ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

20773324_1483413185038000_1465124325_o

.

রাজধানীর মিরপুরের দক্ষিণ পাইকপাড়ায় দেয়াল চাপায় এক রিক্সা চালকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত ঐ চালকের নাম মো. আবুল কাশেম (৫০)। (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নইলাহি রাজিউন)।

বুধবার (৮ আগস্ট) বিকেল ৪ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। নিহতের বাড়ি নেত্রকোণা জেলার পূর্ব ধল্লা থানার মহেন্দ্রপুর গ্রামে।

প্রত্যক্ষদর্শী হাফেয বেলাল মিয়া জানায়, রাস্তার পাশে থাকা রিক্সার গেরেজের সামনে রিক্সা রেখে দাঁড়িয়ে ছিলেন কাসেম মিয়া। এসময় তার উপর বিশাল দেয়াল ভেঙ্গে পরে এবং তিনি দেয়ালের নিচে চাপা পরেন।

প্রথমে কাসেম মিয়াকে কারো চোখে না পরলেও ওই পথ দিয়ে যাওয়া এক বোবা মহিলার চোখে পরে কাসেম মিয়ার পা। তার চিৎকারে আশেপাশের সবাই ছুটে গিয়ে দেখেন দেয়ালের নিচে চাপা পরে আছে কাসেম মিয়া, আর তার পা দুটি বাইরে বেরিয়ে আছে।

সাথে সাথে সবাই হাতে হাতে ইট সরিয়ে ফেলে এবং পাশে থাকা কাসেম মিয়ার রিক্সাতেই তাকে নিয়ে যাওয়া হয় কল্যাণপুরের ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জানা যায় মিরপুর দক্ষিণ পাইক পাড়ায় ২০ ফুট রাস্তা নির্মাণের জন্য বিভিন্ন বাড়ি, দোকান ভেঙ্গে রাস্তা তৈরির কাজ চলছিল। সেখানেই নবনির্মিত দেয়াল ভেঙ্গে চাপা পড়েন আবুল কাশেম।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, মাত্র ১০-১৫ দিন আগের তৈরি দেয়াল ভেঙ্গে পড়ার একমাত্র কারণ নিম্নমানের বালু এবং খুব কম পরিমাণে সিমেন্ট ব্যবহার করা।

অন্য এক ব্যক্তি জানান, কয়েকদিন পূর্বে সিটি করপোরেশন এর একটি রেকার এর সাথে ধাক্কা লেগে ওই দেয়ালের ফাটল ধরে। এই কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করেন তিনি।

আবার কেউ কেউ বলেন, গ্যারেজের ভিতরে লেগুনা পার্কিং এর সময় লেগুনার সাথে ধাক্কা লেগে দেয়াল পরে যায়।

জানা যায়, নিহতের পরিবারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ছিলেন কাসেম মিয়া। তার পরিবারে পাঁচ মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে কোনরকম জীবনযাপন করছিলেন তিনি। স্ত্রী পেয়ারা বেগম মেয়ে শিরিন, শিল্পী, ময়না, জেসমিন, লামিয়া এবং একমাত্র ছেলে আশিকুর রহমান (১৫) কে নিয়ে ছিল তার সংসার। বড় দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেলেও বাকিরা সবাই ছোট।

ঘটনার পর পুলিশ এসে লাশ ময়না তদন্তের জন্য নিয়ে যেতে চাইলে পরিবারের লোকজন বাধা দেয়।

নিহতের মেয়ে শিল্পী (২০) বলেন, আমরা চাইনা আমার বাবার লাশ আর কাটাকাটি করা হোক। পরে স্থানীয় জনকল্যাণ সমিতির সভাপতি জসীম মিয়ার অনুরোধ এবং থানার ওসি এর হুকুমে লাশ রেখে যান মিরপুর থানার এসআই নুরুজ্জামান। পরে স্থানীয় কাউন্সিলর দেওয়ান মান্নান এসে দেখে যান এবং এই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

মিরপুর থানার এসআই নুরুজ্জামান এর সাথে কথা বলে জানা যায়, লাশের কপালে, গালে, নিচের ঠোঁট ও দুই পায়ের গোড়ালিতে চোটের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

নিহত ব্যক্তি দক্ষিণ পাইকপারার ১১ নাম্বার রোড এর ৫৯/৩ নং বাসার আন্ডার গ্রাউন্ড ফ্লোরে ভাড়া ছিলেন। রাত ২ টায় জানাজার পর নিহতের লাশ নিয়ে গ্রামের বাড়ি নেত্রকোণার উদ্দেশ্যে রওনা করা হয়। সেখানেই তার দাফন সম্পন্ন করা হবে বলে জানান পরিবারের লোকজন।