ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

চট্টগ্রাম শহরের দীর্ঘদিনের সমস্যা জলাবদ্ধতা। এই সমস্যা সমাধানের জন্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) গৃহীত একটি প্রকল্প সম্প্রতি অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে সিডিএ’র ৫ হাজার ৬শ ১৬ কোটি ৪৯ লাখ ৯০ হাজার টাকার প্রকল্পটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা-সমালোচনা চলে আসছে। এই আলোচনা-সমালোচনার অন্যতম কারণগুলোর একটি ছিল, একই সমস্যা নিরসনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পৃথক দুটি প্রকল্প গ্রহণ।
নিজেদের প্রকল্পগুলো নিয়ে চসিক ও পাউবো ইতোমধ্যে নানা স্ট্যাডিও সম্পন্ন করে এবং তা জনগণকেও অবহিত করেছিল। বিভিন্ন সভা-সমাবেশে সংস্থা দুটোর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা প্রকল্পগুলো নিয়ে বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বলেছিলও।

 

ছবি শিরোনাম: সিডিএ’র অনুমোদিত মেগাপ্রকল্পের ডিপিপি থেকে নেয়া। এখানে প্রকল্পের মূল কার্যক্রমগুলোর তথ্য রয়েছে।

ছবি শিরোনাম: ওয়াসার মাস্টার প্ল্যানের সঙ্গে সিডিএ’র প্রকল্পের অসঙ্গতিগুলো। গত ১২ আগস্টের বৈঠকে এ অসঙ্গতি চিহ্নিত হয়।

ছবি শিরোনাম: ওয়াসার মাস্টার প্ল্যানের সঙ্গে সিডিএ’র প্রকল্পের অসঙ্গতিগুলো। গত ১২ আগস্টের বৈঠকে এ অসঙ্গতি চিহ্নিত হয়।

কিন্তু সিডিএ তাদের প্রকল্প গ্রহণের আগে কোন ধরনের স্ট্যাডি ‘করেনি’ এবং প্রকল্প গ্রহণের বিষয়েও তেমন কিছু বলেনি। তবে গণমাধ্যম নিজ দায়িত্বের জায়গা থেকে বিষয়গুলো নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। একই বিষয় নিয়ে তিন সংস্থার প্রকল্প গ্রহণের কারণে সাধারণ মানুষ যে বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন সেটিও ওঠে আসে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে। এখানে উল্লেখ করতে হয়, সাধারণ মানুষের দাবি ছিল, নাগরিক স্বার্থে গৃহীত প্রকল্পে যেন সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় থাকে। আর সমন্বয়ের বিষয়টিই গণমাধ্যমে জোরালোভাবে বলা হয়েছিল এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনগুলোতে।

সিডিএ চেয়ারম্যানের নিয়োগ রাজনৈতিক এবং তিনি চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক পদে আছেন। চসিকের মেয়রের মনোনয়নও রাজনৈতিক এবং তিনি মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে আছেন। তাই স্বাভাবিকভাবেই সিটি কর্পোরেশন ও সিডিএ’র গৃহীত প্রকল্প নিয়ে বাড়তি কৌতুহল ছিল সবার। সরকার কাকে গুরুত্ব দিচ্ছে, বিষয়টি অনেকটা এমন। কারণ, দুজনই ক্ষমতাশীন দলের প্রতিনিধি।

যাই হোক, গত ৯ আগস্ট (২০১৭) একনেক সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পেল সিডিএ’র প্রকল্পটিই। চট্টগ্রামবাসীর কথা বিবেচনায় নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছেন। সে জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা। লক্ষ্য করেছি, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে চসিক মেয়র এবং সিডিএ চেয়ারম্যানও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

আগেই বলেছি, প্রকল্প গ্রহণের আগে সিডিএ কোন ‘স্ট্যাডি করেনি’। সংবাদপত্রে এসংক্রান্ত প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ‘সিডিএ প্রকল্প গ্রহণের আগে ‘ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি’ করে নি। পক্ষান্তরে চসিক একবছর ধরে চীনের একটি প্রতিষ্ঠান দ্বারা মাঠ পর্যায়ে স্ট্যাডি করেছে এবং সেই স্ট্যাডির উপর ভিত্তি করেই প্রকল্প গ্রহণ করেছিল।

