ক্যাটেগরিঃ ব্লগালোচনা

 

ব্লগ ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম এর ষষ্ঠ বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অডিটোরিয়ামে আয়োজন করা হল। সেখানে অংশ নিলাম। তবে যা স্বভাব আমার নিজের, তাতে খানিকটা অন্তর্মুখীনতা বেশি থাকায় যেচে কারো সাথে পরিচয় হতে বাধো ঠেকেছে। তাই অনেককে ব্লগ প্লাটফরমে ছবি আকারে দেখেছিলাম, তাদের সাথে আর পরিচয় হইনি। শুধু মনে ভেবে বলে গেলাম আনমনে, থাক না আরো কিছুকাল অপরিচয়ের আড়ালে এই জীবন! এছাড়া নিজেকে এখনো যেন ব্লগার হিসেবে পরিচয়ের চেয়ে অন্য পরিচয়টিই আগে মুখ্য হয়ে ওঠে নিজরই কাছে!

অনুষ্ঠানে সারাদিন থাকতে পারিনি। দুপুরের পর চলে আসি। অনুষ্ঠানের প্রথম অংশ মন্দ লাগেনি। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকনের কথাগুলো মন্দ লাগল না! তিনি অনেক্ষণ ধরে নাগরিক প্রশ্নের উত্তর দিয়ে গেলেন। মানুষটি প্রাণখোলা। প্রায় সব বিষয়ের প্রশ্নের উত্তর হেসেখেলে দিয়েই দিলেন! নগরকে নাগরিক বান্ধব করতে তাঁর উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসনীয়।

কিন্তু তারপরেও কথা থাকে। যানজট নিয়ে বললেন বটে, কেউ একজন পারকিং প্লেসের অভাব নিয়ে কথা বললেন! বিল্ডিং এর ভেতরে শীততাপ নিয়ন্ত্রণী ব্যবস্থার কারণে মনও ছিল ‘বুর্জোয়া’ প্রভাবিত! তাই মেয়রের কথাগুলো মধুর লাগল! অনেকে হরদম হাততালিও দিলেন! তিনি ফুটপাত হকারমুক্ত করতে দৃঢ়ভাব দেখালেন! হাততালি পড়ল আবার! তিনি এবার বললেন, পথের পাশে গাড়ি রাখার কারণে যানজট হয় বেশি। তার কথা শেষ হল। এরপর আরো অন্য আনুষ্ঠানিকতা শুরু। দুপুরে সেখান থেকে বেরিয়ে পড়লাম! বাইরে এসেই দেখলাম, সার বেধে পথের একধারে প্রোগ্রামে আসা গাড়িগুলো পার্ক করে রাখা হয়েছে! সম্ভবত মাননীয় মেয়রের গাড়িও পথের পাশে পার্ক করা ছিল! এভাবে পথের পাশে গাড়ি রাখা পারকিং নীতির সাথে মেলে? জানা নেই!

আমারও ইচ্ছে হচ্ছিল নগর প্রধানকে একটু বলি। ঢাকায় যখনই আসি তখনই আমার মনে পড়ে দোয়েল চত্বরের পাশে, তিন জাতীয় নেতার মাজার ঘেঁসে থাকা ‘ঢাকা গেটের’ কথা। এই গেট দেখলে আমার কেন জানি অনেক কথা মনে আসে। নিজের কথা নিজেদের কথা, নিপীড়িত হবার বঞ্চিত হবার কথা যেমন মনে আসে। তেমনি শত বছরের ইতিহাস যেন আমাকে ক্ষণিক বিমূঢ় করে তোলে। মনে পরে ঢাকা একসময় এই উত্তর পাশে এসে সীমানা শেষ বলে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিল। আজকের ঢাকা কি ঢাকা গেট বা তার সীমানাকে মনে রেখেছে? যদি মনে রেখে থাকে তবে, নগর প্রধানকে আমি প্রশ্ন করতাম, তাহলে, ঢাকা গেট ‘ঢাকা’ থাকে কেন? তাকে একটু আধটুকু জৌলুশ দিলে কি মন্দ হোত না?

কিন্তু আমি এই প্রশ্ন করিনি। মনে হয়েছে এটা আর কতই বা বড় একটি সমস্যা! পুরোনো কাসুন্দির মূল্যই বা কতটুকু!!

