ক্যাটেগরিঃ চিন্তা-দর্শন

 

উইনস্টন চার্চিল, চমৎকার গুছিয়ে কথা বলা ভদ্রলোক, ম্যাকিয়েভেলির দ্যা প্রিন্সের বিশ শতকীয় সার্থক সংস্করণ, ঠান্ডা মাথার খুনী, পরবর্তীতে ইনি সাহিত্যে নোবেল পেয়েছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছে, লন্ডন যতটা বিদ্ধস্ত হবার কথা, ঠিক ততোটা হলো না ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ার ফোর্সের বীরত্বে। তবুও বোমাবর্ষণ চলছে, চার্চিল বোমাবৃষ্টি বন্ধ হবার সাথে সাথে বের হয়ে লন্ডনের খোঁজখবর নিচ্ছেন। ফ্রান্স ও রাশিয়ার উপর হিটলারের যতটা জাতিগত বিদ্বেষ ছিলো, ব্রিটেনের উপর ততোটা ছিলো না। হিটলার সম্ভবত ব্রিটেনের বশ্যতাই শুধুমাত্র চেয়েছিলে, ধ্বংস চাননি। প্রথম বোমাবর্ষণের পরে চার্চিল খুব আবেগঘণ ভাষণ দিলেন, বলে দিলেন ব্রিটিশরা শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ করবে, হিটলারের কাছে মাথানত করবে না।

স্ট্যালিনের সাথে হিটলারের বন্ধুত্ব ছিলো বলা যাবে না, তবে সুসম্পর্ক ছিলো তো বটেই। দশ বছরের চুক্তিও হয়েছিলো, কেউ কাউকে আক্রমণ করবে না এবং রুশদের পক্ষ থেকে যুদ্ধের শুরুতে বহুবার বলা হয়েছে, ইউরোপের রক্তলেলুপ যুদ্ধবাজ শয়তানের নাম ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স, মহাযুদ্ধের দামামা বাজিয়েছেও তারাই, জার্মানি তাদের প্রতিরোধ করছে মাত্র।

হিটলার ছিলেন তীব্র কমিউনিস্ট বিরোধী, অদ্ভুত বাগ্মী এই লোকটা জাতীয়তাবাদের উগ্র মোহগ্রস্থ সম্ভাষণে পুরো জাতির পালস নিয়েছিলেন নিজের পক্ষে। ব্রিটিশদের দিকে আক্রমণ স্থগিত রেখে কোন অদ্ভুত কারণে হঠাৎ তিনি আক্রমণ করে বসলেন রাশিয়ায়। অকস্মাৎ আক্রমণে সোভিয়েতের সৈন্যরা দিগভ্রান্ত, নাৎসিরা প্রবল অস্ত্র আর অভিজ্ঞতার জোড়ে মস্কোর দিকে প্রবল গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। স্ট্যালিন নিজেও বাকরুদ্ধ, অবাক এবং হতাশ।

হিটলার রাশিয়া আক্রমণ করায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন চার্চিল, তড়িৎ গতিতে বেতার ভাষণে জানিয়ে দিলেন যে যদিও ব্যক্তিগতভাবে তিনি কমিউনিজমের ঘোর বিরোধী, তবুও নিজের জমি ফসল ও ঘড়বাড়ি রক্ষার লড়াইয়ে তিনি সোভিয়েত রাশিয়ার পক্ষে আছেন এবং ব্রিটেন রাশিয়াকে সব ধরনের সামরিক সহায়তা দিতে চায়। চার্চিল পরে বলেছিলেন, সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রতি তার ঘৃণা বৈ কোন দরদ নেই, তবে হিটলার যদি নরকেও আক্রমণ চালাতেন তবে তিনি হাউজ অব কমন্সে দাঁড়িয়ে শয়তানের গুণগান করতেন এবং লড়াইয়ে নামতেন শয়তানের পক্ষে। পরবর্তীতে জাপান যেদিন পার্ল হারবার আক্রমণ করলো, আত্নজীবনীতে চার্চিল সেই দিনটাকে জীবনের সবচে সুখের দিন হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন, কেননা সেদিন থেকে তিনি আমেরিকাকেও পাশে পেয়েছিলেন সম্মুখসমরে।

