ক্যাটেগরিঃ ব্লগার উৎপল চক্রবর্তী স্মরণে, ব্লগালোচনা

 

utpal-pro_2-229x285
আমাদের উৎপল’দা, হাস্যোজ্জল মায়া ভরা একমুখ । হাসি যার জীবনসঙ্গী, কৌতুকভঙ্গি কথা আর সবার সাথে হাসি তার থাকবেই থাকবে । অত্যন্ত সুচিন্তিত, নম্রস্বভাব সুলভ একজন মানুষ, ব্লগ ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ব্লগার/লেখক উৎপল চক্রবর্ত্তী । হ্যা, বলছিলাম, ব্লগ ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রশংসা কুড়ানো ও অনলাইন ভিত্তিক দিনপত্রীতে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ‘কুমিল্লার ‘মাতৃ ভাণ্ডার’ রসমালাই, একটি বিশ্বরেকর্ড এবং জিআই নিবন্ধন’ পোস্টখানার লেখক উৎপল চক্রবর্তীর কথা । যেই লেখাটির শিরোনামেই ‘বিশ্বরেকর্ড’ সেই রেকর্ড আমাদের বিডিনিউজ ব্লগেরও । এই পোস্টের মোট মন্তব্য ছিল ৩৮ পঠিত সংখ্যা ছিল ৩৬৮৭৮,এই থেকে আমরা বুঝিতে পারি উনি উৎপল চক্রবর্তী কেমন অসাধারণ লেখা লিখতে পারেন । আবার যিনি লিখে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন আমাদের সবাইকে নাগরিক সাংবাদিকতা কাকে বলে । লেখাটি ছিল এইরকম ‘নাগরিক সাংবাদিকতা ও নাগরিকের দায়’ উৎপল দা’র লেখা পড়েই বুঝেছিলাম নাগরিক সাংবাদিকতা কী এবং কীভাবে? লেখাটি ছিল বিশাল তথ্যবহুল, লেখাটির মন্তব্য ছিল ৬১ পঠিত ছিল ১৮০০ ।

উনি এই ব্লগ ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে নিবন্ধিত হয়েছেনঃ বৃহস্পতিবার ০৫ মার্চ ২০১৫, সর্বমোট পোস্ট করেছেনঃ ৫০টি, উৎপল দা’র প্রথম লেখা ছিল ‘না শোনা গান ,সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় -“বঙ্গবন্ধু ফিরে এলে তোমার স্বপ্নের স্বাধীন বাংলায়”। ওনার প্রায় সবগুলো লেখায় থাকে তথ্যসমৃদ্ধ, বাচনভঙ্গি আলোচনা ও পরামর্শ-যুক্ত, এবং অনেক বড় আকারের লেখা । ব্লগে ওনার সর্বশেষ লেখাটিও ছিল একইরকম ‘এইচএসসি পরীক্ষা শেষের সাথে সাথেই হতে পারে মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষা’। এই লেখনীতে উনি পরামর্শ দিয়েছেন এইচএসসি পরীক্ষার শেষে মেডিকেলে ভর্তি ইচ্ছুক ছাত্রছাত্রীদের করনীয় কী হতে পারে, আর কী করতে হবে! বিশাল তথ্যসমৃদ্ধ পোস্টখানায় উনি তা পরিষ্কারভাবে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন । উনি লেখার মধ্যেও ছিলে অত্যন্ত পরিশ্রমী ও চিন্তাশীল।
13641169_10206360457718472_2802080313371487547_o-380x285
সেই উৎপল দাদাকে আজ বিষণভাবে মনে পড়ছে, মনে পড়ার কারণটা সবারই জানা । যিনি গত ৩০ এপ্রিল ২০১৭ ইং ঢাকার এলিফ্যান্ট রোডে বহুতল একটি ১২তলা ভবনের নিচতলায় এসির শীতাতপ নিয়ন্ত্রক যন্ত্রের কম্প্রেসার বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরে ঢাকা লালমাটিয়া সিটি হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে শুয়ে শুয়ে কাতরাচ্ছেন । আমি খবরটা আঁচ করতে পেরেছিলাম, আমাদের ব্লগের তুখোড় লেখক গুরুতুল্য  সুকান্ত দাদা’র একটা ফোনকলের মাধ্যমে । সুকান্ত দাদা আমাকে সরাসরি উৎপল দাদা’র কথা কিছু বলেননি, সুকান্ত দাদা, আমার কাছে সিলেটের সুমন দাদা’র ফোন নম্বর চাইলেন । পরে জানতে চাইলেন উৎপল দা’র ফোন নম্বর আমার কাছে আছে কিনা? আমি সুকান্ত দাদাকে বললাম, দাদা আমার মোবাইলটা হারিয়ে যাওয়ার ফলে মোবাইলে থাকা সবার ফোন নম্বর-ই হারিয়ে ফেলেছি । তবে দাদা, আমি কিছুক্ষণের মধ্যেই ‘সুমন’ দা’র ফোন নম্বর সংগ্রহ করে আপনাকে দিচ্ছি, বললাম সুকান্ত দাদাকে ।

