ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

জামায়াত নেতা জনাব দেলওয়ার হোসাইন সাঈদীর অনেক ভক্ত দেশে দেখা যায় । বিশেষ করে যারা তার সূরেলা কন্ঠে গর্জন শোনেন মুগ্ধ হয়ে ভক্তে বুনে যান ! আমাদের দেশে সবার বিচার বোধ কোম আছে । আগের দিনে ওয়াজ ফরমাতে আসতেন আল্লাহ ওয়ালা পীর কামেল অথবা আওলিয়া গোছের ব্যক্তিরা । এখন যার কন্ঠ ভাল তিনিই উচ্চ দরে ভাড়াটিয়া বক্তা । আমাদের দেশে লোকেরা কারও শুধু কন্ঠ শুনেই বলেদেন উনি বিশ্ব বিখ্যাত, কুকিল কন্ঠি, আল্লামা, মুফাস্সেরে কোরান ইত্যাদি ইত্যাদি .। ! এসব খেতাবের পিছে কার কতটুকু যোগ্যতা তা দেখার ধার কে ধারে !

তেমনি জনাব দেলওয়ার হোসাইন সাঈদীর ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে । উনাকে সবাই ধর্মের দেবতা মনে করতে পারেন , মনে করতে পারেন উনি বিশ্ব বিখ্যাত । কিন্তু আমি একটু চিন্তা করা ছাড়া কাউকে কিছু ভাবতে পারিনা । যদি আমার এইসব তথ্য ভুল হয় আমাকে বলে দিবেন , এবং শুধরে দিলে খুশি হব , তবে সেটাও হতে হবে তথ্যের ভিত্তিতে ।

আসুন দেখি জনাব দেলওয়ার হোসাইন সাঈদীর কি কি বিশেষণ আছে ! .। উনাকে যা যা বিশেষণে বিশেষায়িত করা হয় তা যথাক্রমে ..।

১। আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন !
২। আল্লামা।
৩। মুফাস্সেরে কুরান।
৪। বিশ্ব বিখ্যাত বক্তা / ইত্যাদি ইত্যাদি ….।

“তাফসীর সে”>> জনাব দেলওয়ার হোসাইন সাঈদীকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন বলা হয় ! আমার জানা মতে কোন দেশে দেলওয়ার হোসাইন সাঈদী খ্যাতি ছড়াতে পারেন্নি ! তিনি কোন দেশের কোন রাস্ট্রিয় পদক পাননি । এমনকি, সয়ং পাকিস্তানেও তাকে কেউ চেনেনা । তার কদর শুধু বাঙ্গালিদের কাছে ।

হয়ত বিশ্বাস হলনা তাইনা ? তাহলে কেউ যদি দেশের বাহিরে থাকেন এমন আত্বীয় স্বজনদের বলবেন সেইদেশে সাঈদিকে কি কোন পাকিস্তানের জনগণ চেনে কি-না । .। উত্তর আসবে না, শুধু বাঙ্গালীরাই চেনেন । আমি নিজে এযাবৎ বহু পাকিস্তানীকে জিঙ্গেস করেছি “কিয়া আপ দেলওয়ার হোসাইন কো জানতে হাই ?” উত্তর আসে “ব হেই কোন ?” .। আবার ছবি দেখালে বলে “নো, ইসকো হাম নাহি জানতে” ।

আল্লামা, সম্পর্কে শুনুন : আল্লামা অর্থাৎ জ্ঞানী । নিজেকে জ্ঞানী দাবি করা মূর্খামির সামিল । বেঁচে থাকতেই কেউ এই খিতাব কোমই পেয়েছেন । কোন দেশের সরকার প্রধান কর্তৃক কোন ব্যক্তিকে তার সেই দেশে মেধার অবদান সরূপ আল্লামা খিতাব দেয়া হয় , যেমন: আল্লামা ইকবাল । পাকিস্তানে রাস্ট্র তাকে দিয়েছে তার অসামান্য অবদান সরূপ । আর আমাদের দেশে কোন ব্যক্তিকে এখনও তার মেধার জন্য এমন খেতাব দেয়া হয়নি । তবে জনাব সাঈদী এটা পেলেন কোথাই ??? আজ জামায়াতের ওয়েবসাইট খুজতে খুজতে খোঁজ পেলাম এটার রহস্য । উনাকে নাকি লন্ডন আর উত্তর আমেরিকা এই খেতা দিয়েছে !!!

