ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 
p20170701-192010

ছবিটি ২৯ জুন মাওয়া টু কাঁঠালবাড়ি রুটে চলাচলকারী একটা লঞ্চ থেকে তোলা।

শহরের রাস্তাঘাটে, হাট-বাজারে চলার পথে চোখে পড়ে সেনাবাহিনীর পোশাকের কাপড়ের তৈরি ব্যাগ ও হাফপ্যান্ট, ফুলপ্যান্ট। যখন দেখি আর চোখে পড়ে তখন একা একাই ভাবি, এটা কি আমরা ঠিক করছি? আমার ভাবনার উত্তর মেলে না। কেননা এই বাহিনীটা দেশের স্বনামধন্য এবং বিদেশ থেকে সুনাম অর্জনকারী বাহিনী। তাদের নিয়ে আমারা গর্বিত, যাদের রয়েছে শান্তিরক্ষা মিশনে আন্তরিকতা ও সাহসিকতার প্রচুর সুনাম। সেই বাহিনীর পোশাকের কাপড়, যা সরকারী কাপড়। সেই কাপড়ের তৈরি পোশাক শুধু তাদের গায়েই মানায়, সাধারণ মানুষের বেলায় নয়। কিন্তু আমরা তো তাদের পোশাকের কাপড় দিয়ে সবকিছুই বানাচ্ছি, এটা কি ঠিক? দেশে থাকা সেনাবাহিনীদের কী এই দৃশ্য চোখে পড়ে না? মনে হয় তারা এসব দেখেও দেখেন না।

এরকম ভাবনা আর প্রশ্ন আমার সবসময়ই মাথায় ঘুরপাক খায়, মনে ব্যাথাও লাগে। যখন দেখি জনসাধারণের হাতে বা কাঁধে ওই কাপড়ের তৈরি ব্যাগগুলো, তখন খুবই খারাপ লাগে। কিন্তু আমার এই মিছেমিছি খারাপ লাগা বা ভাবনা শুধু নিজেকেই কাতর করে দেয়, ভাবনা বা চিন্তার নিষ্পত্তি হয় না। এইতো সেদিনও মেয়ের বাড়ি যেতে সেনাবাহিনীর পোশাকের কাপড়ের তৈরি কয়েকটা ব্যাগ চোখে পড়ল। চলন্ত বাসে ভীড়ের কারণে আর ছবি তুলতে পারিনি। মেয়ের বাড়ি থেকে আসতেও দেখলাম, ওইরকম ব্যাগ সাধারণ মানুষের কাছে।

IMAG0941~3
.

সেদিন মেয়ের বাড়ি থেকে আসার সময় বাস থেকে নামলাম কাঁঠালবাড়ি ফেরিঘাটে। উঠলাম মাওয়া রুটের একটা দোতালা লঞ্চে। লঞ্চ ছাড়ার কিছুক্ষণ পর ছবি তোলার উদ্দেশ্যে আমি লঞ্চের নীচ থেকে গেলাম উপরে। লঞ্চের উপর থেকে এদিক সেদিক তাকিয়ে পদ্মা নদির মাঝে জেগে ওঠা চরের ছবি তুলছি ইচ্ছেমত। হঠাৎ করে আমার চোখ পড়লো মানুষ বসার একটা টেবিলের উপরে, দেখলাম একটা ব্যাগ, যেটি সেনাবাহিনীর পোশাকের কাপড় দিয়ে তৈরি।

এ ধরণের ব্যাগ যখনই চোখে পড়ে, তখনই এ বিষয়ে কিছু জানতে মন চায়। জানার জন্য ব্যাগ বহনকারীকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘এই ব্যাগ আপনি কোত্থেকে কিনেছেন? ব্যাগটা খুবই সুন্দর, তাই জিজ্ঞেস করলাম।’ আরও জিজ্ঞেস করলাম, ‘আপনার কোনো প্রিয়জন সেনাবাহিনীতে চাকরি করে কি না?’ জবাবে লোকটি বললেন, “আমি এই ব্যাগটি ঢাকার একটা ব্যগের দোকান থেকে কিনেছি, আর আমার কোনো আত্মীয়স্বজন সেনাবাহিনীতে চাকরি করে না।”

