ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

মন্তব্য করতে চেয়েছিলাম কিন্তু মন্তব্যের পরিধি বড় হয়ে যাবে বলে সহব্লগার এর একটি অসম্পূর্ণ লেখা পোস্টের প্রাসঙ্গিক না লিখে কোনও উপায় ছিল না। উক্ত পোস্ট খানা ফিচার পোস্ট করার প্রেক্ষাপটে ইতিমধ্যে আমাদের বিডি ব্লগে সৃষ্টি হয়েছে সামান্য প্রতিক্রিয়া পক্ষে ও বিপক্ষে। যদিও ধর্মান্ধ কতিপয় ব্লগারের তেমন কোনও যুক্তি চোখে পড়েনি। কিন্তু তারা যা বলে যাচ্ছে তা ও খুব যৌক্তিক বলে মনে করছি না। তথাপি সম্মানিত নবীন সহব্লগার এর লেখার প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছি।

উক্ত ব্লগার বণিক বার্তা নামের একটি পত্রিকায় প্রকাশিত এনবিআর এর সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ সাহেবের উৎসব মৌসুমের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রবৃদ্ধির গতি বাড়ায় শিরোনামের একটি রিপোর্ট থেকে উদ্ধৃতি হিসেবে নিয়ে একটি পোস্ট লিখেছেন। যে পোস্টে উক্ত লেখকের মূল বক্তব্য ছিল,

এবার আসুন, দেখি এ টাকা দিয়ে আর কি কি করা যেতে পারত?
১। দেশের উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। এই ঈদের খরচ দিয়ে দেশের সবগুলো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বছরের বাজেট নির্বাহ করা যেত। শিক্ষার্থীরা বিনা বেতনে অধ্যয়ন করতে পারত এক বছর।

২। আমাদের দেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সঠিক সংখ্যা কারো পক্ষে প্রকাশ করা এখনও সম্ভব না হলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুযায়ী প্রায় দেড় কোটি। যদিও ২০০১ সালের আদম শুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংখ্যা ১.৬ ভাগ তথা মাত্র ১৬ লাখ। বিগত ২০০৯-১০ অর্থবছরে অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভাতার আওতায় ৯৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিলো। এসিডদগ্ধ মহিলা ও শারীরিক প্রতিবন্ধীদের পুনর্বাসন তহবিলে ২ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিলো। প্রতিবন্ধী সেবা ও সহায়ক কেন্দ্র শীর্ষক একটি নতুন কর্মসূচী গ্রহণের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছিলো ৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা। অর্থাৎ সরকার প্রতিবন্ধিদের জন্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখছেন বাজেটে। সে হিসেবে কোরবানির টাকা দিয়ে কয়েক বছর প্রতিবন্ধীদের পুনর্বাসন করা সম্ভব হতো।

২০ হাজার কোটি টাকা দিয়ে আরো অনেক কিছুই করা যায় জনগণের কল্যাণে। কোরবানি ও হজ্বের লক্ষ্য যদি হয় আল্লাহকে খুশি করা। তাহলে কি পশু কোরবানি আর হজ্বের পরিবর্তে সেই টাকা দিয়ে যদি দরিদ্র ও অসহায় জনগণের কল্যাণ করা যায় তাহলে কোনটা আমাদের করা উচিত?

এনবিআর এর সাবেক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মজিদ সাহেবের সুর ধরে বলতে চাই, উত্সব বা কোনও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ব্যবহিত অর্থ শুধু মাত্র ভোক্তাগন এইসব কাজেই ব্যবহার করে থাকেন। দেশের মূল অর্থনীতির শক্ত ভিত রচনার জন্য যেকোনো উত্সব বা ধর্মীয় যেকোনো অনুষ্ঠান সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে। প্রাসঙ্গিক বলা প্রয়োজন খ্রিস্টান ধর্মের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান ক্রিসমাস ডে বা বড়দিন যখন উত্‍যাপিত হয় তখন কিন্তু তা খ্রিস্টান প্রধান দেশ গুলোর অর্থনীতির পরিবর্ধন ঘটিয়ে থাকে। আবার খেয়াল করে দেখুন, আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশে আসন্ন দিওয়ালিতে তাদের কী পরিমাণ অর্থ তারা খরচ করে থাকে। কই ভারতের দিওয়ালী বা খ্রিস্টান ধর্মের ক্রিসমাস ডে তে খরচ করা অর্থ নিয়ে তো তেমন কোনও যুক্তিবাদীর যুক্তি শুনি না, যে এই অর্থ গুলো দিয়ে আমাদের দেশের অমুক-সমুক উন্নয়ন করা যেতে পারে। এখন কথা হলো ধরে নিচ্ছি উক্ত ব্লগারের মধ্যে দেশ প্রেম এর কোনও ঘাটতি নেই, উনি দেশ নিয়ে অনেক বেশি চিন্তা ভাবনা করে। আসলে কী তাই ?

