ক্যাটেগরিঃ চারপাশে

 

মায়ানমারে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার কারণে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ব্যক্তিরা আশ্রয় নিতে চাইছে বাংলাদেশে। বাংলাদেশ তাদের ঢুকতে বাধা দিচ্ছে। জাতিসংঘ বলেছে বাংলাদেশ যেন মানবিক কারণে তাদের প্রবেশ করতে দেয়। আমার প্রশ্ন কেন তাদের ঢুকতে দিতে হবে ? এই বিষয়টা নিয়ে ইতিমধ্যে বিভিন্ন ব্লগ গুলোতে পক্ষে বিপক্ষে আলোচনা শুরু হয়ে গেছে। যারা এই বিষয়টার পক্ষে মতামত প্রদান করছে তাদের মনে রাখা উচিত রোহিঙ্গা সমস্যা আজকে হঠাৎ করে হইনি এই সমস্যা দীর্ঘ দিনের । প্রায় দুই দশক আগে থেকে বাংলাদেশে ঢুকে পড়া রোহিঙ্গাদের মধ্যে এখনো প্রায় ২৫ হাজার নাগরিক টেকনাফের শরণার্থী শিবিরে অবস্থান করছেন। এর বাইরেও অনেকেই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছেন বিভিন্ন এলাকায়। যদিও পরবর্তীতে দাঙ্গা শেষ হলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বারবার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি জানানো হলেও তাতে সাড়া দেয়নি মিয়ানমার।

ঠিক আছে মানবিক কারণেই রোহিঙ্গাদের শরনার্থী হিসেবে গ্রহণ করা উচিত এটা সবাই বলবে। কিন্তু এটাও ঠিক যে বাংলাদেশ অনেক আগে থেকেই এই ধরনের সমস্যা মোকাবেলা করছে এবং জাতিসংঘ এই সমস্যার সমাধান করতে পারে নাই। শরনার্থী শিবিরে রোহিঙ্গারা বসবাস করছে মানবেতর অবস্থায়। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ছে। কক্সবাজার, টেকনাফ সীমান্ত এলাকায় রোহিঙ্গা শরণার্থীরা যুক্ত হয়ে পড়েছে মাদক ব্যবসায়ের সাথে। চোরাপথে অস্ত্র ও মাদক ব্যবসায়ে রোহিঙ্গাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ আছে। তাছাড়া দেশে জঙ্গী শক্তি বিকাশে রোহিঙ্গারা সম্পৃক্ত তারও প্রমাণ আছে। অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যার জের বাংলাদেশকে বহন করতে হবে কেন?

অনেকে ধর্মের দোহাই দিয়ে মুসলিম রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে বলছেন। আমি মনে করি এক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটা ট্রানজিটের ভূমিকা নিতে পারে। বিশ্বের বড় বড় ধনবান মুসলিম দেশ সৌদিআরব,পাকিস্তান সহ অন্যান্য মুসলিম দেশ গুলো জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় চট্টগ্রাম থেকে সরাসরি ফ্লাইটে রোহিঙ্গাদের নিয়ে যাক। বাংলাদেশ সরকার প্রয়োজনে তাদের টেকনাফ থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত পরিবহণের ব্যবস্থা করবে। কিন্তু তাতে কি বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায় সাড়া দেবেন?

এখন জাতিসংঘের উচিত বড় বাক্য ব্যয় না করে মায়ানমার সরকার কে চাপ প্রয়োগ করে রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন বন্ধ করে তাদেরকে নিজ দেশে থাকার পরিবেশ নিশ্চিত করা। বাংলাদেশ নিজের সমস্যা সমাধানে যেখানে হাবুডুবু খাচ্ছে সেখানে অন্যের সমস্যা সমাধানে নিজেদের ঝামেলা বাড়াতে হবে কেন?

অযথা ধর্মের দোহাই দিয়ে যারা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার পাঁয়তারা করছে। তাদের কে অনুরোধ করব দয়া করে কক্সবাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করে আসুন । দেখে আসুন রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কতটুকু সমস্যা সৃষ্টি করে চলেছে।

দোহাই লাগে ধর্মের দিয়ে আর বিতর্ক সৃষ্টি করবেন না।

ছবিসুত্র: বিডি নিউজ ২৪ ডট কম