ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

মুন্না সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা উপজেলার পূর্বভাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর ফার্স্ট বয়। হাতে লিখতে পারেনা- পা দিয়ে লিখে। আমাদের সবার মত তারও দুটি হাত আছে কিন্তু হাত দিয়ে সে কোন কাজ করতে পারে না। বাবা ফজুলুল হক বুলবুল পেশায় একজন মাদ্রাসা শিক্ষক। তিনি ছোট বেলা থেকেই ছেলেকে পা দিয়ে লেখার অভ্যাস গড়ে তুলেছেন। এখন সে বাড়িতে এবং স্কুলে পা দিয়েই লিখতে অভ্যস্ত। তার পায়ের লিখা অত্যন্ত চমৎকার। ২০১১ সালে সে উপজেলা পর্যায়ে সুন্দর হাতের লিখা প্রতিযোগিতায় পুরোস্কৃত হয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, মুন্না অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র। হাত দিয়ে লিখতে না পারলেও তার বাবা ছোট বেলা থেকে তাকে পা দিয়ে লিখ‍ার অভ্যাস গড়ে তুলেছেন। বিদ্যালয়েও তারা তাকে মানসিকভাবে উৎসাহ প্রদান করে থাকেন। তাছাড়া তারা তার বই‌‘র বেগ গোছাতে সাহায্য করাসহ সার্বিক বিষয়ে সহযোগিতার জন্য বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের উদ্বুদ্ধ করেছেন বিধায় ছাত্রছাত্রীরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে, যার ফলে মানসিকভাবে সে কখনো বিচলিত হয় না। সকল ছাত্রছাত্রীর সাথে সে পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধূলাও করে সময় কাটায়। এবারের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় সে গোল্ডেন জিপিএ ৫ সহ ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাবে এমনটি তারা আশা করছেন।

মুন্নার মা সজল চুখে জানান, ম‍ুন্নার জন্মের কিছুদিন আগে তিনি পা পিছলে হুচট খেয়েছিলেন, এতে করে মুন্না গর্ভে থাকাকালীন হাতে আঘাত পেয়ে এমনটি হয়েছে বলে ডাক্তার তাকে জানিয়েছে। অন্য শিশুদের মতো তার ছেলেটি স্বাভাবিক চলাফেরা করতে পারে না দেখে তার কলিজা ফেটে যায়। এবারের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় সে ভাল রেজাল্ট করবে এমনটি আশা তার।

আমাদের সমাজে এরকম হাজারো বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন মুন্না রয়েছে যারা শারীরিকভাবে অথবা মানসিকভাবে কিছুটা বিকলাঙ্গ। আসুন আমরা তাদের প্রতি সদয় আচরণ করি। মানসিকভাবে তাদেরকে শক্তি যোগাই। তাদের পড়ালেখায় উৎসাহী করে তুলি।

৬ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. জিনিয়া বলেছেনঃ

    নাছির ভাই, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। ..বাবুটার মুখটাই তো ভালোভাবে দেখতে পাচ্ছি না..ওর জন্য শুভাশীষ।

    সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ইনফ্রাস্ট্রাকচার আর বাচ্চাগুলোকে দেখে স্কুলটাকে বেশ ভাল মনে হচ্ছে.।

    শুভকামনা।

কিছু বলতে চান? লিখুন তবে ...