ক্যাটেগরিঃ চিন্তা-দর্শন

 

ব্যক্তিত্ব একজন ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করে। অন্যভাবে বলা যায় একজন ব্যক্তিকে অন্য আরেকজন থেকে আলাদা করে ব্যক্তিত্ব। ব্যক্তিত্ব কখনো উন্নত হয় আবার কখনো নিম্ন মানের হয়। তাইতো কোন কোন বাক্তিকে আমরা শত বছর পরেও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি আবার কাউকে ঘৃণার সাথে স্মরণ করি। অন্যদিকে বেশিরভাগ মানুষই মৃত্যুর সাথে সাথে হারিয়ে যায়। স্মরণীয় মানুষ গুলোর মধ্যে একদিকে যেমন আছেন শেরে বাংলা, শেখ সাদী কিংবা নজরুল অন্যদিকে আছেন মিরজাফর, হিটলার আর আবু লাহাব।

একদল শ্রদ্ধার, ভক্তির, সম্মানের আর অন্যদল ঘৃণার তবে স্মরণীয়। ব্যক্তিত্বহীন বলে কোন মানুষ পৃথিবীতে নাই, হয়তো সে ঘৃণার নয়তো শ্রদ্ধার। সবচেয় ঘৃণার ব্যক্তিত্ব হল সেই ব্যক্তি যে মিথ্যা বলে, কথা দিলে তা রক্ষা করে না অথবা দায়িত্বে অবহেলা করে, অন্যের গচ্ছিত সম্পদ খেয়ে ফেলে কিংবা গালমন্দ করে। এই চারটি গুনে গুনান্বিত বাক্তিগণ সৃষ্টি ও স্রষ্টার কাছে ঘৃণিত হন।

ব্যক্তিত্ব গঠন বলতে আমরা এমন ব্যক্তিত্বকে বুঝি যা পৃথিবীর মানুষ দ্বারা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণীয়। অনেকেই প্রত্যাশা করে মানুষের ব্যক্তিত্ব হউক শ্রদ্ধার সাথে স্মরণীয়।

সত্য ও ন্যায় জানার মাঝে আছে ব্যক্তিত্ব গঠনের হাতিয়ার। আগে তো জানতে হবে যদি কিছু করতে হয়। মানুষের কর্ম তাঁর জানার বাস্তব উদাহরণ। তাই জানুন সত্য ও ন্যায়কে আর সে অনুযায়ী কাজ করুন।

লক্ষ্য স্থির করুন। নিজেকে কি হিসেবে দেখতে চান, স্মরণীয় আর শ্রদ্ধার? যদি তাই হয় তবে জানার মাধ্যমে কর্ম ঠিক করুন, পেশা আপনার যাই হউক না কেন। কারন পেশা তো আয়ের মাধ্যম আর পেশার মাধ্যম হল জ্ঞান।

কর্মে মনযোগী হউন। কর্মের আরেক নাম ধর্ম। কারণ ধর্ম বলে দেয় কর্মের উদ্দেশ্য ও ধরন আর তার প্রকাশ ঘটে ধর্মের দ্বারা। মানুষ কর্ম দেখে ধর্ম দেখে না। স্রষ্টাও প্রতিদান দেন কর্ম অনুযায়ী। তাই কর্মের আরেক নাম ধর্ম।

জানার সাথে লক্ষ্য আর কর্মের পার্থক্য মানুষকে ব্যর্থ করে দেয়। তাই আত্ম-সমালোচনার দ্বারা একজন মানুষের ব্যক্তিত্বের উন্নয়ন ঘটানো যায়। অর্থাৎ ব্যক্তিত্বের উন্নয়নের জন্য প্রায়শই আত্ম-সমালোচনা মানুষ কে উন্নততর মানুষে পরিণত করে।

অহংকার, মিথ্যা আর আত্মপ্রশংসা মানুষকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। সত্য জই হয় আর মিথ্যা ধ্বংস হয়। এক মিথ্যা নতুন মিথ্যা জন্ম দেয়। প্রবাদ আছে একটি মিথ্যা দশটি মিথ্যার জন্ম দেয়। তাই অনেক দুষ্ট লোকেরা বলে দশটি মিথ্যা বল মিথ্যা ঢেকে যাবে। কিন্তু ওরা কি জানে নাতুন নয়টি মিথ্যার কি হবে। সুতারং আরও নব্বইটি মিথ্যা বলতে হবে আর নতুন করে জন্ম হবে একাশি টি মিথ্যা। মিথ্যা এভাবেই বাড়তে থাকে, তাই সত্য জই হয় আর মিথ্যা ধ্বংস হয়।

দীর্ঘ মেয়াদে স্থায়ী উন্নয়ন এর জন্য প্রয়োজন ব্যক্তিত্বের চর্চা। যে ব্যক্তিত্ব মানুষকে সৎ ও পরিশ্রমী হতে উৎসাহিত করবে, অন্যের কাছে হাত পাতাকে ঘৃণার জন্ম দিবে, অহঙ্কারকে মাটি চাপা দিবে, দায়িত্বপালনে উৎসাহ যোগাবে এবং মানব ও স্রষ্টার প্রেম আনন্দ দিবে। ব্যক্তিত্বের চর্চাই একজন মানুষকে উন্নতির পথে নিয়ে যেতে পারে, তাই ব্যক্তিত্বের চর্চা করুন আর উন্নতি করুন।

.

মোঃ মাশিউর রহমান, ব্যাংকার