আক্রান্ত হয়ে স্ট্যালিন এতটাই কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েছিলেন যে জাতির উদ্দেশ্যে তার প্রথম ভাষণ দিতে লাগলো বারো দিন। ব্রিটেন ও আমেরিকাকে ঘটা করে ধন্যবাদ জানালেন সহায়তা দেবার প্রস্তাব পাঠানোর জন্যে। কমিউনিস্ট যোদ্ধাদের সাময়িক পরাজয় ও ক্ষয়ক্ষতি স্বীকার করলেন, ঘোষনা করলেন যুদ্ধের পোড়ামাটি নীতি। আর প্রবল বিক্রমে হিটলারকে প্রতিরোধের আহবান জানালেন সোভিয়েত যোদ্ধাদের প্রতি। এমনকি আমেরিকা যদি জার্মানি আক্রমণ করতে রুশ ভূখন্ড ব্যবহার করতে চায় সেটাও নি:শর্তে করতে দেওয়া হবে বলে রুজভেল্টকে জানালেন স্ট্যালিন। অথচ, খুব বেশিদিন হয়নি, স্ট্যালিনের পঞ্চাশতম জন্মদিন উপলক্ষে হিটলারের পাঠানো শুভেচ্ছাবার্তা ও সুরা পান করতে করতে এই জার্মান পারিষদদের সাথেই আলোচনায় চার্চিল-রুজভেল্টের মুন্ডুপাত করেছেন স্ট্যালিন ও তার মন্ত্রী মলোটভ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ কতকিছুর হিসাবনিকাশ যে উল্টে দিয়েছিলো বিশ্বরাজনীতির!

এমন সময়ে তেহরানে চার্চিল, রুজভেল্ট ও স্ট্যালিনের বৈঠক হবার কথা। ঘিঞ্চি শহর তেহরানের অলিতে গলিতে তখন শত্রুপক্ষের গোয়েন্দাদের উপস্থিতি। রুজভেল্ট এসে নিরাপত্তার খাতিরে আশ্রয় নিলেন রুশ দূতাবাসে, বিরাট খাতিরযত্ন করলো তাকে রুশরা। চার্চিল স্ট্যালিন আর রুজভেল্ট, সাম্রাজ্যবাদের ও পুঁজিবাদের দুই প্রতিভূ আর সর্বহারার একজন একনায়ক, লড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন পাশাপাশি।

