ক্যাটেগরিঃ চারপাশে

মায়ানমারে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কারণে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ব্যক্তিরা আশ্রয় নিতে চাইছে বাংলাদেশে। বাংলাদেশ তাদের ঢুকতে বাধা দিচ্ছে। জাতিসংঘ বলেছে বাংলাদেশ যেন মানবিক কারণে তাদের প্রবেশ করতে দেয়। আমার প্রশ্ন কেন তাদের ঢুকতে দিতে হবে ? এই বিষয়টা নিয়ে ইতিমধ্যে বিভিন্ন ব্লগ গুলোতে পক্ষে বিপক্ষে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। যারা এই বিষয়টার পক্ষে মতামত প্রদান করছে তাদের মনে রাখা উচিত রোহিঙ্গা সমস্যা আজকে হঠাৎ করে হইনি এই সমস্যা দীর্ঘ দিনের । প্রায় দুই দশক আগে থেকে বাংলাদেশে ঢুকে পড়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে এখনো প্রায় ২৫ হাজার নাগরিক টেকনাফের শরণার্থী শিবিরে অবস্থান করছেন। এর বাইরেও অনেকেই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছেন বিভিন্ন এলাকায়। যদিও পরবর্তীতে দাঙ্গা শেষ হলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বারবার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি জানানো হলেও তাতে সাড়া দেয়নি মিয়ানমার।

ঠিক আছে মানবিক কারণেই রোহিঙ্গাদের শরনার্থী হিসেবে গ্রহণ করা উচিত এটা সবাই বলবে। কিন্তু এটাও ঠিক যে বাংলাদেশ অনেক আগে থেকেই এই ধরনের সমস্যা মোকাবেলা করছে এবং জাতিসংঘ এই সমস্যার সমাধান করতে পারে নাই। শরনার্থী শিবিরে রোহিঙ্গারা বসবাস করছে মানবেতর অবস্থায়। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে। কক্সবাজার, টেকনাফ সীমান্ত এলাকায় রোহিঙ্গা শরণার্থীরা যুক্ত হয়ে পড়েছে মাদক ব্যবসায়ের সাথে। চোরাপথে অস্ত্র ও মাদক ব্যবসায়ে রোহিঙ্গাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ আছে। তাছাড়া দেশে জঙ্গী শক্তি বিকাশে রোহিঙ্গারা সম্পৃক্ত তারও প্রমাণ আছে। অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যার জের বাংলাদেশকে বহন করতে হবে কেন?

অনেকে ধর্মের দোহাই দিয়ে মুসলিম রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে বলছেন। আমি মনে করি এক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটা ট্রানজিটের ভূমিকা নিতে পারে। বিশ্বের বড় বড় ধনবান মুসলিম দেশ সৌদিআরব,পাকিস্তান সহ অন্যান্য মুসলিম দেশ গুলো জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি ফ্লাইটে রোহিঙ্গাদের নিয়ে যাক। বাংলাদেশ সরকার প্রয়োজনে তাদের টেকনাফ থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত পরিবহণের ব্যবস্থা করবে। কিন্তু তাতে কি বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায় সাড়া দেবেন?

এখন জাতিসংঘের উচিত বড় বাক্য ব্যয় না করে মায়ানমার সরকার কে চাপ প্রয়োগ করে রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন বন্ধ করে তাদেরকে নিজ দেশে থাকার পরিবেশ নিশ্চিত করা। বাংলাদেশ নিজের সমস্যা সমাধানে যেখানে হাবুডুবু খাচ্ছে সেখানে অন্যের সমস্যা সমাধানে নিজেদের ঝামেলা বাড়াতে হবে কেন?

