ক্যাটেগরিঃ ফিচার পোস্ট আর্কাইভ, স্বাস্থ্য

 

IMG_20170123_213109
যে কোন দুগ্ধজাত খাবার আমার খুব প্রিয়। প্রায় প্রতিদিন চিজ বা বাটার আমার খাবার তালিকায় থাকে। খুব স্বাভাবিকভাবে এই জাতীয় খাবার পেলে তা মনোযোগ দিয়ে খাই। শুধু তাই নয়, যত্ন করেও রাখি। গত দুই তিন দিন আগে আমার বর আমার জন্য একটা মিল্ক ভিটা বাটার আনে। আমি একবার খাওয়ার পর তা ফ্রিজে রাখি। কেননা খাবারের গায়ে লেখাও আছে ঠাণ্ডা জায়গায় রাখতে। কিন্তু বাংলাদেশে ব্যবসা করতে গিয়ে মানুষ আর মানুষ নেই। মানষের ভিতরে বিবেক বোধ আর নেই। ইদানিং প্রায় খাবারেই ভেজাল। আমি আজকে ফ্রিজ থেকে বাটার বের করে পাউরুটিতে মাখতে গিয়ে দেখি লাল লাল মরিচা। দুগ্ধজাত খাবারে মরিচা কিভাবে সম্ভব?

IMG_20170123_211855
(মাখন মেখেছে মরিচীকায়)

বাটারের কৌটাটি টিনের তৈরি। যার গুণগত মান ভাল নয়। যে কারণে ফ্রিজে রাখায় সহজে মরিচা পড়ে খাবারে মিশে গিয়েছে। যা স্বাস্থ্যগত দিক দিয়ে খুবই ভয়ংকর। আমরা পয়সা দিয়ে কিনে বিষ খাই। এই ধরনের ব্যবসায়ীদের কি করা উচিত? কোন চিন্তা ছাড়াই সরাসরি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া উচিত। যারা লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন নিয়ে খেলছে। নিরবে খাবারে বিষ প্রয়োগ করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

IMG_20170123_213125
শুনেছি গুড়া মশলায় কাঠের গুড়া মেশানো হয়, তরল দুধে ডিটারজেন্ট মেশানো হয়, আচারে, বিস্কুটে, ফলে, সবজিতে, মসুর ডালে কোন কিছুই বাদ নেই। সব কিছুতেই কিছু না কিছু মিশানো হয় কিন্তু এর বিরুদ্ধে তেমন প্রতিবাদ বা আলোচনা দেখিনা।

এতদিন খাবারের মেয়াদ দেখে খাবার কিনতাম। এখন প্রতিটি খাবার মনেহয় টেস্ট করে কিনতে হবে। এখন চারপাশে বিশ্বাসের অপমৃত্যু। যে কারণে মানুষের জীবন ভয়াবহ বিপদে সব সময়। অসাধু ব্যবসায়ীদের প্রতারণামূলক এই ধরনের কাজের জন্য কঠিন শাস্তি থাকা উচিত। খাদ্যের মতো সংবেদনশীল বিষয়কে হেয়ালিতে না রেখে জনগণের সচেতনতা এবং সরকারের হস্তক্ষেপ খুবই জরুরি। প্রতিটি ব্যবসায়ী কে মানবিক মূল্যবোধ চর্চায় অনুপ্রাণিত করতে হবে।

দুই একটা কঠিন শাস্তি মিডিয়ায় দেখানো উচিত। তাহলে কিছুটা অপরাধ সংস্কৃতি কমে আসবে তা না হলে আজকে আমার পাউরুটি মাখন খাওয়া বন্ধ হয়েছে। কাল এর চেয়ে বড় কিছু ঘটতে পারে। নিরব ঘাতক এই ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে বৃহৎ জনমত গড়ে উঠুক। তবেই দেশে সুশৃঙ্খলা ফিরে আসবে। একটি সুন্দর দেশ গড়ে তুলতে হলে প্রতিটি নাগরিককে সচেতনতার সাথে দেশের প্রতি দায়িত্ব পালন করতে হবে।