এ বিষয়ে আরও জানতে ইচ্ছে করে, যা জানতে চাইব বা যার কাছ থেকে জানবো, এমন মানুষ খুবই কম। তাই আর জানা হয় না, অজানাই রয়ে যায়। তাই জানতে চাই, দেশবিদেশ থেকে সুনাম অর্জনকারী, আমাদের গর্বিত সেনাবাহিনীর পোশাকের কাপড় দিয়ে তৈরি নানারকম জিনিস বানানো কতটা যুক্তিযুক্ত? সে বিষয়ে আমি কিছু জানতে চাই, বুঝতে চাই। কারণ, আমি এ বিষয়ে খুবই অজ্ঞ, তাই।

পোষাক তো ভালো জিনিশ, যা থাকে মানুষের দেহে পেঁচানো। মানুষের দেহে পেঁচিয়ে রাখা মানে, সে জিনিশটাকে সম্মান করা। আর যদি তৈরি করা হয় জনসাধারণের মালামাল বহনের ব্যাগ, তাহলে দেখতে কেমন লাগে? সেই পোশাক তৈরির কাপড়কে সম্মান বা গুরুত্ব না দিয়ে, সেনাবাহিনীর পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলি পোশাক তৈরির পর বাড়তি কাপড়গুলো তারা বাইরে বিক্রি করে দেয় বিভিন্ন তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক মালিকদের কাছে। তারা কিনে নেওয়া কাপড়গুলো দিয়ে, তাদের মনোমতো করে জামা, প্যান্ট, ব্যাগ সহ কাপড় জাতিয় নানারকম জিনিস তৈরি করে বাজারে চালান করে।

যার কারণে আজ আমাদের গর্বিত সেনাবাহিনী সহ আরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পোশাকের কাপড় দ্বারা তৈরিকৃত জিনিসগুলো আমরা হাট-বাজারে দেখতে পাই। যদি সেনাবাহিনীর পোশাক প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো বিভিন্ন পোশাক প্রস্তুতকারকদের কাছে ওই বাড়তি কাপড়গুলি বিক্রি না করে ওই কাপড়গুলো যদি পুড়ে ফেলা হতো, তাহলে আর আমরা ওইসব সম্মানী কাপড়ের তৈরি জিনিসপত্র বাজারে পেতাম না, কিনতেও পারতাম না।

দেশের সেই স্বনামধন্য সেনাবাহিনীর পোশাকের কাপড় দিয়ে যদি, পায়ের নীচে ফেলে রাখার জিনিস তৈরি করা হয়, তাহলে সেটা দেখতে কেমন লাগে? অনেকের কেমন লাগে তা আমার জানা নেই, তবে আমার কাছে খুবই খারাপ লাগে। কেননা, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষাকারী বাহিনীর পোশাকের কাপড় থাকা চাই সবার সম্মানের চোখে। যেই পোশাক পড়া জোয়ানরা জীবন বাজি রেখে দেশ-বিদেশ থেকে সুনাম ও সম্মান কুড়িয়ে আনছে, তাদের কুড়িয়ে আনা বৈদেশিক সম্মান বিলিয়ে দিচ্ছে বাংলার প্রতিটি মানুষের কাছে। অথচ তাদের সম্মানের কাপড়কে আমরা সম্মান না দিয়ে সেই পোশাকের কাপড় দিয়ে তৈরি করছি নানারকম জিনিসপত্র!

সময় সময় বাজারে সেই পোশাকের কাপড়ের তৈরি, ছেলেদের হাফপ্যান্টও চোখে পড়ে। এগুলো কী আমরা ঠিক করছি? নাকি আমাদের মনগড়া ভাবেই করে যাচ্ছি? মনে হয় আমরা মনগড়া ভাবেই করে থাকি। এ বিষয়ে জাতীয় সংসদে যদি একটা আইন পাশ করা থাকতো, তাহলে আর সেনাবাহিনীর কাপড় দিয়ে কোনো অসাধু ব্যবসায়ী জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য কোনকিছু তৈরি করতে পারত না। আইন না থাকার কারণেই আজ যেখানে সেখানে দেখতে পাই সেনাবাহিনীর পোশাকের কাপড়ের তৈরি করা জামা-প্যান্ট-ব্যাগ। সেসব নির্ভয়ে ব্যবহার করছে জনসাধারণ, মর্যাদা হারাচ্ছে আমাদের গর্বিত সেনাবাহিনীর পোশাকের কাপড়।