ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

রোজকার মতো সকালে ঘুম থেকে ওঠে দোকানে নাস্তা সেরে অফিসে যাই। অফিসের কাজ শেষ হতে না হতেই শুনি হৈ-হাল্লা। কী হয়েছে? হয়েছে, রেললাইনের পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ ঘরবাড়ি ভেঙ্গে ফেলছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। তবে অনেকেই না জেনে ভয়ে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে, এই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরোটা গোদনাইল এলাকায়। চৌধুরীবাড়ি রেললাইন আদর্শ বাজারের আশেপাশের প্রায় দোকানদার তাঁদের দেকান বন্ধ করে চারদিকে চোখ রাখছে নিজের দোকানটা রক্ষা করার জন্য। রেললাইনের পাশে বাসবাসকারী লোকজনের একইরকম অবস্থা দেখা যায়। আসল ঘটনাটা কী? সেটা খুব কম লোকেরই অজানা। অবশ্য পরে হয়তো জেনেছে সবাই।

IMAG0160_1
ঘটনাস্থলে গিয়ে জানলাম, আসল ঘটনা হলো নারায়ণগঞ্জ চাষাড়া হতে সিদ্ধিরগঞ্জ বিশ্ব গোডাউন পর্যন্ত যে রেললাইন আছে, বর্তমানে সে রেললাইনের দুইপাশে গড়ে ওঠেছে বহু অবৈধ স্থাপনা। সাথে আছে রেলওয়ে থেকে লিজ নেওয়া জায়গা। মনির ভুঁইয়া নামের একব্যক্তি রেলওয়ে থেকে জায়গা লিজ এনে জায়গা দখল করতে পারছিলেন না অবৈধ দখলদারের জন্য।

জানা যায়, ১৯৮৭ সালে এক ব্যক্তি রেলওয়ে থেকে জায়গা লিজ নিয়ে সেই জায়গা এলাকার কয়েকজনের কাছে বিক্রি করে দেয়। সেই লিজের সময়সীমা ছিল ২০১৪ সাল পর্যন্ত। একবছর পর, ২০১৫ সালে সেই জায়গা আবার এলাকার মনির ভুঁইয়া নামে একব্যক্তি রেলওয়ে থেকে লিজ নিয়ে নেয়। কিন্তু লিজ নেওয়ার পর মনির ভুঁইয়া জায়গা নিজের দখলে নিতে না পেরে রেলওয়ের কাছে লিখিতভাবে নালিশ করে। মনির ভুঁইয়ার আবেদন পেয়ে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ মনির ভুঁইয়াকে লিজের কাগজপত্র নিয়ে নিকটস্থ থানায় মামলা করতে বলেন।

IMAG0161_1
রেলওয়ের পরামর্শমতে মনির ভুঁইয়া তার লিজের কাগজপত্র নিয়ে থানায় মামলা করে। তারপর মামলার (ফটোকপি) কাগজপত্র আবার রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেয়। জামা দেওয়ার দীর্ঘদিন পর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ গত চার-পাঁচ দিন আগে অবৈধ দখলদার ও আগের লিজ নেওয়া ব্যক্তিকে জায়গা ছাড়ার জন্য নোটিশ দেয়। কিন্তু নোটিশ পাওয়ার পরও দখলদারি ব্যক্তিরা জায়গা ছাড়ছিলেন না। তাই আজ ১৯মার্চ রোজ বুধবার সকাল ১০ ঘটিকার সময় রেলওয়ের নিজস্ব ফোর্স আর সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে আসে মনির ভুঁইয়াকে জায়গা বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য। এই অবৈধ দখলদারকে উচ্ছেদ করার জন্য রেলওয়ে পুলিশের সাথে ছিল সিদ্ধিরগঞ্জ থানার প্রায় দুই প্লাটুন পুলিশ।

IMAG0165_1
পুলিশ ঘটনাস্থলে এসেই লিজ দেওয়া জায়গায় গড়ে ওঠা স্থাপনাগুলো ভাঙ্গতে শুরু করে। তখন পুলিশি অভিযানে স্থাপনা ভাঙ্গার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পরলে এলাকায় একধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। এমনিতেই গোদনাইল এলাকাটি বিশাল বড়, লোকসংখ্যাও কম নয়। আবার চাষাড়া থেকে সিদ্ধিরগঞ্জ পর্যন্ত রেললাইনের পাশদিয়ে পাকা রাস্তা তৈরির কাজ চলছে কয়েকমাস ধরে। রাস্তার কাজের জন্য কিছুকিছু ঘরবাড়িও ইতিমধ্যে ভাঙ্গা হয়েছে। তাই সবাই মনে করছিল যে, এই রাস্তার তৈরির জন্যই মনে হয় ঘরবাড়ি ভাঙ্গা হচ্ছে। ভাঙ্গার গুজব ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন জায়গা থেকে স্থাপনা ভাঙ্গার দৃশ্য দেখার জন্য ঘটনাস্থলে এসে মানুষ ভীড় জমায়। শুরু হয় নানাজনের নানানরকম কথা। কেউ বলে রেললাইনের পাশের ঘরবাড়ি ভাঙ্গছে। কেউ বলে, ওখান থেকেই ভাঙ্গা শুরু করছে আস্তে আস্তে সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। কেউ হায়হায়, কেউ কান্নাকাটি, কেউ করছে দৌড়াদৌড়ি। আসলে কিছুই-না, রেলওয়ে পুলিশ ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পুলিশ তাঁদের কাজ করছে, শুধুশুধু মানুষের মনে বিরাজ করছে আতঙ্ক।