ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

 
Kawran-Bazar-1-1170x660

শাসনব্যবস্থা বা শাসনপদ্ধতি ইংরেজিতে ‘গভরন্যান্স’ সাধারণ অর্থে ব্যাখ্যা করা যায় এভাবে- এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করা হয়। অর্থাৎ কোন রাষ্ট্র, জাতি বা সংস্থার জন্য গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াকেই ‘গভর্ন্যান্স’ বা শাসন ব্যাবস্থা হিসেবে অভিহিত করা যেতে পারে।

জাতিসংঘ উন্নয়ন সংস্থা (ইউএনডিপি) এর ভাষ্যমতে, “শাসন বা গভরন্যান্স হচ্ছে একটি রাষ্ট্রের সকল পর্যায়ের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক কর্তৃত্বের সঠিক ব্যবহার।”
একটু বিশদ ভাবে বলতে গেলে, “গভরন্যান্স বা শাসন হচ্ছে স্পষ্ট কিছু কাঠামোবদ্ধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংগঠিত ফলাফল অভিমুখী একটি সামষ্টিক জনউদ্যোগ যা সমাজে মনুষ্যসত্ত্বার সার্বিক বিকাশের সর্বোত্তম পরিবেশ সৃষ্টিতে সহায়তা করে।”

‘সিটি গভরন্যান্স’ বা নগর শাসন ব্যবস্থা:
একটি নির্দিষ্ট নগরাঞ্চলে বসবাসরত জনসাধারণের সামগ্রিক চাহিদা মেটাতে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির জন্য পর্যাপ্ত আইনী কাঠামো, দক্ষ রাজনীতিকের উপস্থিতি, নগর ব্যাবস্থাপনার সকল নিয়ামক এবং প্রশাসনের সুদক্ষ পরিচালনার সমন্বয় ঘটানোর মাধ্যমে পরিচালিত গভর্ন্যান্সই “সিটি গভর্ন্যান্স” বা নগর শাসন পদ্ধতি বা প্রক্রিয়া।

অন্যভাবে সংজ্ঞায়িত করলে বলা যায়, প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বা প্রশাসনিক কর্মকর্তার (হতে পারে নগর  প্রধান (মেয়র), জেলা প্রশাসক তথা একটি প্রশাসনিক অঞ্চলের পরিচালক বৃন্দ) নগর বা অঞ্চল পরিচালনার সাজানো পরিকল্পনা যেখানে নগরের প্রাত্যহিক ব্যাবস্থাপনার স্বরূপ এবং নগর উন্নয়নের স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়। প্রকৃতপক্ষে, “সিটি গভর্ন্যান্স” এর পরিচালনায় স্থানীয় সরকার সক্রিয় ও কার্যকর হয়ে ওঠে।

কার্যকর “সিটি গভরন্যান্স” হবে গণতান্ত্রিক পন্থায় পরিচালিত যেখানে নগর অধিবাসীদের পরোক্ষ উপস্থিতিতে পরিচালকবৃন্দ নগর পরিচালনা করবেন। এটি হবে যুগোপযোগী, দীর্ঘমেয়াদি ও সংহত যা নির্দিষ্ট নগরাঞ্চলের প্রত্যেকটি স্তরে সমান ভাবে কার্যকর প্রক্রিয়া এবং এটি জনসাধারণের কল্যাণার্থে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।

উন্নত বিশ্বের প্রায় প্রতিটি নগরই “সিটি গভর্ন্যান্স” এর আওতাভুক্ত। নিউইয়র্ক সিটি (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র), লন্ডন (যুক্তরাজ্য), সিডনি (অষ্ট্রেলিয়া), সিউল (দক্ষিণ কোরিয়া), ইস্তাম্বুল (তুরস্ক), লাগোস (নাইজেরিয়া), হংকং (চীন), বেইজিং (চীন), সাও পাওলো (ব্রাজিল), রিও ডি জেনেরিও (ব্রাজিল), জোহানেসবার্গ (দক্ষিন আফ্রিকা), মেক্সিকো সিটি (মেক্সিকো), জাকার্তা (ইন্দোনেশিয়া), টোকিও (জাপান), লস এঞ্জেলস (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) , প্যারিস (ফ্রান্স), ম্যানিলা (ফিলিপাইন) প্রভৃতি সকল উন্নত নগরই “সিটি গভরন্যান্স” এর আওতাভুক্ত। এবং আমরা দেখছি এসকল নগর উন্নতির চরম সীমায় অবস্থান করছে। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের দিল্লি ও মুম্বাইয়ের “সিটি গভর্ন্যান্স” ও একটি আদর্শ দৃষ্টান্ত হিসেবে উপস্থাপন করা যেতে পারে।