এরপর আমি ফেসবুকে লগইন করে ‘সুমন’ দা’র কাছে ওনার ফোন নম্বর চেয়ে ওনাকে মেসেজ দেই, পরপর দুটি । কিন্তু কোনো প্রত্যুত্তর না-পেয়ে আবার বিডিনিউজ ব্লগে প্রবেশ করি । এর আগের দিন সুমন’দা বিডিনিউজ ব্লগে একটা পোস্ট করেছিলেন, পোস্টের শিরোনাম ছিল ‘১৯৯০ সালের পর বাংলাদেশে ছাত্র সংসদ নির্বাচন কেন হচ্ছে না’? সেই পোস্টে প্রথম মন্তব্যখানা আমিই দিয়েছিলাম সুমন’দার পোস্ট তাই মনে করে। সেই পোস্টে দেখি দুটো মন্তব্য, আমি ভাবলাম সুমন’দা হয়তো আমার মন্তব্যের প্রত্যুত্তর দিয়েছেন । কিন্তু না, উনি সুমন’দা উৎপল দাদা’র অগ্নিদগ্ধ হওয়ার খবর ওনার লেখার মন্তব্যের বক্সে আপডেট করেছেন ।

আপডেট খবরটা ছিল এরকম,

( ঢাকায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রে বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৪
ঢাকার এলিফ্যান্ট রোডে বহুতল একটি ভবনের বিস্ফোরণে চারজন দগ্ধ হয়েছেন। রোববার সন্ধ্যায় ওই চারজনকে আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। এদের মধ্যে আমাদের জনপ্রিয় নাগরিক সাংবাদিক উৎপল চক্রবর্তী আহত হয়েছেন ) ।

এই আপডেট খবর দেখেই আমি দ্বিতীয় মন্তব্য লিখে বিডিনিউজ ব্লগ থেকে বাহির হয়ে লগইন করি ফেসবুকে । ফেসবুকে সুকান্ত দাদাকে মেসেজ দিয়ে জানতে চাইলাম, উৎপল দাদা’র দগ্ধ হওয়ার খবর জানেন কিনা? বললেন জানি, তবে পুরোপুরিভাবে জানতে পারতাম যদি সুমন’দার ফোন নম্বরটা থাকতো । আমি পরে সম্মানিত আইরিন সুলতানা দিদির কাছে ফোন করলাম, জিজ্ঞেস করলাম উৎপল দাদা’র কথা । বললেন, হাঁ দাদা, আমিও শুনেছি উনি উৎপল‘দা দগ্ধ হয়েছেন । আমি সার্বক্ষণিকভাবে এ-ব্যাপারে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করছি ওনার পরিবারবর্গের সাথে । আগামীকাল হয়তো ঢাকা লালমাটিয়া সিটি হাসপাতালে যেতে পারি, বললেন আইরিন দিদি । আমি আইরিন দিদিকে বললাম, ঠিক আছে দিদি, আমিও দেখি আসতে পারি কিনা । যদিও বর্তমানে আমার শারীরিক অবস্থা বেশি ভালো না, তবু আসতে পারি উৎপল’দাকে দেখতে । পরে আইরিন দিদির সাথে মোবাইল ফোনে কথোপকথনের বিষয়বস্তু সুকান্ত দাদাকে জানালাম । সুকান্ত দাদা আমাকে বললেন, আপনার শারীরিক অবস্থা ভালো না, আপনি লালমাটিয়া সিটি হাসপাতালে যাবেননা । সুকান্ত দাদা’র পরামর্শ আমি ভাবছি, আর দুচোখে শুধু উৎপল দাদাকেই দেখছি ।

