ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

আমাদের স্বাধীন বাংলাদেশে এই ২০১২ সালেও জামায়াতের রাজনীতি করা প্রসঙ্গে অনেককিছু বলার আছে। অনেক ক্ষোভ চাপা পড়ে আছে, কিন্তু তা এখন বের হয়ে আসতে চাইছে এখন যখন এই পাকিস্তানপন্থী দলটি এখন পাগল হয়ে উঠেছে।

কারনটা আর কিছু নয়; যুদ্ধাপরাধের বিচার চলছে, কয়েকটি মামলার প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে। এই বিচারে জামায়াতের প্রাক্তন আমীর, পাকিস্তানপ্রেমী, শান্তি কমিটি ও রাজাকার বাহিনীর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা গোলাম আযম, আল-বদরের হোতা নিজামী-মুজাহিদ-কামারুজ্জামান, ছ্যাঁচড়া চোর ও বর্তমানে তথাকথিত বিশ্বখ্যাত আলেম সাঈদী ওরফে দেইল্যা রাজাকার, বাচ্চু রাজাকার, চট্টগ্রাম আল-বদরের প্রধান মীর কাশেম (মিডিয়া মোগল), জল্লাদ কাদের মোল্লা গংদের সাজা হবে।

তাহলে জামায়াতে ইসলামী চলবে ক্যামনে? সমর্থকদের কান্নাকাটি এখন ক্ষোভে পরিণত হচ্ছে আর সেটাকে কাজে লাগাতে দলটি তার মুখপাত্র দৈনিক সংগ্রামের মাধ্যমে প্রায় ৩০ লাখ সমর্থকদের চাঙ্গা করতে ব্যবহার করছে। ৭ই নভেম্বর গো আযমের জন্মদিনে তার স্ত্রী একটি কলামে বলেছেন, “মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে নিজস্ব স্বার্থ চরিথার্থ করার উদ্দেশ্যে সরকার এই প্রহসনের বিচারের নাটক মঞ্চস্থ করছে। যুগে যুগে নবী-রাসুলগনসহ ইসলামি আন্দোলনের সিপাহসালারদের উপর এরূপ নির্যাতন সবসময়ই হয়েছে–এটা নতুন কিছু নয়।”

তাদের প্রধান মিত্র বিএনপির মির্জা ফখরুল সাম্প্রতিককালের জামাত-শিবির-পুলিশের সংঘর্ষের পর সরকারের সমালোচনা করে বুঝিয়ে দিয়েছে জামায়াতের উপর আক্রমন হলে, ধড়পাকড় হলে তারা প্রতিবাদ করে যাবে। হাজার হোক, স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার (গতকাল আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বললেন) বলে কথা। জামায়াত আগে কি করেছে সব বাদ। এখন যেহেতু রাজনীতি করছে (শুরু সেই জিয়ার আমলে, বঙ্গবন্ধু এটিকে ১৯৭২ সালে নিষিদ্ধ করেছিলেন), সুতরাং তাদের মিটিং-মিছিল করতে দিতে হবে। তার উপর আবার এই বিচারে বিএনপির প্রধান পৃষ্ঠপোষক, বিজ্ঞ (দুর্বৃত্ত) আইন বিশারদ, টাকার কুমীর সাকা চৌ সাহেব আছেন, যিনি কিনা আবার দলের প্রধান খালেদার উপদেষ্টা।

যুদ্ধাপরাধের (বা মানবতাবিরোধী অপরাধের) অভিযোগে দলটির শীর্ষ নেতাদের বিচার শুরু হলেও স্বাধীনতাযুদ্ধে দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহন করে তাদের প্রিয় পাকিস্তানী সেনাবাহিনীকে বাংলাদেশ-বিরোধী প্রচারনা ও গনহত্যায় সাহায্য করার জন্য “বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী”র বিচার কবে হবে সেটা নিয়ে এখনও সংশয় রয়ে গেছে।

যেখানে এদের বাংলাদেশেই থাকার কথা না (রাজনীতি তো দূরের কথা) সেখানে জামায়াতের নেতারা বাংলাদেশের মন্ত্রী-এমপি হয়, এর চেয়ে বড় আফসোস আর কি থাকতে পারে?

