ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

দুই একটা সহিংসতা মানানসই হতে পারে, জনস্বার্থে আন্দোলন মেনে নেওয়া যেতে পারে, জনগণের দ্বাবি আদায়ে আন্দোলন হতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে সাম্প্রতিক সময়ের জামায়াত-শিবির এর আন্দোলন এর মূল লক্ষ কী ? এই আন্দোলনের মূল ইস্যু কী ? প্রিয় পাঠক ভাবতে লজ্জা লাগছে এই সহিংস আন্দোলনের বিষয়বস্তু নিয়ে জামাত-শিবির এর সহিংস আন্দোলন হচ্ছে যুদ্ধাপরাধের মামলায় গ্রেপ্তার শীর্ষ নেতাদের মুক্তির দাবিতে, যেখানে সারা দেশের আমজনতার কোনও স্বার্থ সংশ্লিষ্টতা নেই। বলা যেতে পারে এই আন্দোলন কেবল মাত্র জামাত-শিবির এর স্বার্থ সংশ্লিষ্ট। তাই এই সহিংস আন্দোলন কে শক্ত হাতে প্রতিহত করা ছাড়া বিকল্প কিছু নেই। এবং সেটা যেকোনো ভাবেই হোক না কেন।

আবার দেখা যাচ্ছে এই সহিংস আন্দোলন কে জামাত-শিবির এর নেতাকর্মী ও তাদের রাজনৈতিক প্রশ্রয়দাতা বিএনপি বলছে জামাত একটি নিবন্ধিত রাজনৈতিক সংগঠন তাদের অধিকার রয়েছে আন্দোলন করার। মেনে নিচ্ছি এই যুক্তি। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, গলি থেকে জামায়াত-শিবির একটি মিছিল বের করে। পুলিশ সদস্যদের দেখামাত্র তারা ইট ছুঁড়তে থাকে। এটাকে কিভাবে শান্তি পূর্ণ আন্দোলন বলা যায় ? আজকে যদি এমন হতো যে সাধারণ জনগণের মনের কথা গুলো জামাত-শিবির আন্দোলন করে সরকার কে বুঝাতে চাইছে, কিন্তু সরকার পুলিশ লেলিয়ে দিয়ে তাদের সেই আন্দোলনে বাধাগ্রস্ত করছে, তাহলে এক বাক্যে মেনে নেওয়া ছাড়া কোনও উপায় ছিল না জামাত-শিবির গণতান্ত্রিক আন্দোলন করছে, তাদের আন্দোলন করতে দেওয়া হোক। আসলেই কী জামাত-শিবির সাধারণ জনগণের স্বার্থে তেমন কিছু করছে ?

জামাত-শিবির এর সহিংস আন্দোলন নিয়ে আমার বলতে ইচ্ছে করছে, জামাত এর রাজনৈতিক মিত্র বিএনপি এই বিষয়ে যথেষ্ঠ পরিমাণ মদদ যুগিয়ে যাচ্ছে যার মধ্যে অনেক গুলো যুক্তি বিবেচনা করা যেতে পারে। তার অন্যতম কিছু যুক্তি উপস্থাপন করছি, খেয়াল করলে দেখা যেতে পারে,

*যেকোনো সময়ের চেয়ে আঠারো দলীয় জোটের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপি এখন কার্যত সাংগঠনিক ভাবে জামাত-শিবিরের চেয়ে দুর্বল। যার ফলে বিএনপি সরকার কে মিডিয়ার মাধ্যমে হুমকি ধমকি দিয়ে যাচ্ছে কিন্তু নীতিগত ভাবে শক্ত কোনও আন্দোলন করতে পারছে না। সাংগঠনিক ভিত দুর্বল থাকার কারণে, আর তাই জামাত-শিবিরের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কে কাজে লাগিয়ে সরকার কে ব্যস্ত রাখার কৌশল অবলম্বন করে থাকতে পারে।

*যেখানে খালেদা জিয়া যাচ্ছে সেখানে জনসভা হচ্ছে, তাছাড়া অন্য নেতাদের আর পাবলিক আগের মত খাচ্ছে না, আর তাই জনগণ কে নিজেদের জোটের ক্ষমতার পরিধি বুঝানোর জন্য জামাত-শিবির কে মাঠ পর্যায়ে ব্যবহার করে থাকতে পারে বিএনপি। যাতে করে লুকিয়ে থাকা ও নিরুত্‍শাহি বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদল এর নেতারা মাঠে নেমে আসে।

*জামাত-শিবিরের রাজনীতি যদি দুর্বল হয়ে পরে তাহলে কৌশল গত কারণে বিএনপির রাজনীতি দুর্বল হয়ে যাবে, কারণ বর্তমান বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দ্বাবিতে আন্দোলন করে আওয়ামীলীগের সামনে টিকে থাকার ক্ষমতা বিএনপির হাতে নেই, আর তাই জামাত-শিবির কে দিয়ে আন্দোলন এর নামে সহিংসতা করিয়ে সরকার কে একটা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে চাইছে বিএনপি।

