ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

 

আগামিকাল থেকে সকাল ৭টায় উঠার ঝামেলাটা গেলো। কারণ আজ সকালেই ছিল ২৫৬- জৈব-রসায়ন ক্লাসের ২৬০ ছাত্রের সেমেস্টার ফাইনাল। প্রফেসর হ্যারমেন সিনটিম এর সাথে ছিলাম আমিসহ ২ জন টিচিং এসিস্ট্যান্ট। প্রফেসর পড়াতেন সপ্তাহে তিনদিন ৫০ মিনিট করে, আর আমি পড়াতাম সপ্তাহে দুইদিন। আর প্রফেসরের সাথে  তিনদিন ক্লাসেও থাকতে হতো। সব মিলিয়ে সপ্তাহে ৫ দিনই শুরু হতো সকাল সাড়ে সাতটায়।
প্রফেসর সিনটিম অক্সফোর্ড থেকে পিএইচডি করেছেন, স্ট্যানফোর্ডে পোষ্টডক করে ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডে প্রফেসর হিসাবে ছিলেন বেশ কিছু বছর। তাঁর গবেষণায় দক্ষতার কারণে পার্ডু তাকে টেনিউরড প্রফেসর হিসাবে এনেছে ২০১২ সালে।

স্প্রিং সেমিষ্টারে এই কোর্সের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সব ক্লাসে ছিলাম তাঁর সাথে। গত জানুয়ারি মাসের ৫ তারিখ থেকে মে মাসের ১ তারিখ পর্যন্ত কোন ক্লাসে ফাঁকি দিতে দেখিনি। টিচার্স মিটিং এর অজুহাতে কখনো একটি ক্লাসও মিস করেননি, রাস্তায় জ্যামের অজুহাতে কখনো কোন ক্লাসে কয়েক মিনিট দেরি করে আসেননি। বিনা কারণে একদিনও অফিস ফাঁকি দেননি, বিশেষ কাজে তাড়া আছে এমন অজুহাতে একদিনও ৫০ মিনিটের ক্লাসে ১০ বা ৫ মিনিট আগে ক্লাস শেষ করে দেননি। প্রতিদিন ক্লাস শেষে ৫-১০ ছাত্রের লাইন লেগে থাকতো কিছু টপিক বোঝার জন্য, একদিনও বিরক্ত হতে দেখিনি। কোর্সের সিলেবাসে উল্লেখিত তিনদিনের বাহিরে একদিনও ছুটি নেননি।

পার্ডুর নোবেল বিজয়ী প্রফেসর হারবার্ট ব্রাউন স্মরণে একদিনের পার্ডুর সবচেয়ে প্রেস্টিজিয়াস ব্রাউনস সিম্পোজিয়ামে পৃথিবীর নানা দেশে থেকে অনেক অতিথি গবেষক এসেছেন। প্রফেসর সিনটিম ছিলেন অনুষ্ঠানের চেয়ারম্যান। এই অনুষ্ঠানের অজুহাতে একদিনও বিশেষ ব্যস্ততায় কোন ছুটি নেননি।

তুলনা করলে অনেকে রাগ করে, তা্ই এইখানে তুলনামূলক একটি প্যারাগ্রাফ আর লিখা হয়নি। সব কিছু মিলিয়ে কিছু ভালো অভিজ্ঞতায় আমার আরেকটি সেমেস্টার শেষ হলো।