ক্যাটেগরিঃ নাগরিক সমস্যা

 

images

বাংলাদেশের গ্যাস একটি জাতীয় সম্পদ। একটা সময়ে গ্রামের মানুষ মাটির চুলায় রান্না করতো। তারপর ইলেকট্রিক হিটার বা চুলা। কেরোসিনের চুলা। একদিন বিজ্ঞান আমাদের মুক্তি দিলো। আমরা আরো বেশি আধুনিক হয়ে উঠলাম। শহর কিংবা গ্রাম গ্যাস বার্নারের সুইচ ঘুরালে অথবা ম্যাচের কাঠি জালাতে পারলেই হলো। গ্যাসের আগুন যেন বাংলাদেশে পানির চেয়েও সস্তা।

আসলে কি ঘটনাটা ঠিক? মোটেই নয়। শহরে কিংবা গ্রামে একটি ম্যাচের কাঠি ব্যয় করার কৃপনতার কারনে সারাদিন রাত গ্যাসের চুলা জলে। আসলে না চাইতে পেয়ে গেলে যা হয়। প্রকৃতির অভিশাপ বলতে যা বুঝায়। প্রকৃতি কি এতো চাপ সহ্য করতে পারে? দিনে দিনে গ্যাসের পর্যাপ্ততা কমে যাচেছ। সরকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।গ্যাসের দাম বেড়ে গিয়েছে। ভবিষ্যতে কি হবে কেউ জানি না।

images-1

এখন অনেক বাসায় গ্যাস লাইন না থাকায় সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করে।এই সূযোগে কিছু ব্যবসায়ীর নতুন ব্যবসা হচেছ। কিন্তু আমরা কতোটুকু সচেতন এই সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহারে। গ্রামে কিংবা শহরে অনেক সময়ে মেয়াদউত্তীর্ণ সিলিন্ডার ব্যবসায়ীরা বিবেকহীন ভাবে বিক্রি করে অথবা কেউ কেউ ঘরে রিসার্ভ রাখে। মনে রাখবেন একটি সিলিন্ডার গ্যাস ঘরে রাখা আর গ্রেনেড রাখা একই।

রাজধানী সহ পুরো বাংলাদেশে গ্যাস লাইন, সিলিন্ডার গ্যাসের ব্যবহার নিয়ে অনেক অনেক ভয়াবহ দূর্ঘটনা ঘটেছে। তবুও আমরা সচেতন হতে শিখিনি। তারমধ্যে উত্তরা আমেরিকা এম্বাসির এক বাংলাদেশির দুই ছেলে মেয়ে সহ একই পরিবারের চারজন কিচেনের গ্যাস বিস্ফোরনে প্রান হারায়, রাজধানির আজিমপুরে এক পরিবারে স্বামী স্ত্রী দুজনই কিচেনের গ্যাসের আগুনের দূর্ঘটনা মারা যায়। বাসাবো তে ছেলের বউ আর শাশুড়ি একই অবস্থায় প্রান হারায়। কিছু দিন সায়েন্সল্যাবের কাছেই এক ভবনে একই ঘটনা। আমরা যে গ্যাসে রান্না করি খাবার তৈরির জন্য যা আমাদের জীবন বাচায়। কিন্তু সে গ্যাসই মাঝে মাঝে প্রান নাশের কারন হয়ে উঠে।

images-2
গ্যাস সম্পর্কে অসচেতনতার কারনে এতো দূঘর্টনা তবুও আমরা জীবন কে ভালোবাসতে শিখিনি। অনেকেই গ্যাস সিলিন্ডারের মেয়াদের সময় দেখেনা। গ্যাস লাইন নিয়মিত চেক করে না। এই ব্যাপারে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, মিডিয়ায় অনেক বেশি সচেতনতা তৈরি করা দরকার। আসুন আমরা সবাই গ্যাস লাইন এবং সিলিন্ডার গ্যাসের ব্যবহারে সচেতন হই। আমাদের আশেপাশের সবাই কে সচেতন করি।