ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

ছবিঃ হাসান রাজা/প্রথম আলো

বিশ্বজিত যে একজন পথচারী এবং বিএনপির আইনজীবী সমিতির মিছিলের অংশ না সেটা কি ছাত্রলীগের ক্যাডাররা বুঝে নাই? নাকি ক্যাম্পাস থাইক্যা নিয়া আনা অস্ত্রগুলো কাজে লাগানোর জন্য রক্ত মাংসের একটা মানুষ দরকার ছিল?

সরকারকেন্দ্রিক ৩টি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিশেষ করে তাদের ছাত্রসংগঠনের ক্যাডারদের জন্য বাংলা ছবির ভিলেনদের স্টাইলে কথা বলা বা মধ্যযুগীয় স্টাইলে হই হই ধর ধর বলে অন্ধের মত আক্রমন করা এবং ‘নেতা বা পুলিশ আমাকে কি বলবে, ছু!’ বলে প্রকাশ্যে পশুর মত করে লাথি-ঘুষি মেরে, রড-পাইপ দিয়ে পিটিয়ে, রামদা-চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে কাউকে মেরে ফেলা খুব সোজা।

‘ঠেকাতে গেলে আমাকেই মারবে’ এই ভেবে অনেকেই সামনে যাননি, দেখেছেন শুধু আর হা-হুতাশ করেছেন। অবরোধ সত্বেও যারা কর্মস্থলে যাচ্ছিলেন তারা বাহাদুরশাহ পার্কের কাছে রবিবার থেমে গিয়েছিলেন। ধাওয়া-ধাওয়ির মধ্যে পালিয়েছেন অলিতে-গলিতে, আশেপাশের দোকানে বা বাসায় ঢুকেছেন বাঘ-মহিষের মারামারি থেকে নিজেদের রক্ষা করতে।

কোন মহিষ পাকড়াও করতে না পেরে বাঘের প্রেস্টিজে খুব লাগলো। যেসব গাধা রাস্তার আশেপাশে ছিল এবার তাদের উপর রাগটা ঝাড়লো। হ্যা, একটাকে বাগে পাওয়া গ্যাছে। রাস্তার পাশের ক্লিনিকের দোতলায় লুকিয়েছিল সে। সেখানে গিয়ে পিটিয়ে আর কুপিয়ে তাকে জখম করা হলো। দৌড়ে পালাতে গিয়ে নিচেই আবার অন্যদের সামনে। মহিষ শিকার করতে না পারার দু:খটা মিটলো অবশেষে।

কয়েকজন সহমর্মী বিশ্বজিতকে পাশের হাসপাতালে নিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ছাত্রলীগের জানোয়ারগুলার তখন খুন চেপে গ্যাছে। আরও কিছুক্ষণ মার খাওয়ার পর জীবন বাঁচাতে আবার দৌড় দেয়। কিন্তু পাশের গলিটার মুখে গিয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে। স্থানীয়দের সহায়তায় এক নাম না জানা রিকশাওয়ালা তাকে মিটফোর্ডে নিয়ে যান। সেখানে আবার পুলিশ আসেনি বলে ডাক্তাররা আইনী জটিলতার কারনে পরিচর্যা শুরু করতে দেরি করে। আর তার মধ্যেই মারা যান বিশ্বজিত।

এক ঘন্টার এই ধকলের মধ্যে কয়েকবার সুযোগ নিয়েছিল সে। ওর জীবনীশক্তি খুব প্রখর। আহত অবস্থায় দুইবার সে পালিয়েছে। শেষবেলায় এসেও হয়ত হাসপাতালের ডাক্তাররা তালে বাচাতে পারতো।

নাহ, সবাই ফেল মেরেছে!

