ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

 

IMG_20170422_180436
(ছবিটি কারওয়ান বাজারের কাছ থেকে আমার মোবাইলে তোলা)

রিকশার শহর রাজধানী ঢাকা। রিকশা নিয়ে ভালমন্দ অভিজ্ঞতা নেই এমন কোন মানুষ বাংলাদেশে পাওয়া যাবে না। প্রতিদিনই কর্মব্যস্ত মানুষকে ছুটতে হয় নানা জায়গায়। সহজ বাহন হিসেবে তাই সবাই রিকশার উপর নির্ভর করে। ইদানীং যে বিষয়টা লক্ষ্য করা যায় তা হলো অযৌক্তিক ভাড়া কিংবা এক ধরনের ব্ল্যাক মেইলিংয়ের শিকার হচ্ছে সাধারন মানুষ। একজন যদি নির্দিষ্ট ভাড়ায় না যায় অন্যরাও যেতে চায় না। দূরত্ব অনুযায়ী রিকসা ভাড়া সরকারী ভাবে কোন নীতি মালা আছে কিনা আমার জানা নেই। যদি না থাকে খুব দ্রুত একটা নীতিমালা প্রনয়ন জরুরি। রিকশা ভাড়া কষাকষি নিয়ে প্রতিদিন নানা রকম অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও ঘটছে। তবুও এই বিষয়টা নিয়ে কোথাও কোন আলোচনা দেখি না। রিকশা একটি মজার এবং আনন্দদায়ক
যানবাহন। কিন্তু দিনের পর দিন রিকশাওয়ালাদের বিবেকহীন এবং লাগামহীন ভাড়া রিকশার প্রতি মানুষের আকর্ষণ নষ্ট হচ্ছে।

রিকশা আমাদের দেশের ঐতিহ্য। রিকশা নিয়ে গল্প, উপন্যাস আর সাহিত্যের অন্য বিভাগগুলোতে অনেক সৃষ্টি আছে। যেখানে রিকশা নিয়ে মানুষের স্বপ্ন এবং ভাবনার জায়গা যে বেশ পুরোনো তা জানা যায়। এই যানবাহনের ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে এবং জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে সঠিক ভাড়া নির্ধারনসহ চালকের যোগ্যতা এবং যানবাহনের ত্রুটি নিয়ে নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি প্রয়োজন। সময়ের সাথে বাংলাদেশে অনেক ধরনের যানবাহন এলেও রিকশার প্রয়োজনীয়তা ফুরায়নি। রিকশাওয়ালা অনেক ভাবে ভাড়া বেশি নেওয়ার জন্য যাত্রীকে প্রতারনার ফাঁদে ফেলে। সহজ রাস্তা রেখে ঘুরিয়ে এনে বলবে আরও টাকা বেশি হবে। আর তখনই শুরু হয় যাত্রীর সাথে ঝগড়া। ঝড়বৃষ্টি হলে তো কথা নেই। তিনগুণ টাকা বেশি দিলেও রিকশাওয়ালাদের মন পাওয়া যায় না।

বিপদের সময়ে তাই মানুষ পাঁচগুণ টাকা দিয়েও রিকশা যেতে চায়। সেদিন যে কোন কারণে কোন একটা পত্রিকা অফিসে গিয়েছিলাম। ট্রাফিক জ্যাম এড়াতে গাড়ির বদলে রিকশা নিয়ে ছিলাম। কারণ রিকশা অলিগলি দিয়ে সহজে অনেক রাস্তায় ঢুকে পড়তে পারে। কিন্তু যে কোন গাড়ি যে কোন পথে যেতে বা ঢুকতে পারে না। তাছাড়া গাড়ি নির্দিষ্ট জায়গায় রাখা নিয়েও আছে সমস্যা। যাওয়ার সময়ে খুব দ্রুত গেলেও আসার সময়ে মহাবিপদে পড়লাম। রিকশাওয়ালাদের সিন্ডিকেটের ঝামেলায় পড়লাম। বাংলাভিশন টিভি অফিসের কাছে এবং পান্থকুঞ্জের গেটের দিকে অনেক রিকশা কিন্তু কেউ ধানমন্ডি-২ এ আসবে না। আমি সাথের মানুষের সাথে হেঁটে হেঁটেই ফিরে এলাম। আবার সেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাসায় ফিরবো।

 

ইচ্ছা করে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে এনে নিজের মতো ভাড়া চেয়ে বসলো। কিছুই করার নেই। বাসার সামনে রিকসাওয়ালা চিৎকার করলে সরকারী বাসার দাড়োয়ান এসে আমাকে জিজ্ঞেস করবে। তাই নিজের মান সম্মান বাঁচাতে ওর অন্যায় আবদারই রাখলাম। আর এই ধরনের ভাড়া নিয়ে চিৎকার করাটাও এক ধরনের ব্ল্যাক মেইলিং। রিকশাওয়ালা জানে তার চিৎকারে যাত্রীর মান সম্মান যাবে তার নয়। আর এই সুযোগটাই তারা নেয়।

যাই হোক, রিকশা এবং রিকশাওয়ালা নিয়ে অনেক ধরনের সমস্যা। এই সকল সমস্যা সমাধানে জনগনের সচেতনতা এবং সরকারি পদক্ষেপ জরুরি।