ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

 

জাতীয় পার্টির এক তরুণ এমপি তার ফেসবুকের স্ট্যাটাসে লিখেছেন আদালত প্রাঙ্গণে কোন মূর্তি থাকা উচিত নয়! তিনি সুর মিলিয়েছেন হেফাজতের সাথে। কারণ তিনি এমন এক সময় এমন মতামত লিখেছেন যখন কিনা হেফাজতের কিছু নেতারা যারা সারা বছর দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পায়তারা খুঁজে বেড়ায়, তারা মূর্তি ভাঙার ঘোষণা দিয়েছে।

বিষয় হলো এতদিনে এই মূর্তির বিষয় আসছে কেন? এটি কি আজ স্থাপন হয়েছে নাকি ইতপূর্বে ছিল?
এতদিন হেফাজতিদের রুহাণী দৃষ্টি কোথায় ছিল? এমপির যুক্তি হল দেশে ও সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম তাই কোন মুসলিম রাষ্ট্রধর্মের কোন দেশে এমন মূর্তি থাকা অনুচিত। তাহলে মিশর কি খ্রিস্টান প্রধান দেশ? সেদেশে হাজারো বছরের ঐতিহ্যবাহী মূর্তি আছে, সেদেশে হেফাজত জন্মায়নি কেন? তুরস্ক সমস্ত মুসলিম বিশ্ব রাজ করে ইউরোপের রাজাদের সাঙ্গে যুদ্ধ করে বহু দেশ ইসলামী কায়দায় শাসন করেছে। সেসব দেশে মূর্তি কেন ভাঙা হয়নি বা তুরস্কে কেন এমন সব মূর্তি আছে?

মূর্তি থাকা মানেই তো মূর্তি পূজা নয়। ন্যায় মূর্তির রূপে একজন নারী হাতে ন্যায়ের দণ্ড ধরে আছেন আরেক হাতে অপরাধীর শাস্তির তলোয়ার, এমন মূর্তি বহুদিন ধরেই বহু দেশে আছে। বিশেষ করে যেসব দেশে বৃটিশ শাসন চলেছে সেসব দেশে এখনো বৃটিশ এমন সিম্বল বহন করছে। এতে দোষের কি আছে? এসব মূর্তি তো আর ফুল চন্দন দিয়ে পূজো হয় না।

বাংলাদেশ বা ভারত উপমহাদেশে ১৯৪৭ সালের পর কয়টিই বা আইন পাশ হয়েছে, বড় বড় আইন তো বৃটিশদের তৈরি করা যা এখনো বিচারে আইন হিসেবে বৃটিশ ল মানা হয়। এসব বিষয় হেফাজতি আপদেরা না জানলেও জাতীয় পার্টির তরুণ নেতার তো অজানা থাকার কথা নয়। তবে তিনি কিসের নিমিত্তে এমন হেফাজতি সুর মেলাচ্ছেন তা আমার বোধগম্য নয়।