ক্যাটেগরিঃ জনজীবন

 

ঢাকা শহরে একটা বাড়ির মালিক হওয়া মানে পুরো বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জীবন মান কিনে নেওয়া। সাধারণ মানুষগুলোর জীবনের মূল্যবোধ গুলোকে কিনে নেওয়া। যেহেতু জীবন ও জীবিকার কারণে মানুষ ঢাকা শহরে আসে, সেহেতু মানুষগুলোও থাকার জন্য বিশ্বস্ত আশ্রয় খুঁজে। প্রতিনিয়ত এই বিশ্বাস নানা প্রতারণায় আর অত্যাচারে ভুলন্ঠিত হচ্ছে। মানুষের ভিতর থেকে সহজাত বিশ্বাসগুলো আর থাকছে না। খন্ড-বিখণ্ড হয়ে ছড়িয়ে পরছে এই শহরের বিষাক্ত বাতাসে। মানুষ ইচ্ছে করলেও আর ভালো থাকতে পারছে না।

সেদিন এক ব্যাংকে বসে একটা ফরম পূরণ করছিলাম। পাশেই বসা এক বাড়িওয়ালা ফোনে কাউকে শাসিয়ে বলছে ‘আমি বাড়ির মালিক, এডভান্সের টাকা ফেরত দিমু! কইলেই দিতে হইবো? কোন প্রমাণ আছে? ফকিরগুলিকে লাথি মাইরা বাইর করমু।’

খুব অবাক হলাম। চুপচাপ বাকি সবার মতো তার অহংকারে ভরা কথাগুলো শুনলাম। হাল্কা করে তার দিকে তাকালাম। চিটাগাংয়ের সুরে কথা বলা বেশ রগচটা লোক। আসলে যারা ভাড়া নেয় তারাই কি খারাপ হয়। নাকি বাড়িওয়ালাও কখনও সমস্যা তৈরী করে। আর কোন নীতিমালাগুলো বাস্তবায়ন করার সংস্কৃতি না থাকায় বাড়ির মালিকেরা রীতিমত বাসা ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করে যাচ্ছে। দুই তিন মাসের এডভান্সের টাকা দিতে হবে। লাগামহীন ভাড়া আর সার্ভিস চার্জ নামে অনৈতিক অর্থ আদায় করছে। তাছাড়া অনেক রকম ভাবে সমস্যায়ও ফেলছে।

cc47a2bd8583415c99dcab08dd81c097

বাড়ির ভাড়া নিয়ে ভাড়াটিয়াকে রশিদ না দেওয়ার মতো প্রতারণাসহ অনেক রকমের সমস্যা। অন্য দিকে ভাড়াটিয়াও নানা রকম প্রতারণার আশ্রয় নেয়। পরিবেশ থেকেই নানা রকম সমস্যার বা পরিস্থিতির তৈরী হয়। বাড়িওয়ালার সাথে ভাড়াটিয়ার সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত কিংবা ভাড়াটিয়ার সাথে বাড়িওয়ালার সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত তা আলোচনার মধ্য দিয়ে উঠে আসবে।

এই দিকে আমরা বাংলাদেশীরা ভীষণ সহজ-সরল জাতি। হাল্কা কেউ একটু ভাল ব্যবহার করলে কিংবা ভাই-বাবা-মা বলে ডাকলে সব ভুলে যাই। আবেগ তাড়িত হয়ে দেশের আইন-কানুন কিংবা সচেতন হতেও ভুলে যাই। আর এই বিশ্বাসের সুযোগটা নিয়েই এক শ্রেণীর মানুষ ভয়ংকর সব প্রতারণা করে যাচ্ছে।

ঢাকা শহরে বাড়ী ভাড়ার রশিদ না দেওয়া নিয়ে অনেক বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যায়। সরকারের উচিত ঢাকা শহরের এই নিয়ন্ত্রণহীন বাড়ি ভাড়ার বিষয়টি তদারকি করা। উভয় পক্ষেরই সচেতনতার বিষয়টি আবেগ দিয়ে এড়িয়ে না থেকে বা খামখেয়ালী না করে নিজ গুণে দায়িত্ব পালন করা। আর নিরাপত্তার ইস্যুতে প্রতিটি নাগরিকের উচিত দেশের আইন-কানুন মেনে চলা। নিজে ভাল থাকুন, আপনার চারপাশের পরিবেশকে ভাল রাখুন।