ক্যাটেগরিঃ চারপাশে, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

মায়ানমারের শরনার্থী বিষয়ে সরকারের কঠোর মনোভাবে আমি হতাশ।

এমনিতেই যারা আছে তাদের নিয়ে সব সরকারই বিরূপ মনোভাব পোষন করে। কক্সবাজারের প্রায় আড়াই লক্ষ (সরকারি হিসেবে পাঁচ লক্ষ) রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো কার্যক্রম চলছে এখন। এদিকে আবার এদের মধ্যে একটা বড় অংশের অপরাধ সংঘটন নিয়ন্ত্রণ করতেও সরকার ব্যর্থ।

কিছুদিন আগে মাত্র নির্বাচনে জিতে অং সাং সুচি রাজনীতিতে সক্রিয় হলেন বহুদিন পরে। এই অবস্থায় এরকম দাঙ্গা মায়ানমার সরকার ও জনগন শীঘ্রই দমাতে পারবে বলে আমার মনে হয় না। যে কারনে দেখা যাছে প্রতিদিন শতশত মানুষ সীমান্ত পারি দিচ্ছে নানাভাবে, এদের মধ্যে প্নেকেই আহত অবস্থায় আসছেন।

এ দেশের প্রায় ২ কোটি মানুষ মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে আশ্রয় নিয়েছিল কয়েক মাসের জন্য। কেউ কেউ আবার ফিরেও আসেনি। আমরা তো জানি যুদ্ধ বা দাঙ্গায় মানুষ কত অসহায় হয়ে পড়ে।

আমি মনে করি, এই মুহুর্তে পরিস্থিতি বিবেচনায় আগত শরনার্থীদের সাহায্য করা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। সেক্ষেত্রে এদের শুরু থেকেই সুশৃংখলভাবে রাখতে হবে এবং জাতিসঙ্ঘের সাহায্য নিতে হবে। তাহলেই আর শুধু নিজের উপর চাপ পড়বেনা, যেটাকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বোঝার উপর শাকের আঁটি ভাবছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমি জোর আবেদন জানাই, এদের চিকিৎসা নিশ্চিত করুন এবং দাঙ্গা না থামা পর্যন্ত কিছুদিনের জন্য এদের থাকতে দিন; পাশাপাশি এখন থেকেই কূটনৈতিক কার্যক্রমকে এগিয়ে নিন। যেন পরিস্থিতি শান্ত হলে সকল শরণার্থীদের ফেরত পাঠানো যায়।

আমার আকুল আবেদন মুসলিম রোহিঙ্গা হোক আর বৌদ্ধ ধর্ম অনুসারিরাই হোক, দূর্গতদের সাহায্য করুন।

সিট্টুতে সংঘর্ষ। ছবিঃ irrawady.org

আপডেটঃ

মুসলিম অধ্যুষিত আরাকান থেকে রোহিঙ্গাদের উপর অত্যাচার আর উচ্ছেদ শুরু হয় ১৮ শতকে বৌদ্ধরা এই রাজ্য দখলের পর থেকে। ১৯৭২ সালে সেনাশাসন শুরু হলে তাদের জাতীয়তা কেড়ে নেয়া হয় আর প্রায় ২ লক্ষ রোহিঙ্গা ঘর-দেশছাড়া হয়। বাংলাদেশে এদের অনুপ্রবেশ শুরু হয় ১৯৯১ সালে। এখন সৌদি আরবের বিভিন্ন ক্যাম্পে আছে প্রায় ৬ লক্ষ, পাকিস্তানে ২ লক্ষ, আর ভারতে প্রায় ৬,০০০ রোহিঙ্গা। বাংলাদেশে এদের সংখ্যা আড়াই লক্ষ (সরকারি হিসেবে ৫ লক্ষ, যাদের মধ্যে ৩০,০০০ রেজিস্টার্ড)।

আমরা অনেক কষ্টে আছি তা ঠিক, কিন্তু অন্যের বিপদে সাহায্য করতে না পারলেও তীর্যক মন্তব্য করা বা তাচ্ছিল্য করা মানায় না–যা করেছেন আমাদের দীপু মনি।

আমার “দাবি” বলুন আর অনুরোধই বলুন, আমি এই মুহুর্তের ঘটনার পরম্পরা চিন্তা করে বলছি, আহত, ভীত মানুষকে দেখে বলছি। কোন ধরনের রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য থেকে নয়।

এই সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব মায়ানমার সরকার ও জাতিসংঘের, তাই বলে কি আমরা হাত গুটিয়ে রাখবো, এবং খিস্তি-খেউর করবো?

যেহেতু সকল শরণার্থীদের ফেরত নিতে মায়ানমার সরকার কিছুদিন আগে রাজী হয়েছে, সেহেতু এখন বিশেষ পরিস্থিতিতে আরো কিছু যোগ হলে সেটা বোঝা হবে কেন? সেদেশে সামরিক সরকারের প্রভাব ধীরে ধীরে কমতে থাকায় এই সমস্যা সমাধান অবশ্যই দ্রুত হবে বলে আমার বিশ্বাস।

Myanmar ethnic violence 2012

Q&A: Unrest in Burma’s Rakhine state

***
ফিচার ছবি: http://www.bbc.co.uk

৮০ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. কালবৈশাখী

    কালবৈশাখী বলেছেনঃ

    শিবিরে ৩৫ হাজার সহ অলরেডি এক-দেড় লাখ রহিংগা এই দেশে বসবাস করছে অবৈধ ভাবে।
    এরা বেনামে ন্যাসেনাল আইডি, পাসপোর্ট বাগায় নিছে। এরা বাঙ্গালি হিসাবে বিদেশে যেয়ে দুশকর্মে জড়ায়, অপবাদ-বদনাম হয় বাঙ্গালিদের।

    বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে ঘন বসতি দেশ। নিজেদেরই যায়গা নাই ..

    ইরান, ইরাক, তুরস্ক, আজারবাইজান কোন কুর্দি, আফগান ঢুকতে দেয়নি।
    মিশর, লেবানন কোন ফিলিস্তিনি বা গাজা স্ট্রিপের বাসিন্দাদের ঢুকতে দেয়নি জাতে মোসলমান হইলেও

    বাঙ্গালি অনেক মহৎ হৃদয়, দেড় লাখ রহিংগা এই দেশে বসবাস করতে দিছে।

    এরপরও তাদেরকে যায়গা দিতাম,
    যদি তারা অপরাধ কর্মে জরিত না হইতো, জংগিবাদে নাম না লেখাইতো।

    • প্রবীর বিধান বলেছেনঃ

      ভাই রোহিঙ্গাদের আপনি যতগুলি দোষ ধরেছেন সবই সত্য এবং এদেরকে বিভিন্ন মুসলিম দেশও জায়গা দেয়না সেটাও মানলাম। আমি নিজেও ওদের অপরাধকর্মের কথা উল্লেখ করেছি।

      তবে আমার দাবি বলুন আর অনুরোধ বলুন আমি এই মুহুর্তের ঘটনার পরম্পরা চিন্তা করে বলছি, আহত, ভীত মানুষকে দেখে বলছি। কোন ধরনের রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য থেকে নয়।

      ২.১
  2. সুলতান মির্জা বলেছেনঃ

    @[মডারেটেড] প্রবীর বিধান ও আবু সুফিয়ান_অনুসন্ধানী প্রতিবেদক [মডারেটেড] আপনাদের, চোখ খোলে দিলেন। অনেক হয়েছে এবার নিজেদের দিকে একটু তাকান। একজন মানবতা দেখালেন আর আরেকজন সহমত জানালেন।

    আরও কিছু অতি উৎসাহি ব্লগে ইনিয়ে বিনিয়ে বলছে, .. সব রহিঙ্গাদের স্থায়ীভাবে আনতে চাচ্ছে,
    মামার বাড়ীর আবদার.?
    পৃথিবীর কোন দেশ সরনার্থিদের স্থায়ী আশ্রয় দেয়.?
    বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে ঘন বসতি দেশ। নিজেদেরই যায়গা নাই ..
    ইরান, ইরাক, তুরস্ক, আজারবাইজান কোন কুর্দি বা আফগান কে ঢুকতে দেয়নি।
    মিশর, লেবানন কোন ফিলিস্তিনি বা গাজা স্ট্রিপের বাসিন্দাদের ঢুকতে দেয়নি জাতে মুসলিম হইলেও বাঙ্গালি অনেক মহৎ হৃদয়, তিন লাখ রহিংগা এই দেশে বসবাস করতে দিছে। সেই হিসেব কী আছে প্রবীর বিধান আপনার কাছে ?

    যারা ছলে বলে বলছে সব রহিঙ্গাদের স্থায়ী ভাবে আশ্রয় দেয়ার জন্য, পাকিস্তান প্রায় ১০ লাখ আফগান (পশতুন) আশ্রয় দিছিল পরবর্তিতে তাদের ভারতের বিরুদ্ধে গেরিলা হিসাবে কাজে লাগানোর জন্য।

    ভারত তো দুরের কথা, নিজেদের কোন কাজে লাগেনি।
    এদেশের স্যাডিষ্ট মতলববাজ যেহাদী দাঁত অলরেডি দেখা যাচ্ছে, এ ব্লগেই।

    বার্মায় গনতন্ত্রের বাতাস লাগতে শুরু করছে মাত্র। এই সময়ে দাঙ্গা লাগানো সুপরিকল্পিত, মতলবিদের কাজ। পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর নৃশংস আক্রমনের মুখে প্রায় এক কোটি শরনার্থীকে ভারতে আশ্রয়দান জাতিসংঘের উদ্যোগে হয়নি, এবং সেই শরনার্থীদের ভারতে গমন ও স্থানীয় দাঙ্গায় ভীত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়া এক প্রেক্ষিত নয়। জাতিসংঘ রোহিঙ্গাদেরকে মায়ানমারের অভ্যন্তরে সুরক্ষা দিয়ে মানবাধিকারের পরাকাষ্ঠা করুক। রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়ার আহ্বানের পেছনে আন্তর্জাতিক রাজনীতি আছে। আমাদেরকে তা বুঝতে হবে।

    অবশ্য আপনাদের তো ভালই হয় দেশে লোকজন বাড়লে [মডারেটেড] বাড়ে। এমনিতে সরকার বাস দিতেছেন হয় টা লিখে ও না হয়টা লিখে ও। এখন আবার তুললেন নতুন দ্বাবি। হাত হাত তালি দিলাম।

    • প্রবীর বিধান বলেছেনঃ

      ভাই, আমরা অনেক কষ্টে আছি তা ঠিক, কিন্তু অন্যের বিপদে সাহায্য করতে না পারলেও তীর্যক মন্তব্য করা বা তাচ্ছিল্য করা মানায় না যা করেছেন আমাদের দীপু মনি।

      আমার “দাবি” বলুন আর অনুরোধই বলুন, আমি এই মুহুর্তের ঘটনার পরম্পরা চিন্তা করে বলছি, আহত, ভীত মানুষকে দেখে বলছি। কোন ধরনের রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য থেকে নয়।

      এই সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব মায়ানমার সরকার ও জাতিসংঘের, তাই বলে কি আমরা হাত গুটিয়ে রাখবো, এবং খিস্তি-খেউর করবো?

