ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 
1461168757

সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশুটির প্রথম নির্ভরতা ও আস্থার জায়গাটি যেমন তাঁর মা, তেমনি করে বর্তমান প্রজন্মের আশার দিশারী ও বিশ্বাসের প্রতীক হয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে আছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা।

৭৫’র সেই কষ্টময় দিনগুলো অতিবাহিত করে ধীরে ধীরে বাংলাদেশের রাজনীতির পটপরিবর্তন করে আজ বিশ্ব পরিমন্ডলে নিজেকে এবং বাঙালি জাতিকে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে। স্বপ্ন দেখিয়েছে নতুন প্রজন্মদের। কিভাবে সকল বাধা অতিক্রম করে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হয়, কিভাবে নিজের প্রতি দৃঢ়চিত্তে আত্মবিশ্বাস বজায় রেখে বিশ্ব জয়ে নিজেকে উজাড় করে সামনের দিকে যেতে হয় তা, একমাত্র শেখ হাসিনার কাছ থেকেই নতুন প্রজন্ম শিখেছে, অনুকরণ করছে।

একটা সময় যখন রাজাকারের ‘র’ উচ্চারণ করা ছিলো ভীতিকর ও আতঙ্কের। সেখানে একমাত্র শেখ হাসিনাকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় পেয়ে একান্ত আলোয় আলোকিত হয়ে নতুন প্রজন্মের মুখে মুখে ক-তে কাঁদের মোল্লা তুই রাজাকার! তুই রাজাকার!

অপ্রিয় হলেও সত্য, মেজর জিয়াউর রহমান ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে যেখানে বিচারহীনতার সংস্কৃতি বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করেছিলো। সেখানে বঙ্গবন্ধু’র কন্যা শেখ হাসিনা জাতির পিতাকে স্বপরিবারে হত্যার বিচার, জাতির কপালে লেপন করা কলঙ্ক যুদ্ধাপরাধী, রাজাকার, মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বর্বর কর্মকান্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থার মাধ্যমে সেই ইনডেমনিটি বা বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে জাতিকে অত্যন্ত দক্ষতার সহিত বের করতে সক্ষম হয়েছে।

আজ আর শুধু শহরে নয়, গ্রামের প্রতিটা পাড়া-মহল্লায় অসামাজিক কর্মকান্ডের জোরালো প্রতিবাদে মুখর নতুন প্রজন্ম। আর এই প্রতিবাদ মানবতাবিরোধী অপরাধীদের গন্ডি পেরিয়ে তনু হত্যা, লেখক-ব্লগার হত্যা, শিক্ষক হত্যাসহ সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিতর সংঘটিত হওয়া যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির বিরুদ্ধে সবার আগে প্রতিবাদী ও সোচ্চার হয়ে উঠে এই নতুনরাই।

মনে পড়ে সেইসব দিনগুলোর কথা। যেখানে বুক ফুলিয়ে স্বাধীনতাবিরোধীরা প্রকাশ্যে বা মিডিয়ার পর্দায় বলেছে- এদেশে কোনো যুদ্ধাপরাধী নেই, এদেশে কোনো বুদ্ধিজীবী হত্যা হয়নি বা বুদ্ধিজীবী হত্যাকারী নেই, এদেশে কোনো রাজাকার নেই, এদেশে কোনো স্বাধীনতাবিরোধী নেই ইত্যাদি ইত্যাদি…! তখন আমাদের পিতা-মাতা বালিশের কোণায় মুখ লুকিয়ে কেঁদে কেঁদে বালিশ ভিজিয়েছে। নতুন প্রজন্ম যারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতো তাঁরাও ভয়ে-আতঙ্কে কোনো প্রকার টু-শব্দ পর্যন্ত করেনি। কারণ, তখন কোনো নির্ভরযোগ্য রাষ্ট্রীয় অভিভাবক ছিলো না। আস্থা ও বিশ্বাসের জায়গা ছিলো শূন্য। সাহস ছিলো রাষ্ট্রীয় অভিভাবকহীন ও অসহায়।