প্রকল্প ছিল চসিকেরও :
এখানে বলে রাখি, চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন প্রায় ৫ হাজার ৬শ কোটি টাকায় আরেকটি প্রকল্প গ্রহণ করেছিল এ বছরের শুরুর দিকে। ‘ফ্ল্যাড কন্ট্রোল অ্যান্ড ওয়ারটার লগিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ শীর্ষক এ প্রকল্পে ‘জি টু জি’ (গর্ভমেন্ট টু গর্ভমেন্ট) পদ্ধতিতে অর্থায়ন করার কথা ছিল চীনের। ৫ হাজার ৬শ কোটি টাকার এ প্রকল্পটি চীনের সাথে জি টু জি এর মাধ্যমে বাস্তবায়নের জন্য ‘ইআরডি’তে (ইকোনমিক রিলেশন ডিভিশন) পাঠানো হয়েছিল।

৫ দশমিক ৬ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করে এ প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্ট্যাডিও (সম্ভাব্যতা যাচাই) করেছিল চীনের প্রতিষ্ঠান ‘পাওয়ার চায়না ইন্টারন্যাশনা গ্রুপ লি.।’ ২০১৬ সালের ১৮ এপ্রিল চীনের প্রতিষ্ঠান ‘পাওয়ার চায়না ইন্টারন্যাশনা গ্রুপ লি.’ এর সাথে চসিক সমাঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছিল। এর প্রেক্ষিতেই চীনের প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১ বছর ধরে নগরীর বিভিন্ন খাল ও নালা-নর্দমার উপর জরিপ কাজ চালায় এবং সম্ভাব্যতা যাচাই করে। গত ২৩ এপ্রিল (২০১৭) চসিক মেয়র আ.জ.ম নাছিরের হাতে প্রকল্পটির ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি রিপোর্ট তুলে দেয় চীনের প্রতিষ্ঠানটি।

প্রকল্পটি সম্পর্কে গত ৩ জুলাই (২০১৭) এক সংবাদ সম্মেলনে চসিক মেয়র বলেছিলেন, ‘বর্তমানে প্রকল্পটির ডিপিপি প্রস্তুতির কাজ চলছে। পিডিপিপি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন হয়েছে এবং প্রকল্পটি জি টু জি এর মাধ্যমে বাস্তবায়নের জন্য ‘ইআরডি-তে’ প্রেরণ করা হয়েছে।

এখানে আরো উল্লেখ করতে হয়, ২০১৫ সালের ১৩ অক্টোবর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সাথে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল চসিক। ওই চুক্তিতে ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরে চট্টগ্রাম শহরে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার ৭০ শতাংশ নিরসনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল চসিক। ২০১৭ সালের ১৮ জুন সম্পাদিত অপর বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তিতে ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে জলাবদ্ধতা সমস্যার ৮০ শতাংশ সমাধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। মূলত এসব কারণেই পরবর্তীতে ‘ফ্ল্যাড কন্ট্রোল অ্যান্ড ওয়ারটার লগিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ নামে প্রকল্প গ্রহণ করে চসিক।

বলো রাখা উচিত, স্থানীয় সরকার আইন (সিটি কর্পোরেশন) ২০০৯ এর তৃতীয় তফসিলে ‘পানি নিষ্কাশন’ ব্যবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘কর্পোরেশন নগরীতে পানি নিষ্কাশনের জন্য পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন নর্দমার ব্যবস্থা করবে এবং জনসাধারণের স্বাস্থ্য ও সুবিধার প্রতি লক্ষ্য রেখে নর্দমাগুলি নির্মাণ, রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণ করবে এবং পরিষ্কার রাখবে’।
একই তফসিলে এটাও বলা হয়েছে, ‘নগরীতে অবস্থিত সকল বেসরকারি নর্দমা কর্পোরেশনের নিয়ন্ত্রণ ও পরিদর্শনাধীন থাকবে এবং কর্পোরেশন প্রবিধান অনুযায়ী নর্দমার সংস্কার করার, পরিষ্কার করার এবং বন্ধ রাখার নির্দেশ দিতে পারবে’।

স্থানীয় সরকার আইন ২০০৯ অনুযায়ী, পানি নিষ্কাশনে প্রকল্পও গ্রহণ করতে পারবে সিটি কর্পোরেশন। আইনটির তৃতীয় তফসিলে ‘পানি নিষ্কাশন প্রকল্প’ সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘কর্পোরেশন প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করলে বা সরকার নির্দেশ দিলে, নির্ধারিত পদ্ধতিতে সুষ্ঠুভাবে পানি বা ময়লা নিষ্কাশনের জন্য সরকারি বা বেসরকারি খরচে নর্দমা নির্মাণ বা অন্যান্য পূর্ত কাজের জন্য পানি নিষ্কাশন প্রকল্প প্রণয়ন করতে পারবে।