‘সিটি গভরন্যান্স’ এর ক্ষমতা ও পরিধি:

উপরোক্ত নগর গুলোর ক্ষমতা ও কাজের পরিধি ব্যাপক। আগেই বলেছি, একটি নগরে বসবাসরত নাগরিকদের সামগ্রিক সমস্যা সমাধানের জন্য সব ধরনের আইনের প্রয়োগ, দক্ষ ব্যাবস্থাপনা, সক্রিয় ও কার্যকর প্রশাসন ব্যবস্থার সমন্বয়ের কথা। ‘সিটি গভরন্যান্স’ একটি স্বায়ত্ত্বশাসিত শাসন ব্যাবস্থা যেখানে নগর পরিচালকগণ তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য একই সাথে নগরের অধিবাসি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের নিকট জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবে।

যদি ‘স্বায়ত্তশাসনে’র ব্যাপারটি চলে আসে তাহলে দাঁড়াচ্ছে, একটি রাষ্ট্র আইন প্রণয়ন ব্যাতীত রাষ্ট্রে বসবাসরত নাগরিকদের জন্য যেসকল অবকাঠামোগত ও কল্যাণ মূলক কর্মকাণ্ড সম্পাদন করে ওই সকল কর্মকাণ্ড যখন একটি বিশেষ পদ্ধতির মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট নগরাঞ্চলে বসবাসরত নাগরিক দের জন্য করা হয় তখন ওই বিশেষ পদ্ধতিই “সিটি গভরন্যান্স”।

‘সিটি গভরন্যান্স’ এর কার্যাবলি:
উপরোল্লিখিত নগর সমূহে সিটি গভর্ন্যান্স স্বায়ত্ত্বশাসনের দ্বারা নগর উন্নয়নের সামগ্রিক কার্যাবলি পরিচালনা করে আসছে। সিটি গভর্ন্যান্স অন্য কোন প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার মুখাপেক্ষী না হওয়ায় এবং উন্নয়ন কর্মকান্ডে কেন্দ্রীয় সরকার সরাসরি হস্তক্ষেপ করে না বলে নগর উন্নয়নে বাধার সৃষ্টি হয় না বললেই চলে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ‘সিটি গভরন্যান্স’:
বাংলাদেশের বর্তমানে প্রস্তাবিত একটি সিটি কর্পোরেশনসহ মোট ১১ টি সিটি কর্পোরেশন ও ৬৪ টি জেলার নিজস্ব প্রশাসনিক কাঠামো বিদ্যমান। এগারোটি সিটি কর্পোরেশন হলো, ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, নারায়ণগঞ্জ, গাজিপুর, বরিশাল, সিলেট, খুলনা, কুমিল্লা, রাজশাহী, রংপুর ও চট্রগ্রাম এবং প্রস্তাবিত ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন। এই সকল সিটি কর্পোরেশনে জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত একজন মেয়র এবং প্রত্যেক ওয়ার্ডে একজন করে কাউন্সিলর নিয়ে পরিচালক মণ্ডলী গঠিত হয়।

কার্যাবলি:
স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ৬০ নং আইন) অনুসারে ওয়ার্ডসমূহের সীমানা নির্ধারণ, এলাকার অখণ্ডতা এবং যতদূর সম্ভব, জনসংখ্যা বিন্যাস, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন নীতি সহ সিটি কর্পোরেশনের সকল দায়িত্ব সমূহ নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই আইন সংক্রান্ত অধ্যাদেশের ষষ্ঠ অধ্যায় বলা হয়েছে –