অযথা ধর্মের দোহাই দিয়ে যারা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার পাঁয়তারা করছে। তাদের কে অনুরোধ করব দয়া করে কক্সবাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করে আসুন । দেখে আসুন রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কতটুকু সমস্যা সৃষ্টি করে চলেছে।

দোহাই লাগে ধর্মের দিয়ে আর বিতর্ক সৃষ্টি করবেন না।

ছবিসুত্র: বিডি নিউজ ২৪ ডট কম

১৯ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. চট্টল পথিকের কলাম বলেছেনঃ

    গুরুজির বয়স কি ৫৫ পেরিয়েছে? যদি পেরোয় তাহলে পাঞ্জাবি তথা পাকিস্তানী বর্বর সৈন্যদের হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ, অগ্নি সংযোগ ইত্যাদির কথা মনে থাকার কথা। ভারত সে দিন আশ্রয় নাদিলে , আপনার মতো জাতিসংঘের দোহাই দিলে কি হতো ধারণা করতে পারেন? নাদান বা রাজাকার, আলবদর না হলে পারার কথা। শুধু ধর্ম নয়, মানবতার বিচারে রুহিঙ্গাদের আজ বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়া দরকার। আগে তাদের জীবন বাঁচান, পরে তাদের মানবেতর জীবন যাপন নিয়ে চিন্তা করবেন। রুহিঙ্গারা কি আসামের উলপা জঙ্গিবাদী যে তাদের আশ্রয় দেয়া যাবেনা? আসুন, আমরা আমাদের মানবিক মূল্যবোধকে বাঁচিয়ে রাখি।

    • সুলতান মির্জা বলেছেনঃ

      @চট্টল পথিকের কলাম, ভাল বলেছেন। এরা আসলে তো জামাত শিবিরের জন্য ভাল হয়। কম টাকায় আসলে কামলা পাওয়া যায়। আপনার মূল্যবোধ দেখে খুব আসচার্য না হয়ে পারলাম না। আচ্ছা ভাই, কিছু মনে না নিলে, আপনার কাছে কী এমন কোনও তথ্য আছে ভারতে এখনো কী পরিমাণ বাংলাদেশী শরণার্থী আটকে রয়েছে ? আর গত পচিশ বছরে মায়ানমার কী পরিমাণ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ফেরত নিয়েছে ? প্লীজ একটু জানাবেন। অযথা ধর্মের নামে বিতর্ক বাড়াবেন না।

      ভাল থাকুন ।

      ২.১
  2. হৃদয়ে বাংলাদেশ বলেছেনঃ

    @চট্টল পথিকের কলাম, পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর নৃশংস আক্রমনের মুখে প্রায় এক কোটি শরনার্থীকে ভারতে আশ্রয়দান জাতিসংঘের উদ্যোগে হয়নি, এবং সেই শরনার্থীদের ভারতে গমন ও স্থানীয় দাঙ্গায় ভীত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়া এক প্রেক্ষিত নয়। জাতিসংঘ রোহিঙ্গাদেরকে মায়ানমারের অভ্যন্তরে সুরক্ষা দিয়ে মানবাধিকারের পরাকাষ্ঠা করুক। রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়ার আহ্বানের পেছনে আন্তর্জাতিক রাজনীতি আছে। আমাদেরকে তা বুঝতে হবে।
    আমি সুলতান মির্জা এবং পাগল মনের সাথে একমত।

