ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

 

IMG_20170514_073654
(গুলশান লেকের সামনেই আছে এই সাইন বোর্ড )

ভিক্ষুক মুক্ত বাংলাদেশ  দেখতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রনালয়ের বেশ কিছু কার্যক্রম শুরু হয়েছে । তাই সমাজ কল্যান মন্ত্রনালয়ের সমাজ সেবা অধিদপ্তরের একটা সাইন বোর্ড দেশের অনেক এলাকায় দেখা যায়। আমি প্রথম দেখেছি বাগেরহাট। চলন্ত গাড়ি থেকে এই সাইন বোর্ড আমাকে অবাক করেছিল । অনেক টা ভাল লাগছিল ভেবে যে মন্ত্রনালয় এই বিষয়টা নিয়ে ভাবছে । কি পরিমান ছদ্মবেশী ভিক্ষুক আছে তার যথাযথ তালিকা হয়তো নেই। কারণ আমার ব্যক্তিগত অভিমত এই দেশে ভিক্ষার চেয়ে সহজ পেশা হয়তো নেই । কারও কাছে বিনা পরিশ্রমে চাইলেই পাওয়া যায় । কাজ করার কি প্রয়োজন? মাঝে মাঝে পত্রিকায় দেখা যায় অমুক ভিক্ষুক ভিক্ষাবৃত্তি করে কোটি টাকার বাড়ি গাড়ি করেছেন ।আবার কোন কোন শিল্পপতি আছেন তাদের পূর্বের পেশা ছিল ভিক্ষাবৃত্তি। আবার ভিক্ষাবৃত্তি পরিচালনার পিছনে আছে ভয়াবহ সব সন্ত্রাসীদের যোগসাজশ। তাই সমাজে দিনের পর দিন নানা রকম অপরাধ কার্যক্রম বেড়েই চলেছে । যতদিন এই মানবেতর জীবন যাপনকারী বস্তিবাসি কিংবা ভিক্ষুক শ্রেণীদের পুনর্বাসন না করা যাবে ততোদিন দেশে অপরাধ চক্র ভাঙ্গবে না । যাই হোক সাইন বোর্ড গুলো কি শুধু লোক দেখানো প্রচারনা নাকি বাস্তব কোন পদক্ষেপে তা নিয়ে আছে অনেক প্রশ্ন।
কয়েকদিন আগে পরিবারের এক সদস্যের সাথে আমেরিকান দূতাবাসে গিয়েছিলাম। তার ইন্টারভিউ ছিল সকাল আটটায়। তাই একটু আগেই রওয়ানা করতে হয়েছিল। রাস্তা ফাঁকা থাকায় ২০ মিনিটেই গুলশান পৌঁছে গিয়েছিলাম ধানমণ্ডি থেকে। আমার পরিবারের সদস্য নির্ধারিত সময়ে ইন্টারভিউ দিতে গেল। আমি একটু আশেপাশে ঘুরে দেখা শুরু করলাম। লেকের কাছের পার্কে একটা নার্সারি করা। ভোরে পার্কের মধ্যে অনেকেই হাটাহাটি করছে। কেউ কেউ আবার সেলফি ও তুলছে। এতো ভোরে সেলফি তুলতে দেখে অবাক হলেও পরে বুঝলাম তারা দূর থেকে এসেছে আমেরিকান দূতাবাসে ইন্টারভিউ দিতে। পার্কের ভেতর নার্সারি সরকারি না বেসরকারি আমার জানা নেই। তবে গাছগুলো খুঁটিয়ে দেখছিলাম। এমন সময় দুজন ভিক্ষুক এলো। প্রথমে ছিনতাইকারী ভেবেছিলাম। পরে দেখি ভিক্ষুক। তখন ভোর সাড়ে সাতটা। ঘুম ঘুম মনে একটু মেজাজ গরম হল। মানবিকতা কাজ করছিল না। কারণ আমার চোখের সামনেই লেখা ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষিত এলাকা। নবীর শিক্ষা, করোনা ভিক্ষা।
রাস্তার বিপরীতেই পুলিশ চেকপোস্ট। পুলিশ এবং পুলিশের গাড়ি সবই আছে। তাদের সামনেই এতো ভোরে ভিক্ষা শুরু হয়েছে। এটা কতটুকু যুক্তিযুক্ত। শুধু তা নয় সেখানে তিন-চারটা দূতাবাস খুব কাছাকাছি। আমেরিকা, কানাডা, জার্মান দূতাবাসের কাছের রাস্তায় এমন সব ভিক্ষুকরা বসে আছে। তারা কি আসলে ভিক্ষুক নাকি অন্য কিছু। যে স্লোগান আর সাইন বোর্ডে পুরো বাংলাদেশ ছেয়ে যাচ্ছে তার বাস্তবতা কতোটুকু?

IMG_20170514_061932
(পুলিশ চেক পোষ্টের কাছ থেকে সকালে বেলা তোলা ছবি)
রাজধানীর শাহবাগ, বসুন্ধরার কাছেই পান্থকুঞ্জের কাছে যেমন ডাস্টবিন তেমনি বস্তিবাসী। অথচ সব জায়গায় একই সাইন বোর্ড দেওয়া আছে। ভিক্ষুকমুক্ত ঘোষিত এলাকায় ভিক্ষুক কিভাবে থাকে? এটা কি ধরনের ঘোষণা তা আমার বোধগম্য হল না! একটা দেশের টেকসই আর্থসামজিক উন্নয়ের লক্ষ্যে এই ধরনের সমস্যাগুলো চিহ্নিতকরণ এবং পুনর্বাসন বা সমাধানে প্রকৃতই কাজ করতে হবে। তাদের উন্নয়ন কাজে সুযোগ এবং উৎসাহিত করতে হবে। রাজধানীর মোট জনসংখ্যার একটা বড় অংশ ছদ্মবেশি ভিক্ষাবৃত্তিতে জড়িত। তাদের নিয়ে গবেষণা করতে হবে। ভিক্ষাবৃত্তিকে নিরুৎসাহিত করতে মিডিয়া বা গণমাধ্যমকে এগিয়ে আসতে হবে। সর্বোপরি সাধারণ জনগণকে সচেতন হতে হবে।

আমাদের দেশটা সব দিক থেকে পরিচ্ছন্ন হোক। আমরা কাজকে সম্মান করতে শিখি। কাজের প্রতি উৎসাহিত করতে সরকার এবং জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে ।

***
ছবিগুলো আমার মোবাইলে তোলা ।