৪১৷ (১) কর্পোরেশনের দায়িত্ব ও কার্যাবলী হইবে নিম্নরূপ, যথাঃ-
(ক) কর্পোরেশনের তহবিলের সংগতি অনুযায়ী তৃতীয় তফসিলে বর্ণিত দায়িত্ব ও কার্যাবলী সম্পাদন করা;
(খ) বিধি এবং সরকার কর্তৃক, সময় সময়, প্রদত্ত নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অন্যান্য দায়িত্ব ও কার্যাবলী সম্পাদন করা;
(গ) সরকার গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অন্য কোন দায়িত্ব বা কার্য সম্পাদনের নির্দেশ প্রদান করিলে উহা সম্পাদন করা।
(২) মেয়র স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং কাউন্সিলরগণ এই আইনের বিধান অনুযায়ী জনস্বার্থে, কর্পোরেশনের কার্য পরিচালনা করিবেন এবং কর্পোরেশনের নিকট যৌথভাবে দায়ী থাকিবেন।
(৩) সাধারণ ও সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলরগণের দায়িত্ব ও কার্যাবলী বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে।”

সিটি কর্পোরেশনের দুর্বলতা:
বর্তমানে সিটি কর্পোরেশনের ক্ষমতার পরিসর ও দূর্বলতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াত আইভী বলেন,

“স্থানীয় সরকারব্যবস্থা থেকে সাধারণভাবে যে রকম সেবা প্রত্যাশা করা হয়, আমি আমার নগরকে যেভাবে সাজাতে চাই বা নগরবাসী যেমনটি স্বপ্ন দেখে, সে রকম অবস্থায় পৌঁছাতে না পারলেও আমরা কিন্তু বিগত বছরগুলোতে অনেক এগিয়েছি। ক্রমেই নাগরিকদের সচেতনতা বেড়েছে, আমাদেরও জবাবদিহি বেড়েছে। তবে এখনো আমাদের সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা প্রচুর।“

সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করতে গিয়ে উদাহরণ টেনে বলেন, “প্রধান সীমাবদ্ধতা হলো ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা। স্থানীয় সরকারের ক্ষমতা খুবই সীমিত। সে কারণে আমাদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগও অনেক কম। দু-একটা উদাহরণ উল্লেখ করলে বিষয়টা বুঝতে সুবিধা হবে। মনে করুন, নগরবাসীর বহু দিনের দাবি বড়সড় একটা মিলনায়তনের। আমি যদি এ ধরনের বড় বাজেটের কোনো স্থাপনা নির্মাণ করতে চাই, পারব না, যতক্ষণ পর্যন্ত না মন্ত্রণালয় আমাকে অনুমোদন দিচ্ছে। যা কিছুই করতে যাই, মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমোদন নিতে হবে। স্থানীয় সরকার বিষয়ে আইনকানুনগুলোতে অনেক ভালো ভালো কথা আছে। কিন্তু শেষে একটা শর্ত জুড়ে দেওয়া আছে, যার বক্তব্য হচ্ছে, আপনি যে কাজই করতে যান না কেন, পূর্বানুমোদনক্রমে করতে হবে। এমনকি সিটি করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে কিছু নির্মাণ করতে গেলেও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হবে। অর্থাৎ, কেন্দ্রের পূর্বানুমোদনের ওপরই নির্ভর করছে আমাদের সবকিছু। আর অনুমোদন পাওয়ার বিষয়টি মোটেও সহজ নয়। অনেক দৌড়ঝাঁপ করতে হয়, ঝক্কি-ঝামেলা পোহাতে হয়, অহেতুক দীর্ঘ কালক্ষেপণ ঘটে। এমনকি কোনো স্থাপনা নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের অনুমোদন পেতেও বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে।” [প্রথম আলোঃ ৬ নভেম্বর, ২০১৩]