  3. উত্তর পুরুষ বলেছেনঃ

    ভাই, আরেকটু গোড়া থেকে ভাবি না কেন? সৌদী আরব, পাকিস্তান ও আরো কিছু মুসলিম দেশ ও শক্তি (জনগন নয়, তাদের ইন্টেলিজেন্স!) বেশ কিছুদিন আগ থেকেই চাইছিল আরাকান নিয়ে একটি “বাফার মুসলিম স্টেট” সৃষ্টি করতে, তাই ততকালীন জাতিসঙ্ঘের শরনার্থী বিষয়ক রাস্ট্রদুত প্রিন্স করিম আগাখানের বিরাট অনীহা ছিল রোহিঙ্গা দের ফেরত দিতে, আর সৌদী আরব রাবেতা আল ইসলামীর ও অন্যান্য সং গঠনের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের ভূখন্ডে রাখার চেষ্টা এখনো চালিয়ে যাচ্ছে যাতে তাদের ভবিষ্যতে কাজে লাগানো যায়! বর্মীরা এ তথ্য আগ থেকেই জানতো, এত দিন সামরিক লৌহ যবনিকার পেষনে সেটাকে ঠেকিয়ে রেখেছিল! সাম্প্রতিক কালে যুক্তরাস্ট্রের চীনের দক্ষিনে সাগর বরাবর চীন বিরোধী নতুন ভারত-মায়ানমার ব্যারিকেড তৈরীর প্রয়োজনে মায়ানমারে সামরিক শাসন ও বিভিন্ন যুক্তরাস্ট্র পন্থী দেশের বানিজ্য নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হচ্ছে! তার মানে দাঁড়ায় এই যে এতকাল মায়ানমারের সামরিক শাসনে যুক্তরাস্ট্রের গুপ্ত ও সর্বাত্মক সহযোগীতা ছিল (তা না হলে মায়ান মারের সামরিক জান্তা রাতা রাতি কি ভাবে ভদ্রলোক হয়ে গেল-যুক্তরাস্ট্র চাইলে দেখা যাচ্ছে সবই হয়!)! ফলে লোক দেখানো আমেরিকান গণতন্ত্র দিতে মায়ান মারের সামরিক শাসন তুলে নিতে হচ্ছে, তাই তারা তাদের শেষ কামড়ে যতদুর বেশী সংখ্যক মুসলমানকে আরাকান থেকে বের করে দিতে চাইছে যাতে করে “বাফার স্টেট” এর সম্ভাবনা কমে যায়! কিছুটা ১৯৪৭ সালের দেশভাগের আগ মুহুর্তে লাহোর আর অমৃতসরের মতো!
    সত্যি কথা বলতে কি, এই রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে প্রথম বেশী সংখ্যাতে আসা শুরু করে ১৯৭৮ সালে ততকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় থেকে, প্রায় ৩৪ বছর আগ থেকে! তাই এই সাম্প্রদ্বায়িক দাঙ্গা মায়ানমার সরকারের স্পন্সরশিপে লাগানো হয়েছে!
    উপসংহারে এটাই বলতে হয় যে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে হলে
    বাংলাদেশকেও শেষে সেই “বাফার স্টেট” কন্সেপ্ট এ মদদ দিতে হবে, রেঙ্গুন এর সাথে আরাকানের যোগাযোগ এত দূরুহ যে এটি খুব অল্প আয়াসেই করা সম্ভব যদি আমরা স্থায়ী ভাবে রোহিঙ্গা সমস্যা থেকে বাঁচতে চাই! কিন্তু এখন দৃশ্যপটের পরিবর্তন হয়েছে, যুক্তরাস্ট্র ও ভারত বাধা দিতে পারে (ভারতের নিজের অবস্থাই মিজোরামে নড়বড়ে, তাই ভারত তেমন কিছু করতে পারবে না, আর এইবার বাংলাদেশ পেতেই ব্যাপারে চীনের সমর্থন!
    প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে মায়ানমারের উত্তরের অপেক্ষাকৃত উন্নত কারেন জনগোষ্ঠী রেঙ্গুনের বিরুদ্ধে সর্বদাই আর তাদের একটি বিরাট সমর্থন রয়েছে থাইল্যান্ড ও পশ্চিমা দেশগুলোতে!
    এই মুহুর্তে বাংলাদেশকে মুখ ফুটে মায়ানমারকে হুশিয়ার করে দিতে হবে এই বলে যে তারা যদি রোহিঙ্গাদের শান্তিপুর্ন ভাবে আরাকানে বসবাস করতে না দিয়ে বাংলাদেশে পাঠায়, তা হলে বাংলাদেশ “বাফার স্টেট” তৈরীতে সমর্থন দেবে, দেখবেন মায়ানমার সুড়সুড় করে পথে চলে আসবে! এতা এত দিন বলা হয়নি বলে মায়ানমার রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয় নি, বরং আরো পাঠিয়েছে!
    এবার নিশ্চয়ই বোঝা যাবে কেন রোহিঙ্গারা ভারতে যায় না?

