ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

এক সময়ে দুরারোগ্য অনেক রোগেরই আমরা মুখোমুখি হয়েছি। যেমন কলেরা, যক্ষা, এইডস, এবং সর্বশেষ যার প্রতিষেধক এখনো আবিষ্কার হয়নি তা হলো ক্যানসার। কিন্তু আমি বলবো এখন সমাজের আরো একটি মারাত্মক দুরারোগ্য রোগ দেখা দিয়েছে। আর তা হলো মানুষের মনস্তাত্ত্বিক রোগ। এই মনস্তাত্ত্বিক রোগের ফলেই সমাজ আজ হানাহানি, রক্তপাত এবং এত বিশৃঙ্খলিত।

এই মনস্তাত্ত্বিক রোগটির ফলে পত্রিকার পাতায় ভেসে উঠে বীভৎস সব কাহিনী। না পারবেন আপনি পড়তে, আবার না পারবেন সমাজের এই করুন পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে।

আপনি ঠিক ই ধরেছেন। আমি ধর্ষণের কথাই বলছি। এক সময়ে মানুষ এগুলো কে লোক চক্ষুর আড়ালেই রাখার চেষ্টা করতো। তখন যে দেশে ধর্ষণ হতো না তা আমি বলছিনা। কিন্তু যা দুই একটা হতো তা কঠোর হস্তে এলাকার গন্য মান্য ব্যাক্তিদের দ্বারাই সমাধান করা হতো।

কিন্তু বর্তমানে যতই আমরা পত্রিকার পাতা উল্টাচ্ছি, ততই চোখে পড়ছে এই বীভৎস ও মস্তিস্ক বিকৃত কাজটির সংবাদ। কিছুদিন আগেও যা বড় দের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু বর্তমানে……? তার কথা আর নাই বললাম। যা আপনারা বাড্ডার সাড়ে তিন বছরের শিশুটির উপর নির্যাতনের খবরের মাধ্যমই জানতে পেরেছেন।

বর্তমানের এই সংকটপূর্ন মুহূর্ত কে দেখে মনে পড়ে যায় হুমায়ুন আহমেদের সে “অপরাহ্নের গল্প” নামক গল্পটির কথা। যখন আমি কলেজে পড়ি, তখন আমাদের এই গল্পটি পাঠ্য হিসেবে নির্ধারণ ছিল। সেখানে হুমায়ুন আহমেদ লিখেছিলেন এইডস নামক ঘাতক কে নিয়ে। আর সেখানে এরকম বলেছিলেন, আফ্রিকাতে সবচেয়ে এইডস বেশি। আর ভারতেও নিতান্ত কম নয়। কিন্তু বাংলাদেশে সেই তুলনায় খুবই কম। কিন্তু পাগলা ঘোড়া ছুটতে কতক্ষন”।

হুমায়ুন আহমেদ বর্তমানে বেঁচে থাকলে হয়তো ধর্ষণকে আরো বড় ব্যাধি হিসেবে উল্লেখ করে আরো একটি অপরাহ্নের গল্পের মত আর একটি গল্প লিখতেন। কিন্তু সেখানে আর ভারতে বেশি দেখানোর খুব বেশি সুযোগ থাকতো না।

কারণ এইতো কয়েক বছর আগেও ভারতে দেখতাম এখানে সেখানে ধর্ষণ হচ্ছে। চলন্ত বাসে, গাড়িতে, ট্রেনে ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু ঠিক বছর খানিক না যেতেই আমাদের দেশেও একই অবস্থা দাঁড়িয়েছে। পাগলা ঘোড়া কে লাগাম টানার দিনও যেন এখন আর নেই।

এর প্রতিষেধক কি এই জাতি আবিষ্কার করতে পারবে? নাকি মুখ থুবড়ে পড়ে থাকবে এখানেই! প্রশ্ন আপনার কাছে……?

slide

অবক্ষয়ের সমাজ