      ৩.১
  3. সুলতান মির্জা বলেছেনঃ

    @প্রবীর বিধান, প্রধানমন্ত্রী রে তো প্রতিদিনই বাস দিতেছেন। রোহিঙ্গা শরণার্থী বিষয়ে আর অনুরোধ করে লাভ কী ? তার চেয়ে আপনি এক কাজ করুন আপনার বাসার ঠিকানা টা রোহিঙ্গাদের নিকট পাঠিয়ে দিন। আজব মানুষ ভাই আপনারা। সাথে আপনার সাথে সহমত প্রকাশ কারি আবু সুফিয়ান_অনুসন্ধানী প্রতিবেদক রয়েছেন।

    @প্রবীর বিধান, গত তিন দিন ধরে এই বিষয়টা নিয়ে সামহোয়াইরইন ব্লগে জামাত শিবিরের চিহ্নিত ব্লগাররা আন্দোলন শুরু করে দিয়েছে। বিশ্বস্ত সুত্রে জানতে পারলাম এই মুহূর্তে এটা নাকি মগবাজারিয় ছবক যা প্রচার করা প্রতিটা মুসলিমের জন্য ফরজ বলে বিবেচিত হইবে। তা আপনি আবার মগবাজারে কবে মুরীদ হইলেন ? ভালই হল চোখ খোলে দিলেন।

  4. সুলতান মির্জা বলেছেনঃ

    আপনাকে হাত গুটিয়ে বসে থাকার কথা বলল কে ? আন্দোলন করুন।

    @ মডারেট এর ভাষাটা খুব খারাপ ছিল না মনে হয়। তাই প্রকাশ করলে তেমন কোনও অসুবিধে হতো না। অন্তত পক্ষে সমাজের কিছু বিবেকবান মানুষ বুঝতে পারতো যে “আমরা যাহা বলি তাহা ই বাণী হইয়া যায় না” হাত তালি পাওয়ার জন্য নয়। সকল কিছুর সাথে সমন্নয় করে কাজ করব।
    এই ধারণাটা সৃষ্টি হতো বলে আমার বিশ্বাস। ধন্যবাদ।

  5. murad বলেছেনঃ

    “সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই” প্যাঁচ ঘোচ বা ষড়যন্ত্র বুঝিনা যে কোনো স্হানে যে কোনো সময়ে কোনো মানবিক বিপর্যয় ঘটলে মানুষ হিসাবে সবার কর্তব্য হলো তাদেরকে সাধ্যমত আবার বলছি সাধ্যমত সাহায্য করা। ডুবন্ত কোনো মানুষ ডাঙ্গায় উঠতে চাইলে তাকে কি সাহায্য করা উচিৎ না কি আরো গভীর জলে ঠেলে ফেলা উচিৎ? আমার সাহায্য করার সামর্থ নাই সেটা ভিন্ন কথা কিন্তু বিপন্ন মানবতাকে সাহায্য করবোনা এই মনোভাব শুধু নব্য হিটলারবাদীদের মুখেই শোভা পায়!! ভাই প্রববীর সহমত আপনার সাথে, নিপাত যাক দলবাজরা জয় হোক মানবতার।

    • প্রবীর বিধান বলেছেনঃ

      ধন্যবাদ আপনাকে। সত্যি, আমরা কেমন যেন স্বার্থপরের মতো আচরন করছি। আর বিশেষ করে এই দূর্যোগের সময়ে সাহায্য না করাটা ভবিষ্যতের জন্যও সুখকর হবেনা।

      যেদেশে হাজার হাজার কোটি টাকা কিছু কালো ব্যবসায়ি, এমপি, মন্ত্রীর কাছে বস্তাবন্দী, সে দেশ কেন প্রতিবেশী দেশকে সাহায্য করতে পারবেনা? আমরা তো সুনামি, ভূমিকম্পে আক্রান্ত নানা দেশকে সাহায্য করি, তাহলে যুদ্ধবিদ্ধস্ত-দাঙ্গাপীড়িত দেশের নিপীড়িত জনগনকে কেন সাহায্য করবোনা?

      ৬.১
  6. খোলা চোখ বলেছেনঃ

    মানবতা আছে বলেই এক সময় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছিলাম, আর তার মুল্য আমরা এখনও দিছি।তাই বলতে বাধ্য হচ্ছি “ন্যারা একবার-ই বেলতলায় যায়।” ইচ্ছা ছিল কড়া ভাষায় কিছু লিখব কিন্তু মানবতার কারনেই করা ভাষা ব্যবহার করলাম না।

    • প্রবীর বিধান বলেছেনঃ

      হ্যা, আমাদের মানবতা ছিল, আছে, তবে কিনা আমরা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে তাদের একটা সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মধ্যে আনতে পারিনি। তাদের নূন্যতম মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে পারিনি বলে এবং অপরাধী চক্রের খপ্পর থেকে রক্কা করতে পারিনি বলেই কক্সবাজারের ক্যাম্পে বসবাসকারীরা আমাদের জন্য দুশ্চিন্তার কারন হয়েছে।

      কড়া ভাষা ব্যবহার না করার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। অন্তত এমন বিষয়ে আমাদের সবারই উচিত ভেবেচিন্তে-মানবিকতা বিবেচনা করে যৌক্তিক আচরন করা।

      ৭.১
  7. সুলতান মির্জা বলেছেনঃ

    @ প্রবীর বিধান, দুক্ষিত এই আন্দোলনে আমি থাকতে পারছি না বলে। তবে কী জানেন আমি কিছুটা হতাশ আপনার আন্দোলনের বিষয় বস্তু দেখে।

    @মুরাদ, আপনার নিরপেক্ষ তার অন্তরালে যে জামাতি দের সুগন্ধি রয়েছে তা খুব সহজেই অনুমেয়। তবে ভবিষ্যতে কাউকে হিটলারের সাথে তুলনা করার আগে নিজের হিটলারি স্বভাব পরিবর্তন করুন ।

  8. প্রবাসী

    প্রবাসী বলেছেনঃ

    প্রবীর ভাই, আপনার মানবিকতা বোধ কে সম্মান জানিয়ে বলছি মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী মায়ানমারের সাথে আমাদের যে সমস্যা তা আর না বাড়ানোর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা সঠিক এবং এতে তিনি অটল থাকবেন এই দাবি জানাচ্ছি।
    আর এর সাথে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ কালীন আমাদের ভারতে শরণার্থী হওয়া এ দুটোকে গুলিয়ে ফেলা ঠিক হবে না।
    একটু ভেবে দেখুন, অনেকটা রোহিঙ্গাদের কারণ আমরা এমনিতেই বড় বেশি চাপে আছি, দেশে ও প্রবাসে।
    ধন্যবাদ।

    • প্রবীর বিধান বলেছেনঃ

      আপনাকে ধন্যবাদ প্রবাসী ভাই, দীপু মনি স্বাভাবিকভাবেই সরকারের অবস্থানটা স্পষ্ট করেছেন। এটা উনার দৃষ্টিভঙ্গি। আমি আমারটা জানালাম।

      মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের কথা উল্লেখ করার কারনটা হলো আমাদের আগের প্রজন্মের একটা অভিজ্ঞতা আছে বিপদে পড়লে কেমন লাগে।

      আর হ্যা, আমরা বাংলাদেশীরা দেশে-বিদেশে নানা চাপে আছি, যেমনটি আছে আরো শ’খানেক দেশও। রোহিঙ্গারা আমাদের দেশে ও সৌদিআরব-পাকিস্তানে গিয়েও অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে। তবে আমাদের বাংলাদেশীরাও ব্যাপক দুর্নীতিপরায়ন এবং এরা দেশে-বিদেশে (বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ও ইংল্যান্ডে) সন্ত্রাসী-জঙ্গী কর্মকান্ডে জড়িত।

      ৯.১
  9. murad বলেছেনঃ

    @সুলতান মির্জা- সমালোচনা আপনার বিপক্ষে গেলেই সে প্রতিপক্ষ এমনটা ভাবা আপনার একটা মুদ্রাদোষ।তর্কটা ছিলো মানবিক রাজনৈতিক না।

    ১০
  10. সুলতান মির্জা বলেছেনঃ

    মুরাদ, আপনি কী জানেন অযথা অতিথি কলামে মন্তব্য করে জ্ঞান বিলি করা আপনার মহা মুদ্রাদোষে পরিণত হয়েছে। দয়া করে জ্ঞান বিতরণ বন্ধ রাখুন। আর যদি বেশ জ্ঞান লাভ করে থাকেন তাহলে পোস্ট দিন। তখন দেখা যাবে। আসল মুদ্রা দোষ কার।

    ১১
  11. murad বলেছেনঃ

    ভাই মির্জা আমি মুখ্য সুখ্য মানুষ তাই অতিথি হইয়া দু’একটা মন্তব্য করি। ভাইরে অতিথিরে দুয়ো দিলে গৃহস্থের অকল্যান হয়, আপনার মত জ্ঞানি মানুষকে যদি তা শেখাতে হয় লজ্জায় যে মাথা কাটা যায়!!

    ১২
  12. স্বাগতম রাশেদ ব্লগ বলেছেনঃ

    [ব্লগারদের আপত্তিজনিত কারণে উস্কানিমূলক বক্তব্য সম্বলিত বীভৎস মৃতদেহের ছবি মুছে দেয়া হল :ব্লগ টিম]

    ১৮
    • প্রবীর বিধান বলেছেনঃ

      রাশেদ ভাই, আপনার মনোভাবকে আমি শ্রদ্ধা করি। কিন্তু এই ছবিটি আপলোড করে আপনি ঠিক করেননি মনে হয়। চলমান দাঙ্গায় শুধু সংখ্যালঘু মুসলমান রোহিঙ্গারাই মরছেনা, ক্ষমতাবান রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকেরাও মরছে, মেয়েরা ধর্ষিত হচ্ছে। ঘটনার শুরুটা মনে হয় আপনি জানেন।

      ব্লগপোষকের কাছে বিনীত অনুরোধ করবো এ ধরনের একপেশে পোস্ট/ছবি এলাউ না করতে এবং এই ছবিটি সরিয়ে নিতে।

      ১৮.১
  13. প্রবীর বিধান বলেছেনঃ

    আজকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে বললেন মায়ানমারে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা জানিয়েছে, কিছু কিছু রোহিঙ্গা জঙ্গী সংগঠনকে অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করছে জামায়াত-এ-ইসলামী, লক্ষ্য মায়ানমারের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা উস্কে দেয়া। (এত গুরুত্বপূর্ণ ও চিন্তার অদ্রেককারী কথাটি উনি আর বিস্তৃত করলেন না, আফসোস।)

    তাছাড়া পূর্বের মতই বললেন এরা নানারকম অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত (যা আমাদের পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনী নিয়ন্ত্রন করতে পারেনা!), এবং এদেশের জাল পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশের গিয়ে (অসৎ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের কারনে) সেখানেও অপরাধ করে দূর্নাম কামাচ্ছে, মান যাচ্ছে বাংলাদেশের (যারা কৃষি ও শিক্ষাখাত ছাড়া আর সব ক্ষেত্রে এখনও উন্নতি করতে পারেনি, এবং চরম দুর্নীতিগ্রস্ত একটি দেশ)।

    উনি আশা করেছেন মায়ানমার সরকার নিজেরাই তাদের সমস্যার সমাধান করতে পারবে (গত ৪০ বছরের মধ্যে এখনই সে সুযোগ তৈরি হয়েছে মায়ানমারে, তবে তা রাতারাতি সম্ভব নয়)। আমাদের অনেক সমস্যা (কোন দেশের সমস্যা নাই? আমাদের কবে সমস্যা ছিলনা?), সুতরাং আমরা সীমান্ত খুলে দিতে পারবোনা (খুলে দিতে কে বলেছে? যারা আসছে তাদের প্রয়োজনীয় খাবার, ওষুধ, মাথাগোঁজার ঠাঁই দিন, নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনা ও শক্ত মনিটরিংয়ে রাখুন শরনার্থীদের এবং দাঙ্গা কমার সাথে সাথে আগের ও বর্তমান সকল রোহিঙ্গাদের মায়ানমার পাঠানোর ব্যবস্থা করুন)।

    আগে সাহায্য করে সামলাতে পারেননি বলে এখন করবেন না এটা ছেলেমানুষী, আর অন্য দেশগুলো এগিয়ে আসছে না সেটা প্রশ্ন না করে আপনারা কেন পাশ্ববর্তী দেশগুলোর সাথে আলোচনার উদ্যোগ নিচ্ছেন না?

    ২০
  14. দেলোয়ার হোসেন বলেছেনঃ

    টিভির পর্দায় নিস্পাপ শিশুদের কান্না দেখে আমি অনেক কেদেছি,
    দীপু মনি বা হাসিনা সরকার এ কেমন নিস্ঠুরতা দেখালো?
    আল্লাহপাক তুমি ওদের সহায় হও…তোমার নবী এবং তোমাতে বিশ্বাস করে বলেই আজ এই পরিনতি।
    তুমি ওদের হেফাজত করো…আমিন।

    ২১
  15. প্রবীর বিধান বলেছেনঃ

    মৃত্যুভয়ে ভীত রোহিঙ্গা শরনার্থীদের ম্লানমুখের ছবি দিয়ে স্পর্শকাতর পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাই না, নিজদেশে বা কক্সবাজারের ক্যাম্প ও অন্যান্য জায়গায় তাদের নির্যাতিত-নিপীড়িত-নিষ্পেষিত হবার গল্প দাঁড় করাতে চাইনা। এই মুহুর্তে বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত চাই, দূর্গতদের জন্য সাহায্যের হাত বাড়াক সরকার-জনগন, সেটাই চাই। যতটুকুই বা করছি তাও যেন মানবিকতার সঙ্গে করি, শুধু দেখানোপনা হিসেবে নয়, দূর্গতদের সেবা করা সব ধর্মের মানুষের ধর্ম হওয়া উচিত।

    মুহম্মদ জাফর ইকবালের একটা কথা শেয়ার করছিঃ
    পৃথিবীতে অনেক নিষ্ঠুরতা আছে তারপরেও আমরা পৃথিবীতে অনেক স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে থাকি কারণ আমরা জানি এখানে যতটুকু নিষ্ঠুরতা আছে তার চেয়ে অনেক বেশি রয়েছে মানুষের জন্য মানুষের ভালবাসা। বিপদগ্রস্থ রোহিঙ্গারা যখন আশ্রয়ের জন্য ছুটে আসছে, আমরা অমানুষের মত বলছি এই দেশে তোমাদের স্থান নেই, তোমরা ফিরে যাও। আমার দেশ এরকম নিষ্ঠুর- নিজের চোখে দেখেও বিশ্বাস হয়না।
    একাত্তর সালে আশ্রয়হীন হয়ে যখন আমার মা তার অসহায় সন্তানদের নিয়ে নৌকায় ভেসে বেড়াচ্ছিলেন তখন একজন হতদরিদ্র আশ্রয় দেওয়ার জন্য ছুটে এসেছিলেন। সেই ভয়ংকর বিপদে আশ্রয় পেয়েছিলাম বলে আমরা প্রাণে বেঁচেছি। আমি সেই কথাটি এক মূহুর্তের জন্য ভুলিনা। জীবনে কখনো মানুষের উপর বিশ্বাস হারাইনি, আমি জানি এই পৃথিবীটা এতো সুন্দর কারণ মানুষের জন্যে মানুষের ভালবাসা কখনো ফুরিয়ে যাবেনা।
    তাহলে আমাদের সরকার কেমন করে এতো নিষ্ঠুর হয়ে অসহায় রোহিঙ্গাদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে? আমরা কেমন করে এতো সহজে ১৯৭১ কে ভুলে গেলাম?