    • সুলতান মির্জা বলেছেনঃ

      @উত্তর পুরুষ , ঠিক বলেছেন আমি গতকাল রাতে এই বিষয়টা নিয়ে অনেক ওয়েব সাইট ঘাটা গাটি করেছিলাম। তবে একটা বিষয় খুব স্পষ্ট হয়েছি সেটা হলো এই দাঙ্গা মিয়ানমার সরকার এর সৃষ্টি রোহিঙ্গাদের দেশ থেকে বের করে দেওয়ার জন্য। যদিও আমাদের দেশ এর কিছু আবাল এখন সেই মানবতার আড়ালে আল রেডি আন্দোলন শুরু করে দিয়েছে। আপনার সাথে একমত পোষণ করছি। ভাল থাকুন।

      ৪.১
  4. জিনিয়া বলেছেনঃ

    মির্জা, আমি ও তোমার সাথে সহমত। বাংলাদেশ নিজেই তার বিশাল পরিবার এর বেসিক নীড মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে..সেখানে বাড়তি লোকের দায়িত্ব নেয়া ঠিক হবে না..এক্ষেত্রে বিশ্ব মাতবরের ভাষ্য কী?

  5. সুলতান মির্জা বলেছেনঃ

    গত ২ দিন ধরে উক্ত বিষয়টা নিয়ে সামহোয়ারইন ব্লগে জামাত শিবিরের চিহ্নিত ব্লগাররা রোহিঙ্গা শরণার্থী বিষয়ে জোর প্রচার প্রচারণা শুরু করে দিয়েছে। যে রোহিঙ্গা দের জায়গা দেওয়া হোক। এক বিশ্বস্ত সূত্রের মাধ্যমে জানতে পারলাম, গণসমাবেশ এর পরথেকে শিবিরের মিডিয়া সেলের ছেলেরা আপাতত বেকার রয়েছেন। আর তাই মগবাজার জামাত কার্যালয় থেকে মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের পক্ষে জোর প্রচার প্রচ্ছারনা চালানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  6. উত্তর পুরুষ বলেছেনঃ