এরা বাংলাদেশ মানে না, এর সংবিধান মানে না, গনতন্ত্র মানে না, দেশীয় আইনব্যবস্থা মানে না–কিন্তু এই ২০১২ সালেও এরা এদেশে আছে। এ লজ্জা মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগের, সকল জীবিত মুক্তিযোদ্ধার, সকল শিক্ষিত পেশাজীবীর যারা এদের দুঃসাহসকে এত বছর সহ্য করেছে। এখনকার বিএনপির কোন লজ্জা নাই, কেননা তারা দলের প্রতিষ্ঠাতার দেখানো পথেই জামায়াতকে সাহায্য করছে।

সবচেয়ে পরিতাপের বিষয় হলোঃ এদের ইসলামের জন্য এত দরদ! কিন্তু ‘৭১ সালে ওরা তো শুধু হিন্দু বা অন্য ধর্মের মানুষদের মারেনি, পাকিস্তান সেনাবাহিনী তো মুসলামনদেরও মেরেছে, ধর্ষন করেছে, পঙ্গু করে দিয়েছে।

আমাদের নির্বাচন কমিশন এদের প্রতি বড়ই সহায়। গত ২০১০ সাল থেকে এ মাসের ৪ তারিখ পর্যন্ত ৪ বার জামায়াতকে নোটিশ দেয়া হয়েছে গঠনতন্ত্রের ৮টি ধারা সংশোধনের জন্য। ওরা তার থোড়াই কেয়ার করে।

ইসলাম ও পাকিস্তানকে জড়িয়ে জামায়াতের নেতাদের দেয়া দুইটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য এখানে আপনাদের সাথে শেয়ার করছিঃ
* “খোদাবি বিধান বাস্তবায়নের সেই পবিত্র ভূমি পাকিস্তান আল্লাহর ঘর। আল্লাহর এই পূত পবিত্র ঘরে আঘাত হেনেছে খোদাদ্রোহী কাপুরুষের দল। এবারের শবে কদরে সামগ্রিকভাবে ইসলাম ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পরিচালিত উল্লেখিত যাবতীয় হামলা প্রতিহত করে, সত্যিকারের শান্তি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠার এই তীব্র অনুভূতি আমাদের মনে সত্যিই জাগবে কি?” – মতিউর রহমান নিজামী (দৈনিক সংগ্রাম, ১৬ নভেম্বর/১৯৭১)

* “দেশের সাম্প্রতিক সংকট ও দুস্কৃতিকারীদের ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপের দরুণ যে সব পাকিস্তানি প্রাণ হারিয়েছেন তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী লোক জামায়াতে ইসলামীর সাথে জড়িত। জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান ও ইসলামকে এক ও অভিন্ন মনে করে।” – গোলাম আযম (দৈনিক সংগ্রাম, ২৬ সেপ্টেম্বর/১৯৭১)

গো আযম ১৯৭১-এর এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে নুরুল আমিন ও খাজা নাজিমুদ্দিনকে নিয়ে পূর্ব পাকিস্তানের তখনকার গভর্নর জেনারেল টিক্কা খানের সাথে দেখা করে পাকিস্তান সরকারের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। তার দুইদিন পর গো আযম একাই টিক্কা খানের সাথে দেখা করে। এপ্রিলের ৭ তারিখে খায়রুদ্দিনের নেতৃত্বে শান্তি কমিটি প্রতিষ্ঠিত হলে তার অন্যতম প্রধান নেতা হয় গো আযম। এপ্রিলের ১৫ তারিখে এর নাম হয় পূর্ব পাকিস্তান কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটি। একুশ সদস্যের কমিটি হয় এবং এর নেতারা আবার টিক্কা খানের সাথে দেখা করে এপ্রিলের ১৬ তারিখে।

জুনের ১৬ তারিখে গো আযম তৎকালীন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের কাছে রাজাকার বাহিনী গঠন করার প্রস্তাব দেয় এবং সরকারকে আনূরোধ জানায় পাকিস্তানের স্বার্থে তাদের অস্ত্র দিতে।

গতকাল আমাদের দেশের রাজনীতির ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায় রচিত হয়েছে। টিভি ও পত্রিকা দেখে যতটুকু দেখলাম তার সারাংশ নিচে দিলামঃ

* শেখ হাসিনাঃ যুদ্ধাপরাধের বিচার বাধাগ্রস্ত করতে জঙ্গী তৎপরতা চলছে, এসব চলতেই থাকবে। জনগনকে তা ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াতে হবে।