অনুষ্ঠানের একপাশে বসে ছিলাম।বহুদিন পর ছাত্রদের মাঝে থাকতে পেরে ভালই লাগছিল। তাদের নানা হাসি উল্লাস, নগর পিতা বা অতিথি বক্তাদের বক্তব্য না শুনে তাদের ফিসফাস বা নিজেদের মধ্যে খাজুরে আলাপও মন্দ লাগছিল না। পাশে বসা একজনকে দেখলাম, তিনি সম্ভবত একটি শিক্ষা সম্পর্কিত বিষয়ের জন্য জরিপ করার দায়িত্ব ডিপার্টমেন্ট থেকে পেয়েছেন! তার এক বন্ধুকে বললেন, দোস্ত, ৫০টা পূরণ করতে হবে, তুই একটা পূরণ করে দিস এবং একই সাথে তিনিও ফরম বা ছকগুলো নিজেই পূরণ করতে লাগলেন। কী দরকার জনে জনে মানুষের কাছে যাবার! একা পূরণ করে টিচারকে গছিয়ে দিলেই হয়! আজকাল জরিপ বা গবেষণা কত সহজসাধ্য হয়েছে বুঝে গেলাম!

অনুষ্ঠানে ব্লগার নিতাই বাবুকে সম্মাননা দেয়া হল দেখে ভাল লাগল। তাঁকে আমার ভালই লাগে। তিনি এই নগর ভীড়ে ভিন্নগ্রহের কেউ বলে মনে হলেও নগরের, তা সে ঢাকা বা নারায়ণগঞ্জ যেখানেই হোক, তিনিই যে নগরের আসল প্রতিনিধি!

তবে এই নাগরিক সজ্জনদের মাঝে দুএক মিনিট তিনি যদি স্পীকার ধরার সুযোগটি পেতেন তবে অনুষ্ঠান যেন আরো আলোকিত হত!

যাই হোক উপভোগ করলাম ব্লগ জন্মদিন। আরো বেশিক্ষণ থাকার সুযোগ হলে ধন্য হতাম। কিন্তু বাকি থাকে যে আরো কিছু কাজ! তাই অনুষ্ঠান অর্ধেকে রেখে চলে আসলাম।

সেখান থেকে আজিজ মার্কেট ঘুরে বিকালে হাটা দিলাম বইমেলায়। রাজু ভাস্কর্যএর সামনে থেকে হেটে একাডেমি ঢুকতে হয়। আজ ইচ্ছে হল একটা সাধারণ পর‍্যবেক্ষণ করি! যারা বইমেলা ঘুরে বাড়ির বা বাসার পথে বা বইমেলা থেকে বের হয়ে যাচ্ছিল, তাদের কতজনের হাতে বইয়ের ব্যাগ বা প্যাকেট আছে একটু খেয়াল করি! সাধারণবভাবে সাদাচোখে দেখলাম , প্রতি একশ জনে ৮/১০ অথবা ১০/১৫ জনের হাতে নতুন কেনা বইয়ের প্যাকেট আছে এই খেয়াল করলাম। সংখ্যাটা মন্দ নয়!

তারপর ঢুকলাম বইমেলায়। আজ দুই আড়াই ঘন্টা কাটালাম বাংলা একাডেমি মূল প্রাংগনে। বই কিনলাম, দেখলাম। মন্দ কাটেনি সময়টা!

লিটল ম্যাগ চত্বরে এক নবীন নারী লেখক তাঁর সদ্যলেখা গল্পের বইটি আমাকে দেখিয়ে তা কিনতে বললেন। নিই নিই করে নিলাম না। লিটল ম্যাগ চত্বরে আসলে আমার এই জায়গাটাকে আলাদা পৃথিবী বলে মনেহয়! নিজেকে অন্য ভূবনে জড়াতে জড়াতে আরেক অন্য ভূবনে আর জড়ানোর সাহস করি না! তাই নবীন লেখিকার গল্প পড়ার ইচ্ছে থাকার পরও বইটি কিনলাম না। বদলে নিজের উপযোগী করে নানা ধরণের বই কিনে নিলাম!

ঢাকায় এসেছি দ্বিতীয় দিন হল।ঢাকা নিয়ে আরও কথা ছিল। তবে আজ এইটুকুনই থাক!