 

প্রকল্প ছিল পানি উন্নয়ন বোর্ডেরও :
২০১৫ সালের ৭ আগস্ট চট্টগ্রামের দক্ষিণ বাকলিয়ার বলিরহাট এলাকায় কর্ণফুলী নদী পরিদর্শন করেছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্ট্রার আনিসুল আসলাম মাহমুদ, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ.ম নাছিরসহ পানি উন্নযন বোর্ডের কর্মকর্তারা। সেদিন এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে মেয়র বেড়িবাঁধ নির্মাণের প্রস্তাব করেন পানিসম্পদ মন্ত্রীকে। পরবর্তীতে নিয়ম রক্ষার খাতিরে একই বিষয়ে উপানুষ্টানিক পত্রও দেন মেয়র। এর প্রেক্ষিতে পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্ট্রার আনিসুল আসলাম মাহমুদের নির্দেশে পানি উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রামের কর্মকর্তারা একটি প্রকল্পের ডিপিপি তৈরি করেন। এটাও জলাবদ্ধতা ইস্যুতে।

দীর্ঘ একবছর ফিজিবিলিট স্ট্যাডি শেষে ২০১৬ সালের ২৬ আগস্ট প্রকল্পটি’র ডিপিপি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছিল পানি উন্নয়ন বোর্ড। ওই সময় প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪ হাজার ৯৩৯ কোটি ৩১ লাখ টাকা। ৩০ আগস্ট মন্ত্রণালয়ে বৈঠকের পর প্রকল্পটি ফেরত পাঠানো হয় এবং যাচাই-বাছাই ও প্রকল্প ব্যয় সংযোজন-বিয়োজন করতে বলা হয়।
আগস্টে পাঠানো প্রকল্পটির ডিপিপিতে চট্টগ্রামের শাহ আমানত সেতু থেকে কালুরঘাট ব্রিজ পর্যন্ত নদীর তীরে চার লেনের রাস্তা নির্মাণে ৬২ হেক্টর জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব ছিল। এবং এই খাতে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা ধরা হয়েছিল ২৭ কোটি টাকা। তবে গত জানুয়ারি (২০১৭) মাসে প্রকল্প থেকে রাস্তা নির্মাণের বিষয়টি বাদ দেয়া হয়। ১ জানুয়ারি (২০১৭) অনুষ্ঠিত পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের যৌথ সভার সিদ্ধান্তের আলোকেই তা বাদ দেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে তা ৩ হাজার ১৬৫ কোটি ১৮ লাখ টাকায় সংশোধন করে জানুয়ারি মাসের তৃতীয় সপ্তাহে আবারো পাঠানো হয়।

দ্বিতীয় দফায় আবারো কাঁটছাট করা হয় প্রকল্পটির ব্যয়। এবার ব্যয় কমানোর কারণ ছিল চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। পানি উন্নয়ন বোর্ডের গৃহীত প্রকল্প এলাকার ভেতর পৃথক আরেকটি প্রকল্প গ্রহণ করেছিল (আলোচিত ৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পটি নয়) সিডিএ। গত ২৫ এপ্রিল ১ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকায় গৃহীত সিডিএ’র প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেকে) সভায় অনুমোদনও পায়। সিডিএ’র গৃহীত এই প্রকল্পটির আওতায় শাহ আমানত সেতু থেকে কালুরঘাট পর্যন্ত সাড়ে ৮ কিলোমিটার অংশে কর্ণফুলী তীরবর্তী বাঁধ কাম সড়ক নির্মাণ করা হবে।

সর্বশেষ গত ৫ জুন প্রকল্পটির সংশোধিত (তৃতীয় দফায়) ডিপিপি পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছিল পানি উন্নয়ন বোর্ড। এতে প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয় ২৬শ কোটি টাকা। তবে এখন সিডিএ’র আলোচিত প্রকল্পটি অনুমোদন পাওয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্পটিকে আবারো সংশোধন করা হচ্ছে।

 

