ক্যাটেগরিঃ জনজীবন

 

শহুরে কোলাহল, যানজট, রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে—স্বপ্নেরা বাড়ি যায়! শুরু হয়ে গেছে—ঈদের ছুটি। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, অফিস-আদালত আর গার্মেন্টস পাড়া—সবকিছু বন্ধ হয়ে গেছে !  সবার গন্তব্য এখন ষ্টেশন আর টারর্মিনালগুলোতে—কেউ কেউ দলেবলে আবার কেউ বা একাকী! মাটির টানে—মায়ের কাছে! আহা ! কতোদিন পর—ফেরা নিজস্ব শিকড়ে! স্বপ্নেরা বাড়ি যায় . . .।

মূলত গতকাল শুক্রবার থেকেই স্টেশন আর টারর্মিনালগুলোতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায় । বাড়ি যাওয়ার  জন্য ঈদের আগের দিন পর্যন্ত এই ভিড় থাকবে। যদিও প্রতিবছরের মত মহাসড়কগুলোতে ছিল সেই চিরচেনা যানজট! যে কোন গন্তব্য পৌঁছাতেই স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে প্রায় ৩ থেকে ১০ ঘন্টা পর্যন্ত সময় বেশি লাগছে। মহাসড়কগুলোতে যানজটের এই দীর্ঘ সারির মধ্যে আটকে থেকে ঘরমুখী যাত্রীরা কষ্ট করছেন—ভুগতে হচ্ছে বাসে বসে থাকতে। যদিও ট্রেনগুলোতে ঠেলাঠেলি করে উঠতে কষ্ট হয়েছে তবু বড় কোন ট্রেন শিডিউল বিপর্যয়ের ঘটনা ঘটনি—যাত্রীদের ট্রেন যাত্রা ছিল স্বস্তির ।

এবারের ঈদ যাত্রায় বড় কোন সড়ক দুর্ঘটনার খবর পাওয়া না গেলেও আজ শনিবার ভোরের দিকে এক সড়ক দুর্ঘটনায় ১৬ জন মানুষ নিহত হয়েছে। বিডিনিউজ২৪ ডটকমের সংবাদ পড়ে জানা যায়, ঈদের আগে বাড়ি ফেরার পথে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় সিমেন্টের ট্রাক উল্টে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের অধিকাংশই পোশাক শ্রমিক। এ দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। এই দু:খজনক ঘটনাটির জন্য গভীর শোক জানাই এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি ।

FE7F0689

এতো কষ্ট করে ঈদে বাড়ি ফেরা মূল কারণটা  —প্রিয়জনের সাথে পরিবারের সাথে একত্রে ঈদ করা, ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করা। ঈদের দিন এক সাথে ঈদের নামাজ আদায় করা। আর নানা খাওয়া-দাওয়াসহ ঈদ আনন্দে মেতে ওঠা। যা আমাদের এই বাংলার চিরায়ত রূপ।

সবার ঈদ যাত্রা নিরাপদ হোক । যাত্রা পথে নানা দুভোর্গ ঠেলে, কষ্ট করে তবু বাড়ি ফিরুক এই দোয়া করি। সবার ঈদ হয়ে উঠুক আনন্দময়! সবাইকে ঈদ মোবারক।

 

লেখক : সাংবাদিক আলোকচিত্রী

slide

প্রিয় জনের সাথে ঈদের ছুটিতে বাড়ী যেতে সদরঘাট লঞ্চ টারর্মিনালে মানুষের ঢল । ছবি: মনিরুল আলম