    ২২
  16. এলডোরাডো বলেছেনঃ

    বিনীত ভাবে বলছিঃ লেখকের বক্তব্যের সাথে একমত নই। ১৯৭১ সালের প্রেক্ষাপট আর ২০১২ এর প্রেক্ষাপট এক নয়। সরকার বাঁধা দিয়েও রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ পুরোপুরি ঠেকাতে পারবে বলে মনে হয় না। রাতের আঁধারে হাজার হাজার রোহিঙ্গা ঠিকই ঢুকে যাবে বাংলাদেশে, আর মিশে যাবে বিশাল জনস্রোতে। এদেরই অনেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সার্টিফিকেট নিয়ে প্রথমত , বাংলাদেশী জাতীয় পরিচয়পত্র তারপর পাসপোর্ট বাগিয়ে দেশী -বিদেশী গোষ্ঠী অথবা সংস্থা’র আনুকুল্যে বিদেশে পাড়ি জমাবে। এদের থাকবে না কোন দেশ – মা – মাটি’র টান। আর তাই থাকবে না কোন সামাজিক দায়বদ্ধতা। এদেরই কিছু অংশ অবলিলায় দেশে – বিদেশের মাটিতে বিভিন্ন অপরাধে লিপ্ত হয়ে আমার দেশের মুখে কালিমা লেপে দিবে। মধ্যপ্রাচ্যে যত বাংলাদেশী পাসপোর্টধারী বিভিন্ন সময়ে অপরাধে লিপ্ত হয়ে দেশের মুখে কালিমা লেপেছেন – তার বড় একটা অংশ এই রোহিঙ্গারা। এটা আমার কথা নয়।
    ১৯৭১ সালে ভারত আমাদের এক কোটি জনগন কে আশ্রয় দিয়েছিল। তার মধ্যে কত জন সেদেশে – বা সেদেশের পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশে গিয়ে অপরাধে লিপ্ত হয়ে ভারতের নামে কলঙ্ক লেপেছেন? মনে হয় একজন ও না। আর কেউ স্বীকার করুন বা না করুন – ভারত কর্তৃক আমাদেরকে আশ্রয় দেয়ার পিছনে শুধুই মানবিকতা কাজ করেনি । সেখানে ছিল আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির মারপ্যাঁচ। তাহলে ১৯৭১ সালের সাথে ২০১২ কে তুলনা করা হচ্ছে কেন?
    রেজিস্টার্ড যে ৩০ হাজার রোহিঙ্গা এদেশে আছে – তাদের ই তো মিয়ানমার সরকার সেদেশে ফেরত নিতে চাইছে না গত ৩০ বছর যাবত। আবার ও দাওয়াত দিয়ে বিপদগ্রস্থ রোহিঙ্গাদের এদেশে ডেকে আনলে পরে তাদেরকে ফেরত নেয়ার গ্যারান্টি কে দিবে? ইউএনএইচসিআর? দুঃখিত। বিশ্বাস করতে পারছি না।
    একটা কথা সবাইকে বলতে চাই – জাতিসংঘের চাকুরী অত্যন্ত লোভনীয় এবং উচ্চবেতনের চাকুরী। ইউএনএইচসিআর এর যে সকল দেশী – বিদেশী কর্মকর্তা বাংলাদেশে কর্মরত আছেন তারা প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা বেতন পেয়ে থাকেন। এছাড়া তাদের আছে জাতিসংঘের বিশেষ পাসপোর্ট – পৃথিবীর কোন দেশে যেতেই তাদের ভিসা লাগে না। বাংলাদেশে যতদিন শরনার্থী থাকবে – ততদিন ই তাদের চাকুরী পাকা। সুতরাং ছলে – বলে- কলে- কৌশলে তারা চাইবেন এদেশে আরও শরনার্থী আসুক। তাহলে তাদের চাকুরীটাও যে টিকে থাকে। আবার মাস শেষে নির্দিষ্ট বেতনের পাশাপাশি ফিল্ড ট্রিপেও অনেক টাকাও মেলে। এখানে টাকা’র পরিবর্তে পড়ুন “ইউ এস ডলার”। কারন তাদের বেতন হয় ডলারে। জাতিসংঘ সদরদপ্তর নিউইয়র্কে বসে কি রেজুলুশন পার করলো বা কি করলো তাতে কিছুই যায় আসে না। এখান থেকে জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি (তিনিও অতি উচ্চ বেতনভুক্ত কর্মচারী মাত্র) যা বলবেন বা লিখে পাঠাবেন – সদর দপ্তর সেভাবেই নির্দেশনা দিবেন। ফিল্ডে কর্মরত সকল বেসামরিক কর্মকর্তা – কর্মচারী তা তিনি যে দেশেরই হন না কেন – সবার স্বার্থ রসুনের মত এক গোড়ায় বাঁধা। জাতিসংঘের এসকল বেতন ভুক্ত কর্মচারীরা অবশ্যই চাইবেন যেন বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গাদেরকে আশ্রয় দেন। মূল কথা – তাতে ইউএনএইচসিআর এর কর্মচারীদের চাকূরী সুরক্ষিত থাকে আরও অনেক বছর। এতে এই দেশের অর্থনৈতিক বা সামাজিক ব্যাবস্থা ক্ষতিগ্রস্থ হলে বা বিদেশে বাংলাদেশের সুনাম ধুলায় লুটিয়ে পড়লে এদের কিছুই যায় আসে না।
    মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আমি তাকে অকুন্ঠ সমর্থন জানাই।
    হ্যাঁ, সরকার যদি নাফ নদী’র ওপারে কিছু খাদ্য অথবা চিকিৎসা সাহায্য পাঠাতে চান এবং মিয়ানমার সরকার যদি তাতে আপত্তি না করেন – তাহলে আমি মাননীয় প্রধান মন্ত্রীকে এই কাজটুকু করার জন্য সবিনয় অনুরোধ জানাবো। তবে আমার মনে হয় না মিয়ানমার সরকার এতে সায় দিবে কারন, এটা করলে আন্তর্জাতিক ভাবে সেদেশের দাংগা কে স্বীকার করে নেয়া হবে। তাছাড়া কিছুদিন আগে সমুদ্র সীমা নিয়ে আন্তর্জাতিক আদালতে হেরে যাবার কারনে কিছুটা ক্ষোভ ও থাকতে পারে। তাই সরকারের যেচে পড়ে কিছু করা ঠিক হবে না। মানবিকতা’র পাশাপাশি আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতির কথাও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে মাথায় রাখতে হবে। তবেই না পাকা রাজনীতিবিদ।

    ২৩
    • প্রবীর বিধান বলেছেনঃ

      জনাব এলডোরাডো, এগুলো নিয়ে আগেও আলোচনা হয়েছে, মানে কয়েকবছর ধরে। কোন সরকারই এই শরনার্থী সমস্যার সুরাহা করতে পারেনি। তবে গত একবছরে কিছু অগ্রগতি হয়েছে আলোচনার মাধ্যমে। তাছাড়া মায়ানমারের সরকারেও কিছু পরিবর্তন-সংস্কার চলছে। সেজন্যে আমি আগের মত আর হতাশ নই।

      আর রোহিঙ্গাদের বিএনপি-জামায়াতপন্থী বলে তো আওয়ামী লীগ পার পেতে পারেনা, কেননা আওয়ামী লীগ ১৯৯১-এর পর ২বার ক্ষমতায় এসেছে–কি করেছে তারা? অপরাধ দমন ও শরনার্থীদের ফেরত পাঠানোর ব্যাপারে আওয়ামী লীগ ব্যর্থ হয়েছিল।

      ১৯৭১ সালের প্রেক্ষাপট উল্লেখ করার কারন এইসব পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মানসিক অবস্থা বর্ননা করা।

      ইউএনএইচসিআর-এর কর্মকর্তারা অনেক টাকা বেতন পান, তাই তারা এই সমস্যাকে জিইয়ে রাখতে চান–এটা সত্য কি মিথ্যা তার কোন প্রমান আপনি দিতে পারেননি। রোহিঙ্গারা মায়ানমারে “সংখ্যালঘু”, আর সেখানকার সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধরা সবসময়ই চায় এদেরকে হঠিয়ে আরাকান/রাখাইন রাজ্য নিজেদের দখলে নিতে। সুতরাং বৌদ্ধ সেনাশাসন থাকায় এত বছর সেখানে ইউএনএইচসিআর/ভারত/আমেরিকা সুবিধা করতে পারেনি বলে আমার মনে হয়।

      কিন্তু এখন পরিস্থিতি বদলেছে মায়ানমারে এবং দ্রুতই আরো বদলাবে। আমাদেরও উচিত বদ্ধমূল ধারনা ও আশংকাগুলো পরিবর্তন করা।

      ২৩.১
  17. আইরিন সুলতানা বলেছেনঃ

    গতকাল সংসদে দেয়া পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সবক’টি যুক্তি অকপটে মেনে নিচ্ছি। রাষ্ট্রকে রাষ্ট্রিয় স্বার্থেই এ দিকগুলো ভাবতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে, আলোচনা চালাতে হবে। এটা সত্যি যে, দেশে বর্তমানে অসংখ্য রোহিঙ্গা রয়ে গিয়েছে। এটা সত্যি যে, বিশেষত সৌদিতে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশি পরিচয় ব্যবহার করে, আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করে, দোষের ভাগীদার হতে হয় বাংলাদেশিদের। এটা সত্যি যে, মায়নমারের মূল সমস্যার সমাধানে আলোচনা করাটাই এখন জরুরী। এ সম্ভাবনাও হয়ত মিথ্যে নয় যে, বৌদ্ধ-মুসলিম দাঙ্গাকে উস্কি দেয়া হয়েছে, এ বিষয়টিও উড়িয়ে দিচ্ছি না যে, এ রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে কেউ কেউ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে (অপ) ব্যবহার করবে। … … কিন্তু সব বোঝার পরও মনে হলো একটা কথাই থেকে যাচ্ছে …

    প্রিয় প্রধানমন্ত্রী, সমুদ্র বিজয়ের পর মানবতার যে ঢেউ আছড়ে পড়ছে আমাদের সীমান্তে, তাকে জয় করতে চান না কি আপনি???? আজকের আপনার সামান্য মানবিক সিদ্ধান্ত আগামিকাল নিশ্চয়ই শান্তিতে নোবেল পাওয়া অং সাং সুকি’র জন্যও শিক্ষা হয়ে থাকবে। নিশ্চয়ই সুকি’রও আপনার কাছ থেকে শেখার আছে অনেক কিছু …

    ২৪
  18. আইরিন সুলতানা বলেছেনঃ

    একই সাথে সোশ্যাল নেটওয়ার্কারদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ, মুসলিম-বৌদ্ধ সংঘাতকে পুঁজি করে ফেসবুকে প্রচারমুখী বিশেষ ধর্মকাতর গ্রুপগুলোর বৌদ্ধ ধর্মীদের কর্তৃক মুসলিম হত্যার এবং মৃতদেহের বিভৎস ছবি প্রচার করে ধর্ম প্রচার ও ধর্ম বিদ্বেষ ছড়ানোর ”সম্ভাব্য” কর্মকাণ্ড (লাইক এন্ড শেয়ার বিজনেস) সম্পর্কে আগাম সতর্ক থাকুন।

    এক পক্ষ আমাদের মানবতাবোধকে বুঝতে চাচ্ছে না, যেমন সরকার। অন্য পক্ষ আমাদের মানবতাবোধকে ঠিকই বুঝে ফেলবে এবং অপব্যবহার করতে দেরি করবে না …

