ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

মওলানারা দিন দিন কি পরিমান মিথ্যাবাদী হয়েছে , কিভাবে ইসলামকে অপমান করছে তা কল্পনাও করতে পারা যায়না । দিন দিন ওয়াজের মাহফিল ত রাজনীতির মঞ্চ হচ্ছেই , সাথে চলছে মিথ্যা, গিবত, গালিগালাজ , অভিশাপ , ভুয়াবাজি, দালালি , একে অপরকে আক্রমণ, অপবদ প্রভৃতি । আজকাল ত আমি ওয়াজ মাহফিলে ধর্মীয় ওয়াজনসিহত শুনতে যাইনা বললেই চলে । …… যেটুকু শুনি তা নেট থেকে ডাউনলোড করে কিছু ভাল বক্তার , তারা যদি সহিহ আকিদাহর হয় তবে । আজ একজনের ওয়াজ নিয়ে আলোচনা করব, নাম তার মওলানা আব্দুল খালেক । তিনি ভুয়া ওয়াজ ফরমানের মাধ্যমেই হিট হয়েছেন ।
একদিন বগুড়া মার্কেটে সিডির দোকানে গিয়ে ওয়াজ খুজতে খুজতে দেখলাম একটি সিডির প্যাকেটে একজন হুজুরের ছবি আর তার নিচে দুটি সাপ ফোঁনা তুলে আছে । .. আমি জানতাম বনরাজ হাকিমী দাওয়ায় খানার ছবিতে বা লিফলেটে কবিরাজের মাথার পিছনে সাপ থাকে , এই হুজুরের নিচে দুটি বড় সাপের ছবি কেন ?? আমি দোকানীকে জিঙ্গেস করলাম
ভাই হুজুরের নিচে এই দুটি সাপের ছবি কেন ? দোকানী জানাল, এটা হুজুরের সাপেরই ওয়াজ ! আমি বললাম তাহলে ত শুনতেই হয় । দেখি কি আছে .. নিলাম এবং বাসায় ফিরে কম্পিউটারে লোড দিয়ে শুনতে লাগলাম ।
হুজুর ওয়াজ ফরমাচ্ছেন: বিশেষ পয়েন্ট তুলে ধরছি >>
১. দুই সাপ মন্দিরে থাকে , একদিন এক সাপ নিয়ত করল আমাদের নবী (সা) কে দংশন করবে । ব্যাস, চলেগেল নবীজির গৃহে । ফোঁনা তুলে দাঁড়াল, সাপের উপর রসূলের পা পড়ল । সাপটি দেখে নবীজি এতই সুন্দর যে তাকে দেখতেই সাপ হেদায়েত হয়ে গেল । সাপটি কালেমা পড়তে আরম্ভ করল !! সাপটি কলেমা পড়তে পড়তে আসল ।
২. দ্বিতীয় সাপকে প্রথম সাপ বর্ণনা করছে , আজ মুহাম্মাদকে দংশন করতে গেলাম.. কিন্তু পারলামনা । তাকে দেখে আমি মুসলমান হয়েগেছি !!
৩. দ্বিতীয় সাপ রেগে গেল, বলল আমিই যাব তাকে দংশন করতে … দ্বিতীয় সাপ বলল তুই আমাকে পথ দেখিয়ে দে । প্রথম সাপ রাজি না হতে তাকে ঐসাপ আঘাত করল । এবার যুদ্ধ শেষে দুজনে চলেগেল রসূল (সা)এর ঘরে । গিয়ে দ্বিতীয় সাপও মুসলমান হয়ে গেল !! এবার তারা একজন অপরজনকে বলল , ভাইরে আমাদের ত হিন্দুরা মেরে ফেলবে ।
আমরা যে মুসলমান হয়েগেছি ।
৪. তারা কালেমা পড়তে পড়তে ফিরে আসল । আর তারা লজ্জাবতী গাছে ফোঁনা তুলে পেঁচিয়েধরে একজন বলে ‘লাইলাহা ইল্লাল্লাহ’.. অপরজন বলে ‘মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ’….!
৫. এবার হিন্দু ব্রাক্ষণ দেখে মন্দিরে সাপদুটি থাকে তারা কোথাও নেই । সেই ব্যক্তি সকল হিন্দুদের ডেকে বলল, আমাদের কালীমন্দিরে যে সাপ দুটোকে আমরা দুধকলা দিয়ে পুজা করি তারা কোথাইগেল ? খুজতে হবে ….
৬. খুঁজতে খুঁজতে দেখে তারা কালেমা পড়ছে । এবার হিন্দুরা বলল, এরা আমাদের বাপদাদার ধর্ম বিনাশ করবে । এদের হত্যা কর । যখন হিন্দুরা তলোওয়ার দিয়ে হত্যা করতে গেল , সাপদুটো লোহার মত শক্ত হয়েগেল ।
৭. আল্লাহ তা’লা খুশি হয়ে সাপদের সাতরাজার ধন মহামনি দান করলেন ।

