নানা পেশার মানুষের দেখা মেলে হয়ত কারো কারো জীবনে। এতকিছুর পরেও যে ভাষায় জানা ও বুঝা শুরু হয়েছিল জীবনের প্রথমে তাকে ভুলা যায় না। তার মত তৃপ্ত অন্য কোন ভাষায় পাওয়া যায় না।

এইতো সেদিন ইংরেজি মাধ্যমে বিবিএ, এমবিএ করা এক বন্ধুকে জিজ্ঞেস করলাম তোকে যদি দুটি গল্পের বই দিয়ে বলি এখানে একটি বাংলা ভাষায় ও অন্যটি ইংরেজি ভাষায় লেখা আছে। তুই কোনটি সবার আগে পড়বি? উত্তরে সে বলেছিল যেটা আমার মাতৃভাষায় লেখা অর্থাৎ বাংলা ভাষার বই। সে আরো বলেছিল সত্যিই মাতৃভাষার মতো তৃপ্ত অন্য কোন ভাষায় হওয়া যায় না। এ রকম অসংখ্য মানুষকে জিজ্ঞেস করলে হয়তো একই উত্তর খুঁজে পাবো।

এ রকম আর একটি ঘটনা না বলে পারছি না। কয়েক বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে দু’জন শিক্ষকের দু’টি ক্লাস করছিলাম। একজন শিক্ষক পুরো ক্লাসে কোন বাংলা বলেননি অন্য শিক্ষক বাংলা আর ইংরেজি মিলিয়ে কথা বলছিলেন। সবাই দ্বিতীয় শিক্ষকের প্রতি অনেক সন্তষ্ট হয়েছিল কারণ মাতৃভাষার ছোয়া ছিল। পুরোটা মাতৃভাষায় হলে হয়তো সবাই আরো খুশি হত। বিপরীত দিকে প্রথম শিক্ষকের অনেক কথাই ছাত্ররা বুঝতে পারেনি।

প্রায়ই একটি কথা শোনা যায় মাতৃভাষা তো উচ্চতর শিক্ষা অর্জনের পর্যাপ্ত বই নেই। এ কথা অনেকের জন্যই সত্য। তবে চেষ্টা থাকলে উপায় অবশ্যই খুঁজে পাওয়া যাবে। তাছাড়া উচ্চ শিক্ষা একটি দেশের মোট জনগোষ্ঠীর কত শতাংশ মানুষইবা করে। এই অল্প সংখ্যক মানুষ না হয় একাধিক ভাষায় বিদ্যা অর্জন করুক। এই অতি ক্ষুদ্র অংশ ও তৃপ্ত হবে না যদি মাতৃভাষায় পান্ডিত্য না থাকে।

এরকমটা একজন ইংরেজ, জাপানী, এরাবিয়ান বা চাইনিজ এর জন্যও সমানভাবে সত্য। তাই আমাদেরকে এই সত্য বুঝতে হবে যে জ্ঞানার্জনের উৎকৃষ্ট মাধ্যম হল মাতৃভাষা।

মোঃ মশিউর রহমান, ব্যাংকার।