    ২৫
  19. নুরুন্নাহার শিরীন

    নুরুন্নাহার শিরীন বলেছেনঃ

    ভাই প্রবীর বিধান, আমার কিন্তু বিশ্বাস করতেও বিষম কষ্ট হয় যে কেন আজ এমন করে মিয়ানমার-এর সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীন একটি জাতিগত সমস্যা বাংলাদেশ-এর ঘাড়ে নেবার মতো আত্মঘাতি-সাংঘর্ষিক পরামর্শ দিচ্ছেন অনেক বিদ্যজনেরা !! আমাদের একাত্তুরের মহান মুক্তিযুদ্ধের কাল-এর সঙ্গে কি করে তুলনীয় পড়শি রাষ্ট্রের রোহিঙ্গা দাঙ্গাসমাকুল সমস্যাটি !! যতই মানবিক দিকটি আসুক না কেন তার সঙ্গে কি কোনওভাবেই আমাদের “গোদের উপর বিষফোঁড়া”-র মতো অপর রাষ্ট্রের সমস্যা মাথায় নেবার মতো অবস্থানে আছি আমরা !! আমরাতো আজও অতি ছোট্ট একটি সমস্যাবহুল দেশ, যাদের অনেকাংশ নির্ভরশীল দাতা দেশগুলোর ‘পরে, এবঙ আমাদের সীমিত ক্ষমতায় আমরা ভারতের মতো বৃহত রাষ্ট্রের সঙ্গে কি তুল্য হবার যোগ্যতাও রাখি ? বিদ্যজনেরা কেন এমনতর পরামর্শ দিচ্ছেন আমার মতো নিতান্ত ক্ষুদ্র এক লিখিয়ের মাথায় না আসাই হয়তো স্বাভাবিক।

    ২৭
    • প্রবীর বিধান বলেছেনঃ

      কি যে বলেন না আপনি! আমরা তো সরকারের মুখে শুনছি জয়ের ধ্বনি, অর্থনীতি-কৃষি-শিক্ষা-স্বাস্থ্য-বিদ্যুত-নানা খাতে। তাহলে কি করে বলি আসলেই খুব সমস্যায় আছি!!! আর যদি বা থাকিই (মানে সরকার ভুল বলছে) তাহলে বলুন দেখি পৃথিবীর কয়টা দেশটা এই সময়ে কোন ঝামেলা ছাড়া আছে?

      এই কথাটা শুনতে কেমন লাগলো জানেন? আমার এক ভাই মাসে এক লাখ টাকা কামাই করে। তো তার বাড়ি আছে, গাড়ি আছে, সেগুলো নিয়ে তার আলিশান জীবন-যাপন; কিন্তু তার কাছে কেউ সাহায্য চাইলেই বলে তার ব্যাঙ্কে অনেক দেনা, আরো অনেককেই তার সাহায্য করতে হয়, হাতে একদম টাকা নেই ইত্যাদি…

      আর সাহায্যের কথা বলতে আমি দেরি করিনি কারন আমি রাজনীতি-অর্থনীতি-অপরাধ ইত্যাদির হিসাব-নিকাশ করার আগেই শরনার্থীদের সমস্যাটা অনুভব করেছি। রাজনীতি বা ব্যবসা করলে বা আত্মকেন্দ্রীক হলে হয়তো কথা বলার আগে ৩দিন ভেবে বলতাম–কে কি ভাববে, কার কি লাভ হবে, আমার কি ক্ষতি হবে ইত্যাদি ইত্যাদি হাজারো ভাবনা মাথায় ঘুরপাক খেত। তাই আশংকার চেয়ে আমার আশার ভাগটাই বেশি।

      একটা ছোটখাট হিসাব আমার আছে–সাম্প্রতিক মায়ানমারে কিছু পরিবর্তন আসায় আমি আশাবাদী যে, শরনার্থী সমস্যার সমাধান দ্রুতই শুরু হবে।

      ২৭.১
  20. মেহের তিশা বলেছেনঃ

    ধন্যবাদ লেখক। সহমত। অসুস্থরা খিস্তি খেউর করবেই! তাতে কিছু আসে যায় না। আওয়ামী পান্ডারা (যারা চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি) করে তাদের মন্তব্য গোনায় ধরবেন না দাদা।

    ২৮
  21. চট্টল পথিকের কলাম বলেছেনঃ

    আজব মানুষ সোলতান মীর্জা , মনটা বড় দরাজ তার
    দেশের জন্য সদায় করে মন টা শুধু হাহাকার।
    দেশের চিন্তায় ঘুম আসেনা,দেশ যাচ্ছে গোল্লায়
    সরকার যেন না পড়ে রুহিঙ্গাদের পাল্লায়।

    ২৯
  22. উত্তর পুরুষ বলেছেনঃ

    @মায়ানমারের এই দাঙ্গা “ইন্ডিউসড”! এর ফলে বাংলাদেশে যে আরো রোহিঙ্গা আসবে (যারা প্রথম আশা শুরু করেছিল ১৯৭৮ সালে এবং আর ফেরেই নি জামাতী, বিএনপি, আইএস আই, সৌদী এবং অন্যান্য বিভেদকামী শক্তির দ্বারা শক্ত মাটি পেয়ে!)
    রাবেতা সহ শত সংস্থা কাজ করছে রোহিঙ্গাদের হয়ে! ওদের মুল উদ্দেশ্যঃ
    ১. যথাসম্ভব বেশী রোহিঙ্গা বাংলাদেশের চট্টগ্রাম অঞ্চলে ধরে রেখে পার্বত্য চট্টগ্রাম ও আরাকান নিয়ে একটি “বাফার মুসলিম স্টেট” গঠন করা, পারলে তারা এর ভেতর চট্টগ্রামকেও ঢোকাতে ততপর!
    ২. এই “আরাকানিস্থান” হবে সাবেক পুর্ব পাকিস্তানের চাইতেও কট্টর মুস লিম দেশ! পুর্ব পাকিস্তান হারানোর শোধটাও নিয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তুলবে আই এস আই!
    রোহিঙ্গা যারা এদেশে আছে (১০ লক্ষের কম নয়) তারা সবাই ই জামাত ও বি এন পির সমর্থক!
    এর বেশী জানতে হনে সুলতান রাজার পোস্টে যান, পড়তে পারবেন!

    ৩০
  23. উত্তর পুরুষ বলেছেনঃ

    ১৯৭১ ছিল “পপুলার মুভমেন্ট”, রোহিঙ্গাদেরটা সঙ্গত কারনেই ষড়যন্ত্র কেন্দ্রিক! সবচে ভাল যূক্তরাস্ট্রকে দিয়ে এই দাঙ্গা ঠেকানো!

    ৩১
  24. অনিকেত বলেছেনঃ

    দাদাকার রা আমাদের কে মাঝে মাঝে মানবতা শিখায়।

    গতকাল শুনেছিলাম এই বিপর্যস্ত রোহিঙ্গাদের একটি নৌকায় লুটপাট হয়েছে।
    এই পেইজের দাদাকার দের মানসিকতা দেখে মনে হচ্ছে এরা সেই লুটেরার দল।

    একটা কুকুরের মধ্যে যে মানবিকতা বিদ্যমান আমার মনে হয় বাকশালী দাদাকার দের মধ্যে তা ও নাই।

    ৩২
  25. বাংগাল

    বাংগাল বলেছেনঃ

    ব্লগ পোষক মহোদয়, বিনীত নিবেদন জানাই “স্বাগতম রাশেদ ব্লগ” এর জঘন্য ছবি পেস্ট মুছে দিবেন না প্লিজ , এদের দুষ্ট চিন্তা ভাবনা সম্পর্কে মানুষের সচেতনতা বাড়বে, জঘন্য |

    ৩৩
  26. শাহরিয়ান আহমেদ বলেছেনঃ

    প্রবীর ভাই আপনার সুন্দর লেখাটির জন্য ধন্যবাদ।
    সাধারণ মানুষের কী জায়গা আছে ? আমরা কেউই বলছিনা রোহিঙ্গাদের দেশে আনতে, কিন্তু সাহায্যের হাত তো বাড়াতেই পারি….। রোহিঙ্গা বা রাখাইন না, মানুষের কথা ভাবুন।

    ৩৪
    • প্রবীর বিধান বলেছেনঃ

      আপনাকেও ধন্যবাদ লেখাটি পরার জন্য।

      বিপদগ্রস্ত জীবের সেবায় হাত বাড়ানোটাই তো মানুষের ধর্ম হবার কথা, সে রোহিঙ্গাই হোক, বা হিন্দু কি মুসলমান বা একটা রাস্তার কুকুর বা বিড়াল।

      আজকাল সভ্যতার মোড়কে অনেকর ভেতরের জান্তব মানুষটা বের হয়ে আসে। আগেও আসতো, কিন্তু আজকাল অনেক বেশি মানুষের মধ্যে এই সমস্যাটা দেখা যাচ্ছে। এটাকেই মনে হয় বলে “নৈতিক অবক্ষয়” বা চামড়া মোটা হয়ে যাওয়া।

      ৩৪.১
  27. উত্তর পুরুষ বলেছেনঃ

    @প্রবীর বিধান সাহেব,
    সুত্র আছে বলেই আমি ওই বিষয়টি উল্লেখ করেছি, আপনি জানতে চাইলে আসুন, দেখা করি! আপনার ভাষায় “আওয়ামী লীগ ৯১ পরবর্তী দু বার ক্ষমতায় আসলেও কিছু করেনি” তার মানে কি? কি করতে পারতো বলে আপনি মনে করেন? আর সেটা না করলে তার দ্বায় আওয়ামী লীগের, আমাকে তা জিজ্ঞেস করছেন কেন? আমি শুধু বলতে চেয়েছি আপনার এই পোষ্টটি এবং তার সাথে লেখা মন্তব্যগুলোও “মিস লিডিং”!
    আসল তথ্য আপনার সিনিয়র সাংবাদিকদের কাছে শুনুন, তারা দয়া করলে আপনাকে জ্ঞান দান করতে পারবেন! সৌদী আরব, পাকিস্তান ও আরো কিছু মুসলিম দেশ ও শক্তি (জনগন নয়, তাদের ইন্টেলিজেন্স!) বেশ কিছুদিন আগ থেকেই চাইছিল আরাকান নিয়ে একটি “বাফার মুসলিম স্টেট” সৃষ্টি করতে, তাই ততকালীন জাতিসঙ্ঘের শরনার্থী বিষয়ক রাস্ট্রদুত প্রিন্স করিম আগাখানের বিরাট অনীহা ছিল রোহিঙ্গা দের ফেরত দিতে, আর সৌদী আরব রাবেতা আল ইসলামীর ও অন্যান্য সং গঠনের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের ভূখন্ডে রাখার চেষ্টা এখনো চালিয়ে যাচ্ছে যাতে তাদের ভবিষ্যতে কাজে লাগানো যায়! বর্মীরা এ তথ্য আগ থেকেই জানতো, এত দিন সামরিক লৌহ যবনিকার পেষনে সেটাকে ঠেকিয়ে রেখেছিল! সাম্প্রতিক কালে যুক্তরাস্ট্রের চীনের দক্ষিনে সাগর বরাবর চীন বিরোধী নতুন ভারত-মায়ানমার ব্যারিকেড তৈরীর প্রয়োজনে মায়ানমারে সামরিক শাসন ও বিভিন্ন যুক্তরাস্ট্র পন্থী দেশের বানিজ্য নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হচ্ছে! তার মানে দাঁড়ায় এই যে এতকাল মায়ানমারের সামরিক শাসনে যুক্তরাস্ট্রের গুপ্ত ও সর্বাত্মক সহযোগীতা ছিল (তা না হলে মায়ান মারের সামরিক জান্তা রাতা রাতি কি ভাবে ভদ্রলোক হয়ে গেল-যুক্তরাস্ট্র চাইলে দেখা যাচ্ছে সবই হয়!)! ফলে লোক দেখানো আমেরিকান গণতন্ত্র দিতে মায়ান মারের সামরিক শাসন তুলে নিতে হচ্ছে, তাই তারা তাদের শেষ কামড়ে যতদুর বেশী সংখ্যক মুসলমানকে আরাকান থেকে বের করে দিতে চাইছে যাতে করে “বাফার স্টেট” এর সম্ভাবনা কমে যায়! কিছুটা ১৯৪৭ সালের দেশভাগের আগ মুহুর্তে লাহোর আর অমৃতসরের মতো!
    সত্যি কথা বলতে কি, এই রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে প্রথম বেশী সংখ্যাতে আসা শুরু করে ১৯৭৮ সালে ততকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় থেকে, প্রায় ৩৪ বছর আগ থেকে! তাই এই সাম্প্রদ্বায়িক দাঙ্গাগুলো বার বার মায়ানমার সরকারের স্পন্সরশিপে লাগানো হয়েছে!
    উপসংহারে এটাই বলতে হয় যে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ঠেকাতে হলে
    বাংলাদেশকেও শেষে সেই “বাফার স্টেট” কন্সেপ্ট এ মদদ দিতে হবে, রেঙ্গুন এর সাথে আরাকানের যোগাযোগ এত দূরুহ যে এটি খুব অল্প আয়াসেই করা সম্ভব যদি আমরা স্থায়ী ভাবে রোহিঙ্গা সমস্যা থেকে বাঁচতে চাই! কিন্তু এখন দৃশ্যপটের পরিবর্তন হয়েছে, যুক্তরাস্ট্র ও ভারত বাধা দিতে পারে (ভারতের নিজের অবস্থাই মিজোরামে নড়বড়ে, তাই ভারত তেমন কিছু করতে পারবে না, আর এইবার বাংলাদেশ পেতেই পারে এই ব্যাপারে চীনের সমর্থন!
    প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে মায়ানমারের উত্তরের অপেক্ষাকৃত উন্নত কারেন জনগোষ্ঠী রেঙ্গুনের বিরুদ্ধে সর্বদাই আর তাদের একটি বিরাট সমর্থন রয়েছে থাইল্যান্ড ও পশ্চিমা দেশগুলোতে!
    এই মুহুর্তে বাংলাদেশকে মুখ ফুটে মায়ানমারকে হুশিয়ার করে দিতে হবে এই বলে যে তারা যদি রোহিঙ্গাদের শান্তিপুর্ন ভাবে আরাকানে বসবাস করতে না দিয়ে বাংলাদেশে পাঠায়, তা হলে বাংলাদেশ “বাফার স্টেট” তৈরীতে সমর্থন দেবে, দেখবেন মায়ানমার সুড়সুড় করে পথে চলে আসবে! এতা এত দিন বলা হয়নি বলে মায়ানমার রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয় নি, বরং আরো পাঠিয়েছে!
    এবার নিশ্চয়ই বোঝা যাবে কেন রোহিঙ্গারা ভারতে যায় না?
    আচ্ছা, যুক্তিপুর্ণ কথা বলতে গেলেই আপনি সবাইকে আওয়ামী লীগের দলে ফেলে দেন কেন? আপনার অ্যালার্জীটা কোথায়?
    আপনার নিজের রাজনীতি, “বিপ্লব” আর “প্রতিবিপ্লব” ইত্যাদি ব্যাপারে ধারনা অতি সীমিত বিধায় “পর ধর্মে নৈব নৈব চ”, আপনার এসব ব্যাপারে লেখাই উচিত নয় কারন আপনি একদিকে আপনার এ যাবত পোষ্ট সমুহে কারনে অকারনে আওয়ামী সরকারের বিরোধীতা করেছেন (তা আপ নি ইচ্ছে করলে করতেই পারেন!), কিন্তু মুশকিল হচ্ছে সেই বিরোধিতার ক্ষেত্রে আবার আপনি নিজেকে “নিউট্রাল” হিসেবে “র‍্যাটিফাই” করবার চেস্টা করছেন, যাতে বলাবাহুল্য আপনি সফল হতে পারেন নি, আপনার চেহারা চিনহিত হয়ে গেছে!
    ধন্যবাদ, ভালো থাকুন!

