ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

 

মানবতা আজ বৈকল্য। এই বিষয়ে আমরা সবায় একমত যে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে বিশ্ব মানবতা আজ চরম হীন পরিস্থিতি পার করছে। নামে বেনামে কে কাকে মারছে তার কোন হিসাব নাই। মারছে এবং মরছে এটায় সত্য। আজ নিরাপত্তাহীন আমাদের জীবন। মধ্যপ্রাচ্য থেকে শুরু করে ইউরোপ , আফ্রিকা থেকে রাশিয়া এবং ইউরোপ থেকে আমেরিকা বা এশিয়া কোন অঞ্চলই আজ নিরাপদ নয়। এ যেন চলছে উন্মাদের ক্রিয়াকলাপ !! আমরা কি চাই জানিনা, আমরা কি করি বুঝিনা ! শুধু জানি মারতে আর মরতে !! তার চেয়েও ভয়ঙ্কর যে ব্যাপারটি আমরা লক্ষ্য করছি তা শরণার্থী সংকট।

বিশ্বে আজ ৬ কোটির মত শরণার্থী। যাদের নাই কোন নিজস্ব পরিচয়। নাই কোন ন্যূনতম মৌলিক সুবিধা পাবার অধিকার। পুরটায় দয়া এবং অনুগ্রহের অমানবিক জীবনযাপন। অসংখ্য ছড়ানো ছিটানো শরণার্থীরা আজ পুরো বিশ্ব জুড়ে। এর মধ্যে সিরিয়ী ও ইরাকী ফিলিস্তিনী এবং আফগান শরণার্থীরা সবচেয়ে বেশী সংকটময় জীবন যাপন করছেন। তারা অভিবাসী হওয়ার জন্য ইউরোপীয় বিভিন্ন দেশে দলে দলে অনুপ্রবেশ করছে। জলে স্থলে তার ভয়াবহ চিত্র আমরা দেখেছি। আরও যে কত দেখবো ……!! না আমরা আর দেখতে চাইনা অমানবিক দৃশ্য। শান্তি আসুক।

এছাড়াও সুদানে দারফুর শরণার্থী, কেনিয়ার দাদাব শরণার্থী, ফিলিপাইনে ভিয়েতনামী শরণার্থী, ভারতে শ্রীলঙ্কান তামিল শরণার্থী, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীতো আছেই। আমরাও ১ কোটির মত ১৯৭১ সালে ভারতের শরণার্থী হিসাবে ছিলাম । আমাদের অভিজ্ঞতা আছে শরণার্থীর জীবন যাপন ক্যামন হয়। যদিও ভারত আমাদের ততখানি কষ্ট বুঝতে দেয়নি যতখানি কষ্ট পবার কথা ছিল। তারপরেও যে অমানবিক জীবন যাপন আমাদের ছিল তাও কম কষ্টের  না।

আমাদের বিশ্বনেতারা নানা জোটগত নানা সভা-সমিতি, নানা সম্মেলন করছেন। কেন করছেন, কি করছেন, তার কোন সঠিক ফলাফল নাই! সঠিক দিক নির্দেশনাও নাই! সব দেখে শুনে মনে হচ্ছে সবায় নিজ নিজ স্বার্থের জালে আটকা। সব কিছু সাজানো নাটক মঞ্চস্থ হচ্ছে। মানুষ শুধু মরছে আর মরছে…. হয় বুলেটে নয়তো বোমার আঘাতে। যার যোগান দাতা কিন্তু ঐ সকল বিশ্বনেতাদের দেশগুলি। তারা অর্থ পাচ্ছে আবার মোড়ল গিরিও ঠিক থাকছে। মাঝখানে রক্তাক্ত হচ্ছে বিশ্বের নানা প্রান্ত এবং মরছে সাধারণ জনতা।

বিশ্ব আজ নানা দলে, নানা উপদলে বিভক্ত । এই বিভক্তি থাকতেই পারে। কিন্তু এই নানা দল নানা উপদলের বিভক্তির মধ্যে যে বিষয় একান্ত দরকার তা মানবিকতা বোধ। এই মানবিকতা বোধ না থাকলে নিজ দেশ, নিজ দলের মধ্যেও সংঘাত এবং সংকট ছড়িয়ে পরতে বেশি সময় লাগে না। ইসরাইল এবং ফিলিস্তিনে ইহুদি-মুসলিমের কথা না হয় আপাদত বাদ দিলাম কিন্তু সিরিয়াতে নিজ দেশের মুসলিমদের মধ্যে দীর্ঘ দিন ধরে চলছে যে গৃহযুদ্ধ! কেন এই যুদ্ধ? কার বা কাদের স্বার্থে?