ঘটনার সময় পত্রিকা-টিভি-রেডিওর সংবাদকর্মীদের নীরব ভূমিকা আমাকে রুষ্ট করেছে। তারা সংবাদ সংগ্রহ করার কাজটা হয়তো করেছেন, কিন্তু একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে টিভি-পত্রিকার সাংবাদিকরা তো এগিয়ে যেতে পারতেন, জনগনকে নিয়ে ছাত্রলীগকে ধাওয়া করতে পারতেন। আর মানুষ হিসেবে তো বটেই।

ছাত্রলীগ যখন বিএনপির আইনজীবী সমিতির মিছিলটিকে ধাওয়া করলো কি করছিলেন আপনারা তখন? ফুটপাতে বা চিপা গলিতে আশ্রয় নেয়া কর্মক্ষেত্রে রওনা হওয়া মানুষগুলোর সাথে রাস্তা থেকে নিরাপদ দূরত্বে ছিলেন? অফিসে পাঠানোর মত খবরের অপেক্ষায় ছিলেন? বিশ্বজিতকে যখন ক্লিনিকের দোতলা থেকে টেনে নামাচ্ছিলো জল্লাদরা তখন আপনার ক্যামন লাগছিল? দৌড়ে নীচে নেমে যখন সে আবার কতগুলা হায়েনাদের মুখে পড়লো তখন? যখন ওকে বিষাক্ত সাপ মারার মত করে পেটাচ্ছিল কুপাচ্ছিল জানোয়ারগুলা, তখন কিভাবে দৃশ্যটি দেখছিলেন আপনি?

ক্যামেরাম্যানরা ছবি তুলে তাদের দায়িত্ব পালন করেছেন, আবার আক্রমনকারীদের সনাক্ত করার সুযোগ করে দিয়েছেন, তাই কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। কিন্তু ঘটনাস্থলে থাকা প্রতিবেদকরা কেন চুপ ছিলেন?

রাষ্ট্রীয় পুলিশ বাহিনীও কি ছাত্রলীগের মত ভেবেছিল যে এই হালকা পাতলা শরীরের নিম্ন মধ্যবিত্ত চেহারার যুবকটি কোন বিএনপি বা জামায়াত-শিবির কর্মী? তাদের কারো কারো কি সাপ-মারার যজ্ঞে যোগ দেয়ার ইচ্ছা হচ্ছিল? শেষমেষ যখন বিশ্বজিতকে নিয়ে একজন রিকশাওয়ালা হাসপাতাল যাচ্ছিলেন, তখন পুলিশ কি করছিল?

আমি ব্যথিত হই, লজ্জায় আমার মাথা নত হয়, রাগে আমার গা জ্বলে যায়, বিশ্বজিত, তোমার মৃত্যু সবাই চেয়ে চেয়ে দেখেছে, টিভির ক্যামেরাম্যানরা রেকর্ড করেছে সেই দামী ফুটেজ, পত্রিকাগুলোতে সামনের পাতায় ছাপা হবে সেই অমানবিক ঘটনার ছবি — তার উদ্দেশ্য যাই হোক। ছাত্রলীগ বাপ-মাসহ গালি খাবে।

তোমাকে ছাত্রলীগ মেরেছে তাই তুমি বিএনপিপন্থী বা ছাত্রদল। দলটির মুখপত্র তোমাকে সমর্থক বলে মর্যাদা (!) দিয়েছে।

আবার ছাত্রলীগ বলছে যারা তোমাকে মেরেছে তারা কেউ ছাত্রলীগ করে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলবেন এটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা, অন্য একজন বলবেন দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

খুনিরা হয়তো এতক্ষনে নিরাপদ কোন জায়গায় পালিয়ে গ্যাছে কেননা ওরা সরকারি দলের লোক। ওদের ছবি প্রকাশ হয়ে গ্যাছে, সেই সাংবাদিকদেরই কল্যানে।

বাহাদুরশাহ পার্কের পাশে অবস্থিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ শাখার পাগলা কুত্তা এরা — মো শাকিল, তাহসীন কাদের, শাওন, নূরে আলম লিমন, মাসুদ আলম নাহিদ ও ইমদাদুল এখিন পর্যন্ত সনাক্ত হয়েছে।