    ৩৫
    • প্রবীর বিধান বলেছেনঃ

      ভাই, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ বিস্তারিত আলোচনার জন্য এবং আমার লেখা ও মনোভাবের সমালোচনা করার জন্য।

      আপনার কি মনে হয় সেই বাফার স্টেট প্ল্যানটা এখনও আছে কারো কারো মাথায়? আমার মনে হচ্ছেনা।

      যাই হোক মতভেদ হতেই পারে।

      আপনি পোস্টটিকে ও আমার মন্তব্যগুলোকে মিসলিডিং বলছেন, তার মানেটা পরিষ্কার হলোনা।

      এক কথায় বলতে গেলে, আমি যা বলতে চেয়েছি তা হলো, “মানবিকতা বিবেচনায় নিয়ে দূর্গত মানুষদের আপাতত সাহায্য করা। ওদেরকে যেন সাথে সাথেই আবার মৃত্যুমুখে ফেরত না পাঠানো হয়।”

      এক্ষেত্রে আরেকটা বিষয় স্পষ্ট করা প্রয়োজন যে, বাংলাদেশের পরিস্থিতি এই আশ্রয়দানের কারনে আরো বেশি খারাপ হবে সেই আশংকা আমার মধ্যে নেই।

      তথাকথিত “যুক্তিপুর্ণ কথা” বলে যারা আওয়ামী লীগের দোষ-ত্রুটিকে ঢাকতে চায় তাদেরকে আমার কাছে সাধারনভাবে সেই দলের গোড়া সমর্থক বলে মনে হয়। এটা কেন হয় ডাক্তারের সাথে কথা বলে দেখতে হবে।

      আর আমার “রাজনীতি”, “বিপ্লব” আর “প্রতিবিপ্লব” ইত্যাদির ব্যাপারে ধারনা অতি সীমিত, এখনও পাকা হইনি–ঠিক বলেছেন, আমারও তাই মনে হয়, তাই আমি বেশি গলাবাজি না করে পয়েন্ট ধরে কথা বলার চেষ্টা করি।

      “কারনে অকারনে আওয়ামী সরকারের বিরোধীতা করেছেন”–মানতে পারলাম না।

      নিজেকে “নিউট্রাল” হিসেবে “র‍্যাটিফাই” করবার চেস্টা করতে গিয়ে সফল হতে পারিনি এবং আমার চেহারা চিহ্নিত হয়ে গেছে–এটাও বুঝলাম না। তার মানে কি বলতে চাইলেন আমি কোন একটা দল করি? বা আমি সংস্কারপন্থী আওয়ামী লীগার? প্লিজ, আমার এই ছোট-কচি মাথায় খেলছে না আপনি কি বললেন, একটু খোলাসা করে বলবেন প্লিজ।

      পাশাপাশি, ব্লগপোষককে অনুরোধ করবো আমার পোস্ট ও মন্তব্যগুলো ভালো করে পড়ে দেখতে। কেননা এটা যদি সত্যিই মিসলিডিং হয় তবে এটাকে ফিচার থেকে নামিয়ে আনতে আনা উচিত।

      ৩৫.১
    • প্রবীর বিধান বলেছেনঃ

      একটা বিষয় বাদ পড়ে গেলঃ “আওয়ামী লীগ ৯১ পরবর্তী দু’বার ক্ষমতায় আসলেও কিছু করেনি”। এটা বলতে আমি বুঝাতে চেয়েছি যে, সরকারে এসে তারা শরনার্থীদের ইস্যুটাকে দলের ও দেশের জন্য ক্ষতিকর বা হুমকি মনে করেনি, এবং গোয়েন্দা বা স্থানীয় সূত্র মারফতও জানতে পারেনি এরা অপরাধ/জঙ্গী ইত্যাদি কর্মকান্ডে জড়িত ছিল কিনা। আর যদি জেনেও থাকে, তবে তা দমন করতে ব্যর্থ হয়েছে।

      ৩৫.২
  28. রহমান আতা বলেছেনঃ

    শুধু রুহিঙ্গা নয়, যে কোন মানব সন্তানের বিপদে এগিয়ে আসা উচিত। তবে এবারও মিয়ানমারে জাতিগত সংঘাতে রুহিঙ্গারা বাংলাদেশের দিকে পালিয়ে আসছে। আবার বিশ্ব বিবেক এবং মানবতাবাদীরা (?) বাংলাদেশের সীমান্ত খুলে দিয়ে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে চাপ দিচ্ছে বাংলাদেশেকে। তারা কোন মতলবে এটা করছেন। এসব মুরুব্বিরা সংঘাতময় মিয়ানমারে গিয়ে তা থামাতে পারেন। তাইলে রোহিঙ্গারা তাদের জন্মভুমি ছেড়ে অন্য দেশে আশ্রয় নেবে না। সতিকারেরর দরদ থাকলে সেদেশে গিয়েই কাজ করুন আমাদের এনজিও কমীর্রা।

    ৩৬
    • প্রবীর বিধান বলেছেনঃ

      ভাই আতা, মিয়ানমারের যে সমস্যা তা তো প্রায় দু’শো বছর ধরে চলছে, আর গত ৪০ বছরে সেনাশাসনের আমলে তা আরো তীব্র আকার ধারন করেছে। একনায়কতন্ত্রের কারনে জাতিসংঘ ও বিভিন্ন দেশের উন্নয়নকর্মীরা সেখানে কাজ করতে পারেননি বলে আমার ধারনা। যেকারনে সংখ্যাগরিষ্ঠদের চাপের মুখে রোহিঙ্গারা ক্রমাগত দেশত্যাগ করে চলেছে। তারা ক্রমশ মায়ানমারকে শত্রু ভাবছে।

      সত্যিকারের দরদের যে তরিকা আপনি দিলেন, মানে সেদেশে গিয়ে কাজ করা, সেটা কতটা যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত তা কি ভেবে বলেছেন?

      বর্তমানে সেদেশে যেহেতু সরকার-রাজনীতি-সমাজনীতিতে পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে এবং বিভিন্ন দেশ নানাভাবে মায়ানমারের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন করতে চাচ্ছে, তাতে করে সেখানে জাতিগত বিভেদ বেশিদিন আর স্থায়ী হবে না বলে আমার আশা।

      ৩৬.১
  29. জল্লাদ 71 বলেছেনঃ

    বাকশালীদের মন গলবে না ভাই। ওরা মানুষ নয় আওয়ামীলীগ। মুসলমানদের পক্কে কথা বললেই ত্রক শ্রেণীর লোক আছেন যারা সুধু জামায়াতের গন্ধ খুজে পায়। আজ রোহিংগারা মুসলমান না হয়ে অন্য কোন সম্প্রদায়ের লোক হলে ওদের মুখে মানবতার বুলি শুনা যেত। “সু:” অদ্যাক্করের ১জন বাকশালী চামচা সব কিছুতে শুধু জামায়াত গন্ধ খুজে বেড়ায়।

    ৩৮
    • প্রবীর বিধান বলেছেনঃ

      বাকশালীই বলুন আর আওয়ামীলীগ বা বিএনপিই বলুন আমার মতে ক্ষমতার রাজনীতি করা লোকগুলো “মানুষ/মানবিক” না। এরকম আরো আছে, যেমন ধরুন, মিথ্যাবাদী, প্রতারক, সন্ত্রাসী, চোর, ডাকাত, নির্যাতনকারী, ব্যবসায়ি, দুর্নীতিবাজ ইত্যাদি…

      আরেকটা সমস্যা হলো গিয়ে, এদেশে আজকাল কোন রাজনৈতিক দল না করলে বিরাট হ্যাপা। ন্যায়বিচার-সুশাসন-সমানাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কেউ নির্দলীয় থাকতে চাইলে রক্ষা নেই। তার উপর সরকারি দলের পক্ষে না থাকলে যে তাকে জনগনও বলা হয়না এটাও দেখা যাচ্ছে সরকারের কর্তাব্যক্তিদের কথার ধরনে। এটাই তো চলছে আজকালকার জমানায়। শুধু সরকারি দলই সব সিদ্ধান্ত নেবে, নানারকম সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবে, আর বিরোধী দল এবং অন্যান্য দল ও দলবিহীন লোকজন কোন জাতের মধ্যে পড়বেনা।

      গনতন্ত্রের ছালের নীচে একধরনের একনায়কতন্ত্র/রাজতন্ত্র আর কি।

      ৩৮.১
  30. মিতুল আহমেদ বলেছেনঃ

    কোন কোন সময় ডান-বাম পন্থা,ধর্ম,কর্ম ছাপিয়ে মানবিকতাই বড় হয়ে দেখা দেয় চলন সমাজে। বর্তমান পরিস্থিতিও তাই…।

    ৪০
  31. সুলতান মির্জা বলেছেনঃ

    @প্রবীর বিধান, আবার কোনও মন্তব্য করার ইচ্ছা ছিল না। গতকাল কে সাময়িক বিরতি নিয়ে চলে গিয়েছিলাম, কিন্তু আপনার পসেট মন্তব্য গুলো পড়ে আবার ফেরত আসলাম।
    দেখুন প্রবীর বিধান আপনি উল্লেখ করেছেন, আমার সম্মন্ধে

    আসলে ডানপন্থীরা একটু অমানবিক ও বৈষম্যপ্রিয়ই হয়। তাছাড়া এরা স্বার্থ (লাভ) ছাড়া একপাও এগুতে চায় না।

