ক্যাটেগরিঃ পাঠাগার

 

16681483_1297126263700084_7129034053295442417_n
ফেসবুকে লেখকের হাতে তাঁর প্রিয় উপন্যাস দুর্দম্য কৈশোর

জাপান প্রবাসী লেখক জুয়েল আহসান কামরুলের লেখা উপন্যাস ‘দুর্দম্য কৈশোর’ । এবারের বই মেলায় একজন পাঠক হিসেবে নতুন পুরাতন প্রিয় লেখকদের বই মনের আনন্দে ক্রয় করেছি আর ছবি তুলে ফেসবুকে দিয়েছি ।

এর আগে শ্রদ্ধেয় এই লেখকের আরও দুইটি বই পড়েছিলাম । বই দুইটি হলো ‘এঞ্জেলার সান্নিধ্যে’ এবং ‘আমার সন্তান কে কোলে নিয়ে’ ।সেই থেকে আমি তার নিয়মিত পাঠক । লেখক অত্যন্ত সহজ সরল সাবলীল ভাষায় তার ভাবনা উপস্থাপন করেন । এই উপন্যাসটি একটু আলাদা । সব বয়সের পাঠকের জন্য হলেও প্রতিটি মানুষের জীবনের এক সোনালি সময়ের আখ্যানকে তুলে ধরেছেন খুব বিচক্ষনতার সাথে ।

নয়ন আর নবীন জমজ দুই ভাই । শুরুতেই কিশোর দুই ভাইয়ের আদর মাখা মজার খুনসুঁটি । গ্রামীণ পটভূমিতে রচিত উপন্যাসে নয়ন এক দুর্দম্য কিশোর । শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই চরিত্রটি পাঠক কে আলাদা করে মনোযোগী করে তুলবে ।

গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে উঠা নয়ন মেধাবী, সচেতন আর দুরন্ত। সেই সাথে প্রকৃতির নিয়মে এক সময়ে তার জীবনেও টুন্টূ নামের এক নারী চরিত্র ভীষণ ভাবে স্পষ্ট হয়ে উঠে। কিন্তু নানা রকম গ্রামীণ রাজনীতির জটিলতার শিকার হয় নয়ন। শুরু থেকে বন্ধু বৎসল নয়ন পরিবেশ আর গ্রাম নিয়ে সচেতন। তাকে ঘিরে আছে আকরাম, রোকন, কাজল, বাতেনসহ আরও অনেক চরিত্র । প্রতিটি চরিত্র নিজ মহিমায় উপন্যাসকে প্রানবন্ত আর সজীব করে রেখেছে । সেই সাথে লেখকের কল্পনায় আঁকা গ্রাম শীতলদীঘির মনোরম প্রকৃতি পাঠকের ভ্রমন হৃদয়কে উস্কে দিবে। উপন্যাসের একটা লাইন আছে – বিলের ধারে একখান দ্বীপ। লেখকের হৃদয় দিয়ে আঁকা এই দ্বীপে পাঠক খুঁজে ফিরবে তার ফেলে আসা সোনালী শৈশব আর কৈশোর। উপন্যাসটি পড়তে পড়তে পাঠক মনের অজান্তেই স্মৃতি কাতর হবে। হয়তো হেসে উঠবে আবার কখনও দুফোটা অশ্রুজল ঝরতে পারে। জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে মানুষ যুগে দেশে বিদেশে নিজের ঠিকানা খুঁজে নেয়। উপন্যাসে গ্রামের সহজ সরল মানুষের আঞ্চলিক ভাষাগুলোর মায়া মানুষকে তার শিকড়ের কাছে নিয়ে যাবে। ইট পাথর আর কংক্রিটের মাঝে কলমি লতার আর জংলি ফুলের স্বপ্ন বুনতে ইচ্ছে হবে। মন হারাতে ইচ্ছে করবে আঁধার ঘেরা কোন জংলা গ্রামে।

028 029

(আমি যখন এই উপন্যাসের পাঠক)

কখনও আরও গভীর ভাবে জানতে ইচ্ছে করবে সবুজ ধান ক্ষেত আর বিল ঘেরা গ্রাম শীতল দিঘীকে । অসাধারন সুন্দর গ্রাম আর গ্রামের মানুষের জীবন। যেন মাটি থেকে পাওয়া নির্ভেজাল সবুজ জীবন । গাছগাছালি, দিঘী, ক্ষেত, চাষি আর মানিকপুরের হাঁট লেখকের বর্ণনায় পাঠকের চোখে জীবন্ত হয়ে উঠবে। যা আধুনিক মানুষকে বার বার নিজের কাছে নিজেকে ফিরিয়ে আনবে। এই ধরনের উপন্যাস লেখা অব্যাহত থাকুক। লেখকের জন্য রইল অনেক শুভ কামনা ।

লেখক – জুয়েল আহসান কামরুল
প্রকাশনা – বইপত্র প্রকাশন
মুল্য- ২৫০ টাকা
যেখানে পাওয়া যাবে – রকমারি অন লাইন বুক শপ সহ কাছের বইয়ের পাঠাগার এবং দোকানে ।