এরা রাস্তায় নেমেছে কারন তাদের অভিভাবক আওয়ামী লীগ বলেছে পুলিশ আর তার দল বিরোধীদলের অবরোধ ঠেকাবে। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮দলীয় জোট এই কর্মসূচি দিয়েছে তত্বাবধায়ক সরকার পূন:প্রতিষ্ঠার দাবিতে, মতান্তরে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করে আসামীদের মুক্তির দাবি আদায় করতে। এরা সরকারকে বাধ্য করতে চায় দাবি মানতে। সরকার মানে বংগবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার আওয়ামীলীগের নেতৃত্বাধীন সরকার যারা গত বছর সংবিধান সংশোধন করে তত্বাবধায়ক সরকার বাদ দিয়েছে এবং তার আগের বছর যুদ্ধাপরাধের নাটের গুরুদের বিচার শুরু করেছে।

শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া (ও জামায়াত) তাদের যার যার বিশ্বাসে-দাবিতে অটল। তাই একদিকে আন্দোলন চলছে আরেকদিকে দমনপীড়ন চলছে যা এই দেশের ঐতিহ্যের একটি অংশ।

কিন্তু, ‘কিসের মধ্যে কি? এইখানে বিশ্বজিত আসলো কোত্থেকে? এইটা আমাদের দুইজনের ব্যক্তিগত ও দলীয় বিষয়, তুই বাবা কেন গেছিলি রাস্তায়?’ — এটাই হয়তো ভাবছেন এখন দুই নেত্রী।

পাগলা কুত্তাগুলা হয়তো বুঝতে পারছে তাদের টার্গেট ভুল ছিল। কিন্তু এখন তো টাইমওভার হয়ে গ্যাছে। আবার টাইমমেশিনও আবিষ্কার হয়নাই।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত দর্শকরা, আর আমরা যারা রেডিও-টিভি-পত্রিকা-ইন্টারনেট দেখে জেনেছি তারা কেউ কেউ হয়তো এখন ভাবছেন ‘ইশ, আমি যদি সুপারম্যান হইতাম, সবগুলারে মাইরা বিশ্বজিতরে উদ্ধার করতাম।’

বাঘে-মহিষে তো আরো ধাওয়া-ধাওয়ি হবে সামনের দিনে। তখন বিশ্বজিতেরা কি করবে? মাথা পেতে দেবে?

খুন, দখল, লুটপাট, স্বার্থের রাজনীতি আর কতদিন?

আপডেট ডিসেম্বর ১০, বিকাল ৫টাঃ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেনঃ “তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি দেয়া হবে।” (নিজের দলের লোক বইলা তদন্ত, ছাত্রদলের/শিবিরের হইলে তো সাথে সাথে গ্রেপ্তার করা হইতো)

আফসোস, এই “দিন বদলের সরকার” স্বভাব বদলাইতে পারলোনা। শুনলাম সুত্রাপুর থানা পুলিশ (নামে জনসেবক, আসলে সরকারের কেনা গোলাম) একটা মামলা করেছে ২০-২৫জন অজ্ঞাতনামা লোকের বিরুদ্ধে। অথচ টিভি-পত্রিকায় আমরা জগন্নাথের নেতা-কর্মীদের দেখলাম, প্রথম আলোতে নাম পর্যন্ত দিয়া দিল!!!

ছাত্রলীগের মারামারি স্বভাবের কারনে ২০০৯ সালের শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী সংগঠনটির নেতা হিসেবে পদত্যাগ করেন। কিছুদিন পর নির্বাচন কমিশনের বললো রাজনৈতিক দলের কোন ছাত্র সংগঠন থাকতে পারবেনা। কিন্তু সেটা মানা হয়না, প্রধানমন্ত্রী নিজে ছাত্রলীগের অনুষ্ঠানে যান, ওবায়দুল কাদের, তোফায়েল আহমেদ এদের সাথে কথা বলেন। তবে আমি জানিনা, ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারন সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকেরা কোন কোন নেতার বুদ্ধিতে চলে।

