ক্যাটেগরিঃ ব্লগালোচনা

 

শত কাজের মাঝেও এই বিডিনিউজ ব্লগটাকে মনের মণিকোঠায় আবদ্ধ করে রেখেছি সেই ০৩ই মার্চ ২০১৫ইং সাল থেকে। এই বিডিনিউজ ব্লগে আমার প্রথম লেখাটা ছিল, “আমি ও মানুষ”। লিখেছিলাম ছোট একটা মোবাইল ফোনের কীবোর্ড এর মাধ্যমে। মোবাইলটা ছিল, “NOKIA c3” ছেলের রেখে যাওয়া একটা সেলফোন। সেই মোবাইল ব্যবহার করার সময় আমি ইন্টানেটের অনলাইনের খবর-ই বেশি দেখতাম ও পড়তাম। ভালো লাগতো প্রথম আলোর খবর আর বিডিনিউজের খবরগুলো।

একদিন হঠাৎ করে বিডিনিউজ ব্লগে ক্লিক করলাম, একটা লেখা পড়লাম খুব মনোযোগ সহকারে, কার লেখা আর লেখক কে সেটা এখন আর মনে পড়ছে না। লেখার শেষে দেখি মন্তব্য দিয়েছে অনেকে, এই মন্তব্য দেখে আমারও একটা মন্তব্য দিতে ইচ্ছে হলো। কিন্তু দেখা গেল, লেখাতে মন্তব্য দিতে হলে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে, না হয় আর মন্তব্য দেয়া যাবে না। তখন ছিল 2g ইন্টানেটের আমল, আমি বাংলালিঙ্ক আনলিমিটেড ইন্টানেট ব্যবহার করতাম বেশি। ছোটখাট ইন্টানেট পেকেজ আমার ভালো লাগতো না, এখনো না। যাই হোক, একটু চেষ্টার বিনিময়ে রেজিস্টার করে ফেলাম, পরবর্তীতে “লগইন” করে ব্লগে প্রবেশ করার সুযোগ পেলাম।

ব্লগে প্রবেশ করে কী লিখবো ভেবে পাচ্ছিলাম না, আবার অন্য ব্লগারদের লেখাগুলো একটু দেখলাম যে, এখানে কে কী ধরণের লেখা লিখছে। দেখে শুনে আবার আমার প্রোফাইলে বেক করলাম, লিখতে লাগলাম নোকিয়া c3 মোবাইল ফোনের কীবোর্ড এর সাহায্যে। লিখলাম, মনের ভাব প্রকাশ করলাম, এদেশে আমরা হিন্দুরা প্রিয় মুসলমান ভাইদের কাছে যে, এক “অভিশপ্ত” জাতী সেই বিষয়ে। এদেশে আমরা গরিবরা সম্মানিত বড়লোকদের কাছে যে, এক “নিকৃষ্ট” জাতী সেই বিষয়ে। শিক্ষিত সমাজে যে, আমরা “অশিক্ষিত” গরু-ছাগল সেই বিষয়ে। লেখাটা ছিল আমার একপ্রকার মনের ক্ষোভ প্রকাশ করা, আর কেঁদে কেঁদে মানুষের কাছে নালিশ দেয়া। লেখাটা লিখে ব্লগে জমা দিয়ে পুনরায় ব্লগ থেকে প্রস্থান করলাম।

তারপর আর ব্লগে প্রবেশ করি নাই সহশীঘ্রয়, তার মানে, একটি লেখা জমা দিয়েছি তা আর মনেই নেই। এরমধ্যে এনড্রুয়েড মোবাইল শুরু হয়ে গেল সারাদেশে সবার কাছে, আমিও একটা “সিম্পনী”82 মডেল এর মোবাইল কিনে ফেললাম ৯৫০০ টাকায়। তখনো 3g ইন্টানেট আমাদের দেশে চালু হয়নি; 2g ইন্টানেটেই চলে সারাদেশ। আমি রীতিমত বাংলালিঙ্ক আনলিমিটেড 2g ব্যবহারকারীর মধ্যে একজন অন্যতম প্রতিনিধি ছিলাম। এমনি করে হঠাৎ একদিন বিডিনিউজ ব্লগে ক্লিক করি, ব্লগ চাইছে ইউজার নেম আর পাসওয়ার্ড, হায় কপাল আমার! পাসওয়ার্ড তো মনেই নেই, পাসওয়ার্ড দিবো কীভাবে? ভাগ্যিস নিজের ডায়েরীতে লেখা ছিল বিডিনিউজ ব্লগের ইউজার নেম আর পাসওয়ার্ড, খুঁজে বের করে লগইন করলাম ব্লগে।