সিডিএ’র ৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প :
গত ৯ আগস্ট জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেকে) সভায় সিডিএ’র গৃহীত ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুন:খনন, সম্প্রসারণ. সংস্কার ও উন্নয়ন’ শীর্ষক মেগাপ্রকল্পটির অনুমোদন দেয়া হয়। এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৫শ ১৬ কোটি ৪৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা।

প্রকল্পটির আওতায় ১০৭ দশমিক ৭ একর জমি অধিগ্রহণে ১ হাজার ৭২৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা, ৮৫ দশমিক ৬৮ কিলোমিটার নতুন রাস্তা নির্মাণে ৩১৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। ৩৬টি খালের মাটি অপসারণে ২৮ কোটি ৮৫ লাখ ও মাটি খননে ২৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। ১৭৬ কিলোমিটার আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের জন্য ২ হাজার ৬৪০ কোটি, ৪৮টি পিসি গার্ডার ব্রিজ প্রতিস্থাপনে ২৯৬ কোটি ১৬ লাখ টাকা।

বন্যার পানি সংরক্ষণে ৩টি জলাধার স্থাপনে ৪৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, ৬টি আরসিসি কালভার্ট প্রতিস্থাপনে ৭ কোটি ২০ লাখ, ৫টি টাইডাল রেগুলেটর ৮৪ কোটি ৭৫ লাখ, ১২টি পাম্পস স্থাপনে ৩২ কোটি ৬ লাখ, ৪২টি সিল্ট ট্রাপ স্থাপনে ২৯ কোটি ৪০ লাখ, ১০ দশমিক ৭৭ কিলোমিটার নতুন সাইড ড্রেন নির্মাণে ১৭ কোটি ২২ লাখ, ২০০টি ক্রস ড্রেন কালভার্ট নির্মাণ ৯ কোটি ৪০ লাখ টাকা ধরা হয়েছে।

 

অত:পর মাস্টার প্ল্যান প্রসঙ্গ :
আগেই বলা হয়েছে, সিডিএ প্রকল্প গ্রহণের আগে ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি করে নি। তবে সিডিএ ২০১৬ সালে চট্টগ্রাম ওয়াসা যে ‘স্য়্যুারেজ মাস্টার প্ল্যান এবং ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যান’ করেছিল তার ভিত্তিতেই তারা প্রকল্প গ্রহণ করে। এটা ভাল দিক। কিন্তু এখানেও কিছু জটিলতা লক্ষ্য করছি। এই জটিলতা বোঝার জন্য চট্টগ্রাম ওয়াসার ‘স্য়্যুারেজ মাস্টার প্ল্যান এবং ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যান’ সম্পর্কে একটু ধারণা থাকা দরকার।

বাংলাদেশ প্রকৌশল প্রতিষ্ঠপান একোয়া কনসালটেন্ট অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েট এবং ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিংয়ের সহায়তায় ডেনমার্কের প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান গ্রন্টমি এ/এস দুই বছর সমীক্ষা চালিয়ে চট্টগ্রাম ওয়াসার খসড়া মাস্টার প্ল্যান তৈরি করেছে। এতে ২০৩০ সালের চাহিদা বিবেচনায় শহরের জন্য পূর্ণাঙ্গ স্যানিটেশন পদ্ধতি এবং নিকটবর্তী পৌরসভার জন্য অনসাইট স্যানিটেশন ব্যবস্থার প্রস্তবনা করা হয়েছে। এ খসড়া মাস্টার প্ল্যানে পুরো চট্টগ্রাম শহরকে ৬টি সুয়ারেজ অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে।

এবার আসা যাক জটিলতা প্রসঙ্গে। গত ১১ মে (২০১৭) চট্টগ্রাম ওয়াসা এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মধ্য একটি চুক্তি হয়েছিল। চসিকের পক্ষে চুক্তিতে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ও ওয়াসার পক্ষে ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. এস এম সৈয়দ মো. নজরুল ইসলাম স্বাক্ষর করেছিলেন। চুক্তি অনুযায়ী, নগরীর জলাবদ্ধতা ও পয়:নিষ্কাশনে চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রণীত মাস্টার প্ল্যানের ‘ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যান’ অংশটি বাস্তবায়ন করার কথা চসিকের এবং ‘স্যানিটেশন’ অংশটি বাস্তবায়ন করার কথা চট্টগ্রাম ওয়াসার। তাহলে এখন কিভাবে সেই মাস্টার প্ল্যানের উপর ভিত্তি করে সিডিএ প্রকল্প গ্রহণ করেছে!! তবে কি ইতোপূর্বে করা সমাঝোতা স্মারক ভিত্তিহীন?