তারপর থেকে আমার আর সারারাত ঘুম হয় নাই, শুধুই ভাবছি উৎপল দাদা’র কথা । আমি যখন কয়েকমাস আগে চোখের সমস্যায় পড়েছিলাম, সেই সমস্যা নিয়ে ঢাকা আগারগাঁও জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইন্সটিটিউট হাসপাতালে কয়েকদিন দৌড়াদৌড়ি করেছিলাম । তখন একদিক দুপুরবেলা অচেনা নম্বরে আমার মোবাই ফোনে রিং বাজছিল, আমি ফোন কলটি রিসিভ করে প্রথমেই নমস্কার জানাই । অপর প্রান্ত থেকে বলছিল, আমাকে চেনেন? নমস্কার জানালেন? আমি বললাম, অপরিচিত একজন লোককে নমস্কার জানানো অপরাধের কিছুই নেই দাদা, বলুন আপনি কে? হেসে বললেন, আমি উৎপল চক্রবর্তী, চিনেছেন? আমি কিছুক্ষণ ভাবনার সাগরে সাঁতার কাটছিলাম, কে এই উৎপল চক্রবর্তী? অপর প্রান্ত থেকে আবার বলছিল, আমি বিডিনিউজ ব্লগের উৎপল চক্রবর্তী । আপনি নিতাই’দা তাইনা? তখন আমার চিনতে আর দেরি হলো না । বললাম, হ্যা দাদা আমি আপনাকে চিনতে পেরেছি, বলুন কেমন আছেন? বললেন, আমি ভালো আছি, আপনার চোখের অবস্থা কী? এখন কেমন? ডাক্তার কী বলেছে? আরও অনেক কথা। কথা বলার এক ফাঁকে বললেন, আপনি সময় মতো ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসতে পারবেন? আসতে পারলে আমি আপনাকে চোখের চিকিৎসায় সাহায্য করতে পারি। আমি উৎপল দাদা’র জিজ্ঞাসার প্রত্যুত্তরে বললাম, দাদা আমি তো এখন চক্ষুবিজ্ঞান হাসপাতালের ডাক্তারদের চিকিৎসাধীন, এখন তো আর আসতে পারছিনা । তা পরে দেখা যাবে দাদা । হেসে বললেন, আচ্ছা ঠিক আছে, পরে আমাকে বিস্তারিত জানাতে ভুলবেন না যেন!

যখন আমি চোখের অসুখে পড়েছিলাম, তখন ব্লগের লেখক ফারদিন ফেরদৌস দাদা আমার আশু সুস্থতা কামনায় বিডিনিউজ ব্লগে একটা পোস্ট আপডেট করেছিলেন । সেই পোস্টের শিরোনামটা ছিল ‘নিতাই বাবুঃ তোমার দৃষ্টি ছোঁবে অসীম আকাশ’ । সেই পোস্টের লেখা দেখেই উৎপল‘দা চিন্তিত হয়ে আমার কাছে ফোন করে জানতে চেয়েছেন, আমার চোখের কী অবস্থা, কেমন আছি ।

 

