ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

 

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ কার্যক্রম চলছে। ছবিটি পুরান ঢাকার লালকুঠি কাউন্সিলরের কার্যালয় সামনে থেকে তোলা হয়েছে । ছবি: মনিরুল আলম

 

এ সপ্তাহে আমার জাতীয় পরিচয়পত্র অর্থাৎ স্মার্ট জাতীয় কার্ডটি হাতে পেলাম। এখন থেকে আমি দেশের একজ- স্মার্ট নাগরিক! যদিও অনেক আগে থেকেই আমি যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম স্মার্ট ফোন ব্যবহার করে স্মার্ট নাগরিক হওয়ার চেষ্টা করছিলাম! এখন কিন্তু পুরোপুরি  স্মার্ট  নাগরিক হয়ে গেলাম! আমার এই স্মার্ট কার্ডটি এখন মেশিন রিডেবল!

আমাদের এই স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্রটির মাধ্যমে প্রায় ২২ ধরনের সেবা কার্যক্রম পাওয়া সম্ভব। সরকারি- বেসরকারি নানা গুরুত্বপূর্ণ  কাজে এই কার্ডটি এখন মুখ্য ভুমিকা পালন করবে। নতুন এই স্মার্ট কার্ডটিতে একটি চিপ বা তথ্য ভাণ্ডারে থাকছে আপনার সম্পর্কে প্রায় ৩২ ধরনের তথ্য! যা মেশিন পাঠ্যযোগ্য। আগের জাতীয় পরিচয় পত্রটি মেশিন রিডেবল ছিল না। জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন-২০১০-এ বলা আছে, জাতীয় পরিচয়ের জন্য একজন নাগরিকের বায়োমেট্রিকস ফিচার যেমন, আঙুলের ছাপ, হাতের ছাপ, তালুর ছাপ, আইরিশ বা চোখের মণির ছবি, মুখমণ্ডলের ছবি, ডিএনএ, স্বাক্ষর এবং কণ্ঠস্বর সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করতে হবে। এই স্মার্টকার্ডে আইনে উল্লেখিত দুটি তথ্য (আঙুলের ছাপ ও চোখের মণির ছবি) থাকছে। তাই নতুন করে আঙুলের ছাপ, চোখের মণির ছবি নেওয়া হলেও নিবন্ধন আইন পুরোপুরি বাস্তবায়নের এখনো অনেক তথ্য সংগ্রহই বাকি থেকে যাচ্ছে।

ফ্রান্সে প্রস্তুতকৃত কার্ডগুলো আমদানি করে প্রত্যেকটি কার্ডের বিপরীতে বাংলাদেশি একজন নাগরিকের তথ্য মজুদ করা হয়েছে।  স্মার্ট পরিচয়পত্র দিতে ব্যয় হবে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা। এর বাইরে কার্ড বিতরণের জন্য আরও ৮৩ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। অর্থাৎ প্রায় ৯০০ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্প । বর্তমানে বাংলাদেশে ভোটারের সংখ্যা ১০ কোটিরও বেশি। চলতি কার্যক্রমের আওতায় এ বছরের মধ্যে নয় কোটি ভোটার স্মার্ট কার্ড হাতে পাবেন।

আমাদের এলাকা  ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র বিতরণ কার্যক্রম এ সপ্তাহে শুরু হয়েছে চলবে ১৭ জুন ২০১৭ পর্যন্ত। এলাকাবাসীর সুবিধার জন্য বিভিন্ন এলাকার কার্ড নিদিষ্ট দিন বিতরণের জন্য এলাকা  ভাগ করে স্থানীয় কাউন্সিলরের সহযোগিতায় তা প্রদান করা হচ্ছে। যারা ঐ নিদিষ্ট দিনে যেতে পারবেন না তাদের জন্য বাড়তি একটা দিন ( ১৮ জুন, ২০১৭  ) ধার্য করে রাখা হয়েছে। যাতে কার্ডটি সশরীরে উপস্থিত হয়ে সংগ্রহ করা যায়।

অত্যন্ত সুন্দর পরিবেশে, নিয়ম-শৃঙ্খলা রক্ষা করে এই কার্ড বিতরণ কর্মসূচীর কাজটি চলছে । একজন নাগরিক হিসাবে আমার কাছে ভালো লেগেছে। জাতীয় নির্বাচন কমিশনসহ এই বিতরণ কর্মসূচীর সাথে সংশ্লিষ্টের ধন্যবাদ দিতেই হয়। যদিও এই স্মার্ট জাতীয় কার্ড বিতরণ কর্মসূচীর শুরুর দিকে কিছুটা অব্যবস্থাপনা ছিল,  যা আমরা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের খবর পড়ে, দেখে জেনেছি!  জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা খানিকটা এই অব্যাবস্থাপনার কথা মেনে নিয়ে  তারা বলেছিলেন, এটা আমরা কাটিয়ে উঠবো!

আমি এবং আমার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্রটি সংগ্রহ করার জন্য আমাদের ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয় লালকুঠিতে যাই। সেখানে পুরাতন জাতীয় পরিচয়পত্রটি দেখাতেই একটা কাগজে টোকেন নম্বর দেওয়া হলো।  সেটা নিয়ে আরেক জায়গায় যেতেই  নাম, মোবাইল নম্বর একটা কাগজে লিখে নিয়ে চলে গেলাম সেই কক্ষটিত যেখান থেকে হাতের দশ আঙ্গুলের ছাপ এবং দুই চোখের আইরিশের প্রতিচ্ছবি সংগ্রহ করা হচ্ছে। বয়স্করা যাতে দ্রুত কাজটি সারতে পারেন তাদের জন্য ছিল বিশেষ ব্যাবস্থা। আমার আম্মা তার পায়ের হাড় সংক্রান্তে জটিলতার জন্য সে বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন না। আম্মার জন্য এই বিশেষ ব্যবস্থাটি ছিল খুব কার্যকর। আঙ্গুলের ছাপ এবং আইরিশ প্রতিচ্ছবির তথ্য সংগ্রহে শেষে একটু পরপর  নতুন কার্ড বিতরণের জন্য ডাকা হচ্ছে। পুরোনটিকে একটি পিন করে বাতিল করে নতুন একটা খাম ধরিয়ে দেয়া হচ্ছে। আর এই খামটি খুললেই পাওয়া যাচ্ছে কাঙ্খিত স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র !

সচিব নির্বাচন কমিশন সচিবলয় পক্ষে থেকে থেকে সন্মানিত নাগরিকদের উদ্দেশ্য  স্মার্ট জাতীয় পরিচয় পত্রটির সাথে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। তাতে জাতীয় পরিচয় ব্যবহারের নিয়মাবলী উল্লেখ করে বলা হয়েছে কার্ডটি নিজের কাছে রাখতে হবে, অন্য কাউকে দেওয়া বা গচ্ছিত রাখা থেকে বিরত থাকতে হবে। কার্ডটি যত্ন সহকারে ব্যবহার করতে হবে। কার্ডটি উভয় পৃষ্ঠা ফটোকপি সংরক্ষণ করার পাশাপাশি কার্ডটি হারিয়ে গেলে বা ভেঙ্গে গেলে অতিসত্বর নিকটস্থ থানার অবহিত করতে হবে। পিন নম্বরটি সংরক্ষণ করা অতিব জরুরি।

লেখক : সাংবাদিক আলোকচিত্রী