ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

ছেলেটির নাম শেখ আজিজুল হক মুন্না। হল রুমের সবাই যখন সীট বেঞ্চে বসে উঁচু বেঞ্চে খাতা রেখে পরীক্ষা দিচ্ছে তখন সে দুটো সীট বেঞ্চ একত্র করে সীট বেঞ্চেই খাতা রেখে পা দিয়ে কলমটি ধরে আনমনে লিখে যাচ্ছে। সারা দেশে শুরু হওয়া প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা ২০১২ এর সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমা উপজেলার রেবতী রমন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের একটি হল রুমের দৃশ্য এটি। গত ১৪/১১/২০১২ তারিখে একই ব্লগে “পা দিয়ে লিখেই সে ক্লাসের সেরা ছাত্র” (লিংক)শিরোনামে লিখিত ব্লগের চরিত্র ছিল সে। তার পরীক্ষ‍া প্রদানের বিষয়টি আমাকে দারুনভাবে আবেগাপ্লুত করছে বিধায় আবারো তাকে নিয়ে আমার লিখার এ প্রয়াস।

ছেলেটি উপজেলার পূর্বভাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ফার্স্ট বয়। জন্মগতভাবে তার হাতদু‘টি কাজের অনুপযোগী হওয়ায় সে হাতগুলো দিয়ে কিছুই করতে পারেনা। শেখ আজিজুল হক মুন্নার গ্রামের বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার ধর্শপাশা উপজেলার হামিদপুর গ্রামে। বাবা শেখ ফজলুল হক বুলবুল সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার গাজিরপাড়া হাফিজিয়া দাখিল মাদ্রাসার একজন সহকারী শিক্ষক, মা পাপিয়া খানম একই উপজেলার সৈয়দ কুতুব জালাল মডেল হাইস্কুলের লাইব্রেরিয়ান। মা- বাবার চাকুরীর সুবাদে সে দক্ষিণ ‍সুরমার পূর্বভাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ম শ্রেণি থেকেই পড়ছে। ছোট বেলা থেকে তার মা বাবা তাকে পা দিয়ে লিখার অভ্যাস গড়ে তুলেছেন বিধায় সে স্বাচ্ছন্ধে অন্য সাধারণ ছাত্রদের ন্যায় দ্রুত লিখতে পারে, বরং তার লিখা ক্লাসের অন্যান্য ছাত্রদের চেয়ে অনেক ভাল। ১ম শ্রেণি থেকে সে ক্লাসের ফার্স্ট বয়।

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ১ম দিনের গণিত পরীক্ষা শেষে রেবতী রমন উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে মুন্নার সাথে কথা হলে জানায় গণিত পরীক্ষায় সকল প্রশ্নের উত্তর দিতে পেরেছে। আত্মবিশ্বাসী মুন্না আরও জানায় অন্যান্য পরীক্ষায়ও সবগুলো প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে। সে আরো জানায়, তার সহপাঠিরা বইয়ের ব্যাগ গোছানো থেকে কাঁধে ব্যাগ তুলে দেয়াসহ সকল ব্যাপারে সহযোগিতা করে বিদ্যালয়ের শিক্ষকমন্ডলী তাকে অতিরিক্ত যত্ন নেন বলে বিদ্যালয়ে তার কোনধরণের অসুবিধা হয় না। হাতদুটো দিয়ে সে কিছুই করতে পারে না জানিয়ে সে বলে প্রতিদিন তার মা ই তিন বেলা তাকে মুখে খাবার তুলে দেন।

রেবতী রমন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব বাবু বরুন কান্তি দাস তালুকদার জানান, সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের জন্য অতিরিক্ত কুড়ি মিনিট পরীক্ষার সময় বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। মুন্নার জন্যও এর কোন বেত্যয় হচ্ছে না। তাছাড়া তার সুবিধার কথা বিবেচনা করে তার জন্য আলাদা আসনের ব্যবস্থা করলেও তার ইচ্ছায় হলরুমে দুটি সীটবেঞ্চ একত্র করে পরীক্ষা নেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তার যাতে কোন ধরণের অসুবিধা না হয় সে ব্যাপারে তিনি সর্বদা খেয়াল রাখছেন।

মনের জোরে বাধার দুয়ার ভেঙ্গে মুন্না এগিয়ে চলেছে আলোর পথে। তার আলোর জ্যোতিতে আলোকিত হোক সমাজ। মুন্নার জন্যে অনেক অনেক শুভ কামনা।


৯ টি মন্তব্য করা হয়েছে

কিছু বলতে চান? লিখুন তবে ...