প্রকৃতপক্ষে, বর্তমান কাঠামোতে মশক নিধন, আবর্জনা স্থানান্তর এবং স্ট্রিট লাইটের বাতি জ্বালানো ছাড়া সিটি করপোরশেনের সেবা দেওয়ার আর কোনো ক্ষমতা আক্ষরিক অর্থেই নেই। বিদ্যমান আমলাতান্ত্রিক ও এককেন্দ্রিক সরকার ব্যবস্থায় মেয়র প্রার্থীদের এসব প্রতিশ্রুতি পূরণ করার কোনো সুযোগ এবং সামর্থ্য নেই সিটি কর্পোরেশনের। কারণ ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের ৫৬টি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান তাদের নিজ নিজ কর্মসূচি মোতাবেক কাজ করে। একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অন্য প্রতিষ্ঠানের কোনো সমন্বয় নেই। আবার এসব প্রতিষ্ঠানের ওপর সিটি কর্পোরেশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। এ ছাড়া সিটি কর্পোরেশনকে যে কোনো কাজের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থ ও অনুমোদনের ওপর নির্ভর করতে হয়। সিটি কর্পোরেশনগুলো স্থানীয় শাসনের নামে কেন্দ্রীয় সরকারের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে। রাজধানীর নগর পরিকল্পনা, ভূমি অধিগ্রহণ, ইমরাত নির্মাণ ও নকশা অনুমোদনসহ বিভিন্ন কাজ করে রাজউক, যার ওপর সিটি কর্পোরেশনের কোনো কর্তৃত্ব নেই। তাহলে নির্বাচিত মেয়ররা কীভাবে পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব নগর গঠন করবেন, তা আমাদের বোধগম্য নয়। বিদেশে পুলিশ এবং অগ্নিনির্বাপণসহ নগর উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত সব প্রতিষ্ঠান থাকে নগর সরকারের অধীনে। কোনো কোনো দেশে নগরে কর্মরত সব প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নিয়োগ ও চাকরি থেকে অপসারণের ক্ষমতা থাকে নগর নির্বাহিক বিভাগের হাতে।

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ‘লিভারেজিং আরবানাইজেশন ইন সাউথ এশিয়া: ম্যানেজিং স্পেশাল ট্রান্সফরমেশন ফর প্রসপারিটি অ্যান্ড লিভেবলিটি’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিশ্বব্যাংক। ঢাকার প্রশাসনিক বিভিন্ন দুর্বলতার চিত্র তুলে ধরে বিশ্বব্যাংকের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, “ঢাকায় স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা (সিটি করপোরেশন) থাকলেও বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে সরকারি নানা সংস্থা। এতে একজনের কাজের সঙ্গে অন্যের কোনো সমন্বয় নেই। আবার ঢাকার জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বিবেচনায় না নিয়েই গ্রহণ করা হয় বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন ও পরিকল্পনা।”

তবে কি এভাবেই চলবে, নাকি নগরের উন্নয়নের জন্য ভিন্ন ধারার কিছু চিন্তা করার সময় এসেছে এখন?

এই অবস্থায় সিটি গভরন্যান্স আদর্শ শাসন ব্যাবস্থা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু বাংলাদেশে এই শাসন পদ্ধতি ১৯৯৭ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত দু’বার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে এ উদ্যোগ দু’বারই ব্যর্থ হয়। ২০০৫ সালে মন্ত্রিপরিষদ সভায় নগর সেবার বিষয়টি একটি কর্তৃত্বের অধীনে নিয়ে আসার নীতিগত সিদ্ধান্তও হয়। তবে সে সিদ্ধান্ত পরে আর বাস্তবায়নের দিকে এগোয়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মেয়র প্রার্থীরা যতই প্রতিশ্রুতি দেন না কেন, ‘সিটি গভর্ন্যান্স’ ছাড়া বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে কোনো মেয়রেরই নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার মানসিকতার জন্যই ‘সিটি গভরন্যান্স’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ বারবার ব্যর্থ হয়েছে।

সময় গড়িয়ে গেছে অনেক। আর দেরি করা ঠিক হবে না মোটেই। যেহেতু উন্নত বিশ্ব দৃষ্টান্ত দেখাতে সক্ষম হয়েছে যে, সিটি গভরন্যান্স প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নগরীয় সমস্যার সঠিক সমাধান করা সম্ভব। সেহেতু, নগর জীবনের সমস্যাগুলো গুরুতর পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই একই সাথে উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মেলাতে এটাই আদর্শ সময় সিটি গভরন্যান্স প্রতিষ্ঠার। সংশ্লিষ্ট মহল উদ্যোগ নিলেই বাংলাদেশ হতে পারে আদর্শ নগরীসমূহের রাষ্ট্র।