* সৈয়দ আশরাফঃ জামায়াত পাগল হয়ে গেছে, সময় শেষ। রায় কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগ মাঠে থাকবে। সবাই শেষ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিন। খালেদার উদ্দেশ্যে বলেন, মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী হয়ে থাকলে জামায়াতকে ছেড়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আসুন। কোন সচেতন মানুষ এদের পক্ষ নিতে পারেনা।

* স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীঃ জামায়াতের ১২০০ গ্রেপ্তার হয়েছে, প্রয়োজনে আরো করবো, তবু দেশদ্রোহীদের নির্মূল করে ছাড়বো। জনগনের উচিত এরা যেখানেই গ্যাঞ্জাম পাকাবে, ঘেরাও করে পুলিশে ধরিয়ে দিন।

* নূহ-উল-আলম লেনিনঃ জামায়াতের দুঃসাহসের উৎস বিএনপি। জামায়াতের সাথে তত্বাবধায়ক ইস্যুতে জোট করে আওয়ামী লীগ ভুল করেছিল, পরে সেই চুক্তি বাতিল করা হয়েছিল। কিন্তু বিএনপি শোধরায়নি। জামায়াত গোয়েন্দা/পুলিশের কাছ থেকে আগে-ভাগে খবর পায়। নিষিদ্ধ করলে জামায়াত আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যাবে। ‘৭৫ পরবর্তী সরকার জামায়াতকে রাজনীতি করতে দিয়েছিল।

* আমীর খসরু (বিএনপি): জামায়াত বিএনপি’র স্ট্র্যাটেজিক এলায়েন্স, শুধু নির্বাচন সংক্রান্ত জোট, আদর্শগত নয়। আশরাফের বক্তব্য রাজনৈতিক। সরকারের জোটেও বিভিন্ন মতের দল আছে, স্বোইরাচার এরশাদ আছে। গনতান্ত্রীক রাষ্ট্রব্যবস্থায় সবাইকে রাজনীতি করার সুযোগ দিতে হবে।

* শাহরিয়ার কবীরঃ জামায়াতের রাজনীতি নিয়ন্ত্রিত হয় পাকিস্তান জামায়াতের প্রধান মওদুদীর দ্বারা, যিনি এই উপমহাদেশে ইসলামী সন্ত্রাসের লালন-পালনকারী। তার ফাঁসি হয়েছিল, কিন্তু সৌদি আরবের চাপে তা কার্যকর করতে পারেনি পাকিস্তান। মওদুদী গনতন্ত্রকে কুফরী মনে করে, নাৎসীবাদী ধ্যান-ধারনায় বিশ্বাস করে, ইসলামে নয়। জামায়াত ‘৭১-এ দলীয় সিদ্ধান্তে গনহত্যা ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ করেছে। বাংলাদেশে বিভিন্ন নামে জামায়াতের ১০০টি জঙ্গী সংগঠন আছে। জঙ্গী সম্পৃক্ততার জন্য জামায়াতের বিচার হওয়া উচিত। ধর্মের পবিত্রতার জন্য জামায়াতের বিচার হওয়া দরকার।

* মুজিবুর রহমান: জামায়াতের এই সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল গতকাল বলেন উগ্র জঙ্গীবাদী চিন্তা-চেতনার সাথে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কোন সম্পর্ক নেই। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কখনো সাংঘর্ষিক রাজনীতি করে না। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নিয়মতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক ধারার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। কাজেই কারো বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার প্রশ্নই আসেনা। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সকল কর্মসূচি সংবিধান ও গণতন্ত্র সম্মত। জামায়াতে ইসলামী সবসময়ই গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।

* আফিফা আযম (৭ তারিখে): গ্রেপ্তারের পূর্বে আপনি বলেছিলেন যে, “শহীদ হওয়ার জযবা নিয়েই ইসলামী আন্দোলনে যোগ দিয়েছি। জেল, জুলুম, নির্যাতন, ফাঁসি এগুলোকে আমি ভয় পাই না। আমাকে ফাঁসি দিলে শহীদের মর্যাদা পাবো ইনশাআল্লাহ”। আমরা আপনার মৃত্যুর আশঙ্কায় দুঃশ্চিন্তাগ্রস্ত নই। প্রকৃত ঈমানদারগণ কখনো মৃত্যুকে ভয় করে না। কেবল, এই বৃদ্ধ বয়সে, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন রেখে জালেমগণ আপনার উপর যে জুলুম করছে তা দেখে হৃদয়ে বেদনা বোধ করি। করুণা হয় নির্বোধ জালেমদের জন্য।”

