ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

 

হয় অনিয়ম করো, আর তা না পারলে মেনে নাও! প্রতিবাদ কেউ করো না !!! যারা নিজেদের ভদ্রলোক মনে করে তারা মেনে নেওয়াতেই স্বস্তি বোধ করে। এই ভদ্রলোকরা দুর্বল চিত্তের। এই ভদ্রলোকরা সবচেয়ে বিপদ জনক। এরাই অনিয়ম করার চান্স দেয়। এই ভদ্রলোকরা অজান্তে অনিয়ম লালন করে। তারা একটা সিস্টেমের মধ্যে দিয়ে চলতে চায়। তারা সিস্টেমকে ভালোবাসে। সেই সিস্টেমকে আঁকড়ে ধরে থাকতে চায়। হলই বা একটু অনিয়মের সিস্টেম। ভদ্রলোকদের নিজ ব্যক্তি স্বার্থের গলা ধরে অনিয়মের জ্বালে সিস্টেম বহাল তবিয়তে টিকে থাকতে চায়। আর যারা প্রতিবাদী, (প্রথমত): তাদের বোকা ভাবা হয়!! (দ্বিতীয়ত): প্রতিবাদী স্বত্বাকে নষ্ট করার আয়োজন করা হয়। এই আয়োজকদের দলে অনিয়মকারী ও অনিয়ম মেনে নেওয়া ভদ্রলোক দুই দলই থাকে। (তৃতীয়ত): তাকে নানা বিশেষণ প্রদান করা হয় যেমন- অভদ্র, বেয়াদব, সন্ত্রাসী বা ব্লগার ইত্যাদি।

প্রতিবাদের প্রাথমিক অস্ত্র হিসাবে নব্য প্রতিবাদীরা সিগারেটকেই বেছে নেয়। তারপরে মানসিকতা অনুসারে দ্বিতীয় অস্ত্র বেছে নেয়। সেটা হতে পারে গাঁজা-মদ-ডাইল-বাবা-হেরোইন অথবা চাপাতি-কুড়াল-তলোয়ার-রিভলভার-একে ৪৭ অথবা কলম । যারা শ্রেষ্ঠ মানসিকতার প্রতিবাদী তারা কলম-কেই বেছে নেয়। কলমই শ্রেষ্ঠ প্রতিবাদী অস্ত্র। এবং শ্রেষ্ঠ প্রতিবাদের ক্ষেত্র বই  বা মিডিয়া। বর্তমানে ব্লগ। আগে ছিল পত্রিকা । বর্তমানে পত্রিকাগুলি ব্যবসায়ী এবং তারা আজ্ঞাবহ তাঁবেদারি মানসিকতার। পত্রিকা-দের তাদের কারও কারও মন যোগায়ে চলতে হয়। পত্রিকা-দের কোন না কোন মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানির অর্থায়নে চলতে হয়।  তাদের স্বার্থ রক্ষা করতে হয় । পত্রিকা-দের তাদের মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানির এবং তাদের রাজনৈতিক অনিয়মের মিত্রদের ঢাল হিসাবে কাজ করতে হয়।  এর মাঝে যতখানি দেশ প্রেমিক হওয়া যায় ততখানি দেশপ্রেমিক পত্রিকারা। এখানে তাদের প্রকাশকদের মন-পুত লেখা ছাড়া প্রকাশ করা হয়না। তাদের বেঁধে দেওয়া ছকের বাহিরে লেখা লেখি করলে লেখা ছাপা হবে না এবং অনেক ক্ষেত্রে চাকুরীও যাবে। এই বিষয় যে কলম সৈনিক বুঝতে পারেনা তাদের আয়ুকাল সর্বচ্চো এক যুগ। বাংলাদেশে একটা সাংবাদিক হত্যার সুষ্ঠু বিচার কি হয়েছে ?? হয়নি এবং যত দিন পত্রিকাগুলি আজ্ঞাবহ তাঁবেদারি মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে পাবেনা ততদিন হবেও না । সে ক্ষেত্রে ব্লগ পুরাপুরি মুক্ত। এখানে স্বাধীন বা মুক্তভাবে মত প্রকাশ করা যায়। কিন্তু দুঃখের বিষয় ব্লগারদের ঢালাও ভাবে নাস্তিক মনে করা হয়। ধর্ম ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ প্রকাশ করলেই আপনি নাস্তিক!! অথচ যারা নাস্তিক বলে গালি দেয় তাদের অনেকেই ধর্ম ও নাস্তিকের সঠিক সংজ্ঞা জানে না।

আমরা বাঙ্গালী আমাদের স্বকীয় সত্তা আছে। সেই সত্তায় নতুনত্ব চাই। আমাদের নিজস্ব দৃষ্টি আছে। সেই দৃষ্টিতে নতুনত্ব চাই। আমরা নিজেদের নিজেদের মত করে সৃষ্টি হতে চাই। নিজেদের দৃষ্টিতে আগামীর হাত ধরে জগতের অলি-গলি আকাশ-পাতাল সর্বত্র হাটতে-দৌড়াতে-ছুটতে চাই। এর জন্যই প্রতিবাদ। আমরা সকলের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। এর জন্য প্রতিবাদ।

প্রতিবাদ চলবেই। এই প্রতিবাদ আরেক অর্থে প্রগতিশীল। এই প্রতিবাদ অনিয়মের বিরুদ্ধে। এই প্রতিবাদ পুরাতনের বিরুদ্ধে। এই প্রতিবাদ শাশ্বত। এই প্রতিবাদ মুক্তির প্রতিবাদ। জগতে কিছু কিছু বিষয় শাশ্বত আর সব কিছু পরিবর্তিত। পরিবর্তিত বিষয়গুলি নিয়মিত ভাবে পরিবর্তিত হতে হবে। যারা পরিবর্তিত বিষয়গুলি পুরাতন নিয়মেই আঁকড়ে ধরে থাকতে চায় তাদের বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদ। নিয়মই একদিন অনিয়ম হয় নতুন নিয়মের আবির্ভাবে। নতুনের আবির্ভাবই পরিবর্তন। পরিবর্তনের জন্যই প্রতিবাদ।

 

-মশিউর রহমান