ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

প্রতিটি হামলায় তাদের পুরুষদের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ । তারা বউ রেখে ঘরবাড়ি রেখে পালিয়ে যায় যখন কেউ আক্রমণ করতে আসে । কেন তারা মার দেয়া অভ্যাস করেনা ? মার দেয়ার অভ্যাস না করলেও মার থাওয়ার অভ্যাস প্রথমে শুরু করুন আপনারা । ভয় , তারা সংখ্যালঘু । তাদের ধারণা থাকা উচিত দেশে এখনো ৯% হিন্দু আছে । কিন্তু বাকি ৯০% মুসলিম সবাই নাশকতা করতে যায়না বা নাশকতা করার পক্ষেও না । যদি হিন্দুরা জীবন বাজি রেখে দু’চার ঘা দিতে শিখে তবে মুসলিমদের মাঝে থাকা ৪০% মানুষ এদের সহায়তা করতে যে কোন এলাকার সকল দলের লোকেরা তৎপর । প্রশাসন যদি কাজ করে পরে হিন্দুরই বাঁচাতে কাজ করবে । কারণ, তারা আক্রান্ত তাই প্রতিবাদ করতে গিয়ে দু’ঘা মেরেছে । ধরি কোন এলাকাতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বা নাশকতা শুরু হয়েছে, তবে সেই এলাকার নারী-পুরুষ মিলে ঝাঁটা-লাঠি নিয়ে তাড়া করলে এসব সমস্য খুব সহজেই সমাধান হবে। অন্য এলাকাতেও এমন করতে সাম্প্রদায়িক লোকেরা দশবার চিন্তা করবে। দিনের পর দিন এমন প্রতিবাদ হয়না বলেই হিন্দুদের উপর আক্রমণ বেড়েই চলেছে ।

গ্রামে থাকা অবস্থায় বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা বলি । আমাদের এলাকায় কিছু হিন্দু লোকের উপর প্রায় আমাদের জানা মতে তিন পুরুষ ধরে মুষ্টিমেয় কিছু লোক তাদের উপর অত্যাচার করতো । সামান্য ৬ জন হিন্দু যুবক সাহস করে অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছে । ব্যাস, ৬ জন মিলে পিটুনী খেয়ে ১৫ জনকে পিটুনী দিয়ে তাড়িয়ে দিল । এর পর থেকে ঐ এলাকায় সেই মুষ্টিমেয় হামলাকারীরা আর কোনদিন হামলা করতে আসেনি । আর যে হিন্দুরা প্রতিবাদ করেছে তাদেরকে বহু মুসলীমরা সাহজ জুগিয়েছে যে আমরা আছি তোমাদের সঙ্গে।

মাত্র কয়েকদিন আগের ঘটনা, ব্রাক্ষণমবাড়িয়াতে সামান্য কিছু লোক বড় জোর ৪০ থেকে ৫০ জন তারা ৩০০ ঘরে আগুন দিল, কিন্তু তিনশ ঘরের লোক কেউ একটা লোককে মেরে ঘায়েল করতে পারেনি । ঘটনা ঘটার পর দেখাগেল মিডিয়াতে সেই এলাকায় পুরুষ শুন্য আছে কান্নাকাটি করার জন্য মহিলারা। পুরুষেরা গেল কোথায়? তাদের তো দেখলামনা একটি হিন্দু যুবক পিটুনি দিতে গিয়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে? সেই এলাকাতে কি শুধু নারী বসবাস করে? সেই সময়ে পূরুষরা কী করছিল? নাকি আক্রমণ হলে বউ রেখে পালিয়ে যায় কান্নার রোল শোনার জন্য?

দেশে যখন ২২% হিন্দু তখনও হিন্দুরা মার খেয়ে ভিটেমাটি ছেড়ে দিয়ে গেছে ৫% মুসলিমের কাছে, ৫% এজন্য বলছি ১৯৪৭ সালে দেশে ৭৫% মুসলিম থাকলেও হিন্দুদের উপর অত্যাচার করেছে মাত্র ৫% যারা এদের থেকে সম্পত্তি কেড়ে নিয়ে ধনী হয়েছে। এরা সবাই মুসলিম লীগের লোক । ১৯৭১ সালে হিন্দুরা ভিটেমাটি ছেড়ে দিয়েছে ৮-১০% লোকের কাছে তখন তারা ছিল মুসলীম লীগ আর জামায়াতের লোক । কিন্তু হিন্দু ছিল তখনো ১৪%। নিরবে শুধু দিয়ে যাচ্ছে হিন্দুরা, মার খেয়েই চলেছে। শুধুই সাহসের অভাবে! তারা জানেনা, সত্যের পক্ষে ন্যায়ের পক্ষে মানুষ দাঁড়ায় তারা ধর্ম দেখে না।