৩৮ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. হৃদয়ে বাংলাদেশ বলেছেনঃ

    প্রিয় প্রবীর বিধান, বিএনপি তথা জিয়াউর রহমান তথাকথিত জামাতিদের রাজনীতি করার লাইসেন্স দিয়েছেন, তাতো তিনি স্বাধীনতা ও ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির মৌরসী পাট্টা পাওয়া আওয়ামী লীগকেও দিয়েছেন। সেই লাইসেন্সতো আওয়ামী লীগ আবেদন করেই পেয়েছিলো না কি?
    আমার পরিষ্কার বক্তব্য, তথাকথিত জামাতিরা একশ’ বছর বিএনপির ঘাড়ে চড়ে বসে থাকলেও দেশের যে ক্ষতি হতো, তার চেয়ে লক্ষগুন বেশী ক্ষতি হয়েছে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আওয়ামী লীগের তথাকথিত জামাতিদের সাথে ঝালমুড়ি খেয়ে, ফটো-অপ করে, গু আজমের কাছে তাদের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীকে পাঠিয়ে। তথাকথিত জামাতিদের সাথে আওয়ামী লীগের এই আপোষকামীতাই তথাকথিত জামাতিদের রাজনৈতিক বৈধতা দিয়েছে। এখন চিৎকার করে আমার কথার প্রতিবাদ করলে এবং উকিলি যুক্তি আনলে ইতিহাসের সত্যতার রেকর্ড মুছে ফেলা যাবেনা।

    • প্রবীর বিধান বলেছেনঃ

      হ্যাঁ, এটা আমি দেখেছি, তবে আমার কোটেশন সবই ৭ তারিখের। তাই দিলাম না।

      তবে আমার একটা মতামত আছে এই বিষয়ে, মানে প্রধানমন্ত্রী ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর হুংকারের বিষয়েঃ তারা কিন্তু কেউই স্পষ্ট করে বললেন না কিভাবে জামায়াতকে থামাতে হবে, থামাতে গিয়ে বিপদে পড়লে জনগন কি করবে, পুলিশ/র‍্যাব কতটুকু সহায়তা করবে ইত্যাদি। সরকারি দল করলে অনেক সাহস থাকে, অস্ত্র থাকে, কোরাম থাকে। কিন্তু জনগনের তো নিজেকে বাঁচানোর উপায়টাই জানা নেই।

      এইসব ডায়লগবাজী আসলে পুরোপুরি রাজনৈতিক, তবে আমার বিশ্বাস সরকার এইবার “আইনগতভাবে”ই জামায়াতের পেছনে লাগবে। ভাসা-ভাসা কথার ঘোর বিরোধীতা করি আমি।

      ২.১
  2. নুরুন্নাহার শিরীন

    নুরুন্নাহার শিরীন বলেছেনঃ

    প্রবীর বিধান, সত্যনুসন্ধানী পোস্ট, অশেষ ধন্যবাদ। আর হ্যাঁ, এইখানে যাঁরাই “জামায়াত-বিএনপি ভাই-ভাই” সত্যটি অস্বীকার করুন, তাতে ঐতিহাসিক সেই বিস্তর-দুস্তর ব্যবধানময় পূর্ব-পাকিস্তান ও পশ্চিম-পাকিস্তানের ঝুলন্ত-জ্বলন্ত ভাতৃত্বের নমুনা নিশ্চয়ই মিথ্যের অপরাজনৈতিক খেল দেখিয়ে বক্তৃতা-বিবৃতি গবেষণাজাত তথ্যাদি হাজির করেও ধামাচাপা দেয়ার অন্যায় কসরতই হবে কেবল ……….. :) :) :) জামায়াত-শিবির-এর প্রধান মদতদাতা ও ইন্ধনদাতা বিএনপির চরিত্র ফুলের মতো পবিত্র যাঁরা বানাতে চাইছেন তাদের আজ বাংলাদেশের পাবলিকের মার খেয়েই পালানোর দশায় পৌঁছানোর অপেক্ষা …………….. :)

  3. রাইয়ানশুভ্র বলেছেনঃ

    খালেদার বাড়ি দখল নিতে আদালত ব্যাবহার করা যায়, গ্রামীন ব্যাংক কে দখল করতে আদালত ব্যাবহার হয়, সব কিছুই তো এখন আদালত দেখাশোনা করে, তো রাজাকার জামাতিদের নিষিদ্ধ করতে এত টাল বাহানা কেন?

