ক্যাটেগরিঃ পাঠাগার

 

বই হল মানুষ, শয়তান আর সৃষ্টিকর্তার চিন্তার প্রতিফলন। অনেকেই হয়তো বলবেন শয়তান কি করে বই লিখে? মানুষের চিন্তাকে অধঃপতিত করে কিংবা অতি স্বার্থপর করে যেসব বই তা সকলি বদ মানুষের লেখা বই। বদ মানুষেরাই প্রতিনিধিত্ব করে শয়তানের। পৃথিবীতে যত সংঘর্ষ তার মূলে রয়েছে অতি স্বার্থপরতা। অতি স্বার্থপরতা মানুষের জীবনকে কলুষিত করে ক্ষুদ্র মানসিকতাকে জাগ্রত করে। উদাহরণ হিসাবে বলা যায়, অর্থনীতি একসময় মানবকল্যাণকে প্রাধান্য দিয়েই তার আলোচনা শুরু ও যুক্তি উপস্থাপন করত। পরবর্তীতে অর্থনীতি থেকে মানবকল্যাণ সরে যেয়ে শুধু মাত্র অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থান করে নেয়, যা প্রকারন্তরে মানুষের ক্ষুদ্র স্বার্থকেই উসকে দিয়েছে।

ফলাফল পৃথিবীর অর্ধেক সম্পত্তি ৮ থেকে ১০ জন ধনির হাতে। এই ৮/১০ জন মানুষ কি পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ? অবশ্যই না। তাহলে বলা যায় পৃথিবীর যত অকল্যাণ তার মূলে রয়েছে অর্থনৈতিক বৈষম্য। কারণ অর্থনীতির ভিতরেই বাস করে সবচেয়ে বড় শয়তান। মানুষ আজ পড়ছে, জানছে আর কাজ করছে শয়তানের অর্থনীতির উপর ভিত্তি করে। অথচ সৃষ্টিকর্তার অমিয় বাণী হল দানে সম্পদ বাড়ে। আর মহৎ ব্যক্তিরাও বলে গেছেন ত্যাগেই সুখ। তাই দান ও ত্যাগের উপর ভিত্তি করে যে বই তা মানুষের, তা সৃষ্টিকর্তার। তাই বই পড়া যেমন গুরুত্বপূর্ণ, মানবতার কথা বলে সে বই পড়া আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বই কখনো মানুষ কে মানুষ বানায় আবার মানুষ কে শয়তান বানায়। শয়তান অভিশপ্ত, কারণ সে মিথ্যুক আর অহংকারী। মানুষ যখন মিথ্যা বলে আর অহংকার করে তখন সে শয়তানের প্রতিনিধিত্ব করে।

মানবতার বই আত্মার উন্নয়ন ঘটায়। তাই বই পড়ুন আত্মার উন্নয়নের জন্য। দেহ যখন জীবিত থাকে, তখন এর ভেতরে একটি আত্মা থাকে। আর মৃত্যুর সময় আত্মা দেহ থেকে বেরিয়ে যায়। আধ্যাত্মিক বিশেষজ্ঞগণ বিশ্বাস করেন যে, আত্মা মানুষের সাথে কথা বলতে পারে এবং পৃথিবীর যে কোন জিনিসকে বদলে দিতে পারে। অনেকেই বিশ্বাস করেন যে, স্বর্গে এবং নরকে আত্মা বাস করে। আত্মা যদি তার জীবিত অবস্থায় সত্য বা মিথ্যা অহংকার করে, তখন সে তার কর্মফল ভোগ করার জন্য স্বর্গ অথবা নরক ভোগ করে। তাই সত্য উন্মোচনের জন্য আত্মার উন্নয়ন প্রয়োজন। প্রয়োজন অনেক বেশি বেশি বই পড়া।

বই জ্ঞানের উৎস আর জ্ঞান শক্তির উৎস। যারা শক্তি চায়, যারা প্রশান্তি চায় তাঁরা বই পড়ে। যারা জানতে চায় তারাও বই পড়ে। জ্ঞান অজ্ঞতার বিরুদ্ধে এক অবিরত লড়াই। অজ্ঞতা অন্ধকারের প্রতিচ্ছবি। অন্ধকার থেকে বাঁচতে হলে জানতে হবে আর জানার জন্য পড়তে হবে।

বই হোক ধনী বা দরিদ্র, সবার নিত্যসঙ্গী। কারণ আত্মাও সবার নিত্যসঙ্গী। যে দারিদ্রের কথা বলে বই পড়ে না সে নিজেকে ঠকায় আর দরিদ্রকে লালন করে। যে যথেষ্ট ধনী হয়েছি বলে বই পড়া ছেড়ে দেয় সেও নিকট ভবিষ্যতে দরিদ্রকে বন্ধু হিসাবে খুঁজে পায়।

তাই বই পড়ুন কাগুজের পাণ্ডুলিপিতে কিংবা কম্পিউটার এর মনিটরে। বই হোক আপনার নিত্যদিনের সঙ্গী।

মোঃ মশিউর রাহমান, ব্যাংকার।