এদিকে ভারতের জনগণের কাছে তখন বীর একজনই, সুভাষ বোস। জনপ্রিয়তায় তিনি গান্ধী, নেহেরু ও জিন্নাহকেও ছাড়িয়ে গেছেন। কংগ্রেস তাকে নিলো না, নেহেরু সাহেব তো বলেই দিলেন যে সুভাষ ভারতে প্রবেশ করলে তিনি নিজে তাকে বাধা দেবেন, মুসলিম লীগের তো নেবার প্রশ্নই আসে না। আর কমিউনিস্ট পার্টির কাছে যুদ্ধটা তখন জনযুদ্ধ, রাশিয়া যেহেতু আমেরিকা-ব্রিটেনের সাথে জোট করেছে সেহেতু জাপানের সাথে জোট করে আজাদ হিন্দের যোদ্ধারা জনযুদ্ধের শত্রুপক্ষেই পরিণত হয়েছে। মস্কোতে বৃষ্টি হলে এদেশে ছাতা ফোটানোর যে অভিযোগ কমিউনিস্টদের প্রতি করা হয়, তা তো পুরোপুরিভাবে অবান্তর নয়, ইতিহাস ঘেটে এমন তথ্য তো বহুবার পাওয়া গিয়েছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে যখন দিল্লীতে আজাদ হিন্দের সৈন্যদের বিচারের উদ্যোগ নেওয়া হলো, তখন পুরো ভারতের শহরে শহরে সুভাষের চ্যালামুন্ডাদের পক্ষে এবং বিচারের বিপক্ষে তীব্র বিক্ষোভ, ভারতের ঘরে ঘরে সুভাষের ছবি, আর জনমতের তীব্র চাপে কংগ্রেস, লীগ আর কমিউনিস্টরা আজাদ হিন্দের পক্ষে আন্দোলনে নেমেছে, নেহেরু স্বয়ং আইনি লড়াইয়ে নামলেন আই এন আই’য়ের পক্ষে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের গতি প্রকৃতি নিয়ে আমি লিখতে বসিনি, রাজনীতির স্বরূপটা দেখালাম। রাজনীতির খাটে আজ একজনের সাথে শুচ্ছেন, তো কাল আরেকজনের সাথে, বিশ্বরাজনীতির গতিপ্রকৃতি মোটামুটি চিরকালই এই এক। মাঞ্চুরিয়া দখল করার পরে মার্ক্সবাদী স্ট্যালিন স্বয়ং বলেছিলেন এটা হলো জাপানের কাছে ১৯০৪-০৫ সালে রাশিয়ার পরাজয়ের প্রতিশোধ, জার সাম্রাজের ইতিহাস-ঐতিহ্যের প্রতি তার সে কি টান! আবার একইভাবে স্ট্যালিনের সাথে বিভিন্ন সম্মেলনে হাত মেলাচ্ছেন, একসাথে যুদ্ধ করছেন, তবুও চার্চিল কতভাবেই না কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়েছিলেন যাতে রুশ বাহিনী আমেরিকানদের আগে বার্লিনে ঢুকতে না পারে।
যুদ্ধের মঞ্চটা ইউরোপে, লড়াইটাও রাজায়-রাজায়। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রভাবে ভারতে তেতাল্লিশ সালে যে দূর্ভিক্ষ হলো তাতে মারা গেলো কমপক্ষে সাতাশ লক্ষ সাধারণ মানুষ। হ্যাঁ, সাতাশ লক্ষই, যারা কোনদিন হিটলার বা স্ট্যালিনের নামও হয়তো শুনেনি, না কোনদিন ধরতে শিখেছিলো বন্দুক-কামান। এই উলুখাগড়াদের নাম দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কোন ইতিহাসে লেখা আছে? দেখুন, হিটলারের উত্থান ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনীতির মাধ্যমে। মুসোলিনীও প্রথম বিশ্বযুদ্ধে হিটলারের মতোই সাধারণ একজন কর্পোরালই ছিলেন, পরে হয়েছিলেন একটি বামপন্থি পত্রিকার সম্পাদক। একজন নর্ডিক জার্মানদের জাতিগত শ্রেষ্ঠত্বের বড়াই নিয়ে অন্যদের বশ্যতা আনতে লড়েছেন, অন্যজন দেখিয়েছিলেন রোমান এম্পায়ার পুনর্জীবিত করার স্বপ্ন। এবং হত্যাই হয়ে উঠেছিলো তাদের স্বপ্নরাজ্য গড়ার পথ। আপনি অন্যদিকে চার্চিল-রুজভেল্টকে ভদ্রলোক বলবেন? হিরোসিমা নাগাসাকিতে বোমা ফেলার কোনো প্রয়োজনই ছিলো না, চার্চিল নিজে স্বীকার করেছিলেন যে ততদিনে জাপানের নৌশক্তি পুরোপুরিভাবে বিপর্যস্ত, আর নৌশক্তি হারিয়ে গেলে দ্বীপরাষ্ট্রের যুদ্ধ করার কোনো সক্ষমতাই থাকে না। জাপানের আত্নসমর্পন এমনিতেই নিশ্চিত ছিলো, শুধুমাত্র ব্যক্তিখায়েশ আর পরমাণু অস্ত্রের ধ্বংসক্ষমতা দেখিয়ে বিরোধী শিবিরের ভয় উন্মোচনে ইচ্ছা চরিতার্থ করতেই এতগুলো নারী-পুরুষ-শিশুকে মরে যেতে হলো। এই পুরো হত্যাকান্ডটাই ঘটানো হয়েছে সোভিয়েত ইউনিয়নের উপর চাপ বাড়াতে, আমেরিকা নিজেদের রাজনৈতিক ও সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের জানান দিলো বহির্বিশ্বকে। এই পুরো যুদ্ধে জিতেছে শুধু রাজনীতি আর সামরিক হর্তাকর্তারা, হেরেছে সারা বিশ্বের সাধারণ মানুষ।