প্রতিবাদ করতে শিখুন। দু-চার ঘা মেরে দিন। এরা শান্ত হয়ে যাবে। রাতের বেলা যদি মোতার সময় বিছানা থেকে বউকে ডেকে নিয়ে ঘরের বাহির হোন তবে আপনাদের র‌্যাব-কোবরা-চিতা কেউ বাঁচাতে পারবেনা । আর আমাদের দেশে প্রশাসনের একটি কালচার হলো তারা ঘটনার পরে স্পটে যায়, ঘটনা ঘটারা আগে গেলে কামাই হয়না । কেননা, তাতে নিজেকেও বেগ পেতে হয় পরিস্থিতি সামলাতে আর দু’পয়সা ইনকাম হয় না মামলা হবার পরিস্থিতি না হলে। তাই এই প্রশাসনের উপর দোষ চাপিয়ে লাভ কী? এরা তো এমনই ।

আরেকটি বিষয় হল অজপাড়া গাঁয়ে কি আর পুলিশ তাৎক্ষণিক গিয়ে রক্ষা করতে পারবে? নিজেদের সন্মান নিজেরা রক্ষা করে চলূন । দু’চারজনকে জখম করে দিন আক্রান্ত হলে দেখবেন সব ঠান্ডা হয়ে গেছে । হিন্দু শ্রেণীর ভীতির ক্যালচার থেকে বেড়িয়ে আসা জরুরি। মামলা হলে ভয়ে সাক্ষী দিতে যায়না, বিচার চেয়ে লাভ কী? খুব বড় গলা করে বিচার চাইবেন, সাক্ষী দেবার সাহস আছে তো?
আমাদের এলাকায় এক হিন্দু মাস্টারকে কিছু হিন্দু জনসম্মুক্ষে লাঠির বাড়ি মেরে হত্যা করেছিল। পুলিশ আসলো, ঐ এলাকায় কোন হিন্দু পুরুষ নেই। সাক্ষ্য কে দেবে? যে দু’চারজন বৃদ্ধ ছিল গ্রামে, তারা জড়োসড়ো হয়ে কাঁপতে কাঁপতে বলছিল কর্তা আমি বাড়িতেই ছিলাম না ঐ দিন । সবার মুখে একই উত্তর । বিচার হবে কি আরশে আজিমে? নাকি দেবালয়ে?
বি.বাড়িয়াতে ঘটনার পর খুব বড় গলায় দেশে হিন্দু নেতারা আওয়ামী লীগ সরকারকে গালি দিয়ে চলেছে । কেন তাদের উপর আক্রমণ হচ্ছে ! আক্রমণ কেন হচ্ছে , কাদের দ্বারা হচ্ছে তা ভারতের কলকাতার সকল পত্রিকা জানে । আর আমাদের দেশের হিন্দুরা বা মিডিয়া ও বুদ্ধিজীবীরা জানে না ! ভারতে প্রতিটি আক্রমণের সংবাদকে জামায়াত শিবিরকে দায়ী করে ছাড়া হয়েছে । প্রথমের দিকে নিউজ করা হয়েছে জামায়াতের প্ররচনায় হিন্দুদের উপর হামলা । দ্বিতীয় দিন সংবাদ দেখলাম, জামায়াতের সহায়তায় বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর আক্রমণ বেড়েই চলেছে । তৃতীয় দিন তাদের সকল পত্রিকায় শিরোনাম, শেখ হাসিনাকে হেয় প্রতিপন্ন করতে এবং সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে বাংলাদেশে বেছে বেছে হিন্দুদের টার্গেট করে হামলা করা হচ্ছে ।
অথচ, আমাদের দেশের হিন্দু ভাইয়েরা এত নিরপেক্ষ কোন দলের লোকের নামই বলতে চায়না । সকল দোষ নন্দঘোষের মত আওয়ামী লীগের শরীরে চাপিয়ে খালাস! বি.বাড়িয়াতে আওয়ামী লীগের নেতাদের দোষ ছিল, তারা প্রতিরোধ করতে যায়নি । বা তারা ইচ্ছে করে ঠেকাতে যায়নি । এজন্য কর্তব্যে অবহেলার দায়ে নেতাদের বহিস্কার করা হয়েছে । এতে কিছু নেতারা যারা দলের মৌসুমী পাকা ফল খাওয়ায় ব্যস্ত তাদের দোষ । কিন্তু এজন্য আজকাল ফেসবুকে টুইটারে শেখ হাসিনাকেও কিছু দাদারা ঘরে বসে ছেড়ে কথা বলেননি । মনে হচ্ছে জঙ্গি, জামায়াত, শিবির যেন হাসিনার তৈরি । অথচ সুখের কথা হচ্ছে শেখ হাসিনা আছে বলেই এই দেশে ৯% হিন্দু এখনো টিকে আছে ।

তাই, এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিন, প্রতিবাদ করুন, প্রতিশোধ নয় । আক্রমণ ঠেকান আক্রমণ আগে করে নয়, অবশ্য সেই ক্ষমতা নেই । যুদ্ধে বেশি সৈনিক দরকার হয়না, মনোবলই শক্তি । এটা শ্রীকৃষ্ণের কথা ।

..মেহেদী হাসান
সদস্য: জয়পুরহাট সদর উপজেলা যুবলীগ ।