১৪ টি মন্তব্য করা হয়েছে

  1. শাকিল রহমান বলেছেনঃ

    বিশ্বজিতকে হত্যার ভিডিও ফুটেজ এ হত্যাকারিদের চিনতে পারলেও তাদেরকে আইনের আওতায় না এনে তদন্তের নামে প্রহসন করা হচছে। কোথায় গেলেন মিডিয়ার লোকজন? কেন এই হত্যাকারিদের আইনের আওতায় আনা হচছেনা? কেন আইন প্রয়োগকারি সংস্থার লোকজন হত্যাকারিদের গ্রেফতার করছেনা? হত্যাকারি যে-ই হউক না কেন আগে তাদেরকে গ্রেফতার করে তারপর তদন্ত করা উচিৎ। আমি এই ধরনের হত্যাকান্ডকে ঘৃনা করি এবং সেই সাথে সরকারের অনমনিয় ভুমিকার নিন্দা জানাই।
    লেখককে ধন্যবাদ বিষয়টি উপস্থাপনের জন্য।

    • প্রবীর বিধান বলেছেনঃ

      আপনাকেও ধন্যবাদ। আপনার প্রশ্নগুলর উত্তর সরকারি দল দিতে পারবেনা, মানে দিবেনা। এইটা আমাদের দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নাই। বিএনপির অবস্থাও একই।

      মিডিয়াতে দুই রকমের লোকেরা সংযুক্ত থাকেঃ এক, সাংবাদিক, যাদের মূল কাজ খবর ও খবরের ছবি সংগ্রহ করা; দুই, যারা কলাম লেখেন বা আলোচনায় অংশ নেয়।

      আমার মনে হয়, এরা ঠিক কাজই করছে, মানে সব পক্ষের কথাগুলা ছাপাচ্ছে বা টিভিতে দেখাচ্ছে। কিন্তু সরকার পাত্তা দিচ্ছেনা।

      ১.১
  2. হৃদয়ে বাংলাদেশ বলেছেনঃ

    কী করুণ মৃত্যু এবং হৃদয়হীন পাশবিকতা। আওয়ামী ঘরানার ব্লগারেরা তো অতিঅবশ্যই ‘বিএনপি অবরোধ ডাকলো ক্যান’ বলবেন যদিও কুঁড়েঘর থেকে লাফ দিয়ে নৌকায় চড়া কলামবাজেরা কিন্তু মুখে গরম আলু নিয়ে চুপটি করে বসে আছে! কোথাও তাদের মনিমুক্তা প্রসব করা কলাম দেখছিনা!
    আপনি যথার্থই বলেছেন, এখন তদন্ত চলছে কিন্তু বিরোধীদলের বেলা হলে রাজনীতিতে বিএনপির ব্যাপটাইজড করা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এ্যাকশন দেখতো কে? তার আহ্বানেই চিহ্নিত ছাত্রলীগের খুনীরা বিশ্বজিৎকে খুন করেছে। এর দায় কি আর তিনি নেবেন? না কি আওয়ামী লীগের কিছু হলে ফের সুইডেন উড়াল দেবেন? তার নেতার মৃত্যুর পরেতো এই “কাম”ই করেছিলেন।
    আমাদের এই গজগজ করাতে হতভাগ্য বিশ্বজিৎ ফিরবেনা। সামনে আরো অনেক বিশ্বজিৎ যাওয়ার আশঙ্কা। বিএনপি’র উচিৎ দরিদ্র বিশ্বজিৎের পরিবারের জন্য কিছু করা, তাতে যদি তাদের পাপের বোঝা খানিকটা কমে।
    শুভমস্তু।

  3. সত্য কথক বলেছেনঃ

    নাগরিক, জেগে উঠো। তা না হলে পরবর্তী বিশ্বজিৎ হবে তুমিই।
    প্রিয় প্রবীরদা, বিষয়টি সুষ্পষ্ট রুপে উপস্থাপনের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

  4. শাকিল রহমান বলেছেনঃ

    লেখককে বলছি???