ঘুরেফিরে আজকের পৃথিবীর অবস্থাও একই। মধ্যপ্রাচ্যের তেল হস্তগত করার লড়াইয়ে বৃহৎ শক্তিগুলোর লড়াইয়ে প্রতিদিন বলি হচ্ছে হাজারে হাজারে মানুষ। হোমার তার গ্রীক-ট্রেজান যুদ্ধের মহাকাব্যে বলেছিলেন যুদ্ধ হচ্ছে যুবকদের মৃত্যু আর বৃদ্ধদের কথার সম্মেলন, আধুনিক বিশ্বে এই বৃদ্ধ হচ্ছেন বিশ্বের তাবৎ রক্তলেলুপ রাজনীতিবিদেরা।

এইবার দৃষ্টি ফেলুন বাংলাদেশে, রাজনীতির খাটে কে কার সঙ্গে শুতে যাচ্ছে না? স্বৈরাচার, রাজাকার, ডান, বাম, রাম-শ্যাম-যদু-মধু ক্ষমতার রাজনীতিতে আজ এ ওর শয্যাসঙ্গিনী তো কাল আরেকজনের। কে খুন করেনি বলেন? কোন মহাপুরুষ ক্ষমতায় গিয়ে সাধারণ মানুষ খুন করেননি? শেষ পর্যন্ত লড়াইটা সাধারণ বনাম শাসকের। যে লঙ্কায় গিয়েছে, সেই হয়েছে রাবণ। জনসাধারণের রাষ্ট্র বলে কোন কথা নেই, রাষ্ট্র দিনশেষে সুযোগ পাওয়া সংখ্যালঘুদেরই। ভদ্রলোকেরা ক্ষমতায় গিয়ে ভয়ানক রক্তক্ষুধায় ভোগেন, জনগনের রক্ত ছাড়া শাসকের ভাত-তরকারী ভোগে লবনশূন্যতায়। জনগনের রাষ্ট্র শব্দটা দিবাস্বপ্নে পর্যবাসিত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের রক্তসম তেল কেন্দ্রীক যে দখলদারিত্বের লড়াই সেখানে কিন্তু আমেরিকা বা রাশিয়ার সাধারণ মানুষ মধ্যপ্রাচ্যের সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে লড়ছে না, কাশ্মীরের স্বাধীনতাকামী ছেলেমেয়েরা খুন হচ্ছেনা সাধারণ ভারতীয়দের হাতে, যুদ্ধগুলো কয়েকটা রক্তলেলুপ নরপিশাচের সৃষ্টি আর কতগুলো মানুষরূপী রোবট হত্যাকান্ড চালাচ্ছে অন্নদাতার সম্মানে। রাজায় রাজায় যুদ্ধে উলুখাগড়ার প্রাণ সেই প্রাচীনকালেও যেতো, আজও যাচ্ছে।

