ক্যাটেগরিঃ দিবস প্রসঙ্গ

 

বাবা আমার বাবা, তোমাকে ভালবাসার জন্য, তোমাকে কাছে পাবার জন্য, তোমাকে শরণ করার জন্যই এই “বিশ্ব বাবা দিবস” ৷ তুমি আমার জন্মদাতা, তুমি যদি বাবা জন্ম না দিতে, তবে তো এই সুন্দর পৃথিবীতে আসা হতো না ৷ তুমিই বাবা, আমার সৃষ্টির একমাত্র উৎস্য ৷ সৃষ্টিকর্তা আমাকে সৃষ্টি করেছে শর্ত জুরে দিয়ে, সৃষ্টিকর্তার উপসনা করতে হবে, সদা সত্যকথা বলতে হবে, মানুষ হয়ে মানুষের উপকার করতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি শর্ত দিয়ে ৷ আর সৃষ্টিকর্তার শর্ত না মানলে আমি হয়ে যাই পাপিষ্ঠ, সেই পাপের হয় বিচার ৷ আর তুমি বাবা আমাকে জন্ম দিয়েছ নিঃশর্ত ভাবে, দিয়েছিলে শুধু উপদেশ ৷ আমার জন্মের প্রতি তোমার কোন শর্তই ছিল না বাবা ৷ তোমার কারণে আজ আমি এই সুন্দর পৃথিবীতে জন্মেছি বা আসতে পেরেছি ৷ আমি যখন তোমার মস্তিষ্কে ছিলাম, তখনতো বাবা আমার কোন পরিচয় ছিল না ৷ তোমার মস্তিষ্ক হতে যখন মাতৃগর্ভে আসলাম তখনো আমার কোন পরিচয় ছিলনা ৷ তোমার অর্ধাঙ্গিনী, আমার জননী, গর্ভধারিণী মায়ের গর্ভ হতে দশমাস-দশদিন পর যখন ভূমিষ্ঠ হলাম, তখন তোমার বংশ পরিচয়ের জন্য, তোমার বংশ রক্ষা করার জন্য আমার একটা নাম রেখেছ ৷ শিশুকাল হতে আস্তে আস্তে যখন একটু বুঝের হতে লাগলাম, তখন দেখতাম তুমি এবং আমার মা আমাকে একটা সুন্দর নাম ধরে ডাকছো ! তখন বুঝতে পারলাম এটা আমার লোক সমাজে পরিচিতি হবার নাম ৷ সেই নামেই ছোট হতে বড় হয়ে আজ অবধি এই সুন্দর পৃথিবী নামক গ্রহটিতে বাস করিতেছি ৷ বিয়ে করেছি, সংসার করেছি, দুটি সন্তানের পিতা হয়েছি, এই পৃথিবীর মানুষের কাছেও পরিচিত হয়েছি তোমাদের দেওয়া সেই নামে ৷ বাবা, বর্তমানে কমবেশি সবই আছে আমার, শুধু তুমি আর মা’জননী নেই ৷ তুমি নেই বলে আজ আমি বড়’ই এতিম বাবা, তুমিতো ছিলে আমার বটবৃক্ষের ছায়া ৷ শিশুকালে তোমার ছায়ায় থাকতাম কত নিরাপদে, কত আনন্দে ৷ কিশোর বয়সে তোমার সাথে যেতাম কত’না হাট-বাজারে, তুমি বাবা কত কিছু কিনে দিতে এখনো মনে পড়ে বাবা ৷ যেদিন তোমার চাকরির বেতন পাওয়ার কথা, সেদিন বিকেলবেলা তোমার কর্মস্থল মিলের প্রধান ফটকের সামনে দাড়িয়ে থাকতাম তোমার আগমনের অপেক্ষায়, তুমি বেতন পেয়ে যখন সামনে আসতে, তখন আমি তোমার হাত ধরে তোমার সাথে বাজারে যেতাম, আর তুমি আমাকে কত মজার-মজার খাবার কিনে দিতে ৷ এখন আর কারো হাত ধরে হাট-বাজারে যেতে পারিনা বাবা, ওইসব এখন সবই স্মৃতি ৷ এখন আমার হাত ধরে হাট-বাজারে, মার্কেটে, দোকানে যাওয়ার মত শিশু-কিশোর বহু আছে বাবা ৷ এখন তুমি পরলোকে, তবু মনে হয় তুমি আছো ইহলোকে, আছো আমার অন্তরের মণিকোঠায় ৷ দুচোখ বুঝলেই তোমায় দেখতে পাই আমার নয়নতারায় ৷ সব চাইতে বেশি মনে পড়ে তখন, যখন এই পৃথিবীর সব মানুষের বাবাকে ভালবাসার জন্য একটি দিবস পালন করে ৷ সেই দিনটি বাবা পালিত হয় প্রতিবছর জুন মাসের তৃতীয় রবিবার ৷ সেই দিবসটির নাম “বিশ্ব বাবা দিবস” ৷ যাদের বাবা আছে, তারা সবাই তাদের প্রিয় বাবার জন্য এদিন কত কী উপহার দিবে ! আর আমি অদম্য কাকে উপহার দিবো এই দিনে? তবু বাবা, এই দিনে তোমায় শরণ করে, তোমার সমাধিস্থলে একটা ফুল নিয়ে যাই তোমাকে দিবো বলে ৷ তোমার সমাধি পানে তাকিয়ে কিছুক্ষণ নীরবতা অবলম্বন করি, আর তোমাকে শরণ করি ৷ সেই নীরবতার সাথে মনের মাঝে বাজতে থাকে একটি বাংলা ছায়াছবির গান ৷ ছায়াছবি “দি ফাদার” কণ্ঠশিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ও শ্রাবন্তী মজুন্দারের গাওয়া একটা গান ৷ কাটেনা সময় যখন আর কিছুতে/ বন্ধুর টেলিফোনে মন বসে না/ জানালার গ্রীলটাতে ঠেকাই মাথা/ মনে হয় বাবার মত কেউ বলে না/ আয় খুকু আয়, আয় খুকু আয় ৷ যাদের বাবা নেই, এই গানটা’ই সকল সন্তানদের এক অসীম ভালবাসায় ডুবিয়ে দেয় ৷ যেমন আমিও ডুবিয়ে যাই যখন তোমায় মনে পড়ে ৷ তুমি তো ছিলে আমার কালের বটবৃক্ষ, নিদাঘ সূর্যের আলো, আমার অমল শীতল ছায়া, তুমিই তো ছিলে আমার বাবা ৷ বাবা, বছরের এই দিনে তোমায় বিষণ মনে পড়ে, শুধু আমি কেন ! এই পৃথিবীর সকল সন্তানেরা এই দিনকে প্রিয় বাবার জন্য আলাদা করে নিয়েছে ৷ এই জুন মাসের তৃতীয় রবিবার,  “বিশ্ব বাবা দিবস” ২০১৬ ইংরেজি ৷ সারা বিশ্বের সন্তানেরা পালন করবে এই দিবস ৷