মনে রাখা প্রয়োজন একটি দেশের অর্থনীতিতে মুদ্রা সরবরাহ, মুদ্রা লেনদেন, আর্থিক কর্মকাণ্ডের প্রসারই জাতীয় অর্থনীতির জন্য আয়। সে জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মুদ্রা সরবরাহ গতিশীলতা আনে। বলা প্রয়োজন, কুরবানির ঈদে ভারত থেকে আমদানি করা গরু কুরবানীকে প্রভাবিত করেনি, আমার দেশে উত্পাদিত গরু কুরবানী কে প্রভাবিত করেছে, আর সেজন্য দেশে এখন গড়ে উঠেছে অসংখ্য গরু মোটা তাজা করণ খামার, যেখানে সারা বছর কর্ম করে যাচ্ছে হাজার হাজার শ্রমিক, খইল, ভুসি, ঔষধ বিক্রেতাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। এমন আরও অনেক সেক্টর রয়েছে অর্থ্যাত কুরবানির ঈদ কে কেন্দ্র করে এ টু জেড শ্রেণীর ব্যবসায়ীদের কর্মতত্পরতা বৃদ্ধি পায়। যা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে চলেছে।

উক্ত লেখকের কাছে প্রশ্ন রাখার তেমন কোনও যৌক্তিকতা দেখছি না, যেখানে উনি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ও প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখার কৌশল হিসেবে কুরবানী ও হজ এর বিরুদ্ধে বলছেন, তারপর ও না রেখে পারছি না পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিবন্ধী কার সম্পদ ? রাষ্টের নাকি জনগণের ? উত্তর যদি হয় রাষ্টের। তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, আমি একজন কুরবানী দাতা বা হজ পালন কারি, আমি রাষ্ট কে ট্যাক্স দিচ্ছি, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিবন্ধী নিয়ে আমি চিন্তা করব কেন ? আর এই সব খাতে আমি আমার ব্যক্তিগত খাতের বরাদ্দ কৃত অর্থ দান করব কেন ? যেহেতু রাষ্টের অভিবাবক সরকার এখনো জীবিত রয়েছে ?

উক্ত ব্লগার কে উদ্দেশ্য করে বলছি, ভেবে বলা প্রয়োজন, কী বলছি কী বলা ভেবে ছিল, কেননা ঘূর্ণায়মান অর্থনীতির গতিপ্রবাহে যেকোনো ব্যয় অর্থনীতির জন্য আয়। দেশজ উত্পাদনে এর থাকে অনিবার্য অবদান। যেকোনো উত্সব অর্থনীতিতে গতিশীলতা আনে, মানুষ জেগে ওঠে নানা কাজে, সম্পদ বণ্টন ব্যবস্থায় একটা স্বতঃপ্রণোদিত আবহ সৃষ্টি হয়। একে স্বাভাবিক গতিতে চলতে দিলে সামষ্টিক ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা দেখাতে পারলে এ কর্মকাণ্ড, মুদ্রা সরবরাহ, ব্যাংকের তারল্য তারতম্য, পরিবহন খাতের ব্যয়প্রবাহকে স্বাভাবিক গতিতে ধরে রাখে। যা জাতীয় উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয়।

কেবল মাত্র বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করে কিছু বলা কিন্তু স্বদেশ প্রেম এর নমুনা বৃদ্ধি করে না।

পরিশেষে বলতে চাই, উক্ত ব্লগারের কুরবানী এলার্জি রয়েছে, না হলে হয়তোবা কুরবানির বিরুদ্ধে নিরুত্সাহী করার ব্যর্থ অপপ্রয়াস চালানোর চিন্তা উনি করতেন না।