আজ বিশ্বে যে আইএস সহ সকল জঙ্গি তৎপরতা তা থেকে খোদ মুসলিমরাও কি নিরাপদ? আমাদের সামনে যে ভয়াবহ চিত্র দৃষ্টি গোচর হচ্ছে তাতে কি দেখছি বা পাচ্ছি? মসজিদেও বোমা বিস্ফোরিত হয়! কে বা কারা মরে? মার্কেটে, বাজারে, হোটেলে, স্টেডিয়ামে এবং অন্যান্য যে কোন জনসংগমের স্থানে বোমা বিস্ফোরিত হয়! কে বা কারা মরে? এছাড়া যাত্রীবাহী বিমান হারায় এবং বিমান বিধ্বস্ত হয়; তা কেন হয়? এতে কে মরল? কার লাভ হল? এই সবের নিগুড় তথ্য আমরাও কম বেশী বুঝি।

আমরা সাধারণ বিশ্ববাসী যুদ্ধ বিগ্রহ চাই না। যেখানে সেখানে বোমার আঘাতে, বুলেটের আঘাতে, অপহৃত হয়ে–গলা কেটে আর মরতে চাই না। আমরা উদ্বাস্তুর মত আর ঘুরে বেড়াতে আর চাইনা। কারও অনুগ্রহ নিয়ে নয় আমরা আমাদের অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই। এর জন্য আমরা সমস্যার সমাধান চাই। শান্তি চাই।

ইউক্রেন, ইরাক, সিরিয়া, আফগানিস্তান, ফিলিস্তিনী, সুদান, কেনিয়া, উগান্ডা সহ বিশ্বের সকল অশান্ত দেশ গুলিতে শান্তি ফিরে আসুক। বিশ্বের সকল যুদ্ধ-বিগ্রহ ও জঙ্গি তৎপরতা বন্ধ হউক। চাইলেই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। কিন্তু কেউ যদি সমস্যা জিয়ে রেখে স্বার্থ চরিতার্থ করার হীন মতলবে থাকে তাহলে সমস্যার সমাধান হবে না বরং আরও বাড়বে। যেমন করে বাড়ছে………..। এভাবে চলতে থাকলে মতলববাজদেরও একদিন সুরক্ষা থাকবেনা। তার ছিটে ফোটা তাদের গায়েও লাগছে বা আরও লাগবে! যেমন করে লেগেছিল ২য় বিশ্বযুদ্ধে। মতলববাজদের শুভবুদ্ধির উদয় হউক। বিশ্বে শান্তি আসুক।

সব কিছুর মূলে সমস্যার সমাধান কিন্তু একটায়। আমাদের মানবিকতা বোধ আরও উন্নত করতে হবে। বিশ্বে এমন কোন মত বা পথ বা তত্ত্ব নাই যা মানবিকতার ভিত্তি ছাড়া গড়ে উঠেছে। এই মানবিকতা বোধের মাফকাঠিতে যারা উন্নত তারায় পূজনীয় হয়ে টিকে থাকবে নতুবা কালের আবহমান গর্ভে হারিয়ে যেতে হবে। এই রকম বহু টিকে আছে এবং হারিয়ে গেছে। ইতিহাস তার সাক্ষী হয়ে আছে । কারণ ইতিহাস কিছু কিছু বিষয় অত সহজে ভোলেনা আবার কিছু কিছু বিষয় সহজেই ভুলে যায়।

দূর হয়ে যাক সকল অজ্ঞতা। জয় হউক মানবতাবাদের।

-মশিউর রহমান
30/01/2016