  4. বিন্দুবিসর্গ বলেছেনঃ

    প্রবীর দা। ১৯৭১ সালে জামায়াত যা করেছে তা প্রতিষ্ঠিত সত্য। এর জন্য তাদের বিচার আরো আগেই হওয়া উচিৎ ছিল। দেরিতে হলেও আমাদের সরকার তা শুরু করেছে। তবে এই দেরি আমার মনে হয় খুব বেশি দেরি হয়ে গেল। তারপরও এখনও আমি অন্তত আশাবাদি সুষ্ঠ বিচার ও তার কার্যকারিতা হবে।
    তবে কতিপয় রাজাকারের ফাসির মাধ্যমেই যে দেশ জামায়াত মুক্ত হয়ে যাবে বা তার ছায়া থাকবেনা এটা যদি মনে করেন তবে বড়ই ভুল করছেন। আমরা যদি নিজেদেরকে শুদ্ধ করতে না পারি। পদে পদে দুর্নীতি আর স্বজনপ্রীতি রুখতে না পারি তবে যে সোনার বাংলার স্বপ্ন বঙ্গবন্ধু আমাদের দেখিয়েছেন তা কোন দিনও সম্ভব হবে না। আর আপনি যদি বলেন বিএনটি জামায়াত ও এ কাজ করেছে তাই আমরাও করছি তবে আপনার সাথে আমার কোন আলোচনা নেই। আমি যদি রাজাকার আর মুক্তিযোদ্ধার কর্মকান্ড আলাদা করতে না পারি তবে সবই আমার কাছে পরিত্যাজ্য এবং নিকৃষ্ট। ধন্যবাদ ভাল থাকবেন।

  5. মাহবুব বলেছেনঃ

    জামায়াতকে চেনাতে চল্লিশ বছর পেছনে যাওয়ার দরকার নেই, তাদের বর্তমান কার্যকলাপই বলে দেয় তারা কতটা ভয়ংকর! সুতরাং ইতিহাস না তুলে ধরে সুধুমাত্র তাদের সাম্প্রতিক কার্যকলাপের বর্ণনা গুলো তুলে ধরলেই অনেকের বুঝতে সুবিধা হবে জামায়াত আসলে কিসের রাজনীতি করে!

  6. বোতল বাবা বলেছেনঃ

    লেখকের এই পোস্টটি ঠিক আছে । যেকোনো ধর্ম কে আঘাত না করে পোস্ট দিবেন প্লিজ । আর ধর্মকে আঘাত করে জামায়াত-শিবির বিরোধী পোস্ট দিলে হিতে-বিপরীত হবে । অনেক পাঠক জামায়াত কে ভালো ভাবাও শুরু করে দিতে পারে । অন্যভাবে বললে জামায়াত আরো শক্তি পাবে । আর আপনাকেও সবাই ব্লগার মুশফিক ইমতিয়াজ চৌধুরী’র মতো ভাবতে পারে ।

    লেখককে ধন্যবাদ রেফারেন্স দিয়ে লেখার জন্য ।

  7. হৃদয়ে বাংলাদেশ বলেছেনঃ

    @ rubel, সত্যি কথা বলার খাসলত তো তথাকথিত জামাতিদের কোনকালেই ছিলোনা, আর হবেওনা। যার নয়ে না হয়, তার কি নব্বইয়ে হবে? তথাকথিত জামাতিরা যদি কারো ভয়ে পায়জামা ও তহবন্দ খারাপ করে, তা হলো বামপন্থীদের ভয়। আওয়ামী লীগকে দেখলেই থরথর করে হাঁটু কাঁপে, বামপন্থীদের দেখলে কি হয় আমরা দেখিনি? আবার দেখবো।

  8. পরাজিত মধ্যবিত্তের একজন বলেছেনঃ

    রাইয়ান এবং রুবেল ছদ্ম নাম নিয়ে জামায়াতের মহব্বতে আক্রান্ত কোনো এক গো-মস্তকের ব্লগার অবান্তর, অপ্রাসাঙ্গিক মন্তব্য করে যাচ্ছেন নিয়মিত । এদের আরও কিছু নিক আছে। এসব [মডারেটেড] আসলে কোনো আক্কেলবুদ্ধি নেই। [মডারেটেড] জানি কুহানকার……!!