নববম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু’র কন্যার সেই আশার বাণী, সেই স্বপ্ন দেখানোর বক্তব্য, জাতিকে কলঙ্ক মুচনের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে অর্থাৎ স্বাধীনতাবিরোধী, রাজাকার, মানবতাবিরোধী অপরাধীদের তাদের কৃতকর্মের প্রাপ্য শাস্তি নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন, তখন নতুন প্রজন্মের মাঝে আবারও সাহস সঞ্চয় হতে লাগলো। আমাদের অভিভাবক ঘুরে দাঁড়াতে সাহস পেল। আবারও স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশের সত্যিকারের রাষ্ট্রীয় অভিভাবক পেয়ে বাঙালি জাতি নিজেদের হারানো অস্থিত্ব যেন খুঁজে পেয়েছে।

আর সেই দীপ্ত সাহসে, অর্জিত বিশ্বাসে বাঙালি জাতির সেই কলঙ্ক মুচনে শেখ হাসিনার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। সকল ভয়-উৎকন্ঠা আর পিছুটান ঝেড়ে ফেলে দিয়ে আবারও ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে ময়দানে। যেমনি করে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে মুক্তিযোদ্ধারা স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েছিল। শাহবাগ আন্দোলনের মাধ্যমে নতুন ইতিহাস রচনা করেছে। গণজাগরণের মাধ্যমে অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে আবারও উজ্জীবিত করেছে নতুন প্রজন্ম।

আর এ চেতনা ও অসাম্প্রদায়িক আন্দোলন শাহবাগ ছাড়িয়ে দেশের শহর-গ্রাম, পাড়া-মহল্লাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছিল। ঘরে ঘরে ধ্বনি-প্রতিধ্বনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই, দাবি মোদের একটাই। লক্ষ শহীদের বাংলায় রাজাকারের ঠাই নাই। সম্ভ্রব হারানো নারীর বাংলায়, স্বাধীনতাবিরোধীদের জায়গা নাই।

শব্দ-প্রতিশব্দ, স্লোগান, মিছিল-মিটিং, মানববন্ধন বা সমাবেশ করার সেই সাহস আর ভারসা বাঙালি জাতি পেয়েছে একমাত্র বঙ্গবন্ধু’র কণ্যা শেখ হাসিনাকে পাশে পেয়েছে বলেই। রাষ্ট্রীয় অভিভাবক হিসেবে জাতির জনকের পবিত্র রক্তে জন্মানো, বিশ্ব নেতৃত্বের অহংকার, বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই বিশ্বাস জন্মিয়েছে বলেই।

আজ নতুন প্রজন্ম কখনো সরকারের বিভিন্ন ভুল সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে, বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতার নৌকা প্রতীক কোনো জেএমবি’র সদস্যের হাতে তুলে দেওয়ার বিরুদ্ধে, কখনো স্বাধীনতাবিরোধীদের কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে, রাজাকারদের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে, মানবতাবিরোধী অপরাধীদের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে আবার কখনো বিএনপি-জামায়াত ইসলামের জ্বালাও-পোঁড়াও এর বিরুদ্ধে মাঠে ময়দানে আন্দোলন সংগ্রামে সোচ্চার ভূমিকা রাখতে সক্ষম হচ্ছে, সাহস পাচ্ছে, ভরসা পাচ্ছে; কারণ মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার মুল চেতনার প্রকৃত রাষ্ট্রীয় অভিভাবক শেখ হাসিনাকে একান্ত আপন করে পেয়েছে বলেই।

আজ যেমন শেখ হাসিনাকে নিয়ে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ চিন্তা করেন, বিশ্বের রোল মডেল হিসেবে বঙ্গবন্ধু’র কন্যা শেখ হাসিনাকে মুল্যায়ন করেন; আমার বিশ্বাস- তাঁর হাতে গড়া বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মকে নিয়েও বিশ্ববাসী একদিন গর্ববোধ করবে।

-নাজমা আক্তার রোজী
সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিষ্ট ফোরাম (বোয়াফ)