আমি মনে করি বিএনপি ও তার আঠারো দলীয় জোট এর পরিকল্পনা মাফিক জামাত শিবির এর এই সহিংস আন্দোলন। যা দেশ এর জন্য বিপদজ্জনক।

সর্বোপরি যা না বললেই নয়, গুয়াজম, নিজামী, সাঈদী, মুজাহিদ ছাড়া জামাত শিবিরের রাজনীতি টিকে থাকবে না। আর তাই এইসব যুদ্ধাপরাধী নেতাদের বাচানোর জন্য জামাত-শিবির সহিংসতার মাধ্যমে সারা দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করেছে। এবং নিজেদের প্রয়োজনে সারা দেশের সাধারণ জনগণের জানমাল এর ক্ষতিসাধন করে এই আন্দোলন করছে। এক কথায় জামাত-শিবিরের এই সহিংস আন্দোলন কে বিশ্লেষণ করে দেখলে দেখা যেতে পারে এর পিছনে রয়েছে অনেকগুলো কারণ। যার কোনটাই গণতান্ত্রিক রক্ষাকবচ বলে বিবেচিত হতে পারে না।

জামাতের অবস্থা ও পরিধি:

প্রথম দিন যখন মতিঝিলে জামাত-শিবির হটাত্‍ করে তান্ডব করেছে তখন সরকারের সহনশীলতা দেখে আমার কাছে বেশ যৌক্তিক মনে লেগেছিল। বিশেষ করে জামাত-শিবির বা বিএনপি যা চেয়েছিল যেকোনো ভাবে কয়েকটা লাশ পড়ুক। তাহলে সরকার কে দেশে ও বিদেশে চাপে ফেলা যেতে পারে। কিন্তু জামাত-শিবিরের সে আশার গুড়ে বালি পরে যখন পুলিশ সেই রকম কিছু করেনি বলে। আশাহত হয়ে বসে থাকেনি জামাত-শিবির পরিকল্পনা মাফিক সারা দেশে টার্গেট করে কমপক্ষে বারোটি জেলায় নৈরাজ্য ও তান্ডব শুরু করে দিয়েছে। এইখানে বলে রাখছি জামাত-শিবির সারাদেশে পরিপূর্ণ সংগঠিত কোনও সংগঠন নয়। বিশেষ করে যেইসব জেলায় তাদের সংগঠনের অবস্থা ও পরিধি ভাল সেইসব জেলা টার্গেট করা হয়েছিল। ফলাফল তো দেখতেই পাচ্ছেন।

সরকারে যা করনীয় এই মুহূর্তে:
সরকারের মধ্য থেকে কিছুটা জানতে পেরেছি জামাত-শিবির কে নিষিদ্ধ করে আন্ডার গ্রাউন্ড করার চেয়ে চোখের সামনে রেখে প্রতিহত করার একটা নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে। যা আমার দৃষ্টিতে মোটেই যৌক্তিক না, কেন না সারাদেশে জামাত-শিবিরের অনেক নেতাকর্মী থাকতে পারে কিন্তু সারাদেশে জামাত-শিবির পরাক্রমশালী না। এই ক্ষেত্রে যদি জামাত-শিবির কে নিষিদ্ধের তকমা পরিয়ে দেওয়া হয় তাহলে তাদের প্রতিহত করা খুব সহজ হয়ে যেতে পারে। এর পিছনে যুক্তি হচ্ছে আমাদের রাষ্টীয় সংবিধান যেহেতু ধর্মকে লালন পালন করে না, তাই সমূহ বিপদ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য যারা নিষিদ্ধ জামাত-শিবির এর রাজনীতি করার ইচ্ছা পোষণ করবে তারা অটোমেটিক তাদের পরিবারে, মহল্লা কতৃক সমাজে কালো তালিকাভুক্ত হয়ে যাবে। কেউ তাদের দিকে ভাল চোখে তাকাবে না। আর তাই কমে যাবে শিবির দিয়ে জামাত তৈরির মনপলি।

সেই সাথে সরকারের স্ব ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে বহুগুন নিষিদ্ধ জামাত-শিবির দমন নীতির বিষয়ে। যেমন, কোনও জবাবদিহিতা থাকবে না, মানবাধিকার সংক্রান্ত কোনও বিধি নিষেধ থাকবে না। সুশীলতার কোনও বিচরণ থাকবে না। আর তখন এই নিষিদ্ধ সংগঠন কে যেকোনো ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়ে যাবে।

আর সেজন্য আমার স্পষ্ট মতামত হচ্ছে অনতিবিলম্বে জামাত-শিবিরের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হোক। দেশকে মুক্ত করা হোক স্বাধীনতা বিরোধী ঘাতক চক্রের দোসরদের হাত থেকে। এটা এখন মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগের জন্য ফরজ বলে মনে করছি।

ধন্যবাদ সবাইকে- হ্যাপি ব্লগিং।
সুলতান মির্জা।