http://www.jamaat-e-islami.org/en/details.php?artid=Mjg1#.UMH1pzomnb4.ফেসবুক

কথাটা শুনে হাসবেন নাকি কাঁদবেন ঠিক করুণ । কোন ইসলামীক দেশ নয় , খ্রীষ্টান দেশ তাকে কিনা আল্লামা খেতাব দিল আর সেটা নিয়ে উনি মহাসুখে আনন্দে আত্মহারা হয়ে নামের আগে লাগিয়ে ওয়াজ ফরমাচ্ছেন । বিশ্বে বহু দেশে বহু ইসলামিক স্কলার আছেন যারা হাদিসের গবেষক তারাও এটা লিখতে সাহস করেনা ।

মুফাস্সের-এ-কোরান : উনি যা পাশ , তার উপর আবার মুফাস্সের !! মওদুদীর মত কোরানের অপব্যাখ্যাকারী এই জালেমদের হতে আল্লাহ ইসলামকে রক্ষা করুণ । আমিন……….।

উনি সাধারণ ফাজিল পাশ । স্বাধীনতার আগে ফাজিল পাশ দিয়েছেন তার পর আর লেখাপড়া হয়নি । একজন ফাজিল পাশ সেটাও আলিয়াতে পড়ে আর কতই হাদিস জানাযায় বলূন …..। ? যদি উনি কওমিতে পড়তেন তবে বুঝতাম ওনেক হাদিস জানেন । শুধু সাঈদি কেন ..। সমস্থ জামায়াত মিলে একটিও সাইফুল হাদিস নেই , এটা চ্যালেঞ্ঝ করেছেন অনেক দেওবন্দি আলেম ।

এবার আসা যাক বিশ্ব বিখ্যাত বক্তার প্রসংঙ্গে: সাঈদীকে অনেকেই বলে থাকেন বিশ্ব বিখ্যাত বক্তা । আমি মনে করি এটা একটা পাগলদের পাগলামী । বিশ্ব বিখ্যাত সাঈদী কোনদিনই হতে পারেননা । কারণ উনি কোনদিনই ইংরেজী ভাষায় বা কোন দেশে গিয়ে সেই দেশের ভাষায় ওয়াজ করেননি । উনি যেখানেই গেছেন সেখানেই বাংলাতে ওয়াজ ফরমাইছেন । উনার দর্শকদের মধ্যেও কোন বিদেশি নেই , সবাই বাঙ্গালি । দুবাই ওয়াজ করেছেন বাঙ্গালি লেবারদের কাছে বাংলাতে বক্তব্য দিয়েছেন । মালয়েশিয়াতে ওয়াজ করেছেন , সেটাও বাংলাতে শুধু বাঙ্গালী দর্শকদের মাঝে । লন্ডনেও তাই , তার কোন বিদেশি দর্শক নেই ।

ড। জাকির নায়েক যেমন বিদেশি দর্শক আকৃষ্ট করেছেন , তাদের প্রশ্নের উত্তর ইংরেজিতে দিয়ে তাদের মোন কেরেছেন । তাকে বলাযাবে বিশ্ব বিখ্যাত .। সাঈদী সেই হকদার হতে পারেন না । দেশের মধ্যে বাংলাতে ওয়াজ করা আর বিদেশের মাটিতে বাঙ্গালীদের মাঝে বাংলায় ওয়াজ করার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই ।

এখন আসি , জনাব দেলওয়ার হোসাইন সাঈদীর নামের রহস্য নিয়ে । উনার নামের শেষে সাঈদী খেতাব উনার লাগানো । তার বংশ ত সাঈদী নয় । এটা বাংলাদেশে কোথাও নেই । সুদূর আরবের কিছু গোত্রের মাঝে এই বংশ দেখা যায় । যারা প্রকৃত আরাবিয়ন তাদের মধ্যে এই বংশ আছে । তবে জনাব সাঈদি এটা কোথাই পেলেন ?? ভল করে তথ্য নিয়ে জানা যায় , উনা বংশ ছিল “শিকদার” । উরা বাবা ইউসূফ শিকদার । উনার মেট্রিক ও আলেম সার্টিফিকেটে দেলওয়ার হোসাইন শিকদার লিখা আছে । দেশ স্বাধীনের পর উনি শিকদার কেটে দিয়ে সাঈদী লাগান । উনি ওটা বংশ আকারে নিয়েছেন । তার ছেলের নাম দিয়েছেন রফিকুল সাঈদী (কয়েকদিন আগে মারা গেলেন) , তার নাম দেলওয়ার হোসাইন সাঈদী , পিতা ইউসূফ শিকদার । চাচা ভাতিজারা সবাই শিকদার ।

অথচ, হাদিস শরিফে আছে “তোমরা তোমাদের বংশ পরিচয় পরিবর্তন করনা, এটা হারাম । কারণ এটা তোমার পিতার সাথে সম্পর্কিত । (ইবনে মাজাহ শরীফ)”
তাহলে সেই হারাম কাজ সাঈদি কেন করলেন ?? আর হারাম পরিচয়ে তিনি কেন পরিচিত হচ্ছেন ??