ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

নাঃ গঞ্জ-ঢাকা নিয়মিত আসা-যাওয়া করি প্রায় পাঁচ বছর। প্রথম থেকেই দেখে আসছি দুইটা মসজিদের নামে (রসুলবাগ আর আজিবপুর) প্রতিদিন চার-পাঁচজন ব্যক্তি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বাসে উঠে চাঁদা তুলেন। ঠিক চাঁদা না, একেবারে ভিক্ষার মতো। এর মধ্যে একটা মসজিদের একতলা কমপ্লিট হয়েছে, দ্বিতীয় তলার জন্য চাঁদা তোলা অব্যহত আছে। আরেকটা মসজিদের এক তলাও কমপ্লিট হয়নি। অথচ তারা পাঁচ বছর ধরে চাঁদা তুলে আসছে। এমনও না যে জমি কিনে মসজিদ বানানো হচ্ছে, সেই জমিতে আগে থেকেই মসজিদ ছিলো, আধা পাকা ছিলো এই আর কি। প্রথম প্রথম তারা রশিদ নিয়ে চাঁদা তুলতেন, এরপর একটা করে হ্যান্ডবিল বিলি করতেন, এখন তারা একেবারে মানুষের হাতে ধরে টাকা দাবী করছে। শুধু এখানে না, প্রত্যেক এলাকায়ই এইরকম অবস্থা।

একটা মসজিদের জন্য প্রতিদিন দুইজন করে চাঁদা তুললে যদি প্রত্যেকে দুই’শ টাকা করে পায়, তাহলে মাস শেষে বারো হাজার টাকা পাচ্ছে। আরো কিছু মিলিয়ে বছরে প্রায় দের লাখ টাকা! আর পাঁচ বছরে সাড়ে সাত লাখ টাকা। এতোদিনে মসজিদের দুইতলা শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। সত্যিই কিন্তু সাড়ে সাত লাখ টাকা তুলেছে গত পাঁচ বছরে শুধু রাস্তা থেকে, মসজিদের দানের টাকা আর অনুদান বাদই দিলাম। এক চাঁদাবাজ মুসল্লিকে জিজ্ঞেস করলে জানায় তারা প্রত্যেকে প্রতিমাসে তিন হাজার টাকা করে বেতন পান, যা তাদের উত্তোলিত চাঁদা থেকেই দেয়া হয়। আগে কিন্তু তারা বলেছিলেন তারা মসজিদ কর্তৃপক্ষের লোকজন, তারা কোন টাকা পয়সা নেন না। প্রশ্ন হলো, তারা কী আসলেই মসজিদের জন্য টাকা তুলছে নাকি নিজেদের উপার্জনের মাধ্যম হিশেবে মসজিদ ব্যবহার করে সব টাকা হাপিস করছেন। তারা মুখে বলছেন মসজিদের জন্য টাকা তুলছেন, আবার বলেন এতিম বাচ্চারা রাত-দিন কোরআন পড়ে সবার জন্য দোয়া করবে। খুবই সন্দেহজনক। আমার ধারণা রাজনৈতিক দলগুলোর মতো এরাও ধর্মকে ব্যবসার পুঁজি হিশেবে ব্যবহার করছে। ধর্মানুভূতি রক্ষক প্রশাসনের উচিত তাদের কর্মকান্ড মনিটর করে ব্যবস্থা নেওয়া।

স্থানীয় মুসল্লিদের নামাজের অসুবিধার কথা বললেও হাস্যকর কথা হলো সেই মসজিদগুলোতে শুক্রবার ছাড়া পঞ্চাশজন মানুষও আসেনা। তাহলে নতুন নতুন মসজিদ বানিয়ে লাভটা কী? যদি দুরত্বের কথা বলা হয় তাহলেও নতুন নতুন মসজিদ বানানোর দরকার পরেনা, একটা মসজিদ থেকে আরেকটা মসজিদে যেতে পাঁচ-ছয় মিনিটের বেশি লাগে না। বাসা থেকে একটু কষ্ট করে দূরের মসজিদের যেতে যাদের অনিহা, তাদের নামাজেরই দরকার নাই। মসজিদ বানানোর পর তাদের আয়োজনও কম না, মসজিদের কমিটি তৈরি হবে, সভাপতি-সেক্রেটারি-হিশাব রক্ষক-সদস্য, সব মিলিয়ে দশ-বারোজনের সেই কমিটি।

একটা ওয়ার্ডে কতোজন মানুষ নিয়মিত নামাজ পড়ে? বেশি হলে দুই হাজার হবে। দুই হাজার মানুষ যদি দুইটা মসজিদে নামাজ পড়তে যেত, আর ধর্মান্ধ হুজুরদের বদলে শিক্ষিত হুজুর নিয়োগ দেয়া হতো, যারা আমেরিকা-ইসরায়েলের সমস্যা বাদ দিয়ে নিজ নিজ এলাকার সমস্যা নিয়ে কথা বলবে, তাহলে অবস্থা অনেক পাল্টে যেত তাতে কোন সন্দেহ নাই। নিত্যনতুন মসজিদ নির্মাণের নামে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার হাত থেকে বাঁচাতে আর অহেতুক অপচয় বন্ধ করতে মসজিদ নির্মাণে সরকারী নীতিমালা আবশ্যক, যেই নীতিমালায় মসজিদের নামে চাঁদাবাজি করা যাবে না মর্মে প্রতি ওয়ার্ডে অনধিক পাঁচটি মসজিদ নির্মাণের অনুমতি দেয়া হবে। সরকার চাইলেই নীতিমালা প্রণয়ন করতে পারে, কেননা ঘন ঘন মসজিদ নির্মাণে সরকারেরই ক্ষতি, কোন ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে মসজিদ স্থাপন করা হয় না, সবই সরকারী জমিতে, মসজিদের বিদ্যুৎ বিলও পরিশোধ করা হয় না।