মানলাম, মাস্টার প্ল্যানের উপর ভিত্তি করেই সিডিএ’র প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু সেখানেও বেশ কিছু প্রার্থক্য লক্ষ্যণীয়। যেমন- চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রণীত ‘স্যুয়ারেজ মাস্টার প্ল্যান ও ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যানে’ নগরীর বিভিন্ন খালপাড়ে ৮৬ কিলোমিটার (মোট) ‘আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল’ নির্মাণের প্রস্তাব ছিল। তবে মাস্টার প্ল্যানটির উপর ভিত্তি করে সিডিএ গৃহীত মেগাপ্রকল্পে ১৭৬ কিলোমিটার আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের প্রস্তাবনা রয়েছে।

ওয়াসার মাস্টার প্ল্যানে খাল থেকে ১৪ লক্ষ ঘন মিটার কাদা ও মাটি উত্তোলনের প্রস্তাবনা রয়েছে। পকষান্তরে সিডিএর প্রকল্পে ৯ লক্ষ ৪৮ হাজার ২১৪ ঘন মিটার কাদা ও মাটি উত্তোলনের প্রস্তাবনা আছে। ওয়াসার মাস্টার প্ল্যানে ২১টি আরসিসিসি কালভার্ট/ পিসি গার্ডার ব্রিজ প্রতিস্থাপনের সুপারিশ থাকলেও সিডিএর প্রকল্পে আছে ৫৪ টি, মাস্টার প্ল্যানে ২২টি সিল্ট ট্র্যাপের প্রস্তাবনা থাকলে সিডিএর প্রকল্পে রাখা হযেছে ৪২টি, মাস্টার প্ল্যানে ক্রস ড্রেন কালভার্ট ৫০ টি থাকলেও সিডিএর প্রকল্পে আশে ২০০। ওয়াসার মাস্টার প্ল্যানে ৫৭টি খালের কথা আছে, কিন্তু সিডিএর প্রকল্পে অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে ৩৬টি খালকে। মাস্টার প্ল্যাানে যতটা টাইড রেগুলেটর নির্মাণ করতে বলা হয়েছে সিডিএর প্রকল্পে তার চেয়ে কম ধরা হয়েছে। চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনের ক্ষেত্রে এই টাইড রেগুলেটর খুব গুরুত্বপূর্ণ যদিও।

এখানে বলে রাখি, গত ১২ আগস্ট চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কক্ষে একটি বৈঠক হয়েছিল সিডিএ’র প্রকল্পের বিষয়ে। ওয়াসা, সিডিএ এবং চসিকের প্রকৌশলী পর্যায়ের ওই বৈঠকে ব্যক্তিগত উপস্থিত ছিলাম আমি। মূলত, ওই বৈঠকেই ওয়াসার মাস্টার প্ল্যানের সঙ্গে সিডিএ’র প্রকল্পের অসঙ্গতিগুলো ওঠে আসে। যদিও তারা এটাকে অসঙ্গতি বলেনি। তারা বলেছিল, ‘ডিফার’ মানে ‘ভিন্নতা’।

এখানে উল্লেখ করতে হয়, সিডিএর প্রকল্পটির বাস্তবায়নে মনিটরিং করার জন্য স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন, সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে আহবায়ক করে ৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে। কমিটির অন্য সদস্যরা হচ্ছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দিন। এ সমন্বয় কমিটির প্রধান খন্দকার মোশাররফ হোসেন চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক একে এম ফজলুল্লাহকে নির্দেশনা দেন, ‘সিডিএর প্রণীত প্রকল্পটি ওয়াসার মাস্টার প্ল্যানের আলোকে হয়েছে কী না তা খতিয়ে দেখতে’। মূলত, স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর নির্দেশনার প্রেক্ষিতেই ১২ আগস্টের বৈঠকটি আয়োজন করা হয়েছিল।