    ১০
  9. প্রবীর বিধান বলেছেনঃ

    এটি অত্যন্ত দুঃখের বিষয় যে এই বিচারের বিপক্ষে দেশে ও বিদেশে যে প্রোপাগান্ডা ক্রমাগত চলছে সেটির পাল্টা উত্তর কিংবা সেগুলোর বিরুদ্ধে সোচ্চার হবার জন্য রাষ্ট্র যেন খুব একটা তৎপর নয়… চমৎকার এই লেখাটিতে লন্ডনপ্রবাসী নিঝুম মজুমদার স্পষ্ট করেই সরকার ও সাধারন জনগনের দূর্বলতার জায়গাগুলো দেখিয়ে দিয়েছেন।

    তিনি আরো উল্লেখ করেছেন সম্প্রতি সাঈদীর পক্ষে তার সমর্থকেরা বিএনপি ও আন্তর্জাতিক নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ইস্ট লন্ডনের স্টেপনী গ্রীন এলাকার ওয়াটার লিলি কনফারেন্স হলে একটি সমাবেশ করার ঘোষনা দিলে কিভাবে তারা কয়েকজন তার প্রতিবাদ জানালো মাত্র ৩২ জন মিলে তার চাঞ্চল্যকর বর্ণনাও আছে।

    আপনাদেরকে পরে দেখার জন্য আনুরোধ জানাচ্ছি।

    ১১
  10. শাহ আবদালী বলেছেনঃ

    “খালেদার বাড়ি দখল নিতে আদালত ব্যাবহার করা যায়, গ্রামীন ব্যাংক কে দখল করতে আদালত ব্যাবহার হয়, সব কিছুই তো এখন আদালত দেখাশোনা করে, তো রাজাকার জামাতিদের নিষিদ্ধ করতে এত টাল বাহানা কেন?”
    …….একমত।

    ১২
  11. প্রবীর বিধান বলেছেনঃ

    ইতিহাস নিয়ে কাজ করেন এমন একজন, অমি রহমান পিয়ালের একটা ফেসবুক স্ট্যাটাস উদ্ধৃত করছিঃ “এই পর্যন্ত তিনজন শিবির কর্মীর কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক দেখার সৌভাগ্য হইলো। কমন যেই জিনিসটা পাইলাম তা হইলো প্রত্যেকেরই একটা ফোল্ডারে আল কোরআন সম্পূর্ণটা আছে, রেকর্ডিং প্লাস পিডিএফ। বাংলা অর্থও আছে। উচ্চারণও আছে, তাফসিরও আছে। এবং পুরা ফোল্ডারের ওজন এক গিগার মতো। তিনজনের হার্ডডিস্ক ১৬০ গিগার। তার ১৪০ গিগা ভর্তি পর্ন তিনজনেরই। প্রত্যেকেই তারা ইনসেস্ট পর্ণের ভক্ত। দুইজনের প্রিয় হইলো মাদার অ্যান্ড সান সেক্স, আরেকজনের ব্রাদার সিস্টার, চাইল্ড পর্ণ। … … ছেলেদের হিজাব বিষয়ে স্পর্শকাতরতার একটা অন্তত যুক্তি খুইজা পাইলাম। তাদের দৃষ্টি এবং যৌন কল্পনা থেকে তাদের নিজেদের মা বোনও নিরাপদ না।”

    ১৩
  12. suman বলেছেনঃ

    উপরের লেখা 1971 উদ্ধৃতি গুলো বেশি করে প্রচার হওয়া উচিত, তাহলে তাদের ভয়ংকর মুখোশ গুলি নতুন প্রজন্ম জানতে পার্বে, নতুন প্রজন্মকে তারা বিপথে চলিত করছে, deshatwabodh নষ্ট করে দিচ্ছে, দেশের স্বাধীনতা সম্পর্কে জানা থেকে বঞ্চিত করছে.