    ভাই লেখক/জিনিয়া, আমাদের আরো কিছু কথা মনে রাখা দরকার আর সেটা লেখাও দরকার কারন একদিকে জাতিসঙ্ঘ আর অন্য দিকে জামাত শিবির মায় আমাদের ব্লগেরও কেউ কেউ এই রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেবার জন্যে
    নানাভাবে আন্দোলন, অনুরোধ, আবেদন, নিবেদন, প্রচ্ছন্ন ধমক আর লেখালেখি শুরু করেছেন! এদেরকে বাংলাদেশের স্বার্থেই মোকাবেলা করতে হবে আমাদের আর সে জন্যে বর্মা বা অধুনা মায়ানমারের কিছুটা “সিচুয়েশন আ্যানালাইসিসের” দরকার আছে, আপনারা নিশ্চয়ই জানেন, আমি তাও সামান্য লিখছি!
    বর্মা বা মায়ানমার বহু জাতিস্বত্ত্বার দেশ হওয়া সত্বেও দুটি বিভাজন সেখানে প্রবল, তার একটি হচ্ছে “লোয়ার বর্মা অধিবাসী” যারা বশীর ভাগই ২য় বিশ্ব যুদ্ধের সময় জাপানীদের সাথে হাত মিলিয়েছিল! একটু বেশী জটিল চরিত্রের মানুষ হিসেবে এদের দুর্নাম আছে! ঊত্তর বর্মায় বাস করে উন্নততর ব্যাবহারিক চরিত্রের জনগোষ্ঠি হিসেবে পরিচিত কারেন সম্প্রদায়, এদের অনেকেই খ্রীষ্ট ধর্মানুসারী! এখন পর্যন্ত রেঙ্গুনের শাসকদের কারেন বিদ্রোহী এলাকায় বিপুল পরিমানে সৈন্য রাখতে হচ্ছে তাদের ঠেকাতে, কারেনরা কিন্তু থাইল্যান্ড, আসিয়ানভুক্ত দেশ সমূহ ও পশ্চিমা দেশগুলোর সাহায্য এবং সহযোগীতা পেয়ে আসছে! চীনের সীমান্তের লেডোর কাছাকাছি এলাকাতে আর ইরাবতী নদীর বৃহত শাখা চিন্দুইন নদীর আশপাশে কারেনদেরই আধিপাত্য!
    তাহলে দেখা যাচ্ছে যে কারেনরাই আসলে মায়ানমার সরকারের মূল বিরোধী পক্ষ, তা ছাড়া দক্ষিনের বর্মীদের নিজেদের দলাদলি তো আছেই (যেমন সুচি কে নিয়ে!)
    তাই আরাকানের বর্তমানের এই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা রেঙ্গুনেরই পরিকল্পিত একটি সীমিত জাতিসত্ত্বা বিরোধী কার্যক্রম, যা তাড়িয়ে দেয়া যায় তাই তাদের লাভ, এর বেশী কিছু তারা তাদের লুঠেরা “লুন্টিন” বাহিনী দিয়ে এখন করতে সক্ষম নয়!
    ও হ্যা, পাকিস্তান, বাংলাদেশের জামাত ও জামাত পন্থী গোষ্ঠী সমূহ এবং কিছু আরব দেশ কিন্তু খানিকটে বাড়িয়েই চিন্তা করছে গত কয়েক দশক যাবত আর সেটি হচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ও আরাকানকে নিয়ে একটি মুসলিম রাষ্ট্র গঠন করার পরিকল্পনা, সেটি তখন একাধারে প্রাক্তন “পূর্ব পাকিস্তানের” চাইতেও ঘোরতর ভারত বিরোধী ভুমিকা রাখতে পারবে আর পাকিস্তানের সামরিক কুশলীদের “পূর্ব পাকিস্তান” হারানোর দুঃখে সান্তনা দেবে! ঠিক সেই এক ই লক্ষ্যে বিসিপি (বার্মিজ কম্যুনিষ্ট পার্টি) চীনের সক্রিয় সমর্থনে আরাকানে খুবই ততপর! প্রয়াতঃ মানবেন্দ্রনারায়ন লারমার নেতৃত্বের শান্তি বাহিনীর অংশের সাথে বিসিপির গাঢ় সম্পর্ক ছিল, কিন্তু শান্তি বাহিনীর ভারত পন্থী প্রীতি গ্রুপের হাতেই একসময়ে আচমকা নিহত হন মানবেন্দ্রনারায়ন লারমা! আবার আরাকানে মুসল্মান জনগোষ্ঠির ওপর যে প্রচন্ড অত্যাচার হচ্ছে তাও সত্য!
    সুতরাং সব দিক ভেবে দেখলে বোঝা যায় যে বাংলাদেশ কিছুতেই নীরব হয়ে থাকতে পারেনা ব্যাপারটিতে! পার্বত্য চট্টগ্রাম সহ পরিকল্পিত মুসলিম রাস্ট্রের জামাতী-পাকিস্তান-আরব ষড়যন্ত্র রুখতে বাংলাদেশেরই উচিত মায়ানমার সরকারকে কুটনৈতিক চাপে রাখা ও সামরিক ডেমন্সট্রেশন দেয়া (আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞ মহলের ধারনা অনূযায়ী রেঙ্গুন থেকে বার্মার পুরো শক্তির সৈন্য সমাবেশ এর আগেই বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী আরাকান দখল করে নিতে পারবে, আর আকাশ বা সমুদ্রেও বর্মীরা দ্রুত পরাভুত হবে, সে ভাবেই বিগত সরকার গুলো, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশ বাহিনীর শক্তি বৃদ্ধি করেছে-যদিও বাংলাদেশ যুদ্ধের ঘোর বিরুদ্ধে!) হিসেব মতে রেঙ্গুন থেকে বর্মীরা , যাতে মায়ান মার নিজের আরাকান কে নিজের করে রাখতে চাইলে আরাকানী মুসলিমদের পুর্ণ নিরাপত্তার ব্যাবস্থা করে! তা এক ই সাথে মায়ানমার ও বাংলাদেশ, উভয়দেশের স্বার্থকেই রক্ষা করবে! মায়ানমার তাতে রাজী না হলে রোহিঙ্গাদের মানবিক বিপর্যয় ও বাংলাদেশের নিজস্ব অখন্ডতা বজায় রাখতে বাংলাদেশকে বাধ্য হয়েই “আরাকান বাফার মুসলিম স্টেট” পরিকল্পনায় যোগ দিতে হবে!