বৈঠকটিতে ওয়সার মাস্টার প্ল্যানের সঙ্গে অসঙ্গতিগুলো চিহ্নিত হওয়ার পর এ বিষয়ে আমি কথা বলেছিলাম চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী এবং সিডিএ’র মেগাপ্রকল্পের পরিচালক আহমেদ মঈনুদ্দিনের সঙ্গে। বৈঠক শেষে তিনি আমাকে যা বলেছিলেন তা ছিল এমনি- ‘প্রকল্প নেয়ার পিছনে আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল খালগুলো পুনরুদ্ধার করা। ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে সরকার দেয়া ক্ষমতা আছে সিডিএ’র। এটাকে ‘ইউনিক পাওয়ার’ বলা যেতে পারে, আমরা ডিসি অফিসে না গিয়ে ভূমি অধিগ্রহণ করতে পারি। অন্য সংস্থা ডিসি অফিসে গেলে একসাথে হয়তো সব টাকা চাইবে। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে অল্প অল্প টাকা পেলেও অল্প অল্প ভূমি অধিগ্রহণ করতে পারি। এজন্যই মূলত প্রকল্পটি নেয়া।’

বৈঠক করা প্রসঙ্গে এ প্রকৌশলী বলেছিলেন, ‘এটি যেহেতু চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাজ না, অন্য কযেকটা সংস্থার কাজ সেজন্যই সমন্বয় করাটা যৌক্তিক। আজকের মিটিংয়ে অবশ্য ফলপ্রসু আলোচনা হয়েছে। কিছু সিদ্ধান্ত এসেছে। এগুলো সমন্বয় করার জন্য আবার আমরা বসবো। যেখানে সমন্বয় প্রয়োজন সেখানে অবশ্যই করবো। মেজর কিছু ‘ডিফার’ (ভিন্নতা) নেই। কারণ, যা কিছু আমরা করেছি তা ওয়াসার মাস্টার প্ল্যানের আলোকেই করেছি।’

ওয়াসার মাস্টার প্ল্যানের সঙ্গে গৃহীত মেগাপ্রকল্পের ‘রিটেইনিং ওয়াল’ নিয়ে ভিন্নতা থাকা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এ প্রকৌশলী বলেছিলেন, ‘ওয়াসার মাস্টার প্ল্যানে ‘রিটেইনিং ওয়াল’ ওইভাবে করতে হবে তা বলা নাই। যেহেতু মানুষ অবৈধভাবে দখল করছে এটা কোন আইনের মধ্যে পড়ে না। এখানে মানুষ যেভাবে খালি পাচ্ছে সেখানে স্থাপনা করছে। রিটেইনিং ওযালটা করা হয় খালকে রক্ষা করার জন্য। ওয়াসা অনেকভাবে প্রপোজ করছে। তবে আমাদের কাছে বেস্ট মনে হচ্ছে রিটেইনিং ওয়াল করে দেয়া।’

ছবি শিরোানাম: ওয়সার মাস্টার প্ল্যানের সঙ্গে অসঙ্গতিগুলো নিয়ে সিডিএর পক্ষে দেয়া ব্যাখ্যা।

ছবি শিরোনাম: মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়ন নিয়ে ওয়সার সঙ্গে চুক্তি সাক্ষর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন চসিক মেয়র।

খালপাড়ে রাস্তা করা প্রসঙ্গে এ প্রকৌশলী বলেছিলেন, ‘খালগুলো অনেক বছর ধরে এখানে ছিল। ধীরে ধীরে ২০ বছর, ২৫ বছরে সেগুলো দখল হয়ে গেছে। রিটেইনিং করলে দেখা যাবে এর উপর মানুষ ঘর তোলা শুরু করবে। আমরা যদি ১৫ ফিটের একটা রাস্তা করি তাহলে খালগুলো পরিস্কারের একটা স্থায়ী ব্যবস্থা হবে।’


সমন্বয়হীনতায় দায়ি:

এবার কিছু প্রশ্ন। ওয়াসার মাস্টার প্ল্যানের সঙ্গে অসঙ্গতি চিহ্নিতকরণে কাজ করছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন, সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে আহবায়ক করে গঠিত ৪ সদস্যের একটি কমিটি (এটি আগেও উল্লেখ করেছি)। শুরুতেই যদি অর্থাৎ প্রকল্প গ্রহণের আগে ওয়াসা, সিডিএ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করতেন তাহলে কি মাস্টার প্ল্যানের সঙ্গে সিডিএর প্রকল্পে অসঙ্গতি থাকতো? নিশ্চয় না। কিন্তু তারা সমন্বয় করেননি কেন? আত্মদম্ভ নাকি রাজনৈতিকভাবে নিজের অবস্থান জানানো। এখানে অবস্থান বলতে কেন্দ্রে কার কত যোগাযোগ বা তদবির আছে সেটা বুুঝিয়েছি। কারণ, সিডিএ চেয়ারম্যান এবং চসিক মেয়র দুজনই নগর আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা।