    ১৬
  13. মোঃ আব্দুর রাজ্জাক

    মোঃ আব্দুর রাজ্জাক বলেছেনঃ

    রাজনৈতিক বিষয়ে কোন মন্তব্য করি না। তবে এই লেখনি ও মন্তব্যগুলো যত্নসহকারে পড়ে সম্মৃদ্ধ হচ্ছি। লেখক ও মন্তব্যকারী সবাইকে ধন্যবাদ।

    ১৭
  14. হৃদয়ে বাংলাদেশ বলেছেনঃ

    @অফিসার কি ইউনিফর্ম পরিধান করে লেখনী ও মন্তব্যগুলো পড়ছেন? নাকি অল্পশীতের সকালে, লুঙ্গি-পাঞ্জাবী পড়ে, গায়ে একটি চাদর জড়িয়ে ধোঁয়া উঠা ভাপা পিঠা আর চা দিয়ে প্রাতঃরাশ সেরে মৃদু দুলে দুলে মন্তব্যগুলো পড়ছেন? প্রথমটি হলে খবর আছে, দ্বিতীয়টি বরং ভারী মধুর। :)

    ১৮
  15. নিশি রহমান ম্যানিলা

    নিশি রহমান ম্যানিলা বলেছেনঃ

    প্রবীর বিধান @
    অমি রহমান পিয়াল শুধু ইতিহাস নিয়েই কাজ করেন না,
    যৌবন যাত্রা নামের এক পর্ণ সাইট চালু করার অভিযোগ কিন্তু উনার বিরুদ্ধেও আছে!

    ২০
  16. নিশি রহমান ম্যানিলা

    নিশি রহমান ম্যানিলা বলেছেনঃ

    ঐটা যে একটা পর্ণ সাইট ছিল সেটা পিয়াল নিজেই স্বীকার করেছে,
    ৪/৫ বছর আগের কয়েকটা চালু ব্লগে খানিকটা সময় দিলে পেয়ে যাবেন,চার বছর আগের দেয়া পিয়ালের স্বীকারোক্তি আজকের ফেবুতে দেয়া তার স্ট্যাটাস কে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দেয় বলেই এটি তুলে ধরলাম।
    তবে জামাত-শিবির অবশ্যই পরিত্যাজ্য সে ব্যাপারে কোন সন্দেহ নাই @ প্রবীর বিধান

    ২১
  17. হৃদয়ে বাংলাদেশ বলেছেনঃ

    @rubel মিয়া, জানিতো আমার মন্তব্য পড়ে তথাকথিত বামপন্থী মেনন-দিলীপ-নাহিদ-অহিদুর রহমানদের দিকে আঙ্গুল তুলবেন। কিন্তু নাসিম আলী-আজমী-মুফাখখারুল ইসলাম-ডাঃ টুটুল-দীনেশ কর্মকারদের নামও শোনেননি। বামপন্থীরা কোন লাভের জন্য রাজনীতি করেনা, তারা জীবনোৎসর্গ দেয় সর্বহারার একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য। লাভের হিসাব রাখবেন আপনারা আর আপনাদের সহযোগী ছুপেরুস্তম ‘গনতন্ত্রীরা”। আসলে কাদের ভয়ে যে আপনারা এবং আপনাদের ঔরসদাতারা ভীত, তা আমরা খুব ভালো জানি।

    ২২
  18. রাইয়ানশুভ্র বলেছেনঃ

    @ হৃদয়ে বাংলাদেশ, “বামপন্থীরা কোন লাভের জন্য রাজনীতি করেনা, তারা জীবনোৎসর্গ দেয় সর্বহারার একনায়কত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য।”
    হাসুম না কান্দুম :!:
    মেনন এক ভিকারুন্নিসা নিয়াই তো পেচাইয়া গেল, দিলিপ এর দুর্নীতির খবর কে না জানে, পোলা মাইয়ার নামে ফ্লাট, কোটি টাকার গাড়ি, ইনু তো দেশের স্বার্থে মন্ত্রিত্ব নিল, আদর্শের রাজনীতি করে নাকই বামেরা………ছি…ছি…ছি… নিজের লোগো বাদ দিয়া নৌকা লোগো তে নির্বাচন করে এইসব জামানত হারান আদর্শবাদীরা (তথাকথিত)। এর চাইতে তো জামাইত্তারা ভাল কারন পাল্লা নিয়াই নির্বাচনে যায়।