দেখলাম আমার লেখাটা প্রকাশ পেয়েছে বহুদিন যাবৎ, মন্তব্যও দেখতে পাচ্ছি ৪ টা। প্রতিটা মন্তব্যেই পেয়েছি দুঃখপ্রকাশ আর সান্ত্বনা, পেয়েছি সাহস, পেয়েছি ভালোবাসা আর অনুপ্রেরণা। অবাক হয়ে গেলাম! ভাবতে লাগলাম, আমার খামখেয়ালীর লেখায় এত কষ্ট করে ক’জনে মন্তব্য দিয়েছেন, এখন তো সেই মন্তব্যগুলির জবাব দিতে হয়! না হয় তো খুবই অন্যায় হবে। ভেবেচিন্তে মন্তব্যের প্রত্যুত্তর দিলাম, যারা যারা মন্তব্য দিয়েছে, তাদের লেখাও ঘুরে-ফিরে পড়লাম, ভালো লাগছে আমার কাছে, খুব ভালো লাগছে। তারপর থেকেই নিয়মিত লেখা শুরু করে দিলাম এই বিডিনিউজ ব্লগে।

সেই থেকে অদ্যপর্যন্ত আমার মোট লেখার সংখ্যা হয়েছে ১২২ টি, সর্বমোট মন্তব্য করেছি ১১৫০ টি, সর্বমোট মন্তব্য পেয়েছি ৯৭০ টি, ব্লগিং এর বয়স মাত্র ২ বছর, ভালোলাগার সংখ্যাও অজস্র, ভালোবাসাও রাশি রাশি। এই বিডিনিউজ ব্লগে লিখতে গিয়ে বহুকিছু জেনেছি, বুঝেছি, শিখেছি, সহ-ব্লগারদের ভালোবাসাও পেয়েছি, পেয়েছি সহযোগিতা। লেখার বানান সমন্ধে সহ-ব্লগারদের কাছ থেকে বহুকিছু অর্জন করেছি, তা ভুলে যাওয়ার মত নয়। লিখতে আনন্দ লাগতো বেশ, তাই লিখতাম, সহ-ব্লগারদের লেখা পড়তাম, মন্তব্য করতাম। এখন আর আগের মত সেই আনন্দের সাথে লেখা হয় না, দেখা হয় না, লিখতে ভালোও লাগে না।

কারণ: কিছুদিন আগেও এই ব্লগে ছিল লেখার ভুলত্রুটি সম্পাদনার একটা সিস্টেম, যা কারো লেখা ব্লগে প্রকাশ হওয়ার পরও ভুল বানান সম্পাদনা করা যেত। সেই সিস্টেম বা সেই সম্পাদনার অপশনটা এখন আর নেই, কোথায় যেন হারিয়ে গেছে চিরতরে। কিছুদিন আগে হয়ে গেল পঠিত সংখ্যার ওপর এক বিশাল টর্নোডে, তা বোধহয় এখনো পুরোপুরি ঠিক হয়ে ওঠেনি। আগে নিজের লেখায় কেউ মন্তব্য করলে, তাও সম্পাদনা করা যেত অনাহাসে, মন্তব্য অপছন্দ হলে তা নাকচ করারও একটা সিস্টেম ছিল, কারো মন্তব্য করা লেখায় বানান ভুল থাকলে, তাও সম্পাদনা করা যেত ৷ এখন আর তা নেই, ওইসব করা সম্ভবও না। সম্মানিত প্রিয় ব্লগার/লেখকবৃন্দ, আমি কিছুদিন আগে আমার এলাকার একটা খবরের পোস্ট করেছিলাম এই ব্লগে, শিরোনাম ছিল “সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইলে গোসল করতে পুকুরে নেমে নিখোঁজ” এই লেখায় আমি ঘন্টায় ঘন্টায় সম্পাদনা করে, প্রতি মুহুর্তের খবর লিখেছিলাম ও সবাইকে জানিয়েছিল পুকুরে নেমে নিখোঁজ হওয়ার খবর।

জানাতে পেরেছিলাম, ব্লগে লেখার সম্পাদনার সিস্টেম ছিলে বলে। যদি নিজের লেখায় সম্পাদনার সিস্টেম বা অপশন না থাকতো, তবে আর ঘন্টায় ঘন্টায় খবরটি জানাতে পারতাম না, যা লেখা হয়েছে তা একবারেই শেষ। প্রিয় সহ-ব্লগারবৃন্দ লক্ষ করুণ: বানানে ভুল কার হয় আর কার হয় না, সে বিষয়ে আমি কারোর সমালোচনা করতে চাই না। কারণ: আমি নিজেই একজন ভুলের রাজা, “ভুল বানানের লেখক আমি”, আমার প্রত্যেকটি লেখায় বানানে ভুল থাকা চাই-চাই। বানানে ভুল না হলে আমার মোটেই ভালো লাগে না, করণ: আমি ঘৃণিত হয়ে থাকতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।

তাই বলে আমার সম্মানিত সহ-ব্লগারদের বানানে বা লেখার লাইনে ভুল থাকবে, আর তা সংশোধন করতে পারবে না, তা কী করে হয়? এর জন্য আমি মনে করি, একজন স্বনামধন্য লেখকের সম্মানহানির কারকতা ও ব্লগ কর্তৃক লেখকের স্বাধীনতা হরণ করা। যেমন: ক’দিন আগে আমাদের বিডিনিউজ ব্লগের সম্মানিত ব্লগার/লেখক জনাব আব্দুর রাজ্জাক সাহেব একটা পোস্ট করেছিলেন, সেই পোস্টের কোন এক জায়গায় হয়তো একটা বানান ভুল ছিল।

