ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

 

আমাদের দেশে আনাচেকানাচে গড়ে উঠা প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোতে চলছে রমরমা ব্যবসা ৷ বর্তমানে দেশের যে’কোন জেলা শহরে, হাটবাজারে যত্রতত্র ছোট-বড়, আধুনিক-অত্যাধুনিক, বহু ক্লিনিক, বহু ডায়াগনস্টিক সেন্টার স্থাপিত হয়েছে ৷ এসব ক্লিনিকগুলেতে ডিগ্রিধারী ডাক্তার নিয়েও সমালোচনা শুরু হয় অনেক সময়, অনেক জায়গায় ৷ নকল সার্টিফিকেট সহ ধরাও পড়ে যায়, অনেক সময় অনেক ডাক্তার সাহেব ৷ ওইসব ধরা পড়া ডাক্তার সাহেবদের শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টমশ্রেনী হতে এসএসসি পর্যন্তই থাকে তাদের শিক্ষা ৷ অতছ তাঁরা একটা ক্লিনিকে বা একটা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে একজন নামি-দামি ডিগ্রিধারী ডাক্তারের কাজ ৷ ওইসব ডাক্তার কদম আলীদের দিয়ে, ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনা করে, ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকগণ বনে যাচ্ছে রাতারাতি কোটিপতি, আর ডাক্তার কদম আলী’রা হয়ে যাচ্ছে নামকরা ডিগ্রিধারী ডাক্তার ৷ বিপাকে পরছে সাধারণ মানুষ, সময় সময় ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করছে মুমূর্ষু রোগী ৷

এমন এক ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু হয় নারায়ণগঞ্জ বন্দর থানাধীন নবীগঞ্জের একজন বাসিন্দার ৷ জানা যায়, গত ৩০শে আগষ্ট রোজ মঙ্গলবার ওই রোগীকে নারায়ণগঞ্জ ১০০ সয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে গলার টিউমারের চিকিৎসার জন্য আনা হয় ৷ পরে আউটডোরে টিকিট কেটে বড় ডাক্তারের কাছে নেওয়া হয়, বিজ্ঞ ডাক্তার সাহেব রোগীকে গলার টিউমারের কিছু পরীক্ষার জন্য চাষাঢ়াস্থ পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টাররে পাঠায় ৷ সেখানকার নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষার ফী বাবদ ৮৬০০/=টাকা নেওয়া হয়, কিন্তু পরবর্তীতে পরীক্ষা ছাড়াই ওই ক্লিনিকে রোগীর চিকিৎসা করা শুরু করে দেয় ওই ক্লিনিকের ডাক্তার কদম আলী’রা ৷ পরীক্ষা ছাড়া ডাক্তার কদম আলীদের চিকিৎসায় শেষ পর্যন্ত ওই রোগীর মৃত্যু হয় একটি ইনজেকশনের কারণে ৷ শোনা যায়, এই মৃত্যু নিয়ে নারায়ণগঞ্জ শহরে এক উত্তোজনা সৃষ্টি হলে, কিছু বিজ্ঞ লোকের মধ্যস্থতায় বিষয়টি আপসে নিষ্পত্তি হয়ে যায় ৷ এমন বহু অপমৃত্যুর ঘটনা আমাদের দেশের এসব নামি-দামি ক্লিনিকগুলোতে প্রতিনিয়ত ঘটেই যাচ্ছে ৷ যাদের কোর্টকাছারিতে লড়ার ক্ষমতা আছে তাঁরা লড়ছে, যারা অসহায় তাঁরা নীরবে বুক চাপা দিয়ে কাঁদছে ৷

এমন এক পরিস্থিতিতে আমিও পড়েছিলাম নিজের বড়দাদাকে নায়ে ৷ গত কয়েক মাস অাগে, শীতের সময়ে ৷ বড়দাদা শ্বাসকষ্টের রোগী ছিলেন, একদি রাত আটটার সময় বড়দাদার অবস্থার অবনতি ঘটে, ডাক্তারের কাছে আর না নিলে আর নয় ৷ তাড়াতাড়ি করে নিয়ে গেলাম স্থানীয় এক ক্লিনিকে, সেখানকার কর্তব্যরত ডাক্তার রোগী দেখা শুরু করে দিলেন পুরোদস্তুর ৷ এটা লাগবে, ওটা লাগবে বলতে বলতে অনেক হয়েছে, রোগীর অবস্থার আরো অবনতি ঘটতে লাগলো ৷ এক পর্যায় ডাক্তার বললো এখানে হবে না, রোগীকে নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে এক্ষণি ৷ ক্লিনিকের বিল হয়ে গেল ১৩০০/=টাকা, যা আমার জন্য ছিল এক বিষমাখা তীরের মত ৷ কী আর করা? ১৩০০/=টাকা পরিশোধ করে নিয়ে গেলাম নারায়ণগঞ্জ ২০০ সয্যা হাসপাতালে ৷ ভাগ্য ভালো ছিল আমার, আমার সাথে ছিলো একজন হাসপাতালের চাকুরিজীবী, ওই সম্মানিত ব্যক্তির জন্যই সেইদিন বড়দাদাকে বাঁচাতে পেরেছিলাম, না হয় মৃত্যুই ছিল অনিবার্য ৷ যাই হোক, পরে হাসপাতালের ডাক্তারদেরও ক্লিনিক ডাক্তারদের মতই অবস্থা, বললো নিয়ে যান ঢাকা মেডিকেল, না হয় রোগী বাঁচানো যাবে না ৷ হাসপাতালে আর ঔষধে মিলে দিলাম প্রায় ১৪০০/=টাকা ৷ সাথে সাথে এম্বুলেন্স নিয়ে সোজাসুজি ঢাকা মেডিকেল নিয়ে গেলাম, তখন রাত একটা ৷ সাথে সাথে ভর্তি নিয়ে নিল ঢাকা মেডিকেল কর্তব্যরত ডাক্তার ৷ চিকিৎসা সেবা দেওয়ার পর একঘন্টার মধ্যেই বড়দাদার অবস্থার উন্নতির দিকে চলে আসলো ৷ পরদিন বড়দাদা একেবারে পুরোপুরি সুস্থ সবল একজন মানুষ ৷ সেখানে বড়দাদাকে জোর করে দুদিন রেখে তারপর বাসায় নিয়ে আসি, যা এখন পর্যন্ত বড়দাদা সুস্থ সবল অবস্থায় আছে ৷

এমতাবস্থায় আমাদেরও কিছু দোষ দেখা যায়, কোন রোগের সংক্রমণ দেখা দিলেই আমরা সোজাসুজি চলে যাই ওইসব ডাক্তার কদম আলীদের ক্লিনিকে, ভালো চিকিৎসা সেবা পাবার আশায় আর তাড়াতাড়ি সেরে ওঠার জন্যে ৷ আসলে সেরে ওঠা হয় খুব কম, বিপদের সম্মুখীন হয়ে পড়ি বেশি ৷ যা হয়ে যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়াস্থ পপুলার ডায়াগনস্টিকের মত দেশের বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা ক্লিনিকে ৷ আর ওইসব নামধারী ডাক্তার কদম আলীদের দৌরাত্ম্যও বাড়ছে দিন দিন, সবসময়, সবখানে ৷