ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

শহরকেন্দ্রিক সহিংস রাজনীতিগত সমস্যাগুলা যেনো আজকাল গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাপক আকারে! আগে দেখা যেতো বিভিন্ন বড় বড় শহরে রাজনৈতিক মতাদর্শ ভাগাভাগি নিয়ে খুনাখুনি হতে। আজ সেখান থেকে এই খুনাখুনির মতাদর্শনামক রাজনীতি গ্রামের তৃর্ণমূল পর্যায়ে পৌছেগেছে। যাঁতে করে এর প্রভাব পড়েছে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর উপর। এতে প্রভাবিত হয়ে দংশ হচ্ছে গ্রামের সরল সিধে যুবকেরা।

আগে আমরা আমাদের গ্রামের রাজনীতি দেখেছি, তাঁরমধ্যে প্রতিটি মানুষের মিলবন্ধন ছিল,পারস্পারিক সৌহার্দপূর্ণ আচার ব্যাবহার লক্ষকরা যেতো। গ্রামের চা-য়ের স্টল গুলোতে দেখা মিলতো, একে অন্যকে কিভাবে কথার দ্বারা পরাজিত করে নিজের দলের জয়গান গেতে। ছেলেরা মইমূরুব্বিদের শ্রদ্ধার সাথে দেখতেন। নিজেরাও বিনয়ের সাথে চলাফেরা করতেন, একে অন্যের বিপদেআপদে দৌড়ে যেতেন।

আজ কয়েক বছর যাবত যেন জিনিষগুলো বাস্তবিক পাতা থেকে স্মৃতির পাতায় জমা হয়ে গেছে। এতোটাই সহিংসতার রূপ নিয়েছে,যা শহরকেন্দ্রিক হিংসার্তক রাজনীতিকে হার মানাচ্ছে। একে অন্যের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে সজ্জিত গ্রামীণ হাতিয়ার নিয়ে। তারা ভুলে গেছে আমাদের গ্রামীণ জীবনের সুখ স্মৃতির কথা। যেখানে সবসময় আমরা দলবেঁধে একগ্রাম অন্যগ্রামের সাথে ক্রিকেট খেলতে যেতাম, ফুটবল খেলতে যেতাম, মনের সুরে কতনা গ্রামীণ বাউলা গান গেয়ে বেড়াতাম।

আমি কিছুদিন আগে আমার ফেসবুক ওয়ালে লেখেছিলাম যে, আপনারা যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করেন বলে দাবি করেন,আর যাঁরা জিয়াউর রহমানের আদর্শের রাজনীতি করেন বলে দাবি করেন। তাঁদের কাছে আমার একটি প্রশ্ন রইলো। প্রশ্নটি হলো বঙ্গবন্ধুর আদর্শ কি ছিলো? আর জিয়াউর রহমানের আদর্শ কি ছিলো? কেননা আমি যতোটুকু ইতিহাসের পাতা থেকে জেনেছি, এ দুই মহান নেতাদের আদর্শের দ্বারে কাছেও নেই এখনকার রাজনীতিক নেতাকর্মীরা।

এখানেই বাধালেন সব বিপত্তি। কেউ কেউ বলতে লাগলেন ভাইয়া আপনি ঠিক বলেছেন। আর কেহ কেহ বলতে লাগলেন তুমার শরিরে চর্বি হয়েছে,কমাতে হবে। কেহ বলতে লাগলেন বাড়িঘর জ্বালাতে মনে চাইছে বুঝি? আবার অনেকে ৫৭ ধারার ভয় দেখিয়ে মামলামকদ্দমার কথা বলেছেন। অনেকে বাড়িতে পুলিশ আসবে বলে সতর্ক করেছে। আমি চুপ এবং শান্ত হয়ে গিয়েছিলাম আমার প্রশ্নের জবাব পেয়ে।