    আপনি ডানপন্থী বলে কী বুঝাতে চেয়েছেন সেটা জানার কোনও ইচ্ছা আমার নেই তবে আমমি একটা বিষয় স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমার একটা রঙ আপনারা ধরেছেন কিন্তু আপনি হতাশ আপনার এই পর্যন্ত বেশ কিছু ব্লগ পড়ে সম্ম্যক অভিজ্ঞতা নিয়েছি আর সেটা হল “আপনার কোনও রঙ আমি খুজে পাইনি” আপনার রঙ একটাই আপনি মাহফুজ আনামে ডেইলি স্টারে কাজ করছেন। ব্যাস এইটুকুই। যখন যেখানে সুবিধা মনে করেন তখন সেখানে চলে যান। নিজের বিবেক কে প্রশ্ন করুন, আজকে যারা আপনার লেখা পড়ে সম্যক হাত তালি দিচ্ছে কিছুদিন পূর্বে তারা আপনার লেখা গুলো পড়ে মন্তব্য করেছিল “আপনি দালালী করছেন” যাই হক বস আমি আপনাকে সেই কথা বলছি না কারণ আপনার ব্যাক্তিগত জীবন বিষয়ে ইতিমধ্যে আমি বেশ কিছু তথ্য সংগ্রহ করেছি। তবে অনুরোধ একটা রইল সমালোচনা করুন আমার আপনি করুন। গালি দিন আমাকে আপনি দিন। অন্য কাউকে উস্কে দিবেন না।

    ধন্যবাদ ভাল থাকুন।

    সম্মানিত ব্লগপোষক দৃষ্টি আকর্ষণ করছি ভালমন্দ বিচার বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা আপনাদের রয়েছে। একটা অনুরোধ করব। আপনারা খেয়াল করেছেন বিডি ব্লগে অতি পুরাতন অনেক ব্লগার এই রোহিঙ্গা ইস্যুটা নিয়ে বিপক্ষে মতামত প্রকাশ করছে। সেই হিসেবে আমি আপনাদের কাছে বিনীত অনুরোধ করে বলতে চাই। এমন একটা স্পর্শকাতর গঠনা ফিচার পোস্ট করা ঠিক হয়নি বলে আমি আমার মতামত প্রকাশ করছি। ধন্যবাদ।

    ৪১
    • প্রবীর বিধান বলেছেনঃ

      ভাই সুলতান মির্জা, বেশ লিখেছেন।

      আপনার সাথে আমার কোন যোগাযোগ নেই, আমি কোনদিন আপনাকে দেখিওনি, এই অবস্থায় আপনার সাথে লাগতে যাওয়া বা আপনার বিরুদ্ধে কাউকে উস্কে দেবার পরিকল্পনা থাকা বা সে মাফিক কাজ করার কোন ইচ্ছাও আমার নেই।

      ডানপন্থী বলতে আমি বুঝিয়েছি যারা রাষ্ট্রক্ষমতার রাজনীতি করে, ক্ষমতার আশেপাশে থাকে, এবং সেটাকে কেন্দ্র করেই রাজনীতি করে। এরা সাধারনত গনতন্ত্র ও জনগনের জন্য কাজ করছে দাবি করে, কিন্তু আদতে দেখা যায় এরা আসলে কমিশন এজেন্টের মত আচরন করে এবং দেশ-দল অপেক্ষা নিজের ও কিছু ক্ষমতাবানদের আখের গুছাতে সাহায্য করে। এরা বিনিময়ে কিছু না পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে সাধারনত সময়, শ্রম ও অর্থ বিনিয়োগ করেনা। এরা রাজনীতি নিয়ে ব্যবসা করে–যা আমার কাছে অমানবিক ঠেকে।

      আর আমি কি আপনাকে ডানপন্থী বলেছি নাকি? যার মন্তব্যের জবাবে এই কথাটা বলেছিলাম তিনি উল্লেখ করেছিলেন আওয়ামী লীগের পান্ডাদের কথা, তাতে আমি বুঝেছি দিপু মনি ও সকল আওয়ামী লীগারদের, যারা চোখ বন্ধ করে দলের হাইকমান্ডের কথা তোতা পাখির মত আউড়িয়ে বেড়ায়। বিএনপি, জাতীয় পার্টি ও জামায়াতও একই পথে হাঁটছে।

      আমি বিডিনিউজ ছেড়ে ডেইলি স্টারে এসেছি মানে কি এই যে, আমি সুবিধাবাদী! আড়াই বছর সেখানে কাজ করে কেন চলে আসলাম সেটা কি জানতে পেরেছেন? আর মাহফুজ আনাম কি রাজনীতি করেন, কেন করেন, কিভাবে করেন–এতকিছু নিয়ে চিন্তা করা বা গুটি পাকানোর মত সিনিয়র আমি নই। আমি একজন সাব-এডিটর যার কাজ খবর সম্পাদনা করা, যেখানে আমার মতামত প্রকাশের জায়গা আছে। পাশাপাশি আমি আমার অনুভূতি-সংক্রান্ত সমস্যার কারনে পরিবেশের উপর মানুষের করাল গ্রাস নিয়ে লিখি শনিবারের পরিবেশ পাতায়। মাঝে মাঝে সাম্প্রতিক বিষয়ে মতামত লিখি শুক্রবারের স্টার ম্যাগাজিনে।

      আপনি তো আমার অনেক খবর নিয়েছেন, তবে কার কাছ থেকে নিয়েছেন সেটা জানাননি, মানে ধরুন আমার ছোটবেলার কোন বন্ধু, বা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ, অথবা বিডিনিউজ বা ডেইলি স্টারের কোন সহকর্মী, কাছের না দূরের ইত্যাদি ইত্যাদি। সুতরাং কতটুকু কি বুঝেছেন তা নিয়ে আমার গভীর সন্দেহ আছে।

      কিছুটা বুদ্ধি হবার পর থেকে আমি আমার ভাই-বোনদের সাথে এরশাদবিরোধী আন্দোলনে ছিলাম। আমাদের বড় পরিবারে ছাত্র ইউনিয়ন ও কমিউনিস্ট পার্টি করা লোকজন বেশী। বাবা আর কেউ কেউ আওয়ামী লীগে ভোট দিতেন।

      তবে এই দলকে সবাই আমরা পছন্দ করতাম “বঙ্গবন্ধুর” কারনে। কিন্তু তাঁর মেয়ে সেই “মানবিকতা” ও “আদর্শ” ধারন করতে পারেন না এবং দলের নেতা-কর্মীদের সামলে রাখতে পারেন না বলে আমি ব্যক্তিগতভাবে উনাকে খুবই অপছন্দ করি, এবং দিন দিন তাঁর আচরন-সিদ্ধান্তগ্রহন প্রক্রিয়া ইত্যাদি আমার কাছে ভালো না লাগায় কিছু কিছু বিষয়ে আমি স্পষ্ট সমালোচনা করি এবং করবো।

      স্কুলে ও কলেজে পড়ার সময়ে আমি হাজারো মানুষের সাথে মিশেছি, আমার বাবা আমাকে সেই সুযোগ দিয়েছিলেন। অনেক দেখেছি, শিখেছি, তবে এখনও শিখছি, এর কোন শেষ নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার ২মাসের মধ্যে আমাদের এলাকার এক ছেলে যে কিনা আমার ব্যাচমেট সে হল ছাত্রলীগের কমিটিতে সদস্য পদে আমার নাম লিখিয়ে দিয়েছিল আমাকে না জানিয়েই। তবে তা কখনো বাঁধা হয়নি আমার চলাফেরায়। পরে সরকার বদল হলে ছাত্রদল হল কমিটিতে আমার নাম দিয়ে দেয় সহ-সভাপতি বলে, সেটাও আমাকে না জানিয়ে। এটাও হাস্যকরভাবে আমাকে প্রভাবান্বিত করতে পারেনি, কেননা আমি সবার সাথেই মিশতাম। জাহাঙ্গীরনগরে শিবির না থাকায় এদের সাথে আমার সরাসরি মেশা হয়নি, তবে এদের গল্প শুনেছি ও বই-পত্রিকায় পড়েছি।

      যাই হোক, আসলে বলতে চাচ্ছিলাম যে, আমি কারো কাছে বাড়তি সুবিধা কখনো নিতে চাইনি। ২০০৯ থেকে বিডিনিউজে কাজ শুরু করেও আমি রাজনীতি করিনি, এবং সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলার চেষ্টা করেছি এবং পেরেছি গতবছর নাগাদ। গত সেপ্টেম্বরে সমস্যা শুরু হলো যেদিন সেদিনই আমি অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছিলাম। তারপর চাকরি খোঁজা শুরু করি। ডেইলি স্টারেও যদি কোন সমস্যা হয়, আমার মনের সাথে না মেলে, এখান থেকেও আমি চলে যাবো অন্যকোথাও এবং নিজের মতো করে কাজ করবো।

      ওহ, বলাই হয়নি, জাহাঙ্গীরনগরের ব্যবসায় প্রশাসন পড়তাম আনি। শিক্ষকদের অনাচারে বিরক্ত হয়ে দ্বিতীয় বর্ষে (৩য় সেমিস্টারে) পড়াশুনা ছেড়ে দিয়েছিলাম। আমার অনেক ক্লাসমেটের মত কোনদিন সেইসব শিক্ষকদের হাতে-পায়ে ধরে পড়াটা চালিয়ে নিতে চাই নি।

      আমার সম্বন্ধে আরো জানার প্রয়োজন মনে করলে, এবং আমার পোস্ট ও মন্তব্য পড়ে আপনি যদি ঠিকমত আমার অবস্থানটা না বুঝেন তাহলে আমার সাথে ই-মেইলে বা ফোনে বা দেখা করেও জানাতে পারেন।

      এই পোস্টটি লেখার পেছনে, আমি আবার বলছি, আমার উদ্দেশ্য ছিল সবাইকে জানানো আমি যে, এই ব্যাপারে কি ভাবছি। আমার খারাপ লেগেছে দিপু মনি বা আওয়ামী লীগ সরকারের আচরন ও ভঙ্গি। তাই আমি বেশিকিছু লিখতে চাইনি, ইতিহাস-পাতিহাস কপচাইনি, কে কোথায় রাজনীতি করছে, কি আশংকা আছে তা নিয়ে মাথা ঘামাইনি। আমার মনে হয়েছে এই মুহুর্তে এসব প্রানভয়ে ভীত মানুষদের আশ্রয় না দিয়ে আবার অনিশ্চিত জীবনের দিকে ঠেলে দেয়াটা ঠিক হচ্ছেনা। এরা আমার পাশের এলাকার/বাসার কেউ হলে অবশ্যই আমার ঘরে থাকার জায়গা দিতাম। তবে এটা আন্তর্জাতিক বিষয় হওয়াতে, ভিসা-ইমিগ্রেশনের ব্যাপার জড়িত বলে এবং আমি একজন অন্তত জনপ্রতিনিধি না হওয়ার কারনে এদের জন্য সরাসরি কিছু করতে পারছিনা।

      এই পোস্ট নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে বলে গতকাল ব্লগ কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছিলাম এটাকে নামিয়ে নিতে। উনারা জানালেন বিতর্ক হতেই পারে, তবে ব্যক্তিগত আক্রমন না হলেই হলো। তবে একটা কথা জানেন কিনা, এটাকে স্টিকি করার জন্য আমি কিন্তু কোন অনুরোধ জানাইনি। লেখাটা পোস্ট করার ২দিন পর এটাকে টপ করা হয়েছে, যা দেখে আমি খুবই অবাক হয়েছিলাম।

      শুভকামনা রইলো।

      ৪১.১
  32. অর্ঘ্য

    অর্ঘ্য বলেছেনঃ

    @ সুলতান মির্জাঃ আমাদের মাঝে আপনাকে ফিরে পেয়ে অভিনন্দন জানাই। তবে এই পোস্টটা থাকুক না। একজন নতুন ব্লগার হয়েও এ যাবত গুটি কতোক পোস্ট বা কমেন্টস পড়ে যে ধারনা হয়েছে , তাতে মনে হচ্ছে, এই পোস্টটিতে আর কোন ভাল লক্ষন খুঁজে পাওয়া না গেলেও, অন্তত পক্ষে কারও কারও মুখোশ উন্মচিত হচ্ছে, কেউ হয়ত নিজের মুখে দলীয় তকমা লাগিয়ে নিচ্ছেন কেউবা লাগিয়ে ফেলছেন। কেউ হয়ত রং মাখছেন কেউবা রং মুছছেন!! আবার যার যার অবস্থান safe কিংবা clear রাখার জন্য সুবিধাবাদীদের মত কথা বলছেন। মোদ্দা কথা, আপনার আমার অথবা তেনাদের চেহারা ক্রমান্বয়ে সুস্পষ্ট আকার ধারণ করছে।
    তো সকলের চেহারার কথা বলছি যখন নিজেরটা বলছিনা কেন? তাহলে শুনুন রোহিঙ্গা বিষয়ে আমার মতামত;
    ১। “নেড়া বেল তলায় একবারই যায়” –ব্যক্তিগত সহানুভুতিতে যেভাবে বা যতটুকু ব্যক্তি স্বার্থ ত্যাগ করা সম্ভব, রাষ্ট্রীয় ভাবে বা রাষ্ট্রীয় পর্যায় তা সব সময় সম্ভবপর হয়না। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ঠিক তেমনটিই ঘটেছে। (কি ভাবে ঘটেছে তা অনেকেই ইতিমধ্যেই বিস্তারিত আলোচনা করেছেন) আজ রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে “Push in” না হয়ে যদি ভারতের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করত তাহলে অনেকের মতই আমিও ভারতকে একই অনুরোধ/দাবি রাখতাম নিঃসন্দেহে। কিন্ত যারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরিন এবং বহিঃবিশ্বের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে আরকানের দাঙ্গার পিছনে কোন মতলব বাজ মহলের ইন্ধনের বিষয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, তাদের মতামতকে তো “মানবতার” মায়া কান্নায় ভুলিয়ে দেয়া যায় না।