    কি অবাক ব্যাপার দেখুনঃ

    বিশ্বজিত হত্যাকাণ্ডের দায় নেবে না আওয়ামী লীগঃ
    Mon, Dec 10th, 2012 8:01 pm BdST
    ঢাকা, ডিসেম্বর ১০ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- বিরোধী দলের অবরোধের মধ্যে পুরান ঢাকায় ছাত্রলীগের হামলায় দরজি দোকানি বিশ্বজিত দাস নিহত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠলেও তার দায় নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ।
    http://www.bdnews24.com/bangla/details.php?cid=3&id=213239&hb=2

  5. শাকিল রহমান বলেছেনঃ

    প্রিয় লেখক,
    আমি বিশ্বজিত’কে ধারালো অস্ত্র ও রড দিয়ে উপযুপরি হত্যার উদদেশ্যে মারার দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে গিয়েছি। আরও দুইবার এরকম দৃশ্য ভিডিওতে দেখেছিলাম (১) ২০০৭ তে লগি/বেঠা দিয়ে একজনকে নিমমভাবে হত্যা (২) নাটোরের উপজেলা চেয়ারম্যানকে পিটিয়ে নিমমভাবে হত্যা। এগুলো সবই ঘটেছে আমাদের আইন প্রয়োগকারি সংস্থার লোকজনের চোখের সামনে। আপনি একজন সাংবাদিক এবং একজন সচেতন নাগরিক। আমার প্রশ্নঃ বিদেশি অস্ত্র বা দেশিয় অস্ত্র হাতে নিয়ে যদি কেউ প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায় এবং যদি তা সংঘবদ্ধভাবে হয় তাহলে কি তাদেরকে গ্রেফতার করতে পুলিশের পুব অনুমতির প্রয়োজন আছে? যদি আইন প্রয়োগকারি সংস্থার লোকজনের সামনে ঐ সব অস্ত্রধারিরা ঐ সব অস্ত্র দিয়ে অপরাধি/নিরপরাধি কাউকে, কেউ বা সংঘবদ্ধভাবে হত্যা করে বা আহত করে তাহলে কি তাদেরকে গ্রেফতার করতে পুলিশের পুব অনুমতির প্রয়োজন আছে? আমি তো পৃথিবির অনেক দেশে থেকেছি ও ঘুরেছি এবং সবশেষে এখন আমেরিকাতে থাকি; কিন্তু এমন আবাল পুলিশ কোথায়ও দেখি নাই। আমাদের নিরাপত্তা কোথায় বা কে দিবে? পুলিশ কাদের জন্য? পুলিশ কি সরকারি দলের হাতে গোনা কিছু লোকের জন্য- যখন যে সরকার আসবে? না কি জনগণের জন্য? এই পুলিশ যদি কোন সময় সরকারের কথা না শোনে তাহলে দেশের কি হবে?? এ বিষয়ে আপনার সম্পাদকিয় মন্তব্য কামনা করছি।

  6. উত্তম সিংহ বলেছেনঃ

    কি নির্মম, কি পৈশাচিকতা। চুখের জল ছাড়া আমাদের আর কিছু নেই।
    হায়েনাদের বিচার চাই। আপনার লেখনিতে আপনি সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলতে পেরেছেন বলে ধন্যবাদ।

  7. মঞ্জুর মোর্শেদ বলেছেনঃ

    আপনার এই সাবলীল শব্দ চয়নের পর আর কি বলব । সকালেই পত্রিকায় লিংক দেখলাম পিশাচ গুলোর বৃত্তান্ত । এরা আগেও অপরাধ করেছে এবং পার পেয়েছে। আর দল আঙ্গুল চুষেছে । ভেতরে ভেতরে এদের নিশ্চয় পিঠও চাপড়ান হয়েছে। জামাতের ফ্যাসিবাদকে ঠেকাতে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের চেহারা মানুশ দেখছে। দুই খারাপের দৌরাত্তে নাভিশ্বাস মানুশ ।