আমি নিজেকে সান্তনা দিয়েছি এই বলে যে, যারা ছোট সময় থেকে দেখে এসেছি মাঠেঘাটে গরু রাখালি করতে। ভালো পরিবেশের সাথে বেড়েঁ উঠেনি, স্কুল কলেজে যাঁরা পা রাখেননি, তাঁদের কাছে এর চেঁয়ে বেশি আশা করাটা বোকামি হবে। আর মনেমনে দুঃখ পেয়েছি এই বলে তৃর্ণমূল পর্যায়ের রাজনীতি আজ তাঁদের হাতে বন্ধি? গ্রামবাসী সহ জাতি তাঁদের কাছে কি আশা করবে? বড়-ই চিন্তার বিষয়

আমাদের সমাজ আজ শিক্ষা দেয়ার প্রয়োজন মনে করছেনা। বির্কৃত সমাজের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন সবাই। কেউ ফিরে আসার আহবান করছেনা। সবার কি মনে থাকা উচিৎ নয় যে, সমাজের দিকনির্দেশক যদি ন্যায়নিষ্ঠার সাথে না থাকে তাহলে সমাজব্যবস্থার বিপদ অনিবার্য। এইসব সমাজের দিকনির্দেশকদের বিপথগামী করে তুলেছে সহিংস রাজনীতিগত আদর্শ। যাঁর কারনে গ্রামীণ জনপথ হয়ে উঠেছে রক্তাক্ত।

আমাদের এলাকাজুড়ে যেভাবে নেতাকর্মীর আবির্ভাব ঘটেছে তাতে করে আগামি প্রজন্ম দেশের ভালো রাজনীতিসহ রাজনীতিবিদদের ঘৃণা করবে। কেননা এলাকার মূর্খ, অশিক্ষিত, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, ধর্ষক, ঘুষখোরদের হাতে চলে গেছে গ্রামের রাজনীতি। রাস্তার প্রতিটি গাছে,বিদ্যুৎ এর খাম্বায়,হাটবাজারে, প্রতিটি মোড়ে মোড়ে সাইনবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন দিয়ে ছেঁয়ে গেছে নেতাদের ছবি। আমার প্রশ্ন করতে ইচ্ছে হয় বঙ্গবন্ধু আর জিয়া সাহেব-রা এভাবেই রাজনীতি করতেন বুঝি?

এখন যেমন গ্রামে সহিংস রাজনীতি ব্যক্তিক দল বড় হয়েছে। তেমনি এলাকাবাসীরর মধ্যে সচেতনতা বেঁড়েছে বহুগুণ। কেননা মানুষ এখন মনেকরে সাইনবোর্ড টানিয়ে যাঁরা নেতার পরিচয় জাহির করে,তাঁরা নিশ্চয় লুটপাটের রাজনীতি বিশ্বাসী। সাইনবোর্ড যে বলপ্রয়োগের হাতিয়ে মানুষ এখন বুঝে গেছেন। দেশের প্রতিটি মানুষ জানেন সাইনবোর্ড, ব্যানারে নিজের ছবি প্রচার করে নেতা হয়া যায়না। আমরা কেন নয়?

আমার অনুরোধ থাকবে দেশের প্রতিটি রাজনীতি দলের কাছে যে, আপনাদের দলের নিয়ন্ত্রণ করুন নেতাদের নিয়ন্ত্রণ করুণ। শহরের নেতাদের মন্ত্র পেয়ে গ্রামের যুবকেরা নেতা সেজে এলাকার পরিবেশ নষ্ট করছে। জরিয়ে যাচ্ছে ভয়ংকর কর্মকান্ডে, যা আমাদের মূল রাজনীতির পরিপন্থী।

পরিশেষে বলতে চাই। নেতা হতে হলে নিজের মনে আগে নেতার পরিচয় দিন। মানুষকে ভালোবাসুন, মানুষের দুঃখে কষ্টে পাশে থাকুন। নিজ গ্রামের সহ আশেপাশের মানুষের খুঁজখবর রাখুন। সাইনবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন দিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের পরিচয় দেয়া যায়। সত্যিকার নেতার পরিচয় মানুষের মনে হওয়া চাই।