    ২। আর যারা নেড়াকে আরেকবার তা করতে দাবী জানায় আবার অনুরোধও করে তারা জামাতী।
    না, জামাতী বলে গালি দিচ্ছিনা। জামাতের সমর্থক বলছি। কেন? কারন ঠিক এরাই উল্টো সুরে কোরাস গাইত, “ সরকার পার্বত চট্টগ্রামকে মায়ানমায়ের হাতে তুলে দিচ্ছে” যেমনটি গাইত, “ দেশ ভারত হয়ে গেছে”। অর্থাৎ যখন যা বলে সুবিধা লোটা যায় আর কি! আবার অন্য দিকে নতুন অতিথিদেরকে নিজেদের ছত্র ছায়ায় লালন পালন করে, তাদেরকে দিয়ে নিজেদের আখের গুছিয়ে নেবার কাজটা বরারবরের মত চালিয়ে যেতে পারত। বড় সুবিধাটা হচ্ছে ওদের চেহারা আর ভাষা (চাটগাইয়া) যে একই!! ক্রম হ্রাসমান দেশী সমর্থন হারিয়ে যদি duplicate দেশীদের দিয়ে এর অভাবটা কিছুটা পুরন করা যায়!! কারন এদের বাংলাদেশ প্রেমি হয়ে ওঠার সম্ভাবনা কোন কালেই নাই। তাই পাকিস্থান পন্থী তথাকথিত বাংলাদেশী + বাংলাদেশী রুপি রোহিঙ্গা, দারুন সমন্বয়। আর এই সমন্বীত শক্তিতে কিছু একটা করাও সম্ভবপর হলেও হতে পারে।

    তাই বর্তমান সরকারের, নতুনভাবে আগত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় না দেবার সিদ্ধান্তকে সংগত কারনেই সমর্থন করি।

    ৪২
  33. প্রবীর বিধান বলেছেনঃ

    রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের চোখে উটকো ঝামেলা আর মিয়ানমারের কাছে বহিরাগত ‘বাঙালি’। মিয়ানমারে তারা ঘৃণিত, বাংলাদেশে তারা পরিত্যক্ত। সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি রোহিঙ্গা আন্দোলনের পেছনে জামায়াতে ইসলামীর উসকানি খুঁজলেও ভাসমান মানুষের চোখের পানি দেখতে পাননি। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের শাসকশ্রেণী যে বর্ণবাদী, সাম্প্রদায়িক ঘৃণায় কলঙ্কিত করে, আমাদের সরকারি দৃষ্টিভঙ্গি তা থেকে কতটা ভিন্ন?

    ৪৩
    • প্রবীর বিধান বলেছেনঃ

      যারা ভালোভাবে মায়ানমারের ইতিহাস, সাম্প্রদায়িকতা, বিভেদ সম্পর্কে জানতে চান দয়া করে সাংবাদিক ফারুক ওয়াসিফের লিঙ্কের এই লেখাটি পড়বেন। কিছু কথা বাছাই করে এখানে দিচ্ছিঃ

      *মিয়ানমারের সরকার ও জনগণের বড় অংশ গভীরভাবে বিশ্বাস করে, রোহিঙ্গারা অপরাধপ্রবণ, মৌলবাদী, ঠিক মানুষ নয়, দ্বিপদবিশিষ্ট আপদ। তাদের এই বর্ণবাদী দৃষ্টিভঙ্গি সেবনে বাংলাদেশের শাসক মহলেরও দেখি আপত্তি নেই। এ ধরনের মনোভাবকেই জাতবিদ্বেষ, বর্ণবাদ, সাম্প্রদায়িকতা ইত্যাদি বলা হয়। মিয়ানমারে আধাসামরিক সরকারপ্রধান থেকে শুরু করে শান্তিতে নোবেলজয়ী অং সান সু চিও রোহিঙ্গা ও মুসলমানদের বর্ণবাদী ‘কালার’ নামে ডাকছেন। এ জন্য তাঁদের বর্ণবাদী বললে ‘অপমান’ হবে। অপমান, লাঞ্ছনা ও দুর্দশা তাই রোহিঙ্গাদেরই ললাটলিখন।

      * প্রাচীন সমৃদ্ধ আরাকানের বিপর্যয়ের শুরু মূলত ১০৪৪-১০৭৭ খ্রিষ্টাব্দে বার্মিজ রাজা আনাওরথার আগ্রাসনের সময় থেকে। তিনি হাজার হাজার স্থানীয় রোসাং, রোহাং এবং রেকং বা রাখাইনদের হত্যা করেন; দেশত্যাগী হয় লাখ লাখ আরাকানি। ঐতিহাসিকেরা সাক্ষ্য দিচ্ছেন, চট্টগ্রামে বসবাসকারী চাকমা, রাখাইন, মারমাসহ অনেক জনগোষ্ঠী সে সময়ই দেশত্যাগী হয়ে বাংলাদেশে বসত করে। রাজা আনাওরথাই প্রথম অহিংসার বৌদ্ধ ধর্মকে বর্ণবাদী ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেন। স্থানীয় বৌদ্ধ মতবাদ হটিয়ে তিনি থেরাভাদা বৌদ্ধ মতবাদের পৃষ্ঠপোষকতা দেন।

      *পঞ্চাশের দশকে বার্মার সামরিক সরকারও একে রাজধর্ম করে এবং দেশের ১৮০টির বেশি আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে ঔপনিবেশিক কায়দায় কোণঠাসা করে রাখে। এরই প্রতিক্রিয়ায় রোহিঙ্গারা ছাড়া বাকি আদিবাসীরা অস্ত্র হাতে তুলে নেয়।

      *সু চির বাবা অং সানের অন্যতম প্রধান সহযোগী ছিলেন মুসলমানদের নেতা উ রাজাক। তিনি সে সময় সেক্যুলার জাতীয়তাবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে মুসলমানদের অসাম্প্রদায়িক জাতীয়তাবাদে দীক্ষিত করেন। শিক্ষা ও পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে মুসলিম ও বৌদ্ধ বার্মিজদের কাছে তিনি জনপ্রিয় ছিলেন। সু চির বাবা অং সানের নেতৃত্বে সংবিধানে সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর বিশেষাধিকার অন্তর্ভুক্তির সময় উ রাজাকের কারণেই মুসলমানরা বাদ পড়ে। সু চি হয়তো ভুলে গেছেন, তাঁর বাবার সঙ্গে একত্রে উ রাজাকও নিহত হন।

      *মিয়ানমারের মুসলিম জনগোষ্ঠীর জঙ্গি বা বিদ্রোহী হওয়ার রেকর্ড অন্য বার্মিজদের তুলনায় শতগুণ কম। অপরাধপ্রবণতার দিক থেকেও তারা পিছিয়ে। সুতরাং মিয়ানমারের সরকারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের মন্ত্রী যা বলেছেন, তা ঠিক নয়।

      *পঞ্চাশের দশক থেকে সামরিক সরকার বার্মার জনগণকে উগ্র জাতীয়তাবাদ এবং সাম্প্রদায়িকতায় উত্তেজিত করে বিভক্তির শাসন চালিয়ে যাচ্ছে।

      *সাম্প্রতিক দাঙ্গার পেছনেও পাওয়া যাচ্ছে এক তরুণ বৌদ্ধ সন্ন্যাসীকে। আফগানিস্তানের তরুণ তালেবান মৌলবাদীদের অনুকরণে তাঁকে বলা হচ্ছে ‘তালেবান সন্ন্যাসী’। বার্মার সরকারি ও বিরোধী দলও মুসলমান ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত লোকজনের বিরুদ্ধে এককাট্টা। তাই আজ রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর যে জাতিগত গণহত্যা চলছে, অচিরেই সেটা অন্যান্য ভারতীয় বংশোদ্ভূতদের বিরুদ্ধে যে হবে না, তার নিশ্চয়তা কী?

      *যে যুবকটি রাখাইন নারী ধর্ষণের অপরাধী, তার বাবা নিজেও একজন রাখাইন। রাখাইনের ঘরে জন্ম নিয়ে সে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে চলে আসে। বাবার মৃত্যুর পর ছেলেটি ভবঘুরে অপরাধীদের খাতায় নাম লেখায়। অন্যদিকে, ধর্ষণের প্রতিহিংসায় যে ১০ জনকে হত্যা করা হয় তারা কেউই রোহিঙ্গা নয়; এমনকি সবাই মুসলমানও নয়।

      *অভিযোগ রয়েছে, মিয়ানমারের গণতন্ত্রের যাত্রাকে ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্য পরিকল্পিতভাবে দাঙ্গা ঘটানো হয়েছে। ধর্ষকদের হাতেও যে যোগাযোগ প্রযুক্তি দেখা গেছে, সেটা সাধারণ ভবঘুরেদের হাতে থাকার কথা নয়।

      *দাঙ্গা শুরু হয় ৮ জুন। কিন্তু গত এপ্রিল থেকেই বার্মার সরকারি গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক দলগুলো মুসলিমবিরোধী জিগির তুলে যাচ্ছিল। কয়েক মাস আগে অং সান সু চির দলের এক এমপি লোক লেলিয়ে দাঙ্গা ঘটান।

      *ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগের কারণেই আরাকান বিষয়ে বাংলাদেশের সজাগ থাকা প্রয়োজন। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় না দেওয়ার কারণ সাম্প্রদায়িক মুসলিম বিদ্বেষ হলে তা লজ্জার ব্যাপার। মানবিক ও রাজনৈতিক কারণটিই বড় করে দেখতে হবে।

      *কিন্তু কেন বাংলাদেশ সমস্যাটি ঘাড়ে নেবে? সরকার যে জাতীয় স্বার্থের অজুহাত দিচ্ছে, তা যদি তারা মানতেন, তাহলে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়িদের বিক্ষুব্ধ করে তুলতেন না। যারা স্বদেশবাসীদের নিজ ভূমিতে উদ্বাস্তু করে রাখতে পারে, তারা প্রতিবেশীদের আশ্রয় দেবে—এমন আশা বাতুলতা।

      ৪৩.১
  34. সুলতান মির্জা বলেছেনঃ

    @ধন্যবাদ প্রবীর বিধান, একটা কথা কী জানেন সমসাময়িক কোনও বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে যদি এমন কোনও বিশ্লেষণ হয় সেটা উপস্থিত মন্তব্যকারী কে উপলক্ষ করে বলা হয়ে থাকে। এই খানে আপনাকে বলে রাখার প্রয়োজন বোধ করছি আপনার ব্লগে আমার দুইটা ভাষা মডারেট হয়েছে ভাষা দুইটা ছিল “ধিক” মাত্র। কিন্তু ব্লগ পোষক এই সহজ বিষয় টা কে কেন জটিল করে দিল এটা আমি বুঝলাম না। এই ক্ষেত্রে আমার বেশ কিছু মন্তব্য বা ব্লগ লেখার ভাষার ডিলিট বা পরিবর্ধন ইতিপূর্বে করা হয়েছিল। তাই আমি একটু হতাশ হয়েছি মাত্র।

    আপনার সম্মন্ধে আমার জানার কোনও ইচ্ছা ছিল না। তারপর ও জানতে হল। তবে কী জানেন এই লেখাটা ফিচার পোস্ট করায় অনেকেই মর্মাহত হয়েছে। যেমন গতকাল কে অনেকেই আমাকে ফোন বা ই মেইল করেছে। যে বিডি ব্লগ টিম কী জামাত শিবির কে হাই লাইট্স করছে কী না। তবে আপনার পোস্টের ফিচার বিষয়ে যে আপনার কোনও অনুরোধ নেই সেটা বুঝা যায়।

    প্রবীর ভাই, আন্দোলন করে দ্বাবি আদায় করা যায় যদি আন্দোলন টা হয় যৌক্তিক। আপনার পোস্টের ব্যাপারে প্রকাশ্যেই বলতে চাই, হয়তো মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আপনার মন কেদেছে তাদের দুক্ষ কস্ট দেখে আপনি লেখা লেখি শুরু করে দিয়েছেন। বাস্তবতা হলো এই আন্দোলনের ফলাফল হবে জিরো। কারণ এইখানে আপনার যুক্তির বিপক্ষে অনেক যুক্তি দাড়িয়ে আছে। যে যুক্তির সমাধান করা আপনার ব্যাক্তি প্রবীরের পক্ষে সম্ভব নয় কোনও দিন। এই বিষয়টা এখন হয়ে গেছে দেশ এর অতি ক্ষুদ্রতম একটা অংশের দ্বাবি যা নিয়ে সরকার মাথা ঘামবে বলে মনে হয় না। আর যদি সরকার আপনার এই দ্বাবীর প্রতি সমর্থন জানায় তাহলে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের জনগণ এর বেশ বিরাট অংশ কী করে দেইখেন।