    যুবক আহমেদ মাহের যখন এপ্রিল সিক্স গঠন করেছিলেন , যারা মিশরে আরব স্প্রিং এর নেতৃত্ব দিয়েছিল , ছেলেটির একটি কথা এখনো কানে বাজে। তোমাদের সমাবেশের উপর সরকার অনেক অত্যাচার চালাবে , তোমরা যদি পাল্টা কিছু কর এ মহৎ আন্দোলনের পুরোটাই ভেস্তে যাবে। জনতার মিছিল থেকে একটা ঢিল ও কেউ ছোড়ে নি , কিন্তু মুবারকের মত জেঁকে বসা আমেরিকার প্রত্যক্ষ মদদপুষ্ট বিকট স্বৈরাচারের পতন ঘটেছে। সেই জন্যই নুর হোসেনের পিঠে লিখা শব্দ গুলো এতটাই শক্তিশালি ছিল ।

    আওয়ামি ব্লগার ,হানিফ বা কামরুল বা এদের সোনার ছেলেরা কি মানুশের ভাষা বোঝে ?

  8. প্রবীর বিধান বলেছেনঃ

    বিশ্বজিত মরে যাবার পর থেকে সরকারি দলের লোকেরা ও ছাত্রলীগ শুধুই দায় এড়াতে চাইছে। কাল রাতে দেশ টিভিতে একটা আলোচনায় ছাত্রলীগ সভাপতি বদি-ই প্রথম বিশ্বজিতের রুহের মাগফেরাত কামনা করলো (পুরাই স্ট্যান্ট), তবে তারপর থেকে আবার দায়ভার এড়ানোর জন্য নতুন নতুন গল্প বলা শুরু করলো।

  9. বিপ্লব সরকার বলেছেনঃ

    প্রিয় ব্লগার, দয়া করে বলবেন ছাত্রলীগ, ছাত্রদল আর শিবিরের নৃশংশতার মধ্যে কোনো প্রকার পার্থক্য দেখতে পাচ্ছেন আর? আমি কোনোভাবেই এই ছাত্রসংগঠ্ন ও তাদের মূল সংগঠনগুলোর চরিত্রকে পৃথক করতে পারছি না! পার্থক্যই যদি না থাকে তাহলে আমরা কীভাবে একাত্তরের জল্লাদদের বিচারের প্রক্রিয়াকে যৌক্তিক পরিণতির দিকে নিয়ে যাবো? বিষয়গুলো নিয়ে ভাবনা-চিন্তার অবকাশ আছে বৈকি।
    নৃশংশ মৃত্যুর মিছিলের সর্বশেষ বলি বিশ্বজিৎ। কিন্তু আমরা জানি, বিশ্বজিৎ-ই শেষ নয়। এই্ বর্বর দলগুলো অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যত গড়া ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত আর বিশ্বজিৎ-দের মতো সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষদের রক্তের উন্মাদনায়। আমাদের মুক্তির পথ কিন্তু আমাদেরকেই বের করতে হবে। এই দলগুলোকে সামাজিক, পারিবারিক ও নির্বাচনী রাজনীতি থেকে এখনই বর্জনের আওয়াজ তুলতে হবে। এই অসভ্য-বর্বরদের ছুঁড়ে ফেলে মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে নামা ছাড়া আর কোনো পথ আছে কি?
    প্রবীরদা, আপনার সাথে সহমত জানিয়ে বিশ্বজিৎ এর হত্যাকান্ড অবলোকনকারী সকল সাংবাদিক ও নিরবে দাঁড়িয়ে থাকা সরকারের গোলাম পুলিশদের প্রতি তীব্র ঘৃণা জানাই। আর ঘৃণা জানাই ঐ চিকিৎসকদের যাদের কাছে মানবিকতার কোনো মূল্য নেই।

    ১০
  10. প্রবীর বিধান বলেছেনঃ

    হ্যাঁ, পাওয়ার পলিটিক্সের ক্যাডারদের মনমানসিকতার মধ্যে কোন অমিল নেই।

    আশ্চর্যজনক ও লজ্জাজনক যে, এখনকার মানুষেরা সমাজ থেকে সব সুযোগ-সুবিধা নিয়েও সামাজিক দায়বদ্ধতা এড়াতে চায়, প্রানপনে। কর্মক্ষেত্রে তাদের পরিচয় যাই হোক, এরা অমানুষ, এরা পশুর চেয়েও অধম।

    ১১

কিছু বলতে চান? লিখুন তবে ...