সেই ভুল সংশোধনের জন্য জনাব আব্দুর রাজ্জাক সাহেব, বহু চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে সহ-ব্লগার জনাব জাহেদ-উর-রহমান, এর শরণাপন্ন হয়ে একটা মন্তব্যে তিনি লিখেছিলেন, জাহেদ ভাই আমি সম্পাদনা করতে পারছি না, এর পরামর্শ কি? প্রত্যুত্তরে আমি লিখেছিলাম, সম্মানিত আব্দুর রাজ্জাক দাদা, এটা টেকনিক্যাল সমস্যা হতে পারে, আশা করি দুএকদিনে মধ্যে হয়তো সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। এর একদিন পর আমি এক বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পারলাম যে, লেখা লিখে শেষ করে, ভালো করে চেক করে, লেখা পর্যালোচনার জন্য জমা দিতে হবে। ব্লগপোষক মহোদয় লেখা প্রকাশ করে দেয়ার পর, সেই লেখা আর এডিট বা সম্পাদনা করা যাবে না, যা সবার জন্য এই নিয়ম বলবৎ থাকল।

হায় কপাল আমার! আমার লেখায় তো ভুল বানানের শেষ নেই, লেখা প্রকাশের পরও আমি আস্তে-ধীরে সেই ভুল বানানগুলি সম্পাদনা করে ঠিক করি, এখন উপায়? যদি লিখতে চাই প্রধানমন্ত্রী, হয়ে যায় যদি “প্রধানমন্ত্র” তাহলে কী হবে? যদি লিখতে চাই রাষ্ট্রপতি, হয়ে যায় যদি “রাষ্ট্রপত্র” তাহলে সম্পাদনার সিস্টেম যদি না থাকে তবে কী হতে পারে? মহা মুশকিল ৷ এরকম অবস্থা দেখে, লোকমুখের একটা কথা মনে পড়ে যায় ৷ কথাটা হলো, “বিনা পয়সার খাটুনি, কেন এত হাটুনি?” অর্থ; বিনা মুজরীতে খাটবো, তো এত হাঁটতে হবে কেন? ৷ যাই হোক, ব্লগে আমার মত ভুল বানানের লেখকেরা কি আর লিখতে পারবে? মোটেই না। এমন নিশ্চয়তা নাই যে, লেখা প্রকাশের সময় ব্লগটিম বা সম্মানিত ব্লগপোষক মহোদয় দয়া করে পুরো লেখাটা পড়ে বানানগুলি ঠিক করে দিবে। দিতে পারে হয়তো লেখার শিরোনামের বানানে যদি দু’একটা বর্ণ বা শব্দ ভুল থাকে, এর বেশি তো আশা করা যায় না ব্লগটিম বা ব্লগপোষক মহোদয়ের কাছ থেকে।

তাহলে উপায় কী? নিজের লেখায় যদি সম্পাদনার সিস্টেম বা অপশন না থাকে, সেক্ষেত্রে ব্লগটিম কি ভুল বানানগুলি সংশোধন করে দিবে? যদি ব্লগটিম বা সম্মানিত ব্লগপোষক মহোদয় লেখার বানানগুলি চেক করে, সংশোধন করে দেয়, তাহলে তো আর আনন্দের শেষ নেই আমাদের। আর যদি ব্লগটিম বা ব্লগপোষক মহোদয় সেই গ্যারান্টি না দেয়, তাহলে ব্লগটিম বা সম্মানিত ব্লগপোষক মহোদয়ের কাছে হাতজোড় করে অনুরোধ করবো, বিডিনিউজ ব্লগের সম্মানিত সকল ব্লগার/লেখকদের লেখায়, আগের মত সম্পাদনা করার সুযোগ করে দিয়ে, ব্লগার/লেখকদের লেখার উৎসাহ দিন, এরকম একটা সুন্দর সিস্টেম এই বিডিনিউজ ব্লগ থেকে আউট করে দিবেন না ৷ এতে করে ব্লগার/লেখকবৃন্দ ব্লগে লেখার উৎসাহ হারিয়ে ফেলবে নিশ্চিত ৷ সম্মানিত ব্লগপোষক মহোদয়, আগের মত ব্লগের সবরকম সিস্টেম বহাল রাখুন ৷ ছোট-বড় সবাইকে লিখতে দিন, সবাইকে নিজ এলাকার সমস্যার কথা তুলে ধরতে দিন, মানুষের মনের ভাব প্রকাশ করতে সাহায্য করুন সুন্দর ও সহজ ভাবে ৷ সবাই লেখুক মন ভরে আর প্রাণ খুলে হাসি আনন্দে মেতে থাকুক ব্লগের লেখা নিয়ে।