ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

আগামি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর এতো অভাব হবে যে, বিএনপি প্রার্থী খুঁজেই পাবেনা। আর যাও পাবে তা সাধারণ ভোটারদের এতোই অপরিচিত থাকবেন যে, সাধারণ ভোটাররা আগে কোন দিন নামগন্ধ শুনেছেন বলে মনে হবেনা।

আগামি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের এতোই প্রার্থী হবে যে, আওয়ামী লীগ নিজেইরাই সঠিক প্রার্থী নির্বাচনে ব্যর্থ হবে। আর এতে সাধারণ ভোটারদের কাছে গত ডাবল সরকার আমলের ঘৃণিত প্রার্থীরা নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে নির্বাচনে চান্স পেয়ে যেতে পারেন।

এ দেশের শিক্ষিত, বিজ্ঞজন, সুধীমহল, বিভিন্ন সাংগঠনিক সদস্য ইত্যাদি ইত্যাদি ভোটাররা কিন্তু নিজেদের সিলেকটেড প্রতীকে ভোট দিয়েছেন, দিচ্ছেন, দেবেন। এদের কেউ আকটাতে পারবে না অন্য কোন প্রতীকে ভোট চেয়ে। যদিও কিছু চাতলবাজ সুযোগ সন্ধানী রাজনৈতিক দলের সদস্য আছেন যারা যেখানেই দেখেন বল, সেখানেই করেন কৌশল। তারা কিন্তু বিক্রি হয়েছেন হচ্ছেন হবেন বারংবার।

তাই বলে ভাববেন না যে এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অন্য কোন দল নির্বাচনে জয় লাভ করে ফেলবে। এমনটা কল্পনাতিত। তবুও জয় আওয়ামী লীগ না হয় বিএনপির হবে। কারণ সাধারণ ভোটাররা মার্কা বা প্রতীক কিংবা শেখ মুজিব, জিয়া, হাসিনা, খালেদা, এরশাদ এবং স্থানীয় প্রার্থীদের চিনে ভোট দেন। সাধারণ ভোটাররা চিনেন না বাসদ, জাসদ, সিপিডি, জাকের পার্টি, এলডিপি, খেলাফত মজলিশ, বিএনএফ, ইত্যাদি ইত্যাদি। এবং কি সাধারণ ভোটাররা চেনেন না এই দলগুলোর মার্কা বা প্রতীক। তাই তাদের নির্বাচনে জয় লাভের কোন সম্ভাবনাই নেই।

এদেশে সঠিক নির্বাচিত সরকার গঠন হয় শিক্ষিত, সুধীজন, জ্ঞানী, বিজ্ঞ, সাংগঠনিক সদস্যের ভোটে নয়। সাধারণ ভোটাররা অর্থাৎ কুলি মজুর কামার কুমার রিক্সা চালক কৃষক ভিক্ষুক ইত্যাদি ভোটারদের ভোটে সঠিক নির্বাচিত সরকার গঠন হয়।

আর এই সাধারণ ভোটারদের ভোট পরবে গিয়ে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার নৌকা, এবং জিয়া ও খালেদা জিয়ার ধানের শীষ মার্কা বা প্রতীকে। আর এরশাদ বা লাঙল প্রতীকে এ যুগের কুলি মজুর কামার কুমার কৃষক তরুন ভোটার ভোট দেন বলে আমার মনে হয়না। তবে প্রবীণ অসংখ্য ভোটার এখনো এরশাদের লাঙল মার্কায় ভোট দেবেন আমি নিশ্চিত।

তার মানে এবারের নির্বাচন স্থানীয় প্রার্থীদের নির্বাচন নয়, হবে বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনার নৌকা মার্কা আর জিয়া, খালেদা জিয়ার ধানের শীষ মার্কায়। নিশ্চই এ দুই দলের একদল সরকার গঠন করবে। যদিও এখন একক দলিয় নির্বাচনের যুগ নয়। আসন ভাগাভাগি করে বহুদলীয় নির্বাচন হয়। এতে যেখানেই নৌকা বা ধানের শিষ প্রতীকের প্রতিদ্বন্দ্বী অন্য প্রতিক থাকবে সেখানে অন্য প্রতীকের প্রার্থী সাধারণ ভোটারদের ভোটে পরাজিত হবে। যদিও দুয়েক আসনে ব্যতিক্রম ঘটবে নিশ্চই।