এরপর গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ব্লগের ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ‘নগর নাব্য-মেয়র সমীপেষু’ বইয়ের মোড়ক উম্মোচনের দিন ভাগ্যক্রমে উৎপল দাদা’র সাথে প্রথম সাক্ষাৎ হয় । দেখলাম খুব সামনে থেকে হাস্যোজ্জল চেহারার মানুষটিকে, যেন বহুদিনের চেনা-জানা খুব কাছের একজন মানুষ আমরা । সামনে এসেই আমার অজান্তে ঝাঁপটে ধরে বললেন, নিতাই’দা কেমন আছেন? আমিও জাপটে ধরে বললাম, ভালো আছি দাদা, আপনি কেমন আছেন? উৎপল‘দা একটু উচ্চস্বরে বলে ফেললেন, দূর রাখেন আমার ভালো আর খারাপ, আপনার চোখের অবস্থা কী? বললাম, এখন শুধু একটা চশমার জোরে চলছি দাদা, এখনো পুরোপুরি সুস্থতা লাভ করতে পারি নাই । সেদিন উৎপল দাদা’র সাথে আরও অনেক কথা হয়েছে, হয়েছে অনেক কিছু, হাসি-ঠাট্টা আনন্দ-পূর্তি । ব্লগের ষষ্ঠ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আমার সম্মাননা প্রপ্তিতে অন্যান্য ব্লগার/লেখকদের মতো উৎপল দাদাও খুবই খুশি হয়েছিলেন ।

আজ সেই মানুষটি ভাগ্যদেবতার নির্মম কষাঘাতে অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাসপাতালে শুয়ে শুয়ে কাতরাচ্ছে এটা প্রথমে বিশ্বাস করতে একটু কষ্ট হচ্ছিল । অবিশ্বাস্য হলেও সত্যকে মেনে নিতে হয়েছে বিভিন্ন দিনপত্রীর খবরাখবর দেখে । বারবার মনে পড়ছিলো উৎপল দাদা’র কথা, সেদিন রাতে কিছুতেই আর ঘুম আসছিল না । কয়েকবার উৎপল দাদা’র মোবাইল ফোনেও কল দিয়েছিলাম, দুবার রিং বেজেছিল, তারপর বন্ধ। তারিখ ছিল ৩০ এপ্রিল ২০১৭ রবিবার । পরদিন পহেলা মে ২০১৭ সোমবার, খুব ভোরবেলায় ঘুম থেকে উঠে সোজাসুজি চলে গেলাম অফিসে । শর্টকাটে অফিসের কাজ সেরে প্রস্তুতি নিয়েছি ঢাকা লালমাটিয়া সিটি হাসপাতালে যাওয়ার জন্য । সময় সকাল ১০.৩০ মি: বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছি চৌধুরীবাড়ি বাসস্ট্যান্ডে ।

ফোন করলাম গুরুমশায়ের কাছে, ফোন রিসিভ করলেন । বললেন, নিতাই’দা বলেন কী খবর? বললাম, গুরুমশাই উৎপল দাদা কেমন আছে তা আপনি কিছু জানেন? আমার গুরুমশাই বললেন, হ্যা, শুনেছি যেমনটা আপনি শুনেছেন, আমিও ঠিক তেমনটাই শুনেছি । বললেন, আপনি এখন কোথায়? আমি বললাম, আমি উৎপল দাদাকে দেখার জন্য ঢাকা আসার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে চৌধুরীবাড়ি বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে আছি । আমার কথা শুনে আমার গুরুমশাই আমাকে বললেন, আপনি আসবেন তাহলে? বললাম, হ্যা গুরুমশাই আমি আসার জন্য প্রস্তুত । গুরুমশাই বললেন, ঠিক আছে আসেন তাহলে, আমিও আপনার সাথে আছি । ঢাকা এসেই আমাকে ফোন দিবেন, আমরা একসাথেই হাসপাতালে প্রবেশ করবো । বাসে বসেই আমার মহাগুরুকে জানালাম। জানালাম, ফারদিন ফেরদৌস দাদাকে, কাজী শহীদ শওকত দাদাকে, মজিবর রহমান দাদাকে, সুকান্ত দাদাকে