এখানে মনে করিয়ে দিতে চাই, ২০১৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর নগর ভবনে (সিটি কর্পোরেশন কার্যালয়) অনুষ্ঠিত এক সভায় নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম।

১৯৯৫ সনের মাস্টার প্ল্যানকে যুগোপযোগী করে নতুন মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নের লক্ষ্যে আয়োজিত সেই মতবিনিয় সভায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির বলেছিলেন, ‘ক্ষমতায় আছেন আওয়ামী লীগ। আমি আ জ ম নাছির ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম একই সরকারি দলের। আমরা দুজনই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারণে সুযোগ পেয়েছি এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি হিসাবে আমরা এই চট্টগ্রামে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নে আমরা (চসিক ও সিডিএ) একসাথে ঐক্যবদ্ধভাবে, পরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়নের জন্য আন্তরিকভাবে স্ব স্ব অবস্থান থেকে প্রচেষ্টা চালাবো’।

ছবি শিরোনাম: চসিক মেয়রের কাছে ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি রিপোর্ট হস্তান্তর করছেন পাওয়ার চায়নার প্রতিনিধিরা।

একই সভায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পরিবর্তনের দিকে ইঙ্গিত করে সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেছিলেন, ‘প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হলে পরে অনেক কাজ করতে সহজ হয়ে যায় তার উদাহারণ আজকে দেখা যাচ্ছে। এ সময় আবদুচ ছালাম বলেন, প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের সুফল যদি আমরা না পাই, কাজে না লাগাই তাহলে তা হবে আমাদের জন্য দুভার্গ্য’। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, মুখে সমন্বয়ের কথা বললেও কাজে ক্ষেত্রে তা আমরা দেখিনি।

ছবি শিরোনাম: প্রকল্প গ্রহণের আগে ২০১৫ সালে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী।

একটি জাতীয় পত্রিকার চট্টগ্রাম ব্যুরো অফিসে কাজ করেন সাংবাদিক আবদুল্লাহ আল মামুন। গত অর্ধযুগেরও বেশি সময় ধরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের এ ছাত্র চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এবং সিডিএ বিটে কাজ করে আসছেন। এই দুই সেক্টরে তাঁর বহু আলোচিত রিপোর্টও রয়েছে। সিডিএর সাম্প্রতিক প্রকল্পটি নিয়ে কথা হয় তরুণ এ সাংবাদিকের সঙ্গে। তিনি বললেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বড় প্রকল্প গ্রহণ। এটা ভাল উদ্যোগ। কিন্তু এ প্রকল্প গ্রহণের আগে সিডিএ’র অবশ্যই উচিত ছিল বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেয়া। কিন্তু সিডিএ তা করে নি। এই পরামর্শ না নেয়ার কারণে এখন প্রকল্পটিতে অনেকগুলো ত্রুটি দেখা যাচ্ছে। যেমন বিভিন্ন সময়ে বিশেষজ্ঞরা বলে আসছেন, চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা স্থাপনা উচ্ছেদের পাশাপাশি খালের গভীরতা ও প্রশস্তা বাড়াতে হবে। অথচ জলাবদ্ধতা নিরসনে সিডিএ যে প্রকল্প গহণ করেছে সেখানে এ খাতে বরাদ্দ খুব অপ্রতুল। মোট বরাদ্দের মাত্র এক শতাংশ বা মাত্র ৫৬ কোটি ৫৮ লাখ টাকা রেখেছেন এ খাতে। এটা আমার কাছে খুব বিস্ময়কর মনে হচ্ছে। কারণ, গত অর্থ বছরেও তো সিটি কর্পোরেশন এই খাতে তাদের ফান্ড থেকে ২৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা খরচ করেছিল। কিন্তু কোন সুফল আসেনি। সিডিএ ওয়াসার মাস্টার প্ল্যানের আলোকে প্রকল্প গ্রহণের কথা বলছেন। কিন্তু মাস্টার প্ল্যানে তো ৫৭ টি খালের কথা বলা আছে। কিন্তু সিডিএর প্রকল্পে আছে ৩৬টি। এধরনের আরো বহু অসঙ্গতি আছে। যা প্রকল্প গ্রহণের আগে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিলে ভুলগুলো থাকতো না।’

লেখক- মোরশেদ তালুকদার
স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক আজাদী (স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সংবাদ পত্র)