সাম্রাজ্যবাদের সামনে নতজানু পররাষ্ট্রনীতি, রাষ্ট্রিয় আশ্রয়-প্রশ্রয়ে মৌলবাদের লালনপালন, নিজস্ব খনিজসম্পদ বিদেশি বেনিয়াদের হাতে তুলে দেওয়া এবং সাম্প্রতিকতম সময়ে জনগনের প্রবল মতামত উপেক্ষা করে সুন্দরবন-বিধ্বংসী রামপাল চুক্তিতে সরকারের অযৌক্তিক অনমনীয় অবস্থান আমাদের বারবার ভাবতে বাধ্য করেছে দেশটা কি আমাদের আছে নাকি নৈতিকতা বিবর্জিত জনাকয়েক রাজনীতিবিদের হাতে জিম্মি হয়ে গেছে। এই শাসকেরা আজন্ম বিরুদ্ধাচরণ করেছে সাধারণের। যারা ফুলবাড়ি আন্দোলনের সময় গিয়ে ওয়াদা দিয়েছিলেন ক্ষমতায় গেলে দেশের স্বার্থবিরোধী সমস্ত চুক্তি বাতিল করবেন, তারাই আজ রামপাল রূপপূরের মতো আত্নঘাতি চুক্তি করেছেন দেশের হয়ে। যে ভদ্রমহিলা রক্তাক্ত হুমায়ুন আজাদকে অনেকটা পথ পায়ে হেঁটে দেখতে গিয়েছিলেন তৎকালীন সরকারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে, আজকাল তিনি ও তার চ্যালামুন্ডারা ব্লগার-একটিভিস্ট হত্যা ইস্যুতে লেখকের দোষ খুঁজে বেড়ান, বিচারের দাবী মুখ থুবড়ে কেঁদে মরে।

দেশের পুরো রাজনীতির একটা আয়নাচিত্র দেখা যায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে। বহুকাল এখানে গণতন্ত্রের চর্চা নেই, ছাত্রসংসদ নেই। জোর যার মুল্লুক তার নীতিতে দখলদারিত্ব চলে, জাতীয় নির্বাচনের পরদিন পরাজিত রাজনৈতিক দলের কর্মীরা ক্যাম্পাস ও হল ছেড়ে চলে যায়, বিজয়ীরা আসে নতুন করে দখলদারিত্ব, নিপীড়ন, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও হত্যা-ধর্ষণের উৎসব করতে। কিছুই বদলায় না, শুধু বদলে যায় ব্যানার। রাজনীতি যদি রাজার নীতি না হয়ে নীতির রাজাও হয়, ক্ষমতা কিছুতেই হত্যা-লুন্ঠনের প্রতিশব্দ বৈ ভিন্ন কিছু নয়। কবির সুমন গেয়েছিলেন, শাসক যে রঙেরই হোক ভয়ানক। ঠিক তাই।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে শুরু করেছিলাম, আজকের বিশ্বেও ক্ষমতা ও বিত্তের যুদ্ধে লাভ যে একটামাত্র শ্রেণীরই সেটা তো স্পষ্ট। তবে ইতিহাসের ভিন্ন শিক্ষাও তো আছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর মুসোলীনির পরিণতি তার উজ্জ্বল উদাহরণ। আধুনিক সময়েও বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষ বিভিন্ন সময়ে প্রবল গণ-আন্দোলনের মুখে শোষকদের টেনে হিঁচড়ে সিংহাসনচ্যুত করেছে। জনগনের ঐক্যবদ্ধ শক্তির কাছে শাসকের ভয়-ভীতি আর সামরিক শক্তির পরাজয় বারবার হয়েছে। আমরা আশা করি এদেশের সরকার রামপাল ও রূপপূরের যে প্রকল্প হাতে নিয়েছে জনমত উপেক্ষা করে, সেখান থেকে তারা সরে আসবে। এবং ভারতের সাথে প্রতিরক্ষা চুক্তির নামে যা হচ্ছে সে ব্যাপারে জনগণের ও নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞদের মতামতকে গুরুত্ব দেবে। নতুবা দেশজুড়ে চলমান রামপাল চুক্তি বাতিল করে সুন্দরবন রক্ষার এই আন্দোলন ভিন্নপথে প্রবাহিত হবার তুমুল সম্ভাবনা বিদ্যমান। এতে যদি শাসকের পতন ত্বরান্বিত হয় তাতেও অবাক হবার কিছু নেই, যারা জনগনের পক্ষে নেই জনগন তাদের পক্ষে গেলেই বরং অবাক হতে হবে। ইতিহাসে সাধারণেরা বারবার বঞ্চিত নিপীড়িত হয়েছে তা যেমন সত্যি, তেমনি সত্যি শোষকের অবশ্যম্ভাবী পতনের কথাও।

পূর্বে প্রকাশিত: http://www.ittefaq.com.bd/print-edition/sub-editorial/2016/08/25/139739.html