    আপনি এই ব্লগে দেখেন, আপনার পোস্টের পক্ষে কে বা কাহারা সমর্থন যুগিয়েছে এরা কারা কী এদের পরিচয়। বিডি ব্লগের নিয়মিত কয়টা ব্লগার আপনার পোস্টের সমর্থন দিয়েছে।

    শোনেন ভাই, বিডি ব্লগ বর্তমানে খুব পরিচ্ছন্ন ও উচ্চ মাপের একটা ব্লগে পরিণত হয়েছে। ভিবিন্য কারণে। আপনি অবগত রয়েছেন সরকারের মধ্য পর্যায় থেকে লোকজন এই ব্লগের মতামত কে বেশ গুরত্ত্ব দিয়ে থাকে।

    আপনার তথ্য ডেইলি স্টার ভবন থেকে সংগৃহীত। ধন্যবাদ ভাল থাকবেন।

    ৪৪
  35. শাকিল বলেছেনঃ

    কেউই কারও আশ্রয় দিতে পারে না| মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কিভাবে দিবেন?
    একমাত্র স্রষ্টাই দিতে পারেন আশ্রয়হীন-এর আশ্রয়|

    ”হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদিগকে এই জনপদ থেকে নিষ্কৃতি দান কর; এখানকার অধিবাসীরা যে অত্যাচারী !
    আর তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য অভিভাবক নির্ধারণ করে দাও এবং তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য সাহায্যকারী নির্ধারণ করে দাও।”
    **** [সূরা আন-নিসা : ৭৫]

    ৪৫
  36. উত্তর পুরুষ বলেছেনঃ

    @লেখক, আপনি তা হলে বাংলাদেশ সরকারের পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কিত নীতিতেই বিশ্বাস করেন না, তাই অন্যের লেখা থেকে বোল্ড করে লিখলেন
    “সরকার যে জাতীয় স্বার্থের অজুহাত দিচ্ছে, তা যদি তারা মানতেন, তাহলে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়িদের বিক্ষুব্ধ করে তুলতেন না। যারা স্বদেশবাসীদের নিজ ভূমিতে উদ্বাস্তু করে রাখতে পারে, তারা প্রতিবেশীদের আশ্রয় দেবে—এমন আশা বাতুলতা।”
    ঠিক আছে, আপনার বক্তব্য পরিস্কার!

    ৪৬
  37. আবু সুফিয়ান_অনুসন্ধানী প্রতিবেদক বলেছেনঃ

    @সুলতান মির্জা, কেমন আছেন? আপনার গার্মেন্টস ব্যবসা কেমন চলছে? সায়েন্স ল্যাব এলাকায় আপনার দোকানগুলো ঠিকঠাক আছে তো? আপনি এখন যুবলীগের কোন পোষ্ট এ? অনেকদিন কথা হয় না। ভালো থাকুন।

    ৪৭
  38. এলডোরাডো বলেছেনঃ

    @লেখক, ইচ্ছা করেই সময় নিলাম। আমার মনে হয় না উত্তর দেয়ার আদৌ দরকার ছিল। তবুও না বলেই পারলাম না। আপনি এত কিছু জানেন কিন্তু ইউএনএইচসিআর এর কর্মকর্তা- কর্মচারী কত বেতন পান সেটাই জানেন না? পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে আপনার মন্তব্য পড়েই বুঝেছি – কেন আপনি জানেন না ? “অল্প বিদ্যা ভয়ংকরী”
    নিজের মতামতকে জোর করে চাপিয়ে দেয়ার নাম সাংবাদিকতা নয়। জাতীয় স্বার্থের কোন ইস্যুতে সরকার কে সমর্থন দেয়ার মানে কিন্তু সরকার সমর্থক হয়ে যাওয়া নয়। এই সহজ জিনিষ টা আমাদের ব্লগার ভাই – বোন রা কেন বুঝেন না – এটাই আমার আক্ষেপ। এত সহজেই আমরা একে অন্যকে ব্রান্ডিং করে ফেলছি!!
    ভাল থাকবেন।

    ৪৮
    • প্রবীর বিধান বলেছেনঃ

      ভাই এলডোরাডো, আমি অনেক জানি এটা কখন বললাম বা বুঝাতে চাইলাম শুনি। আর, ইউএনএইচসিআর-এর কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন জানার কখনো দরকার পড়েনি। এখনও না। দরকার হলে জেনে নেব।

      নিজের মতামতকে “জোর করে চাপিয়ে” আমি কি ব্লগে সাংবাদিকতা করছি নাকি ভাই?

      সরকারের কোন অবস্থানকে সমর্থন দেয়া মানেই সরকার-সমর্থক হয়ে যাওয়া নয়, এটা অবশ্যই ঠিক। সেটা যদি আমি করে থাকি, তাহলে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা চাই। কেননা আমি নিজেও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চাই, তার মানে তো আর আমি আওয়ামীলীগের সমর্থক হয়ে গেলাম না।

      ভালো থাকবেন।

      ৪৮.১
  39. প্রবীর বিধান বলেছেনঃ

    কোন বিষয়ে মতপার্থক্য থাকতেই পারে, নানান মানুষ নানান কথা বলবেন, কেননা তারা নানান জায়গা থেকে উঠে এসেছেন, নানান পরিবেশে নানান ভাবে বড় হয়েছেন, এরকম আরো নানান বিষয় আছে। তবে আমাদের মধ্যে একমাত্র মিল হলো আমরা বাঙ্গালী/বাংলাদেশী।

    আমার মনে হয় আমি এই পোস্ট ও সাথে অজস্র মন্তব্যের মাধ্যমে আমার অবস্থান যথেষ্ট পরিমানে প্রকাশ করতে সক্ষম হয়েছি।

    আর কিছু লিখে বা নানামুখী মন্তব্যের জবাব দিয়ে আমার চোখে “মানবিক” এই বিষয়টাকে বিতর্কের মধ্যে ফেলার কোন ইচ্ছাই আমার নেই।

    ব্লগপোষোককে ধন্যবাদ পোস্টটি নামিয়ে ফেলার জন্য। নোংরামির মাত্রা বেড়েই চলছিল ক্রমশ, আর ভাংছিল আমার ধৈর্যের বাঁধ।

    ৪৯
  40. অর্ঘ্য

    অর্ঘ্য বলেছেনঃ

    @ ব্লগ পোষকঃ সুলতান মির্জার উদ্দেশে, আবু সুফিয়ানের সর্বশেষ মন্তব্যটি একেবারেই অপ্রাসংগিক ও ব্যক্তিগত আলাপচারিতা বিধায়, উক্ত মন্তব্যটি অচিরেই সরিয়ে ফেলার অনুরোধ করছি।
    @ লেখকঃ আপনার ধৈর্যের বাঁধ ভাঙ্গায় নতুন কোন প্লাবনে বাংলাদেশ প্লাবিত হয় তা জানতে ক’তকাল আপেক্ষা করতে হবে জানিনা।
    তবে অপেক্ষায় থাকলাম!

    ৫০
  41. প্রবীর বিধান বলেছেনঃ

    রয়টার্স আজ বলছে রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা থেমেছে, তবে তা কতদিনের জন্য সেটাই চিন্তার বিষয়।

    সরকারি হিসাবমতে, গত দুই সপ্তাহে ৫০জন মারা গেছেন, আহত হয়েছেন ৫৮জন আর ২,৫০০-এর বেশি বাড়িঘর পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। তবে স্থানীয়রা বলছে মৃতের সংখ্যা আরো অনেক বেশি। মংদু-তে গত আট দিনে কমপক্ষে ২০০জন নিখোঁজ হয়েছেন।

    ৫১
  42. আব্দুল মোনেম

    আব্দুল মোনেম বলেছেনঃ

    আবু সুফিয়ান ভাই, আমি বিস্মিত হয়েছি, সুলতান মির্জাকে নিয়ে আপনি এটি লিখতে পারলেন! অন্যের ব্লগে মন্তব্য মডারেশনের পর প্রকাশ হয়। মডারেটরইবা কিভাবে তা খেয়াল করলেন না! আবু সুফিানের মন্তব্যটি এবং আমার এই মন্তব্যটি দুটোই মুছে দেয়ার জন্য ব্লগটিমের কাছে আকুল আবেদন করছি। আমি এটির কোন চিহ্নই রাখার পক্ষপাতি নই।

    ৫২
  43. সুলতান মির্জা বলেছেনঃ

    @আবু সুফিয়ান, দারুন বলেছেন তো। ভাল থাকুন। কথা হবে।

    @প্রবীর বিধান, এই গুরুত্ত্বপূর্ণ তথ্য আপনার কোনও কাজে আসবে না। ব্লগ লিখি বলে খুব বেশি অবহেলিত নই আমি। তাছাড়া জানেন তো বান্ধা ছালার দাম লাখ টাকা। আমি আবার কোনও বান্ধা ছাড়া মুখ নই। আমার দাম ও লাখ টাকা নয়। আমি বাস্তবতা বিশ্বাস করি কোনও আবেগ নয়। আপনার দৃষ্টিতে যা বাস্তবতা মনে করেন আপনারা। আমি সম্পূর্ণ তার উল্টোচিত্র এইগুলো কে মনে করি হাস্যকর কোনও আবেগ। আমি আন্দোলন করি দ্বাবি আদায়ের লক্ষে, আর আপনারা আন্দোলন করেন নিজের প্রচার প্রচারণার স্বার্থে। তো যাই হোক প্রবীর বিধান সাহেব ভাল থাকুন। কাজ করুন দেশের জন্য শুধু মাত্র নিজের জন্য নয়। দেশ কে ভালোবাসতে শিখুন, দেশের মানুষ কে আপন করুন, এই মাটি কে ভালবাসুন। নৈতিকতার লেবাস পরিবর্তন করুন। এটাই হলো আপনার ব্লগে আমার শেষ কোনও মন্তব্য।

    @অর্ঘ্য, এতে কোনও সমস্যা নেই। তাছাড়া আবু সুফিয়ান আমার বড় ভাই হয়। উনি এই গুলো বলতেই পারে। এতে করে উনি যে আমাকে মনে রেখেছেন তাতেই আমি ধন্য। ভাল থাকুন।

    ৫৩
  44. সামসুল আরেফিন বলেছেনঃ

    প্রিয় প্রবীর বিধান@সহমত আপনার পোস্টটির সাথে ।মানবিক বিবেচনা বোধ থেকে উত্সারিত আপনার এই লেখাটির জন্য ধনবাদ দিয়ে আপনাকে ছোট করতে চাই না ।তবে এই পোস্টটির জন্য আপনাকে সুলতান মির্জা যেভাবে [মডারেটেড]বানিয়ে দিল, তাতে মির্জা সাহেবের [মডারেটেড]ফুটে উঠলো!!!ভালো থাকুন,

    ৫৪
  45. প্রবীর বিধান বলেছেনঃ

    পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় আজকে বলেছে বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের বিষয়টিকে মানবিকভাবে বিবেচনা করছে। সেই সঙ্গে সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সর্তকাবস্থায় রাখা হচ্ছে। তবে জোর করে কাউকে ফেরত না পাঠানোর নীতিও বাংলাদেশ মেনে চলছে। তবে নতুন করে আশ্রয় দিবে না।

    বেশ ভালো। প্রথম থেকে এইরকম ভদ্রভাবে কথা বললে ভালো লাগতো।

    আবার বলছে “বর্তমানে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে সেটি শরণার্থী-সংশ্লিষ্ট নয়, জাতিগত সংঘাতের বিস্তার।” — বুঝলাম না…

    ইউএনএইচসিআরের বাংলাদেশ প্রতিনিধি ক্রেইগ স্যান্ডার্সের ওই এলাকায় চলাফেরায় বিধিনিষেধ আরোপ করে ভালো হয়েছে।

    তবে “বাংলাদেশ মনে করে, বিষয়টি সুরাহার জন্য বিশেষ করে আরাকান রাজ্যে আর্থসামাজিক পরিস্থিতি উন্নতি করার পাশাপাশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পশ্চিমা দেশগুলো বরং মিয়ানমারকে আহ্বান জানানো উচিত”– আলোচনার উদ্যোগ নিয়ে বাংলাদেশ আজও নেতৃত্বের ভূমিকা নিতে চাইলো না দেখে আহত হলাম।

    http://www.prothom-alo.com/detail/date/2012-06-18/news/266770

    ৫৫
  •  Bangladesh: Keep Border Open For Rohingya Refugees :: Elites TV
  • কিছু বলতে চান? লিখুন তবে ...