ঢাকা লালমাটিয়া সিটি হাসপাতাল যেতে সময় ব্যয় হয়েছে একঘণ্টা , সময় তখন ১১.৩০ মি: । সিএনজি থেকে নেমেই গুরুমশাই‘কে ফোন দিলাম, বললেন, আপনি হাসপাতালের আশেপাশে অপেক্ষা করেন আমি আসছি । একটু পরেই মজিবর দাদা ফোন দিলেন । বললেন দাদা, আপনি এখন কোথায়? বললাম, আমি সিটি হাসপাতালের সামনে অবস্থান করছি । মজিবর দাদা বললেন, আমাকে গুরুমশাই ফোন করে বলেছে আপনি আসছেন উৎপল’দাকে দেখতে । তাই আমিও আসছি, গুরুমশাই আসবে একসাথেই হাসপাতালে ঢুকে উৎপল’দাকে দেখবো । এদিকে সুকান্ত দাদা খানিক পর মোবাইল ফোনে আমার অবস্থান সম্পর্কে জানতে চেয়ে বললেন, আমিও সকালবেলা সিটি হাসপাতালে গিয়েছিলাম উৎপল দাদাকে দেখতে । কিন্তু ওখানকার নিয়মকানুনের জন্য আর উৎপলদা’র সাথে দেখা হয় নাই। সুকান্ত দাদা আমাকে একটা ফোন নম্বর দিয়ে বললেন, এই নম্বরে ফোন করলেই উৎপল দা’র ছোটভাইকে পাবেন । সেই নম্বরে ফোন করেছিলাম, কিন্তু তখন মোবাইলটা ছিল বাসায়, কল রিসিভ করেছে বৌদি, বললেন উনি বাসায় আসলে বলবো আপনারা সিটি হাসপাতালে আছেন ।

এভাবে সময় হয়ে গেল প্রায়  ১টা, মজিবর দাদা আসলেন। এতক্ষণ নিজেকে খুবই একা একা লাগছিল, মজিবর দাদাকে পেয়ে মনটা সতেজ হয়ে উঠলো । দুজনে একটু ঘোরাফেরা করতে করতেই আসলেন আইরিন সুলতানা দিদি আসলেন। একটু পরেই আসলেন আমার গুরুমশাই। চারজন একত্রিত হয়ে ঢুকলাম হাসপাতালে । অনুসন্ধান বক্সে গিয়ে আইরিন দিদি উৎপল দাদা’র সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করলেন।  যেখানে রোগির শরীরের ৩৫% পুড়ে গেছে, রোগি ৭২ ঘন্টার ডাক্তারের পর্যবেক্ষনে আছেন, সেখানে যাওয়াআসা তো কল্পনাতীত, তাই আর উৎপল দাদাকে দেখা হলো না । উৎপল’দাকে না-দেখতে পেড়ে মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে গেল, কিন্তু কিছু-ই-তো আর করার নেই ।

এরপর অনেকক্ষণ সেখানে ঘোরাফেরা করে মনে মনে উৎপল দাদা’র জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে মঙ্গলকামনা করে সিটি হাসপাতাল থেকে বিদায় নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু গুরুমশাই আর আইরিন দিদি কিছু না-খাইয়ে আসতে দিবে না । কী আর খাবো? আছে কচি ডাব, নিজেরও চলছে পেটের পীড়া, ভাবলাম ডাবের পানি তো পান করা যায়। তখন পাঁচজনে পাঁচটা কচি ডাবের পানি পান করে, আমি সেদিন ঢাকা লালমাটিয়া সিটি হাসপাতাল থেকে সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে চলে আসলাম ।

এখন উৎপল দাদা’র শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে যা কিছু জানতে পারছি, তা ব্লগের শফিক মিতুল দাদা’র পোস্ট থেকেই জানা হয় । এরমধ্যে উৎপল দাদা’র ছোটভাই-এর সাথে ফোনে মাঝেমধ্যে কথা হয়, তা থেকে বোঝা যায় উৎপল দাদা সবার ভালোবাসায় আর আশীর্বাদে অতি তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠবেন আশা করি । উনি সুস্থ হয়ে আবার ব্লগ ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে বুদ্ধিমত্তার সাথে তথ্যসমৃদ্ধ লেখা আমাদের উপহার দেবেন আশা করি । উৎপল চক্রবর্তী দাদা’র সুস্থতা কামনা করছি ।