  7. জাহেদ-উর-রহমান

    জাহেদ-উর-রহমান বলেছেনঃ

    সুলতান, তোমার পোষ্টে খুব যৌক্তিকভাবেই তুমি এই সমস্যার ক্ষেত্রে আমাদের করনীয় সম্পর্কে জানিয়েছ। শরনার্থীদেরকে আশ্রয় দেবার শক্ত নৈতিক, মানবিক যুক্তি আছে – কিন্তু অন্য দিকগুলো বিবেচনায় এটার বিরুদ্ধে যাওয়াই আমাদের এখন উচিৎ। চমৎকার পোষ্টের জন্য তোমাকে অভিনন্দন।

    @উত্তর পুরুষ,
    আপনার মন্তব্যগুলো থেকে অনেক কিছু জানতে পারলাম। আপনি এগুলোকে একত্র করে একটা স্বতন্ত্র পোষ্ট দিচ্ছেন না কেন?

    • সুলতান মির্জা বলেছেনঃ

      @জাহেদ ভাই, আপনি একটু খেয়াল করে দেখবেন, এই পর্যন্ত মিয়ানমারে যতবার জাতিগত সহিংসতা হয়েছে প্রতিবারই রোহিঙ্গা রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকজন কিন্তু বাংলাদেশে অবৈধ প্রবেশ করেছে। কিন্তু দুক্ষের বিষয় এই যে সহংসটা পরবর্তীতে কিন্তু এই সব মানুষ গুলো মিয়ানমার সরকার আর ফেরত নেয়নি। হা বাংলাদেশ এর মানবতা শোভা পেত যদি সহিংসতা পরবর্তীতে রোহিঙ্গারা দেশে ফেরত যেতে পারতো। যেহেতু মিয়ানমার সরকার তা হতে দিবে না আর আর তাই বাংলাদেশ সরকারের ও উচিত রোহিঙ্গাদের ঢুকতে না দেওয়া।

      ধন্যবাদ জাহেদ ভাই মন্তব্যের জন্য। ভাল থাকবেন।

      ৮.১
  8. উত্তর পুরুষ বলেছেনঃ

    @জাহেদ-উর-রহমান, আলোচনা বিক্ষিপ্ত হোক সেটা আমি চাই নি, চেয়েছিলাম একটি প্রসঙ্গ এক জায়গাতেই হোক! তবুও ব্যাপারটি খারাপ হলে আমি ক্ষমা প্রার্থী!

  •  Bangladesh: Keep Border Open For Rohingya Refugees · Global Voices
  • কিছু বলতে চান? লিখুন তবে ...