    ২৩
  19. হৃদয়ে বাংলাদেশ বলেছেনঃ

    @রাইয়ানশুভ্র, আগেইতো কইছিলাম, বামপন্থীদের পক্ষে বলার সাথে সাথে যে নামগুলো ভ্যাড়ভ্যাড় করে বইলা ফ্যালবেন, ঠিক হেই নামগুলোই কইলেনন! আমার কথা ঠিক, ১০০ তে ১০০! ভালা কইরা আমার মন্তব্যটা পইড়া পর্যন্ত দেহনের সময় হয় নাই। মূর্খের গুষ্ঠি। বামপন্থী শব্দটা হুইনাই লৌড় দেওনের আগে কয়ডা নাম কইয়া গেলো। তথাকথিত জামাতি সাথীভর্তি পুলিশ-র‍্যাব আর মতলববাজ রাজনীতিবিদ দিয়া হারামীগুলারে কিচ্ছু করন যাইবোনা। বুনো ওলের বাঘা তেঁতুল লাগবো। খুনীদের নৃশংসতার বিরুদ্ধে নৃশংস হওয়া লাগবো। গোটা পঞ্চাশটারে গুলিস্তান আর ফার্মগেটের মোড়ে ওভারব্রিজ থাইক্যা ঝুলাইয়া দিলে এছলামী ব্যবসা কই যে যাইবো! বাচ্চু রেজাকারের মতো হিলি সীমান্ত দিয়া ভাগবো। যেগুলো ভাগতে পারবোনা, হেইগুলারে পাবলিকে পাড়াইয়া মারবো। শীঘ্রই আসিতেছে, বাকী অংশ দুনিয়াবির রোদ ঝলমলে দিনে পর্দায় দেখুন!

    ২৪
  20. razan বলেছেনঃ

    হিজবুত তাহরির কে নিষিদ্ধ করবার পর ও কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে সেখানে জামাত শিবির এর নেতাদের বিচার হলে বা নিষিদ্ধ করা হলেও এদের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে?

    ২৬
    • প্রবীর বিধান বলেছেনঃ

      নাহ, এদের কাজকর্ম থেমে থাকবে না; কিন্তু অন্তত এখনকার মত পুলিশ ও জনগনের নাকের ডগা দিয়ে ভন্ডামি করতে পারবেনা। জামায়াত আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যেতে পারে ভেবেই সরকার এদের সুযোগ থাকা স্বত্বেও নিষিদ্ধ করছেনা বলে শুনলাম। তার উপর আবার প্রশাসনের উচ্চ পদে, পুলিশ, আর্মি ও গোয়েন্দাদের মধ্যে জামাতীদের চিহ্নিতকরন চলছে। সেই কাজ শেষ হলে হয়তো জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা যেতে পারে।

      ২৬.১
  21. প্রবীর বিধান বলেছেনঃ

    গতকাল ফার্মগেট থেকে কারওয়ানবাজার হইয়া বসুন্ধরা সিটি এলাকায় জামায়াত-শিবেরের শো-ডাউন সম্পর্কে জামায়াতের মুখপত্র দৈনিক সংগ্রাম যাহা বলিতেছে তাহা যথেষ্ঠ হাস্যরসের উদ্রেক করিবে বলিয়া আমার বিশ্বাস। আপনারা পড়িয়া দেখিতে পারেন :mrgreen:

    ২৭
  22. হৃদয়ে বাংলাদেশ বলেছেনঃ

    আমি কিন্তু হাসছিনা প্রবীর। প্রথমতঃ তথাকথিত জামাতিরা কেন এই ভীতিজনক পরিস্থিতির সৃস্টি করছে তা আপনার মতো আমিও জানি। দ্বিতীয়তঃ বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী এর আগে half-wit এর ভাষায় কথা বললেও এবারেরটি চ্যাম্পিয়ন। এ যেন গ্রামের সেই নিরক্ষর মহিলার ভাষ্য, “ডাকাইতে সুটকেস নিলে কি অইব, চাবি দেই নাই”। আইনমন্ত্রীর গাড়ি আক্রান্ত হয়নি এতেই তিনি মহাখুশি। তেনার মগজটি কোথায়?

    ২৮

কিছু বলতে চান? লিখুন তবে ...