ক্যাটেগরিঃ চারপাশে, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

 

মায়ানমারের শরনার্থী বিষয়ে সরকারের কঠোর মনোভাবে আমি হতাশ।

এমনিতেই যারা আছে তাদের নিয়ে সব সরকারই বিরূপ মনোভাব পোষন করে। কক্সবাজারের প্রায় আড়াই লক্ষ (সরকারি হিসেবে পাঁচ লক্ষ) রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো কার্যক্রম চলছে এখন। এদিকে আবার এদের মধ্যে একটা বড় অংশের অপরাধ সংঘটন নিয়ন্ত্রণ করতেও সরকার ব্যর্থ।

কিছুদিন আগে মাত্র নির্বাচনে জিতে অং সাং সুচি রাজনীতিতে সক্রিয় হলেন বহুদিন পরে। এই অবস্থায় এরকম দাঙ্গা মায়ানমার সরকার ও জনগন শীঘ্রই দমাতে পারবে বলে আমার মনে হয় না। যে কারনে দেখা যাছে প্রতিদিন শতশত মানুষ সীমান্ত পারি দিচ্ছে নানাভাবে, এদের মধ্যে প্নেকেই আহত অবস্থায় আসছেন।

এ দেশের প্রায় ২ কোটি মানুষ মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে আশ্রয় নিয়েছিল কয়েক মাসের জন্য। কেউ কেউ আবার ফিরেও আসেনি। আমরা তো জানি যুদ্ধ বা দাঙ্গায় মানুষ কত অসহায় হয়ে পড়ে।

আমি মনে করি, এই মুহুর্তে পরিস্থিতি বিবেচনায় আগত শরনার্থীদের সাহায্য করা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। সেক্ষেত্রে এদের শুরু থেকেই সুশৃংখলভাবে রাখতে হবে এবং জাতিসঙ্ঘের সাহায্য নিতে হবে। তাহলেই আর শুধু নিজের উপর চাপ পড়বেনা, যেটাকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বোঝার উপর শাকের আঁটি ভাবছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমি জোর আবেদন জানাই, এদের চিকিৎসা নিশ্চিত করুন এবং দাঙ্গা না থামা পর্যন্ত কিছুদিনের জন্য এদের থাকতে দিন; পাশাপাশি এখন থেকেই কূটনৈতিক কার্যক্রমকে এগিয়ে নিন। যেন পরিস্থিতি শান্ত হলে সকল শরণার্থীদের ফেরত পাঠানো যায়।

আমার আকুল আবেদন মুসলিম রোহিঙ্গা হোক আর বৌদ্ধ ধর্ম অনুসারিরাই হোক, দূর্গতদের সাহায্য করুন।

সিট্টুতে সংঘর্ষ। ছবিঃ irrawady.org

আপডেটঃ

মুসলিম অধ্যুষিত আরাকান থেকে রোহিঙ্গাদের উপর অত্যাচার আর উচ্ছেদ শুরু হয় ১৮ শতকে বৌদ্ধরা এই রাজ্য দখলের পর থেকে। ১৯৭২ সালে সেনাশাসন শুরু হলে তাদের জাতীয়তা কেড়ে নেয়া হয় আর প্রায় ২ লক্ষ রোহিঙ্গা ঘর-দেশছাড়া হয়। বাংলাদেশে এদের অনুপ্রবেশ শুরু হয় ১৯৯১ সালে। এখন সৌদি আরবের বিভিন্ন ক্যাম্পে আছে প্রায় ৬ লক্ষ, পাকিস্তানে ২ লক্ষ, আর ভারতে প্রায় ৬,০০০ রোহিঙ্গা। বাংলাদেশে এদের সংখ্যা আড়াই লক্ষ (সরকারি হিসেবে ৫ লক্ষ, যাদের মধ্যে ৩০,০০০ রেজিস্টার্ড)।

আমরা অনেক কষ্টে আছি তা ঠিক, কিন্তু অন্যের বিপদে সাহায্য করতে না পারলেও তীর্যক মন্তব্য করা বা তাচ্ছিল্য করা মানায় না–যা করেছেন আমাদের দীপু মনি।

আমার “দাবি” বলুন আর অনুরোধই বলুন, আমি এই মুহুর্তের ঘটনার পরম্পরা চিন্তা করে বলছি, আহত, ভীত মানুষকে দেখে বলছি। কোন ধরনের রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য থেকে নয়।

এই সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব মায়ানমার সরকার ও জাতিসংঘের, তাই বলে কি আমরা হাত গুটিয়ে রাখবো, এবং খিস্তি-খেউর করবো?

যেহেতু সকল শরণার্থীদের ফেরত নিতে মায়ানমার সরকার কিছুদিন আগে রাজী হয়েছে, সেহেতু এখন বিশেষ পরিস্থিতিতে আরো কিছু যোগ হলে সেটা বোঝা হবে কেন? সেদেশে সামরিক সরকারের প্রভাব ধীরে ধীরে কমতে থাকায় এই সমস্যা সমাধান অবশ্যই দ্রুত হবে বলে আমার বিশ্বাস।

Myanmar ethnic violence 2012

Q&A: Unrest in Burma’s Rakhine state

***
ফিচার ছবি: http://www.bbc.co.uk