*শুনলেন কিচ্ছা !! এবার বর্ণণা করি :
১. সাপের ইসলাম ধর্মগ্রহনের কোন দরকার আছে কি ?? আল্লাহ তা’লা কোরানে বলেছেন আমি জ্বীন ও মানুষ জাতিকে সৃষ্টি করেছি আমার ইবাদতের জন্য । তবে সাপের কালেমা পড়া বা মুসলীম হবার ঘটনা কি অলীক নয় ??
২. একসাপ আরেক সাপকে মুহাম্মাদের বর্ণনা করছে , অথচ, বিজ্ঞান বলে সাপ কোন মানুষের চেহারা মনে রাখতে পারেনা ।
৩. হিন্দুদের জন্য সাপ ভয় করেছে । হিন্দুদের ভৌগলিক অবস্থান হল ভারতে , আর রসূলের অবস্থান আরব সাগরের কাছে!
৪. লজ্জাবতী গাছ আমাদের দেশে পাওয়া যায় আরবে পাওয়া যায়না । … সাপ লজ্জাবতী গাছে থাকে এটা কল্পনাপ্রসূত ।
৫. ব্রাক্ষ্মণ হিন্দুদের ডেকে বলল , আমাদের কালী মন্দিরের সাপ কোথায়গেল :> হিন্দুদের আবাস ভারতে, ভারত থেকে আরবের দূরুত্ব হল ৩ হাজার মাইলেরও বেশি ! একরাতে সাপ কি করে রসূলকে ভারত থেকে আরবে গেল, আবার ভারতে ফিরে আসল , ৩ + ৩ = ৬ হাজার মাইল দুই সাপ এক রাতে কি করে যাতায়াত করল !!
৬. কালীমন্দিরের কথা যখন বলছে , তখন আপনাদের বলে রাখি , ভারতেও কালীপূজা শুরু হয় আজ থেকে খুব বেশি হলে ৩ শত বছর আগে , তার আগে হিন্দুধর্মে কালী নামের কোন দেবতা আরাধনা হতনা । তার কোন মন্দির ছিলনা । কালীপূজার প্রবর্তক হলেন ‘শ্রীরামকৃষ্ণ’ । প্রথম পূজা হয় দক্ষিণীশ্বর কালী মন্দিরে , ওটাই প্রথম কালী মন্দির ।
তাহলে, সাপটি আজথেকে ৩০০ বছর আগে কালীমন্দির থেকে বের হয়ে কোন রাস্তা দিয়ে ১২০০ বছর পূর্বে রসূল (সা) কে দংশন করতে গেল ???
৬. সাপকে নাকি মারতে গেলে সাপের দেহ লোহার মত শক্ত হল আর কাটা গেলনা ।
৭. আল্লাহ নাকি খুশি হয়ে সাপদের মহামূল্যবাদ মনি দান করল !! কথা হল ইসলামে কোন স্থানে আছে এমন ঘটনা ??
বিজ্ঞান ত বলে সাপের কোন মনি নেই !!

*এই ওয়াজটি এক বড় আলেমকে বর্ণনা করলে তিনি বলেন ‘ছি ছি ছি … ইসলামের ত এরা অপমান করে ছাড়বে ! পূরাটাই কাল্পনিক ঘটনা ! কোথাই পেল ………..’
* আরেকটি ওয়াজে উনার জয়গান উনি নিজেই গেয়েছেন । উনি নাকি ভারতে গিয়ে গ্রেফতার হয়েছিলেন হিন্দুধর্মের ভুল ধরার কারণে , তাকে কোর্টে হাজির করা হল । উনি নির্দোষ প্রমান হলেন , কারণ নাকি বেদপুরাণকে মিথ্যাপ্রমান করেছেন । তাকে কোর্টে নেয়ার আগের রাতে হাজতে রাখা হয় , আর উনি বাংলাদেশের এক এমপির ছেলের সাথে ফোনে কথা বলেন । তখন ঐ এমপির ছেলে তাকে আরও কিছু বিদ্যাদেন হিন্দুদের বিরুদ্ধে । তাতেই তার কাজ হয় !!…. এখন প্রশ্ন হল, হাজতখানা থেকে বিদেশে ফোন করার কোন ব্যবস্থা কি কোন দেশে আছে ?? এসব কি মিথ্যা উপমা নয় ??

চিন্তা করূণ এই হুজুর এখন বড় আলেম , ৩০ হাজার টাকা চুক্তি করে আনতে হয় । মূর্খশ্রোতার সংখ্যাও অনেক ।
এমন হুজুরের বিরুদ্ধে ত আমরা কোন ডকুমেন্ট তুলে ধরতে পারবনা , কারণ জনগণ আমাদের কথা মানবেনা ।
আপনাদের বিবেকের কাছে প্রশ্ন এই ওয়াজ কি আদৌ সঠিক আকিদাহ ও ঘটনার উপর বলে মনে হয় ? না হলে এসব ধাপ্পাবাজদের থেকে জনগণকে সচেতন করুণ । এই ধাপ্পাবাজদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে , শুধুই আমাদের অবহেলার কারনে ।