fathers-day-priyostatus-296x177

এ বছর ১৯ জুন পালিত হচ্ছে “বিশ্ব বাবা দিবস” ৷ বাবার প্রতি শ্রদ্ধা-ভালবাসা জানানোর জন্যই এই দিবস ৷ ইতিহাসে জানা যায়, ১৯০৮ সালে প্রথম বাবা দিবস উদ্ যাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল ৷ যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার ফেয়ারমন্টে এক গির্জায় এই দিনটি প্রথম পালিত হয় ৷ আবার সনোরা স্মার্ট ডড নামের ওয়াশিংটনের এক ভদ্রমহিলার মাথায়ও বাবা দিবসের আইডিয়া আসে ১৯০৯ সালে ৷ ভার্জিনিয়ার বাবা দিবসের কথা তিনি একেবারেই জানতেন না ৷ ডড এই আইডিয়াটা পান গির্জার এক পুরোহিতের বক্তব্য থেকে ৷ সেই পুরোহিত আবার মা’কে নিয়েও অনেক ভালো ভালো কথা বলছিলেন ৷ তার মনে হয়, তাহলে বাবাদের নিয়েও তো কিছু করা দরকার ৷ ডড আবার তার বাবাকে খুব ভালবাসেন ৷ এর পর তিনি সম্পূর্ণ নিজ উদ্যোগেই পরের বছর অর্থাত্‌ ১৯শে জুন ১৯১০ সাল থেকে “বাবা দিবস” পালন করা শুরু করেন ৷ অবশেষে ১৯৬৬ সালে প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি জনসন পিতৃ দিবসকে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে ঘোষণা করেন৷ সেই থেকেই প্রতি বছর জুন মাসের তৃতীয় রবিবার সারা বিশ্বে এই দিনটাকে “বিশ্ব বাবা দিবস” হিসাবে পালন করে আসছে ৷ আমাদের বাংলাদেশেও যথাযথ মর্যাদায় এই দিনটিকে পালন করা হয় ৷ পৃথিবীর সকল মানুষের সাথে একাত্মতা পোষণ করে আমিও বাবা তোমায় শরণ করে, এই দিবসে তোমার সমাধিস্থানে একটা ফুল নিয়ে আসি তোমায় দিবো বলে ৷ এই দিবস ছাড়াও আসি তোমার সমাধিস্থলে, সংসারের যেকোন ঘটনা-রটনায় তোমাকে আমি জানিয়ে যাই ৷ এই তো, সেদিনও তো এসেছিলাম তোমার সমাধিস্থলে ! তোমার নাতিনীর জন্য আশীর্বাদ চাইতে ! তোমার আশীর্বাদে আমার অনেক মন-বাসনা’ই পূর্ণ হয় বাবা ৷ আমিও সৃষ্টিকর্তার কাছে সর্বদা প্রার্থনা করি, সৃষ্টিকর্তা যেন তোমাকে স্বর্গবাসি করে ৷ আবার আসবো বাবা আগামী বছর “বিশ্ব বাবা দিবসে”৷ আবার দেখা হবে তোমার সাথে, তোমার সমাধিস্থানে ৷ পরিশেষে একটা কথাই বলবো যে, যাদের বাবা এবং মা এখনো জীবিত আছে, আপনারা বাবা এবং মায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন ৷ বাবা মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা-ভালবাসা মানি’ই হলো পরম করুণাময়ের প্রতি শ্রদ্ধা-ভালবাসা ৷

slide