ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

 

সাফল্যের বিপরীতে আছে ব্যর্থতা। তাহলে, যেখানে সাফল্য নাই সেখানেই কি ব্যর্থতা? না, বস্তুত সাফল্যের অভিজ্ঞতা হল ব্যর্থতা। তাই বিফলতায় কেউ যখন হতাশ হয় তখনই সে ব্যর্থ হয়। ব্যর্থতার সাথে মিশে আছে হতাশা কিংবা দুর্বল ইচ্ছাশক্তি। অপরদিকে যার প্রখর ইচ্ছে আছে অর্থাৎ যে দৃঢ় প্রত্যয়ী সে সফল হয়।

সাফল্য কারো জীবনে দ্রুত আসে আবার কারো জীবনে দীর্ঘ সময় পরে আসে। সাফল্য কারো জীবনে স্থায়ী হয় আবার কারো জীবনে অল্প সময় দেখা দেয়। এর কারণ কি? কোন সুনির্দিষ্ট কারণ বলা দুরুহ। প্রত্যেকটি মানুষ আলাদা এবং কর্মস্পৃহাও আলাদা। মৌলিকভাবে কিছু কারণ কলা যেতে পারে।

সাফল্যের জন্য প্রথমেই প্রত্যেক মানুষকে তার জীবনের উদ্দেশ্য ঠিক করে নিতে হবে। কারো জীবনের উদ্দেশ্য হতে পারে অর্থ আর ক্ষমতা অর্জন আবার কারো জীবনের উদ্দেশ্য হতে পারে দায়িত্ব, অর্থ আর মানুষের ভালোবাসা। প্রথম আর দ্বিতীয়টির পদ্ধতি বেশ ভিন্ন। প্রথমটি অর্জনের সহজ পন্থা হতে পারে প্রতারণা, সন্ত্রাস এবং মিথ্যা দিয়ে মানুষ ঠকানো। এই শ্রেণির মানুষের প্রধান বৈশিষ্ট্য হল এরা ধূর্ত হয় এবং সাধারণ মানুষের অজ্ঞতা এদের প্রধান শক্তি। এরা কারো বন্ধু হয় না এবং কেউ বিপদে পরলে অস্বীকার করে। এরকম মানুষের অসংখ্য উদাহারণ আমাদের চারিপাশে বিদ্যমান আছে। এরা মূলত মানুষ নয়, মানুষরূপী শয়তান। এদের সাফল্য হয় ক্ষণস্থায়ী। দীর্ঘ মেয়াদে ফলাফল হয় ঘৃণা আর নিগ্রহ। কখনো কখনো জনপদও ধ্বংস হয়ে যায় এ ধরনের নৃশংস ‘সফল’ মানুষের জন্য।

অপরদিকে কিছু মানুষ আছে, যদিও অনেক সমাজে এরা সংখ্যায় অল্প, যারা ক্ষমতাকে দায়িত্ব হিসাবে দেখে, অর্থ কে নেয়ামত হিসাবে ন্যায় আর সেখান থেকে দরিদ্র, দুস্থ এবং জনহিতকর কাজে কিছু অংশ বিতরণ করে কোন কিছু বিনিময় না পাওয়ার আসায় তারাই অর্জন করে সাধারণ মানুষের চিরস্থায়ী ভালোবাসা। এরা সাধারণ মানুষের মাঝে জ্ঞানের আলো ছরিয়ে দিতে চায়। সাধারণ মানুষ যত জ্ঞানী হবে, সমাজে দ্বিতীয় পর্যায়ের সফল মানুষের সংখ্যা তত বৃদ্ধি পাবে।

সফল হওয়ার জন্য ইচ্ছা শক্তি একটা বড় বিষয়। ব্যর্থতা চেপে ধরে যখন ইচ্ছে দুর্বল হয়। দুর্বল ইচ্ছেই ব্যর্থতার শক্তি। সফলতার পদ্ধতি নিয়েও রয়েছে ব্যাপক বিতর্ক। পদ্ধতি যখন জ্ঞানের চর্চা, চিন্তার বিকাশ আর কর্মের দ্বারা সঙ্ঘটিত হয়। উদ্দেশ্য যখন সৃষ্টি ও স্রষ্টার সন্তুষ্টিতে হয় সে সাফল্য স্থায়ী হয়।

মোঃ মাশিউর রহমান, ব্যাংকার