ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

 

আবহাওয়া অধিদপ্তর গতকালই সারা দেশে, বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রামে ভারি বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ধসের সর্তকবার্তা জারি করেছিল। কিন্তু কে শোনে কার কথা? আমাদের অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের এই বৃষ্টির মধ্যে ভিজে ভিজে সড়কে জমে থাকা বৃষ্টির পানি মাড়িয়ে তাদের সন্তানদের স্কুলে পৌঁছে দিলেন। আবার স্কুল ছুটি শেষে বাড়ী ফিরতে সেই একই দূর্ভোগ পোহাতে হলো সকলকে।

কয়েকজন অভিভাবকের সাথে কথা বলে জানা গেল, তাদের বাচ্চাদের পরীক্ষা চলছে। তাই তারা এই বৃষ্টির মধ্য তাদের সন্তানদের নিয়ে বের হয়েছেন। তারা আবহাওয়া বুলেটিন জানেন না। তারা আরো জানেন না যে, সমুদ্র উপকূলে তিন নম্বর সর্তকতা সংকেত চলছিল। অথচ আমরা সবাই এই ডিজিটাল যুগের এক এক জন সচেতন নাগরিক!

Waterlogging_MoniurlAkam26072017

ছবিটি পুরান ঢাকার পাতলা খান লেন এলাকা থেকে তোলা হয়েছে। ২৬ জুলাই ২০১৭

ছবি: মনিরুল আলম

স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং অভিভাবকরা আবহাওয়া অধিদপ্তরের বুলেটিনের কথা, যে কোন কারণেই হোক, তারা সেটা কানে তোলেননি বা তারা এই বুলেটিন গুরুত্ব দেননি বা তারা আবহাওয়া বুলেটিন জানার চেষ্টা করেননি। আবহাওয়া অধিদপ্তর হয়ত সেই অর্থে প্রচার-প্রচারণা করেনি।

যাক সে কথা, গতকাল রাত থেকেই অবিরাম ধারায় ভারি বৃষ্টি হচ্ছিল। যার ফলাফল সড়ক গুলোতে পানি জমে গেছে,  সড়ক গুলো থেকে পানি নামতে সময় নিচ্ছে, সকালে মানুষজন কাজে বেরিয়েই পানিবন্দি হয়ে পরেছেন, পরেছেন দুর্ভোগে। হয়ত স্কুল কর্তৃপক্ষ আবহাওয়ার এই বুলেটিন মাথায় নিলে বা গুরুত্ব দিলে তারা স্কুলগুলো বন্ধ রাখতে পারতেন। কিন্তু আমাদের এই দেশে কে শোনে কার কথা! এক সংস্থার সাথে আর এক সংস্থার কাজের সমন্বয় নেই। সাম্প্রতিক সময়ে চিকুনগুনিয়া রোগ সারা ঢাকা শহরে ছড়িয়ে পরা এর একটা একটা বড় উদাহরণ।

Steven Shames নামের একজন মার্কিন ফটোসাংবাদিক বাংলাদেশে এসেছিলেন, পাঠশালায়। যিনি শিশুদের দারিদ্রতা এবং তাদের অধিকার নিয়ে কাজ করেন বিশ্বব্যাপী। তার সাথে আমার কাজ করার সুযোগ হয়েছিল। তিনি বাংলাদেশে থাকাকালীন সময়ে তার  সাথে আড্ডা হতো। আড্ডা দিতে দিতে তার দেশ সম্পর্কে অনেক কিছু জেনে ছিলাম তখন। Steven বলেতেন যে তারা (আমেরিকান নাগরিক) তাদের নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের প্রতিটি কথা বিশ্বাস করেন এবং তা মেনে চলেন। কারণ তারা নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করে ভোট দিয়ে দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করেন। সেই প্রেসিডেন্টের প্রতি তাদের পূর্ণ আস্থা এবং বিশ্বাস রয়েছে।

কথায় কথায় আরো একটা তথ্য জানলাম, তারা প্রতিদিন সংবাদ বুলেটিন জেনে কাজে বের হন। এটা তাদের নিয়মিত রুটিন কাজ। সংবাদ বুলেটিনে যদি আবহাওয়া সংক্রান্ত কোন ম্যাসেজ থাকে, তাহলে সেটা তারা অক্ষরে অক্ষরে পালন করে।

আমরা দেশবাসী এখনো প্রত্যেকেই নিজ নিজ রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে বেশি ব্যস্ত। যেহেতু আমাদের দেশটা রাজনৈতিক প্রভাবে প্রভাবিত, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তেই দেশের সব কিছু নির্ধারিত হয়। তাই নিজের দেশের উন্নয়ন বা দেশের ভালো কিছু নিয়ে আমরা কম ভাবি। দলের নেতার দিকে তাকিয়ে থাকি, তিনি খুশিতো আমি খুশি।  আমরা নিজেকে একজন সচেতন যোগ্য নাগরিক হিসাবে আর কবে প্রতিষ্ঠা করবো?

লেখক : সাংবাদিক আলোকচিত্রী